টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

অরক্ষিত পুলিশের অস্ত্রাগার, এক বছরে খোয়া গেছে ৮৫০০ গুলি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১২
  • ১৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
নূরুজ্জামান: অরক্ষিত পুলিশের অস্ত্রাগার। এ সুযোগেই অসাধু পুলিশ সদস্যরা দফায় দফায় সরকারি গোলা-বারুদ পাচার করেছে। নিয়ম মোতাবেক প্রতি মাসেই গোলা-বারুদের হিসাব দাখিলের কথা থাকলেও দায়িত্বশীল উচ্চ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহলোয় গত এক বছরে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার গুলি খোয়া গেছে। তদন্তকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও উচ্চ পর্যায়ের দু’টি তদন্ত কমিটি চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য পেয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন কিছুই বলা যাবে না। তবে পুলিশের কাছ থেকে সরকারি গুলি উদ্ধারের ঘটনায় সকল অস্ত্রাগারের গুলি মজুতের হিসাবে বাড়তি সতর্কতা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতি মাসের হিসাব দাখিলের পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে ৬ মাস পর পর সকল গোলা-বারুদের হিসাব জমা দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের তদারকি কর্মকর্তা এডিসি মো. মশিউর রহমান বলেন, অস্ত্রাগারের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করছেন আলাদা কমিটি। কেবল উদ্ধার হওয়া অবৈধ গুলি ও অস্ত্রের ক্রেতা-বিক্রেতা চক্রের সন্ধান করছে তার তদন্ত দল। তদন্ত সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পুলিশের ব্যবহৃত স্পর্শকাতর দেড় শতধিক অস্ত্রাগার রয়েছে। এর মধ্যে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগার ঢাকা মহানগর পুলিশের জন্য ও আইজিপি রিজার্ভ স্টোর সারা দেশের পুলিশের অস্ত্র সংরক্ষণাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রয়োজন পড়লেই ওই দু’টি অস্ত্রাগার থেকে পুলিশ অস্ত্র সংগ্রহ করে। এক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (সদর দপ্তর) মো. হাবিবুর রহমান ও ডিসি (সরবরাহ) আতাউল কিবরিয়ার তত্ত্ব্বাবধানে ওই দু’টি অস্ত্রাগারের নির্দেশ ছাড়া একটি অস্ত্র কিংবা গুলিও বাইরে বের হওয়ার কথা নয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার রাউন্ড গুলি কিভাবে বেহাত হয়ে গেল সে বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি (সদর) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এটি দেখভালের দায়িত্ব আমার নয়। বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব ঢাকা মহানগর পুলিশের সরবরাহ শাখার ডিসি’র। তবে তার বক্তব্যে ভিন্নমত পোষণ করেন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা। তারা জানান, ডিসি সদর দপ্তরের নির্দেশ ছাড়া কোন অস্ত্র কিংবা গুলি অস্ত্রাগার থেকে বের করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তিনি তার অধস্তন এডিসি (সদর) ও এসি (ফোর্স) তত্ত্বাবধানে অস্ত্র সরবরাহ করে থাকেন। এছাড়া নিয়মিতভাবে অস্ত্র ও গুলির হিসাব রাখার দায়িত্বও তার। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনের ডিসি মো. মাসুদুর রহমান বলেন, পুলিশের কতিপয় সদস্যের ব্যক্তিগত বিচ্যুতির কারণে গুলি বেহাতের ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। একদিকে বিভাগীয় শাস্তি, অন্যদিকে অস্ত্র আইনে মামলা দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। শৃঙ্খল বাহিনীতে কারও বিশৃঙ্খল আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। তদন্ত সূত্র জানায়, রাজধানীর কাফরুল ও রাজারবাগ পুলিশলাইনে খোদ পুলিশের অবৈধ হেফাজত থেকে সরকারি গুলি এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সারা দেশের অস্ত্রাগারের নতুন করে হিসাব চাওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। এদের মধ্যে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশ, হাইওয়ে, রেলওয়ে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশসহ জেলাভিত্তিক সকল পুলিশ লাইন অস্ত্রাগারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

গুলি সংগ্রহকারীদের খুঁজছে গোয়েন্দারা: এদিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকা তিন পুলিশ সদস্য গুলি বেহাতের কথা স্বীকার করেছে। টাকার বিনিময়ে সরকারি গুলি যাদের কাছে বিক্রি করেছে তাদের নাম বলেছে। তদন্তকারী এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন,  পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্রোহী সংগঠন ছাড়াও রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডেও পুলিশের গুলি ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে একাধিক গোয়েন্দা টিম সরকারি গুলি কেনা-বেচা চক্রে জড়িত ওই সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করতে অভিযান পরিচালনা করছে। গত ৩০শে অক্টোবর রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অভিযান চালিয়ে  ১১০৩ রাউন্ড গুলি, ২৪১৫টি গুলির খোসা, ১টি রিভলবার, ১টি ম্যাগাজিন ও ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারসহ রাজারবাগ আইজিপি রিজার্ভ স্টোরের এসআই জাহিদ হোসেন ও কনস্টেবল সায়েমকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এদের প্রত্যেককে ৭ দিনের  রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারী গোয়েন্দারা। এর আগে গত ২৪শে অক্টোবর কাফরুল এলাকা থেকে ৫শ’ রাউন্ড গুলিসহ পুলিশের দুই নায়েক জেনাল চাকমা ও প্রেম চাকমাকে গ্রেপ্তার করেন কাফরুল থানার এসআই মাসুদ। অস্ত্র আইনে মামলা দিয়ে ডিবি পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে আদালতে তারা দু’জনেই গুলি পাচারের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT