টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

আইন ভালো, তবে তথ্য পাওয়া দুষ্কর

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ২৩৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

আইন আছে, কিন্তু প্রক্রিয়াগত বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া এখনও কঠিন সাধারণ নাগরিকদের পক্ষে। বিশেষ করে তথ্য অধিকার আইনের সাত ধারার কিছু শর্ত এবং ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট সাধারণ নাগরিকের তথ্য পেতে দিচ্ছে না। এর আগে ২০১৪ সালে একাধিক বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে আইনের ওই ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়; কিন্তু এখনও তা সংশোধন হয়নি। এদিকে বেশিরভাগ মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে আইন অনুযায়ী তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। তথ্যপ্রার্থীকে তার চাহিদা অনুযায়ী তথ্য না দিয়ে দায়সারা তথ্য দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টাও হচ্ছে। ঘন ঘন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরিবর্তনও তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠেছে। তবে তথ্য কমিশনের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৫ সালে তথ্য চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ৯৬ শতাংশ আবেদনকারীকেই তথ্য দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানদণ্ডের বিচারে ২০০৯ সালে প্রণীত তথ্য অধিকার আইন ভালো আইন। কিন্তু সচেতনতার অভাবে এর প্রয়োগ যথাযথ হচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। আজ সকালে র‌্যালি বের করবে তথ্য কমিশন। বিকেলে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
দিবসটিকে সামনে রেখে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পক্ষ থেকে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বানের পাশাপাশি এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন ও নীতিমালাসমূহের ব্যাপারে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান সমকালকে বলেন, ‘তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সাধ্যের মধ্যে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসূচি নিচ্ছে তথ্য কমিশন। যেসব কর্মকর্তা যথাযথভাবে তথ্য দিচ্ছেন না, তাদের বিরুদ্ধে কমিশন জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের কথা বলে কোনোভাবেই তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা যাবে না। কারণ তথ্য অধিকার আইনের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ওপরে প্রাধান্য রয়েছে।’ তিনি জানান, তথ্য অধিকার আইনের কোনো সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না তিনি।যেভাবে অধিকার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে :২০১৫ সালে তথ্য না পেয়ে তথ্য কমিশনে ৩৩৬টি অভিযোগ জমা পড়ে। চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চারশ’ অভিযোগ জমা পড়েছে। কমিশন থেকেই এ তথ্য পাওয়া গেছে। অবশ্য কমিশন বলছে, ২০১৫
সালে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিসে তথ্য পাওয়ার জন্য দাখিল ছয় হাজার ১৮১টি আবেদনের মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৪০টির বিপরীতে তথ্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ৯৬ শতাংশকেই তথ্য দিয়েছে কমিশন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কাঠখড় পুড়িয়েই তথ্য পেতে হচ্ছে আবেদনকারীদের। যেমন, ২০১৫ সালের ৬ জুন কুমিল্লার নাগরিক শ্রীধাম কর্মকার স্থানীয় মনোহরগঞ্জ থানায় তথ্য চেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পেয়ে তিনি পরে সংশ্লিষ্ট আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে যান। সেখানেও তথ্য না পেয়ে তিনি তথ্য কমিশনে আপিল করেন। সেখানে শুনানিতে জানা যায়, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একাধিকবার বদলি হওয়ায় শ্রীধাম কর্মকার সময়মতো তথ্য পাননি।’ পরে তথ্য কমিশনের সিদ্ধান্তে তথ্যপ্রার্থী তথ্য পান। তবে শ্রীধাম কর্মকারের মতো অনেক নাগরিকেরই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তথ্য না পেলে ঊর্ধ্বতন আপিল কর্তৃপক্ষ কিংবা উপজেলা সদর থেকে ঢাকায় এসে তথ্য কমিশনে আবেদন করার মতো অবস্থা বা সুযোগ থাকে না। তাই যারা তথ্য কমিশনে আসতে পারছেন না, তারা তথ্যও পাচ্ছেন না।
ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে কর্মরত এক সাংবাদিক জানান, ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে তিনি সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের আইএমইডি বিভাগে পদ্মা সেতু সম্পর্কিত ব্যয় বিবরণী এবং একটি পরিদর্শন রিপোর্ট চেয়ে তথ্য অধিকার আইনের আট ধারা অনুযায়ী আবেদন করেন; কিন্তু তাকে যে তথ্য সরবরাহ করা হয়, তাতে ব্যয় বিবরণী ছিল না, পরিদর্শন রিপোর্টও দেওয়া হয়নি। তাকে শুধু বিভিন্ন কর্মকর্তার পদ্মা সেতু নির্মাণ এলাকা পরিদর্শনের তারিখ এবং নির্ধারিত মোট ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে আরও দুই দফায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করেও তথ্য না পাওয়ায় কর্মব্যস্ত ওই সাংবাদিক এ নিয়ে উচ্চতর আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে আর আগ্রহী হননি। আইনের অধিকার প্রয়োগের চেয়ে বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে পরিদর্শন রিপোর্ট ও ব্যয় বিবরণী পাওয়াকেই সহজ ও সময়সাধ্য বিবেচনা করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের কাছে তথ্য চেয়ে না পেয়ে দীর্ঘ লড়াই করে আলোচিত হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিপ্লব কর্মকার। তিনি সমকালকে জানান, তার অভিজ্ঞতায় একজন তথ্যপ্রার্থীকে তথ্য পেতে সহায়তা করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ভাষায় হুমকি পান তিনি। হুমকির স্পষ্ট তথ্যপ্রমাণও তিনি এই প্রতিবেদকের সামনে উপস্থাপন করেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, ‘সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তথ্য গোপনের সংস্কৃতির কারণে আইনের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ নাগরিককে তথ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’
তথ্য প্রকাশ নীতিমালার প্রয়োগ নেই :তথ্য অথিকার আইন অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা প্রকাশ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ বাধ্যতামূলক; কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, তথ্য কমিশনের রেকর্ডে প্রায় ২৪ হাজার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তথ্য থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা খুঁজে পাওয়া যায় না। ওয়েবসাইটে নাম দেওয়া থাকলেও সরকারি দপ্তরে গিয়ে দেখা যায় তিনি নেই। প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান এর কারণ হিসেবে তাদের বদলিজনিত সমস্যার কথা জানান।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সমকালকে বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইনটি ভালো। কিন্তু এই আইনের প্রয়োগ এবং সে অনুযায়ী প্রকৃত অর্থে তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হচ্ছে না।’
বেসকারি উন্নয়ন সংস্থাএমআরডিআইর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা এখন প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে আছে। কিন্তু নীতিমালার বাস্তবায়ন নিয়ে সন্তোষজনক চিত্র দেখা যায় না।’
প্রধান তথ্য কমিশনারের বক্তব্য :প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান সমকালকে বলেন, ‘প্রতি বছরই তথ্যপ্রাপ্তির জন্য আবেদন বাড়ছে। তথ্য না পেয়ে তথ্য কমিশনে যারা অভিযোগ করেছেন তাদের ৬৩ শতাংশই সাধারণ নাগরিক, অর্থাৎ প্রতিষ্ঠিত চাকরিজীবী কিংবা পেশাজীবী নন। অর্থাৎ সচেতনতা বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘কমিশন এখন তরুণদের সমন্বয়ে তথ্য অধিকার কর্মী বাহিনী তৈরির বিষয়টি কমিশন গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।’
কমিশনের রায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেঁৗছানোর দীর্ঘসূত্রতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রক্রিয়াগত কারণে দেরি হতে পারে। তবে যাতে আরও কম সময়ে পেঁৗছে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT