টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

হজের প্রস্তুতি নিন এখনই…….

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১২
  • ২০৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হজ মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ মিলন উৎসব। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহ মহানের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইসলামী শরিয়া মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে কাবা শরিফ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো জিয়ারত করার নাম হজ। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নবীপ্রেমী মুসলমান পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা-মদিনার পবিত্র ভূমিতে ছুটে যান। দূরবর্তী দেশের সফর, অচেনা-অপরিচিত স্থান, হজের বিভিন্ন আমল পালন করা এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করা- সব মিলিয়ে প্রত্যেক হাজির ভালো একটি পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। শুদ্ধভাবে পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য একটি পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক প্রস্তুতি : দূরবর্তী দেশে গিয়ে হজব্রত পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় এবং প্রধান প্রস্তুতি হচ্ছে মানসিক প্রস্তুতি। সর্বপ্রথম একজন হাজিকে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। মনে মনে একজন হাজিকে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে যে যত বাধাই আসুক না কেন, হজ আমি পালন করবই ইনশাআল্লাহ। কারণ মানসিক বা আত্মিক প্রস্তুতি সব কাজের মূল ভিত্তি। আর হজব্রত পালনের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে নিয়তের প্রয়োজন তো রয়েছেই।
শারীরিক প্রস্তুতি : হজের ফ্লাইট শুরু হওয়ার এখনো বেশ বাকি। তাই শারীরিকভাবে যাঁরা অসুস্থ বা সফর করার অযোগ্য রয়েছেন, অতিসত্বর চিকিৎসা গ্রহণ করে নিজেকে প্রস্তুত করে তুলুন এবং হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার আগে মেনিনজাইটিস টিকা গ্রহণ বা মেডিক্যাল চেক-আপের বিষয়ে এখন থেকেই ভেবে রাখুন। প্রয়োজন বা সুযোগ হলে আগে থেকেই এ ব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহণ করা ভালো।
হজের কার্যসম্পাদনগত প্রস্তুতি : বাংলাদেশ থেকে মোট দুইভাবে হজব্রত পালনের ব্যবস্থা রয়েছে। এক. সরকারিভাবে। দুই. বেসরকারিভাবে। সরকারিভাবে গেলে সরকারি কোনো ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে হজের ফরম সংগ্রহ করে তাদের মাধ্যমে অথবা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মাধ্যমে আপনার হজে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার মানে হচ্ছে, সরকার অনুমোদিত কোনো হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজে যাওয়া। বেসরকারিভাবে হজ পালনের জন্য প্রথমে ভালো কোনো হজ এজেন্সির কাছে গিয়ে তাদের থেকে হজ এবং এজেন্সির ফরম সংগ্রহ করে তা পূরণ করতে হবে এবং পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। এর পর এজেন্সির বিভিন্ন প্যাকেজ অনুযায়ী নিজের জন্য হজে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো, আর তা হলো হজ এজেন্সির সঙ্গে নিজের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়টি একদম খোলামেলা আলোচনা করে নেওয়া উচিত।
প্রয়োজনীয় কর্ম সম্পাদন করা : মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের প্রতি রয়েছে মানুষের বিভিন্ন দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্ব। পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে দূর দেশে গমনের আগে নিজের প্রয়োজনীয় সব কাজ সেরে নেওয়া উচিত। অনেক সময় দেখা যায় যিনি হজে যাচ্ছেন, একটি পরিবার বা একটি প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি তিনি; সুতরাং হজে যাওয়ার আগে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে তাঁর অনুপস্থিতির সময় পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষতি না হয়। প্রত্যেক হাজিকে এ বিষয়টিও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু প্রস্তুতি : হজ পালনের উদ্দেশ্যে আপনি যে দেশে যাচ্ছেন, সেখানকার পরিবেশ আপনার অপরিচিত-অচেনা, হজের হুকুম-আহকাম সম্পর্কে আপনি সম্যক অবগত নন, কখন কী করতে হবে তা আপনি ভালো করে জানেন না ইত্যাদি সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য একজন অভিজ্ঞ এবং আলেম হজ গাইড বা মুয়ালি্লমের সঙ্গে হজে যেতে হবে। বেসরকারিভাবে যাঁরা হজে যাবেন, তাঁরা হজ এজেন্সি নির্বাচনের সময় এ বিষয়টির প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবেন, আপনি যে এজেন্সি থেকে হজে যাচ্ছেন; অভিজ্ঞ কোনো মুয়ালি্লম সেখান থেকে হজে যাচ্ছেন কি না কিংবা তাদের এমন ব্যবস্থাপনা রয়েছে কি না। এ ছাড়া মসজিদের ইমাম কিংবা ভালো আলেমের সঙ্গে আগাম কথা বলে নিতে পারেন। বাংলা ভাষায় রচিত ভালো কোনো লেখকের হজ গাইডও আপনার সঙ্গে রাখতে পারেন।
ব্যবহার্য মালপত্রের প্রস্তুতি : নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন মালপত্রের পাশাপাশি একজন হাজিকে হজের সফরে বেশ কিছু অতিরিক্ত মালপত্র সঙ্গে নিতে হয়। তদুপরি উচিত মালপত্র যথাসম্ভব হালকা রাখা। কারণ গোটা সফরে এই বোঝা আপনাকেই বহন করতে হবে। হজ সফরের প্রয়োজনীয় মালপত্রের একটি তালিকা প্রদত্ত হলো। পাসপোর্ট, টিকিট এবং ডলার সংগ্রহ করা, ভিসা এবং টাকা রাখার জন্য গলার সঙ্গে ঝোলানো ব্যাগ, ইহরামের কাপড় (কমপক্ষে দুই জোড়া) আর মহিলাদের জন্য সাদা সালোয়ার-কামিজ এবং বোরকাই যথেষ্ট। ইহরামের সময় কপালে বাঁধার জন্য ক্যাপ এবং কোমরে বাঁধার বেল্ট, স্পঞ্জের স্যান্ডেল বা জুতা এবং জুতা রাখার জন্য কাপড়ের ব্যাগ, মাথা মুণ্ডনের জন্য ব্লেড বা রেজার, মেসওয়াক, ব্রাশ, পেস্ট, টিস্যু, আয়না, চিরুনি, তেল, সাবান, দাঁতের খিলান, বিছানার চাদর, পাম্পিং বালিশ, গায়ে দেওয়ার চাদর, প্লেট, গ্লাস, ছোট হ্যান্ডব্যাগ, বড় ব্যাগ বা লাগেজ, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ। পুরুষের এক মাসের জন্য প্রয়োজনীয় লুঙ্গি, গামছা, গেঞ্জি, টুপি, জুতা, মোজা এবং মহিলাদের এক মাসের প্রয়োজনীয় এমন সালোয়ার, কামিজ, ওড়না, শাড়ি, ব্লাউজ, বোরকা, স্যান্ডেল, প্রয়োজনীয় কিতাব বা বই এবং ব্যক্তিগত খরচের জন্য টাকা, কাগজপত্র হেফাজতের জন্য হাজিব্যাগ ও যাবতীয় মালপত্র রাখার জন্য একটি বড় ব্যাগ বা লাগেজ। শুদ্ধ এবং নিয়ম মোতাবেক হজব্রত পালন হোক আপনার অঙ্গীকার।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT