টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

অনেক অবাধ্য, অমান্য ও কষ্টের বিনিময়ে পেয়েছি বর্ষবরণ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১২৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মহিউদ্দিন মাহী…
৩০ ডিসেম্বর রাতটি অতিবাহিত হয়েই শীতের হিমবাহ রাতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের শিশির ভেজা বালিয়াড়িতে বছরের শেষ সূর্যাস্তের যবনিকা ঘটার মন্দ্রেক্ষণ ৩১ ডিসেম্বর। এই দিন রাত ১২:০১ মিনিট থেকে শুরু হতে যাচ্ছে খ্রিস্টীয় নববর্ষ ২০১৩। নববর্ষকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাতে প্রস্তুত পর্যটন নগরী কক্সবাজার। এই দিনটিকে গিরে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ শুরু হবে থার্টি ফাস্ট নাইট। ইংরেজী বর্ষ ২০১২ সালকে বিধায় ও নতুন  বর্ষ ২০১৩ সালকে বরণ করতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকদের আগমনে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়বে। বিদায়ী বছরের দুঃখ, কষ্ট, জীর্ণ ঝরাকে ঝেড়ে ফেলে পৃথীবীর দীর্ঘতম দৈর্ঘ্য ১০০ কিলোমিটারের বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে লাল লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ করবে বিদায়ী বর্ষের শেষ সূর্যাস্তকে।
অনেক অবাধ্য, অমান্য ও কষ্টের বিনিময়ে আমাদের মাঝে এসেছে হ্যাপি নিউ ইয়ার (বর্ষ বরণের দিনটি। যে সব উৎসব পৃথিবীব্যাপী পালিত হয়, তাদের মধ্যে সবচে পুরোনো উৎসব হলো বর্ষবরণ। এই উৎসব শুরু হয় প্রায় ৪০০০ বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে। প্রাচীনতম সময়ে বর্তমান সময়ের মতো জানুয়ারির ১ তারিখে পালন করা হতো না। তখন নিউ ইয়ার (নতুন বর্ষ) পালন করা হতো বসন্তের প্রথম দিনে। বসন্তকালে  প্রকৃতির নতুন করে জেগে ওঠাকেই তারা নতুন বছরের শুরু বলে চিহ্নিত করেছিল।
তাই সে সময়ে উৎসব শুরু হতো চাঁদ দেখে। যেদিন বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠতো, শুরু হতো তাদের বর্ষবরণ উৎসব, চলতো টানা ১১ দিন। এই ১১ দিনের আলাদা আলাদা তাৎপর্যও ছিলো।
প্রাচীন কালের রোমানরা চাঁদ দেখেই তৈরি করে ফেলেছিলো ক্যালেন্ডার!
আর সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ওদের নববর্ষ ছিলো ১ মার্চ। তবে প্রথম দিকে ওদের ক্যালেন্ডারে মাস ছিল মাত্র ১০টা, ছিল না জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি। পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারীকে ক্যালেন্ডারে যোগ করেন।
রোমান  সাম্রাজ্যে, এই ক্যালেন্ডার নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়েছিলো। তাই সে সময় কবে থেকে নতুন বছর শুরু হবে, সেটা ঠিকই করা যাচ্ছিলো না। ৪ হাজার বছর আগে একেক সময় একেক জায়গায় একেক দিন নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে পালিত হতো। যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৬০০ বছর আগে, অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে ঠিক করা হয়েছিলো বর্ষবরণ হিসেবে পালন করা হবে ২৬ মার্চ তারিখটি। কিন্তু সেটা ঠিকভাবে মানাই হচ্ছিলো না। পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস যখন জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে ঢোকান, তিনি ঠিক করে দেন, জানুয়ারির ১ তারিখ হলো বছরের প্রথম দিন। ওইদিনই হবে বর্ষবরণ। তখনকার সময়ে কিন্তু সে কথাও মানা হলো না। রোমানরা সেই আগের মতো মার্চের ১ তারিখেই বর্ষবরণ উৎসব করতে লাগলো। পরে জুলিয়াস সিজার যখন ৩৬৫ দিনে বছরের ঘোষণা দেন, তখন তিনি বলে দেন, মার্চে নয়, বছর শুরু হবে জানুয়ারির ১ তারিখে। উৎসবও সেইদিনই হবে। তখনোই কাজ হলো। ৪ হাজার বছর থেকে বর্ষবরণ উৎসব মার্চ  থেকে চলে এলো জানুয়ারির ১ তারিখে।
সেই প্রাচীন তম বর্ষবরণ উৎসবকে গিরে কক্সবাজার জেলায়ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হবে সু-স্বাগত ২০১৩। জেলায় দেশী পর্যটক ছাড়াও হাজার হাজার বিদেশী পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠবে মনোরম কক্সবাজারে। সু-স্বাগত ২০১৩ কে ঘিরে কক্সবাজার পর্যটন এলাকাসহ জেলার সব কটি পর্যটন স্পটে সাজ সাজে মূখরীত হয়ে উঠেছে। তার মধ্যে পর্যটন নগরী কক্সবাজার অন্যতম প্রধান স্থান হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারকে ইংরেজী নববর্ষ উদ্্যাপনের অন্যতম প্রধান স্থান বা এলাকা হিসেবে বেছে নেয়ার ব্যাপারে পর্যটকদের অভিমত কয়েকটি বিষয়ের ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। যেমন, কক্সবাজার পর্যটন এলাকাসহ জেলায় অনেকগুলি পর্যটন স্পট রয়েছে। এর মধ্যে বেশীর ভাগ উম্মুক্ত বালিয়াড়ি সাগর সৈকত সম্পন্ন, চারিদিকে প্রকৃতির অফার সমাহার। স্বাস্থ্যকর আবাহাওয়ায় ভ্রমণের রয়েছে বিস্তৃত জনপদ। পর্যটকদের এক জায়গায় ভ্রমণ সীমাবদ্ধ থাকে না। অপরূপ সোন্দর্য্য পরিবেশে প্রকৃতির ভিন্ন রূপ আস্বাদনের মাধ্যমে বেড়ানো যায়, মনের আকাশে হারিয়ে যাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে বর্ষ বিদায়ের সূর্যাস্থ্য এবং বর্ষ শুরুর সূর্যোদয় দর্শণ। এ দুটি আকর্ষণীয় দর্শন উপভোগ করার জন্য সূর্যাস্থ দেখার দিন ৩১ ডিসেম্বরই পর্যটকরা হুমড়ি খেয়ে পড়বে কক্সবাজার পর্যটন জেলার প্রতিটি স্পটে।
পর্যটন নগরী শহরসহ জেলার অধিকাংশ পর্যটন স্পটে হোটেল-মোড়েল ও রেস্তোঁরায় আগে থেকেই নানা রঙ্গের রঙ লাগিয়ে রিপারিং করেছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ইংরেজী নববর্ষ বিভিন্ন জেলা উপজেলা ও অঞ্চলে পালিত হয়। এর মধ্যে পর্যটন এলাকাটিকে প্রাধান্য দেয় দেশী-বিদেশী পর্যটকরা। আগে শুধু দেশী পর্যটকরা  নববর্ষ উদ্যাপনের জন্য কক্সবাজার এলেও; বর্তমানে কিছু সংখ্যক হলেও বিদেশী পর্যটক আসা শুরু করেছে। বিদেশী পর্যটকরা সচরাচর মানসম্মত হোটেলে থাকতেই বেশী পছন্দ করেন। বর্তমানে কক্সবাজার শহরে পাঁচ তারকা ও তিন তারকা মানের হোটেলগুলোতেও কোন ধরণের রুম খালি নেই বলে জানা গেছে।
হোটেল মালিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রায় একমাস আগে থেকেই সব ধরণের হোটেলের  রুম বুকিং হয়ে গেছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও অনেক পর্যটক  নববর্ষ পালন করার জন্য টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন যাবেন বলে সেখানেও আগে থেকে রুম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। ফলে সেখানেও কোন হোটেলে রুম খালি নেই। পূর্বে থেকে খ্রিস্টীয় নববর্ষকে বরণ করে নিতে যারা কোন ধরণের রুম বুকিং না দিয়ে কক্সবাজার আসবেন তাঁদেরকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে বলে জানান কয়েকজন হোটেল মালিক। এদিকে তারকা মানের হোটেলগুলোর বেশিরভাগই  নববর্ষ উপলক্ষে তাঁদের গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করার জন্য নানান ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।
পাঁচ তারকা মানের হোটের সী-গাল কর্তৃপক্ষ তাদের হোটেলের উন্মুক্ত মঞ্চে আয়োজন করেছে ডিজে পার্টি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। অন্যদিকে তিন তারকা মানের লং বিচ হোটেল কর্তৃপক্ষ দেশের বিখ্যাত শিল্পিদের গান গাওয়ার জন্য নিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। আর অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করেছে। বড় বড় হোটেলগুলো বাইরে থেকে বিভিন্ন শিল্পীদের এনে অনুষ্ঠান করলেও নিরাপত্তার জন্য কার্যকর কোন ব্যবস্থা এসব হোটেল কর্তৃপক্ষের থাকেনা। ইতি পূর্বে ২০১১ খ্রিস্টাব্দের থার্টি ফার্স্ট নাইটে কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে অনেক বড় দূর্ঘটনা হয়েও হোটেল সী-গাল থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান শতশত পর্যটক।
তবে কক্সবাজারের মানুষ ও আগত পর্যটকরা সবচেয়ে বড় অনুষ্টানটি দেখার সুযোগ পাবে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির সৌজন্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালুচরে। এনটিভি কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে ধারণ করে সারাদেশে তাদের দর্শকদের দেখানোর সুযোগ করে দেবে। অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন কোম্পানির সৌজন্যে হওয়ায় এটি দেখতে দর্শকদের কোন ধরণের টিকেট কাটতে হবেনা বলে জানা গেছে। এছাড়া শহরের আরো অনেক হোটেল, মোটেল, গেষ্ট হাউজের বিভিন্ন অনুষ্টানে দেশ বরেণ্য বিভিন্ন শিল্পীরা অংশ নেবেন বলে জানান এসব অনুষ্টানের আয়োজকরা।
এদিকে নতুন খ্রিস্টাব্দকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যাতে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার আজাদ মিয়া।
এছাড়াও অন্য জেলা থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রায় দেড়শরও বেশী কর্মকর্তা ও সদস্য আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বার্তা প্রেরক
মহিউদ্দিন মাহী
কক্সবাজার
মোবাইল ০১৮২৫৬৫৫৭৫৯

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT