টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

আইন.. অপরাধে সাহায্য করাও কি অপরাধ?

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
  • ৩০৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

পারিবারিক আদালত কিঃ120130220074906বাংলাদেশের নারী সমাজের দীর্ঘ দিনের লালিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ জারীর মাধ্যমে। এ অধ্যাদেশ জারীর মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী সমাজ বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

১৫ ই জুন ১৯৮৫ থেকে এই অধ্যাদেশ কার্যকর  হয়েছে। পারিবারিক আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, মোহরানা, ভরণ-পোষণ এবং সন্তান সন্তুতির তত্ত্বাবধান ও অভিভাবকত্ব -এ ৫ টি বিষয়ে মোকদ্দমা, দ্রুত শুনানী ও নিষ্পত্তি করা হয়।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিচারকার্য আরম্ভের আগে আপোষে মিমাংসার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়। মাত্র ৬০ টাকা কোর্ট ফি দিয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করা যায় (অন্যান্য খরচ যেমন- আইনজীবীর ফি, ক্লার্ক, সমন নোটিশ, কম্পিউটার কম্পোজ, ওকালত নামা, নকল সংগ্রহ, তদবীর খরচ ইত্যাদি বাদে)।

একাধিক প্রার্থনার জন্য কোর্ট ফি ৬০ টাকা করে যোগ হবে।

অপরাধে সহায়তা প্রদান কর‍াও কি অপরাধ?
অপরাধে সহায়তা প্রদান করাও আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের ১০৭ থেকে ১২০ ধারা পর্যন্ত এর র্বণনা রয়েছে।

যদি কোন ব্যক্তি কোন অপরাধে সাহায্য করে, কিংবা এমন একটি কাজে সাহায্য করে, যে কাজটি সাহায্যকারীর উদ্দেশ্যে বা জ্ঞানের ন্যায় একই উদ্দেশ্য নিয়ে বা একই জ্ঞানের ভিত্তিতে যে ব্যক্তি আইন বলে কোন অপরাধ অনুষ্ঠান করতে সক্ষম সে ব্যক্তি অনুষ্ঠান করলে অপরাধ হতো , তাহলে প্রথমোক্ত ব্যক্তি অপরাধ অনুষ্ঠানে সাহায্য করে।

উদাহরণঃ কিরণকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে বাদল শুভকে উস্কানি দেয়। এই প্ররোচনার ফলে শুভ কিরণকে ছুরিকাঘাত করে। কিরণ এই আঘাত হতে আরোগ্য লাভ করে। বাদল শুভকে হত্যা করতে সাহায্য করার জন্য অপরাধী।

নাগরিক অধিকার

নাগরিক নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের

অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ

কোথায় যাচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি? প্রতিদিনই বাড়ছে অপমৃত্যুর সংখ্যা। অপহরণ হচ্ছে, মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। গুপ্তঘাতক যেন ছায়ার মতো ঘুরছে আশপাশে।

মানুষের জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধান প্রদত্ত প্রত্যেকটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা যে কোনও গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান কাজ।

দেশের আইন- শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা, সন্ত্রাস ও সমাজ বিরোধী তৎপরতা দমন করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে সরকারকে সহায়তা করা হচ্ছে আইন- শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অভিযুক্ত অপরাধীদের আইনের হাতে সোপর্দ করা, বিচার প্রক্রিয়ায় আদালতকে সাহায্য করা তাদের অন্যতম কাজ।

আমাদের দেশে দিন দিন বেড়েই চলছে হত্যা, গুম ও অপহরনের ঘটনা। গুমের ঘটনাগুলির কারণে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এখন চিন্তিত। দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়া সরকারের দায়িত্ব। আর তাই নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য দেশে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বাহিনী রয়েছে।

এছাড়া অপরাধ তদন্তের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা। বাংলাদেশের গুম অপহরণ ঘটনাগুলোর বিষয়ে দেশী-বিদেশী মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

দিন দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, রাহাজানি। দেশজুড়ে দখলদারিও চলছে। রোধ করা যাচ্ছে না সন্ত্রাস। চাঁদাবাজি, খুনের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে দেশের কোথাও না কোথাও।

আমরা দেখেছি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েই অতীতের সরকারগুলোকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আয়ত্তে আছে, এমন কথা বলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার কোনো অবকাশ নেই। প্রতিদিন একের পর এক লাশ পড়বে। খুন হবে মেধাবী ছাত্র, সাংবাদিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ আর পুলিশ জনগণের বন্ধু হয়ে ওঠার চেষ্টায় অনলাইনে অভিযোগ নিলেও কোনো লাভ হবে না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে এ সরকারকেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হতে পারে। সার্বিক অবস্থার অবনতির নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করতে হবে। পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার আগেই সরকারের উচিত লাগাম টেনে ধরা। এ ব্যাপারে যাদের যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সেই সংস্থার দায়িত্বশীলতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক চেষ্টা কাম্য।

শিক্ষাঙ্গনগুলোতে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না, বরং উত্তরোত্তর আরো অবনতি হচ্ছে।

সন্ত্রাস আরো বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ্ডি ছাড়িয়ে তা হানা দিচ্ছে স্কুলগুলোতেও। তার দৃষ্টান্ত চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র সৌমেন বিশ্বাস অনীক। চলতি বছর তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তারই সমবয়সী কিছু স্কুলছাত্র।

আমরা জানি, শিশুরা যা দেখে তাই শিখে। অর্থাৎ তার পরিবেশ বা পারিপাশ্বর্কিতা থেকে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা নিয়েই তৈরি হয় তার মানস ও চরিত্র। আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে অহরহ ঘটছে হানাহানি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ, ধর্ষণের মতো ঘটনা।

এসব শিশুমনেও প্রভাব ফেলছে। এগুলো যদি এভাবে প্রতিকারহীন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়, তার প্রভাব কিশোরদের ওপর পড়বেই।

সম্প্রতি অপহরণের তিন দিন পর গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় কেরানীগঞ্জের আটির নয়াবাজার স্কুলের সামনে থেকে শিশু পরাগকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণকারীরা রবিবার প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে অপহরণ করে। এ সময় পরাগের মা লিপি মণ্ডল অপহরণকারীদের গুলিতে আহত হন। পরাগ ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান।

তাদের জমিজমার ওপর চোখ পড়েছিল ভূমিদস্যুদের। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওই এলাকার জমিজমার ওপর দস্যুদের লোলুপ দৃষ্টি ছিল দীর্ঘদিন ধরে। পরাগদের জমি অপদখলের চেষ্টাও চালায় তারা। এ বিষয়ে র‌্যাবের মধ্যস্থতায় মীমাংসাও হয়। তার পরপরই ঘটে পরাগ অপহরণের ঘটনা। নয়াবাজার স্কুলের সামনে থেকে গভীর রাতে পরাগকে উদ্ধার করা হলেও এ বাবদ ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে তার অভিভাবকদের কাছ থেকে।

পুত্রের জীবন রক্ষায় তারা অপহরণকারীদের দাবির কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা হতশ্রী হয়ে উঠেছে রাজধানীর উপকণ্ঠে প্রকাশ্য দিবালোকে শিশু পরাগের অপহরণের ঘটনা তারই প্রমাণ। এ ঘটনা কেরানীগঞ্জের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীন অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সরকার পরাগের অপহরণকারী এবং তাদের নেপথ্যজনদের খুঁজে বের করে প্রাপ্য শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তাহীন অবস্থার অবসান হবে বলে মনে হয় না।

কেরানীগঞ্জের সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে যে নিরাপত্তাহীন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তারও অবসান ঘটাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংস্থাগুলোকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে বলে আমি মনে করি। আমরা শান্তিপ্রিয় জনতা তাই এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আর দেখতে চাই না।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT