টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পিতাকে হত্যা করাই ছিল ঘাতকদের টার্গেট:বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৩
  • ১১৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

sfsdfsddASDsadটেকনাফ নিউজ ডেস্ক॥শহরের নুনিয়া ছড়া থেকে দিন দুপুরে ৬ বছরের শিশুকে অপহরণের ১৯ ঘন্টার মাথায় হত্যা করার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা নুরুল হক বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ১৮)। মামলায় আসামী করা হয়েছে রাজনৈতিক দলের নেতা ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের। যাদের যোগসাজশে হৃদয়বিদারক এই হত্যাকান্ড গঠিত হয়েছে বলে জানায় বিভিন্ন সূত্র। আসামীদের ধরতে তাদের নাম প্রকাশ করছে না আইন-শৃংখলা বাহিনী। ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। এদিকে উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় বেরিয়ে আসছে নতুন সব তথ্য। জেলার বাইরের এক মাদক সম্রাটকে এই ঘটনার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে । যার বিরুদ্ধে ডজন মামলা রয়েছে। এমনকি ইতিপূবের্ও তাকে ধরার জন্যে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছিল বলে জানা যায়। গোপন সূত্রে জানা যায়, আসামীদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে যেকোনো মূহুর্তে তাদের আটক করা হবে। এদিকে গতকাল নুনিয়া ছড়ার শিল্প এলাকায় নিহত শিশু হৃদয় প্রকাশ হাছানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পুরো নুনিয়া ছড়া এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশু হাছান প্রকাশ হৃদয়ের সহপাঠিরা কোন ভাবেই ভুলতে পারছে না তাকে। তার এক সহপাঠি জানায়, স্কুল ছুটির পর হৃদয়কে এক লোকের সাথে যেতে দেখে সে জিজ্ঞেস করছিল কোথায় যাচ্ছে। তখন হাছান উত্তর দিয়েছিলো তার আঙ্কেল (চাচা) এর সাথে যাচ্ছে। একটু পরে চলে আসবে। কিন্তু সেই যাওয়াটায় যে হৃদয়ের শেষ যাওয়া কল্পনা করতে পারেনি তার সহপাঠি। এলাকাবাসী জানায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা মনে করেন পরিকল্পিতভাবেই ঘটানো হয়েছে এই হত্যাকান্ড। নিহত শিশুর বাবা নুরুল হক জানান, বিগত কয়েকদিন ধরে কিছু অচেনা যুবক তাকে অনুসরণ করছিল। কিন্তু তিনি তাদের চেনেন না। এদিকে শিশু হৃদয়ের অপহরণকারী ও হত্যাকারীদের শাস্তির দাবীতে বৃহত্তর নুনিয়া ছড়া বাসির পক্ষ থেকে আজ রোববার বিক্ষোভ সমাবেশ ও জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে জানা গেছেথানায় অভিযোগ করেও ফেরত পেলো না বাবা,লাশ হয়ে ফিরল অপহৃত শিশু হাছান অপহৃত ৬ বছরের শিশু শহরের নুনিয়াছড়ার হাছানকে জীবিত উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে সদর থানা পুলিশ। অপহরণের ১৯ ঘন্টা পর লাশ হয়ে ফিরল শিশু হাছান। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭ টায় কলাতলীর সমুদ্র সৈকত থেকে মৃত অবস্থায় স্কুল ছাত্র হাছানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে জসিম নামের এক রিক্সা চালককে আটক করে পুলিশ। সে চৌফলদন্ডির কালু ফকির পাড়ার নুরুল হকের ছেলে। থানা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় উত্তর নুনিয়া ছড়া হাছান আলী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাড়ী ফেরার পথে শিশু শ্রেনীর ছাত্র হাছান (৬) অপহরণের শিকার হয়। সে উত্তর নুনিয়া ছড়ার শিল্প এলাকার নুরুল হকের ছেলে । হাছানকে অপহরণের পর অপহরণকারীরা হাছানের পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা দাবী করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে রাজি হয় অপহৃতের পরিবার। অপহরণকারীদের দাবী মেনে নেওয়ার পরেও জীবিত বাড়ি ফিরতে পারেনি অবুঝ শিশু হাছান। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত শহরের এই প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত চষে বেড়িয়েছে হাসানের পরিবার। কিন্তু তারপরেও জীবিত অবস্থায় হাসানকে ফিরে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে তার পরিবার। এ বিষয়ে নিহত শিশুর বাবা নুরুল হক জানান অপহরণকারীদের কথামত তাদের দাবীকৃত ২ লাখ টাকা নিয়ে বাস টার্মিনালে যান অপহৃত শিশু হাছানের বড় ভাই মো. ইউসুফ । দুপুর ২ টার দিকে বাস টার্মিনাল গিয়ে অপহরণকারীদের ব্যবহৃত মুঠো ফোন (০১৮৫২৩২২২৪৩) নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে অপহরণকারীরা নিহত হাছানের বড় ভাইকে সুগন্ধা পয়েন্টে যেতে বলে। অপহরণকারীদের কথা মত অপহৃতের বড় ভাই ইউসুফ বিকাল ৪ টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্টে যান। ইউসুফ সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে অপহরণকারীদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে অপহরণকারীরা জসিম নামের এক রিক্সাওয়ালাকে মুক্তিপণের টাকা দিতে বলে। তখন জসিমের সাথে দেখা হয় ইউসুফের। কিন্তু তার ভাইকে না দেখে টাকা দিতে অসম্মতি জানান ইউসুফ । পরবর্তীতে অপহৃত শিশুর পরিবার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ জসিমকে আটক করে। এদিকে গতকাল সকাল ৭ টায় সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান সমুদ্র সৈকতের সী-ইন পয়েন্টের দক্ষিণ পাশ থেকে মৃত অবস্থায় অপহৃত শিশু হাছানের লাশ উদ্ধার করে। স্থানীয় জনতার দেওয়া খবরের ভিত্তিতে নিহত হাছানকে উদ্ধার করা হয় বলে জানায় সদর থানা পুলিশ। পরে ময়না তদন্ত শেষে বেলা আড়াইটায় পুলিশ লাশটি তার পরিবারকে হস্থান্তর করে। পরে সন্ধ্যা ৬ টায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত শিশুর বাবা নুরুল হক দাবী করেন কারও সাথে তার কোন ধরনের বিরোধ নেই। তবে মামলা মোকদ্দমার জের ধরে তার আপন ভাই মো.আলম এ হত্যাকান্ড ঘটাতে পারেন বলে তিনি দাবী করেন। এ ব্যপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্থুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। এদিকে অপহৃত শিশু হাছানকে জীবিত উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী করছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবী, অপহরণের পর পুলিশকে জানানোর সাথে সাথে পুলিশ যদি গুরত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করত তাহলে হয়তো জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যেতো শিশুটিকে। হত্যাকারীদের ধরতে সদর থানা পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানান সদর থানা পুলিশের অপারেশন অফিসার শাহেদ উদ্দীন চৌধুরী দাবী করেন। হৃদয়বিদারকভাবে শিশুটিকে খুনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আগামীকাল রবিবার বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করবে জানান বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT