টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

‘অ-ভাই, কত পইজ্জ্যে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ৪১০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ = টেকনাফের পথে পথে কুরবানির গরু। দেখা হলেই জিজ্ঞাসা- ‘অ-ভাই কত পইজ্যে’ ? অর্থ্যাৎ কুরবানির গরু কত দিয়ে কেনা হয়েছে ? কি আনন্দ, কি খুশী। হাট থেকে গরু কিনে বাড়ি পৌঁছা পর্যন্ত পথে পথে শত বার, হাজার বার এভাবে জবাব দিয়েও কেউ ক্লান্তি বা বিরক্তবোধ করছেননা। অনেক কুরবানীর পশু পৌঁছবে ঈদের আগে। পথে পথে উক্ত ডায়ালগ। তাছাড়া নিজের কুরবানির পশু কেনারও আলাদা আনন্দ। যে পেশার লোকই হউক, শত ব্যস্ততা সত্বেও স্বজনসহ হাটে গিয়ে নিজের কুরবানির পশু কেনার মজাই আলাদা। ২৫ সেপ্টেম্বর জুমাবার বাংলাদেশে উদ্যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ। বর্তমানে দেশের মানুষ এই ঈদ উদ্যাপনে চরম ব্যস্ত। কুরবানির পশু কেনা, রান্নার আনুষাঙ্গিক মালামাল কেনা, পোষাক কেনা, দা ছুরি ও বটিতে শান দেয়া, নামাজের প্রস্ততি, পিঠা বানানোর জন্য চাল পেষা, পিঠা বানানোসহ নানা কাজে চরম ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ ব্যস্ততা থাকবে ঈদ পর্যন্ত। তম্মধ্যে বেশী ব্যস্ত ফ্লাওয়ার মিল, কামার ও বিপণী বিতান। বিপণী বিতানগুলোতে উপচে পড়া ভীড়। এতে আবার নারী ক্রেতার সংখ্য্যা-ই বেশী। দুর-দুরান্ত থেকে নোআহ, সিএনজি, টমটম ও অটো রিক্সাযোগে উপজেলা শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ের মার্কেট গুলোতে আসছে সর্ববয়সী মানুষ। ঈদ পর্যন্ত চলবে কেনাকাটা।
এবারে শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ গবাদী পশু আমদানী হয়েছে। কোরবানির পশুর হাটে গবাদী পশু সংকট নেই। গরু ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে টেকনাফে পর্যাপ্ত পরিমাণ গবাদী পশু মজুদ রয়েছে। তবে ভারত থেকে গবাদী পশু আসার পরও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরী করে অধিক হারে মুনাফার লোভে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে কোরবানি দাতাদেরকে এবারে পশুর হাটে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গুনতে হচ্ছে গতবারের চেয়ে ২/৩ গুন বেশী মূল্য। হাটে মাঝারি আকারের গরুর সংখ্যা বেশী। পশুর হাটে প্রচুর ক্রেতা থাকা সত্বেও অস্বাভাবিক চড়া মূল্যের কারনে বেচা কেনা হচ্ছে তুলনামুলক কম। টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রচুর পরিমানের গরু, মহিষ ও ছাগল আসছে। স্থানীয় হাটবাজারের পশুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চড়া দামে বিক্রয় হচ্ছে পশু। টেকনাফ-শাহপরীরদ্বীপ সড়ক যোগাযোগ ৩ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব পশু দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ দিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন- ব্যবসায়ীরা করিডোর দিয়ে সারা বছর মিয়ানমারের পশু এনে ট্রাক যোগে টেকনাফসহ কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ঢাকার ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করে আসছি। কিন্তু ২০১২ সালের ২৩ জুলাই শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া এলাকার বেড়িবাঁধের একটি অংশ জোয়ারের তোড়ে ভেঙ্গে শাহপরীরদ্বীপ-টেকনাফ সড়কটি ৩ বছর ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রতিটি পশুতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। তারা আরও বলেন, এ করিডোর দিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজারেরও বেশী গবাদিপশু এনে বিক্রি করেছি। কোরবানির ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আরও কয়েক হাজারের বেশি পশু করিডোরে আসার কথা রয়েছে। কাস্টমস সূত্র জানায়- ২০০৩ সালে ২৫ মে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে করিডোরটি চালু করা হয়েছিল।
এদিকে কোরবানির পশুর নিরাপত্তা নিয়ে মহা টেনশনে রাত কাটাতে হচ্ছে গ্রামঞ্চলের বাসিন্দাদের। কখন বুঝি ডাকাতরা তাদের গোয়ালে হানা দিয়ে গরু লুট করে নিয়ে যায়। এই আতংকের মধ্যে কাটে তাদের প্রতিটি রাত। ডাকাত ও চোরের মোকাবেলায় প্রতি রাতই জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে সারা বছর ধরে আপন মমতায় লালন-পালন করা গরুগুলো কোরবানির হাটে নিয়ে বিক্রি করে লাভের মুখ দেখার প্রতিক্ষায় রয়েছেন গ্রামঞ্চলের বাসিন্দারা। টেকনাফ উপজেলা মিয়ানমারে সীমান্ত এলাকা হওয়ায় প্রতিনিয়ত শত শত গরু আসছে। আর গরু গুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে। কিন্ত টেকনাফে বিভিন্ন জায়গাতে দেখা যায় গরু খামার। এর মধ্যে অন্যতম টেকনাফ সদর, সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ। অনেক পরিবারের আয়ের অন্যতম বড় উৎস হল ঈদ মৌসুমের জন্য বিভিন্ন গবাদি পশু পালন করা। এদের প্রতিটি বাড়ির লোকজন এখন মহা ব্যস্ত গরু মোটাতাজা কাজে। গরুর গোয়াল ঘর, খাবার ঘরে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখে। সাবান শ্যা¤পু দিয়ে গরুকে গোসল করানো হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে খাবারের তালিকায় ভাতও যুক্ত করা হয়। এসব এলাকায় সবুজ তরতাজা ঘাস ও খড়ের ওপর নির্ভর করে পশু পালন করে থাকেন। ভালোমানের ছাগলও পালন হয় গ্রাম গুলোতে। গরুর খামারিরা অভিযোগ করেন- গরুর রোগ-বালাই হলে পশু চিকিৎসকরা বাড়তি টাকা ছাড়া এলাকায় যাননা। তবে টেকনাফ উপজেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা দাবি করেন, লোকবল সংকট ও সড়ক সমস্যার কারণে সময় মতো শাহপরীরদ্বীপ যাওয়া সম্ভব হয়না। শাহপরীরদ্বীপ বাসিন্দাদের অভিযোগ- মিয়ানমারের গরুর প্রভাবে গত বছর বিপুল লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। ফলে টেকনাফে গরু গুলো নিয়ে যেতে হলে একদিন থাকতে হয়। তারপরও হারিয়াখালি রাস্তা মাথায় ঈদ আসলে ডাকাতি বেড়ে যায়। এছাড়া ডাকাত আতংকে রাত জেগে পাহারা দিতে হয়। এমনিতেই নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে এঅঞ্চলের মানুষ বেঁচে থাকার নিরন্তর চেষ্টা চালান। এরপরও যদি ডাকাতের হামলায় তাদের সর্বস্ব লুট-পাট হয়ে যায়, এই চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটে মানুষের। ##

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT