টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
মেয়াদ শেষ হলেও অব্যবহৃত মোবাইল ডাটা ফেরতের নির্দেশ মন্ত্রীর টেকনাফ পৌরসভার এক গ্রামেই ক্যাম্প পালানো ১৮৩ রোহিঙ্গা স্থানীয়দের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করছে মায়ের গর্ভে ১৩ সপ্তাহ্ বয়সী শিশুর নড়াচড়া হারিয়াখালী থেকে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার ইয়াবা উদ্ধার টেকনাফে তথ্যকেন্দ্রের সহযোগিতায় মীনা দলের সদস্যদের নিয়ে ই-লার্নিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হ্নীলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে আশ্রয় নেওয়া লোকদেরকে বের করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ টেকনাফের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকা হতে ২ জন গ্রেফতার এসএসসির অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে জরুরি নির্দেশনা মাউশির টেকনাফে’ ষষ্ঠ শ্রেনীর এক শিক্ষার্থী ধর্ষনের শিকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলি করে একজনকে অপহরণ

আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২০ জুন, ২০২১
  • ১৩৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :: আজ ২০ জুন, বিশ্ব শরণার্থী দিবস। আজ যখন দিবসটি পালিত হচ্ছে, তখন কক্সবাজারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির সদস্যরা নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সদস্যরা জাতিগত স্বীকৃতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে স্বদেশে ফিরতে চান। তবে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার নিশ্চয়তা নিয়ে আদৌ নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবেন কিনা তা নিয়েই তাদের যত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর হামলা ও নির্যাতনের মুখে জীবন নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মিলিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে বর্তমানে রয়েছেন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা সদস্য। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্প বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্প নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের রাখাইনে এখনও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি করে আসছে। এছাড়া জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের চুক্তির পরও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিয়ে শঙ্কিত রোহিঙ্গারা। তাদের প্রধান দাবি রোহিঙ্গা হিসেবে তাদের জাতিগত স্বীকৃতি, নাগরিকত্ব প্রদান, নিজ ভিটে-মাটি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে চলাচলের সুযোগ দিলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং টিভি টাওয়ার এলাকার ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, প্রাণ রক্ষায় এসেছিলাম, এবার ফিরে যেতে চাই। সহযোগিতা যতই পাই না কেন, শরণার্থী জীবন ভালো লাগে না। গরমে রোহিঙ্গা বস্তিতে থাকলেও মনটা রাখাইনে পড়ে থাকে। আমরা স্বপ্ন দেখি রাখাইনে ফিরে যাওয়ার।

উখিয়ার বালুখালী ২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আয়ুব আলী মাঝি জানান, ‘দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে আমরা বাংলাদেশে অবস্থান করছি। কিন্তু, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমারের ছল-চাতুরির কাছে হেরে গেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। আমরা যেকোনও মূল্যে মিয়ানমার ফেরত যেতে চাই’।

শুধু মোহাম্মদ ইদ্রিস ও আয়ুব আলী মাঝি নয়, তাদের মতো উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নুরুল হাকিম, সেগুপা বেগম, লালু ও ফয়েজ উল্লাহ মাঝিসহ রোহিঙ্গা সদস্যরা বলেছেন, বাংলাদেশ শুধু চাইলে হবে না, মিয়ানমারকেও রাজি হতে হবে, নিরাপদ প্রত্যাবাসনে। আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করলে কেবল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার পথ খুলতে পারে।

রোহিঙ্গা শরনার্থী কমিউনিটির সহ-সভাপতি মাস্টার আব্দুর রহিম জানান, বর্তমানে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আরও জটিল হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে যে বিচার চলছে, তার রায় হলে এবং জাতিসংঘ জোরালো ভূমিকা পালন করলে রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যেতে পারবে।

উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, সঠিক উদ্যোগ না নেওয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যেমন সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান করায় রোহিঙ্গাদের কারণে আর্থসামাজিক সহ শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই আমাদের একমাত্র কাম্য। কিন্তু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ক্রমশ জটিল হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আসা শুরু হয়। এরপর থেকে কারণে-অকারণে দলে দলে অনুপ্রবেশ করে রোহিঙ্গারা। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর ও ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৭জন রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তাদের। তবে রোহিঙ্গারা নানাভাবে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এবং সহিংস হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে প্রত্যবাসনের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT