হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদফিচারমাদক

TRY- যন্ত্রণা ও গডফাদার!!

শহীদুল্লা1510949_662514210466051_708030067_nহ শহীদ:::Head Line TRY 1সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও আশেপাশের দেশের বেশ ক’টি ঘটনা নিরাশ, কাউকে অবাক, কাউকে বা মর্মাহত করেছে ও স্বজনহারাদের হৃদয়ে রক্ত ঝরিয়েছে। নেপালের ভূ-কম্পন আমাদের বাংলাদেশকেও কাঁপিয়ে দিয়ে আতংকিত করে ছেড়েছে। সর্বোপরি এই আধুনিক বিশ্বে মানুষ যখন সভ্যতা ও মানবতার পতাকা বিশ্বব্যাপি উড়াচ্ছে তখনি থাইল্যান্ড জংগলে মানবপাচারকারীদের পরিচালিত গহীন জংগলের টর্চার ক্যাম্প আবিষ্কার, সাথে গণকবর থেকে মানব সন্তানদের নিথর, গলিত লাশের স্তুপ, যে কারো হৃদয়-এ রক্ত ঝরিয়েছে। মানবপাচার পৃথিবীর আদমতম ব্যবসা,  কিন্তু এমন নির্মম নির্যাতন করে টাকা আদায়, অনাদায়ীদের দাস-এ পরিণত আর অনাহারে, নির্যাতনে গণকবরে স্থান-এইটা আমরা আইয়ামে জাহেলিয়াতের ইতিহাসেও শুনিনি। সভ্যতার এ পর্যায়ে এসে মানুষ মানুষের উপরে কত নিষ্টুর হতে পারে তাও আধুনিক মানুষকে দেখতে হলো।
যা হাউক, আমি লিখার শিরোনাম দিয়েছি TRY-  শিরোনামেই এই TRY- কি করে আসলো তারও ইশারা দিয়েছি সংক্ষেপে। আমি রোহিঙ্গা শব্দের প্রথম ইংরেজি বর্ণমা150504083226_mediterranean_migrant_640x360_reuters_nocreditলা R- কে মধ্যখানে রেখে আমাদের দেশের চলমান অন্য ২টি সমস্যা, Trafficking এর T- আর মানবপাচার বা YABA এর Y-  কে রোহিঙ্গার R- এর ২ দিকে বসিয়ে উচ্চারণের সুবিধার্থে YABA- তৈরী করেছি। খেয়াল করে দেখবেন বাস্তবতার নিরিখে রোহিঙ্গার সাথে যেমন ণঅইঅ- র উৎপত্তির স্থলের সম্পর্ক রয়েছে, ঠিক তেমনি মানবপাচারের সাথেও রোহিঙ্গার সম্পর্ক ও অত্যন্ত নিবিড়। আর আমরা বাংলাদেশিরা বিশেষ করে বার্মা-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশিরা এই TRY- এর চক্করে পড়ে আমাদের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। একদিকে সম্মানহানি আর অন্যদিকে জীবন-হানি, ২টা থেকেই রেহাই পাচ্ছি না আমরা। মিডিয়া তো ১৪পা এগিয়ে, ঞজণ বস কে, তথাকথিত তালিকা, ক্রসফায়ারে নিহত, ইত্যকার নানান সংবাদ ছাপিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই আমরা স্থানীয়রা দেখতে পাচ্ছি না। আজকে আমি এই ঞজণ নিয়ে আলাদা আলোচনা উপস্থাপন করতে চাই। অনেকে হয়ত দ্বিমতও পোষণ করতে পারেন, আর তা করার অধিকার আপনার অবশ্যই আছে। আর আপনাদের ভিন্ন মতামতের প্রতিও আমার সম্মান রইল। চলুন এই TRY এর ট্রায়াঙ্গ্যাল আলোচনায় যাওয়া যাক তাহলে।

১। মানবপাচার (Trafficking)- আগেই বলেছি মিডিয়ার মাধ্যমে ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী অভিবাসী অনেকের ভাগ্যে কি নির্মম পরিণতি হয়েছে তা সবাই দেখেছেন। সাগর পথে যে মালেশিয়া যাওয়া যায় তা আজ থেকে ক’বছর আগেও কারো কল্পনায় ছিলনা। আমি প্রথম এ সম্পর্কে জানতে পারি ২০০৪ সালে যখন আমরই এক নিকট আত্মীয় এ দুঃসাহসী যাত্রায় অন্যান্য রোহিঙ্গাদের সাথে অবশেষে মালেশিয়া পৌঁছে। যতদূর মনে আছে তখন টাকা পরিশোধ করতে হতো মালেশিয়া পৌঁছার পরই। ওখান থেকেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো বাংলাদেশের কোথায় টাকা জমা করতে হবে। যতদূর মনে পড়ে, সেই টাকার পরিমাণ খুব সম্ভবত ৫০-৬০ হাজার টাকার বেশী নয়। ঐ সময় অধিকাংশ অভিযাত্রীই ছিল মূলতঃ রোহিঙ্গা। ঐ আত্মিয়ের মাধ্যমে যতদূর জেনেছি, ছোট যে নৌকায় ৪০/৪৫ জন যাত্রী নিয়ে ৭/৮ দিন বিরতিহীন যাত্রার পর মালেশিয়া-থাই বর্ডারের কোন এক জায়গায় নৌকা ভিড়ত। আর ঐ নৌকা বাংলাদেশে আর ফিরে আসতো না। মাঝি বা নৌকার চালক ছিল রোহিঙ্গা। থাইল্যান্ডের স্থানীয় পথ প্রদর্শক ও মাঝির নেতৃত্বেই পাহাড়-জঙ্গল পাড়ি দিয়ে অবশেষে স্বপ্নের মালেশিয়া। কিন্তু গত ৪/৫ বৎসরে যা শুনছি বা জেনেছি এ যাত্রার ধরণ-ধারণ পাল্টেছে। বড় জাহাজে করেই অনেকটা নিরাপদেই থাইল্যান্ডের মালেশিয়া বর্ডার পর্যন্ত যাচ্ছে। ফলে প্রথমদিকে যারা ছোট নৌকায় যেতে ভয় পাচ্ছিলো তারাই এখন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আমাদের টেকনাফ-উখিয়ার গ্রামগুলোতে বড় পরিবারগুলোতে ৪/৫টা ছেলে সচরাচর থাকেই। বাবা-মা ও একটি ছেলে বিদেশ পাঠিয়ে সুখের স্বপ্ন দেখে। বিশেষ করে পরিবারের বেকার ছেলেটিই এই সুযোগ’টি কাজে লাগায়। এভাবে করে টেকনায় সমুদ্র উপকূলের  যে এলাকায় আমার বাড়ী, ২/১ ঘর পর পর মালেশিয়ায় যাইনি এমন পরিবার পাবেন না বললেই চলে। ইত্যবসরে থাইল্যান্ডের ক্যাম্পে অনেকের মৃত্যুও হয়েছে যা সবাই দেখেছেন।  আজ থেকে ২/৩ বৎসর আগ পর্যন্ত এই যাত্রা ছিল একটা ওপেন সিক্রেট অত্র এলাকায়।  অনেক সময় ছেলে বাবা-মায়ের অজান্তেই স্বপ্নের দেশে পাড়ি জমায়। এমন পরিবারের ছেলেরাও যাত্রা করেছে,  ২ লক্ষ টাকা জোগাড় করা বাবা-মায়ের পক্ষেও একটা স্বপ্নের ব্যাপার। আর এসব ছেলেরাই সম্ভবত থাই ক্যাম্পে বন্দী ছিল দিনের পর দিন। তাদের অনেকেই নির্যাতনে বা খাদ্যেভাবে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য হয়েছে। এর মাঝে ২/১ বৎসর আগে থেকেই স্থানীয়ভাবে আর মালেশিয়া যাওয়ার যাত্রী পাওয়া যাচ্ছিলো না। আদমের ভান্ডার স্থানীয়ভাবে ইতিমধ্যে খালি। তখনি এই নেটওয়ার্ক সারা দেশব্যাপি ছড়িয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন জেলা থেকে স্রোতের মত নানান মানুষ আসতে থাকে স্বপ্নের দেশ-এ যাওয়ার জন্য। সাথে বাড়তে থাকে দালালের সংখ্যাও। এখানে একটি কথা বলে রাখি আমার জানামতে প্রায় সব অভিযাত্রীই আপন সিদ্ধান্তেই গেছে। হ্যাঁ, এইটা ঠিক যাত্রা পথে ঠিক কি কি সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে তা জানত না। আমি মনে করি প্রথম দিকে প্রশাসন এই সমুদ্র যাত্রায় তেমন একটা কেয়ার করেনি। অনেক সময় প্রশাসনও টু-পাইস কামাই’র জন্য দালালদের খপ্পরে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। আমার সাথে আলাপে এক কর্মকর্তা জানালেন, মালেশিয়া যাওয়ায় ক্ষতি কি? দেশে রেমিটেন্স আসবে আর অনেক চিহ্নিত অপরাধীও এই ফাঁকে সূদূর মালেশিয়া পাড়ি জমাচ্ছে। দেশে চুরি-ডাকাতি ও কমে যাচ্ছে। এই কথাটি অনেক ক্ষেত্রে সঠিক বলে আমিও মনে করি। তবে পরবর্তীতে যা দেখেছি, পুলিশ আসলে এসব আদম এর সম্ভাব্য মৃত্যু যাত্রা ঠেকানোর চেয়ে ইয়াবা ধরাধরিতেই বেশী মনোযোগী ছিলেন। কারণও আছে, এসব আদম’র যাত্রা ঠেকালে উল্টা অনেক ঝামেলাও পৌহাতে হয়। যেমন ঐসব যাত্রীরা সবাই প্রায় নিঃস্ব থাকে, উল্টো পুলিশের পকেটের পয়সা দিয়ে ধৃতদের খাওয়া-দাওয়া করাতে হয়। আইনি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত এই অধিক সংখ্যক মানুষ নিয়ে টানাটানি পুলিশের জন্য একটা মস্তবড় ঝামেলার কাজ। এর চেয়ে ণঅইঅ ধরাধরি অনেক লাভজনক ও নিরাপদ। এদিকে পাচারকারীদের নিয়ে তালিকা বাণিজ্যও থেমে থাকেনা। মিডিয়াও সময়ে সময়ে পাচারকারীদের নাম/ ধাম দিয়ে তালিকা ছাপিয়ে তালিকা বাণিজ্য করার সুযোগ বৃদ্ধি করেই গেছে। অন্যক্ষেত্রে, ঐসব তালিকা যদি সঠিক হয়েও থাকে সেক্ষেত্রে পাচারকারীদের সতর্ক Pic-1হওয়ার আগাম বার্তাও জানিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে গেছে। এই তালিকার উৎসব ও গ্রহণযোগ্যতা কি তার কোন নিশ্চয়তা না থাকলেও, তালিকার পর তালিকা আসতে থাকে নানা মাধ্যমে। YABA-আর আদমের পাল্লায় পড়ে পুলিশও যেন হা-ডু-ডু খেলতে থাকে। সর্বশেষ যখন থাইল্যান্ডে গণকবর আবিষ্কার হলো, তখন আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যেন কিছু একটা করে দেখানোর প্রতিযোগিতায় নামে। ৬ জন ক্রসফায়ার-এ নিহত হয়। আবারও নিত্য নতুন তালিকা আসতে থাকে মিডিয়ায়। কখনো ৭৯ জনের, আবার কখনো ৩০০ জনের। এর মাঝে অকস্মাৎ ৬ জনের ক্রসফায়ার-এ মৃত্যু অন্যান্যদের লুকিয়ে যাওয়ার তড়িৎ বার্তা পৌঁছে দেয়। ফলে দ্রুত দালাল শূণ্য হলো উখিয়া-টেকনাফ। এ সংক্রান্তে স্থানীয় সাংসদ থেকে শুরু করে অনেক হুমরা-চোমরার নামও তালিকার প্রথম দিকে দেখা যায়। যদিও এই তালিকার সত্যতা নিয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান ছিলাম। টাগেট ধরার আগে যে তালিকা মিডিয়ায় চলে আসতে  পারে, তখন সেই তালিকার গোপনীয়তা বা গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবুও এ ধরনের তালিকা প্রকাশ করার মাঝে প্রশাসন হউক বা মিডিয়া হউক কারো না কারো বাণিজ্য ঠিকই সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে প্রকাশিত তালিকা নিয়ে প্রশাসন চুপ থেকেছে। উন্নয়নের ধোয়া যতই তোলা হউক, মানুষ উন্নত অর্থনীতির দিকে সাগর কেন মহাসাগরও পাড়ি দিবে। আর এ যাত্রাকে বৈধতার ভিতর আনা সরকারেরই দায়িত্ব।

২. R- রোহিঙ্গা :
রোহিঙ্গা নিয়ে কমবেশী আমরা সকলে মোটামুটি অবগত আছি। বলা হয়ে থাকে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে নিগৃহিত, নির্যাতিত জাতি এই রোহিঙ্গারাই। নিজ জন্মভূমিতে যুগের পর যুগ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রোহিঙ্গারা। তাই নিজ ভূমেই এক প্রকার পরবাস তাদের জন্য। রোহিঙ্গা মুসলমিদের উপর নানা অজুহাতে প্রতিনিয়ত চলছে নির্যাতনের ষ্ট্রীম রোলার। ফলে ওরা সহজ ও প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে বাংলাদেশকে বেঁচে নেয়। সাময়িক বা স্থায়ী যে কোনভাবে জীবন-যাপন করতে এরা বাধ্য হয়। বাংলাদেশের এই অংশে UNHCR- র উপস্থিতি থাকলেও তা শুধু স্বীকৃত ক্যাম্পে অবস্থানরত নিবন্ধিতদের মাঝে সীমাবদ্ধ। ক্যাম্পের বাইরে, গ্রামের এখানে-সেখানে বসবাস আমাদের যেন গা সওয়া হয়ে গেছে সে অনেক আগে থেকেই। তাছাড়া তাদের ভাষা-ধর্ম-সংস্কৃতি ইত্যকার সাথে আমাদের সাদৃশ্য এই সহ-মিলনকে সম্ভব করেছে। এই অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিশাল একটি অংশ সুদিনের আশায়, মৃত্যু-ভয় কে পরাভূত করে অনিশ্চিত সাগর পথে মালেশিয়া পাড়ি জমায় আর তাদের সাথে সহযাত্রী হয় বাংলাদেশেরও স্বপ্ন বিলাসী আমাদের স্বজনদের কিছু অংশ।  মানবিক সমস্যা অনুধাবন করার কারণে বাংলাদেশ বার্মা থেকে রোহিঙ্গা স্রোত কখনো ঠেকাতে পারেনি। স্বাধীনতার পর থেকেই এই আগমনের কোন শেষ নেই। অতীতে তাদের অনেকেই নানান উপায়ে বাংলাদেশী নাগরিক বনে যায় এবং বাংলাদেশের নানা প্রান্তে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। এদের একটি অংশ চট্টগ্রাম ঢাকায় প্রতিষ্টিত ব্যবসায়ী হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। তাদের কেউ কেউ আর্থিকভাবে এতই সফলতা পায় যে, হালের এম.পি বদিকে ১০ বারও কিনার ক্ষমতা পোষণ করে তাদের অনেকে। বার্মা ভিত্তিক কালো- ব্যবসার বেশ বড় একটা অংশ পরিচালিত হয়ে থাকে এদের মাধ্যমেই।  বাংলাদেশে স্থায়ী ঠিকানা, বার্মায় আত্মীয়তা সূত্রে উচ্চ পর্যায়ে ভাল যোগাযোগ এসব মিলিয়ে এদের অনেকের ণঅইঅ মানব পাচার লিংক অত্যন্ত মজবুত। সাগর পথে বার্মার সাথে বৈধ, অবৈধ পথের লাভজনক যে কোন ব্যবসা এরা চট্টগ্রাম থেকেই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বলে জানা যায়। আর এখানে-সেখানে বসবাসরত গরীব-অসহায় রোহিঙ্গাদের অনেকেই পেটের তাগিদে সহজ আয় হিসেবে ণঅইঅ বহনের কাজ করতে বাধ্য হয়। বার্মা আসা-যাওয়া করছে প্রতিনিয়ত উক্ত অপকর্মের কুলি হিসেবে। মানব-পাচার ও ণঅইঅ তালিকার পাশাপাশি রোহিঙ্গাবান্ধব নেতাদের নাকি আরও একটা তালিকা আছে যেখানে আবরও নাকি এম.পি বদি হিরো নাম্বার ওয়ান।

৩. ইয়াবা (YABA)
YABA শব্দটির সাথে পরিচিত নয় এই রকম শিশুও মনে হয় এদেশে আর পাওয়া যাবে না। অনেক মাদকের মাঝে এটি যেন উড়ে এসে জুড়ে বসেছে।  আর বাংলাদেশকে জয় করে এখন হাওয়ায় ভাসছে। স্থানীয় থেকে জাতীয়, অনলাইন থেকে ইলেক্ট্রনিক সব মিডিয়া প্রতিদিনই নানান কারণে YABA- নামটি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। রোহিঙ্গাদের বসতি বার্মার মংডু এলাকায় ৩৭টি ছোট বড় ণঅইঅ কারখানার তালিকাতো সম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকার বার্মা সরকারের ডেলিগেইটদের দিয়েছে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। সকলেই জানেন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা আকিয়াব জেলাটিতে সেনাশাসন চলছে দীর্ঘদিন থেকে।  মংডু এলাকায় ণঅইঅ তৈরীর পূর্বে এসব তৈরী হতো, বার্মা ও থাই বর্ডারের কাছাকাছি। তখন খুব কম সংখ্যক মানুষই ণঅইঅ সম্পর্কে জানতো। দাম ও ছিল চড়া। প্রশাসন YABA-র গন্ধ পাওয়ার পূর্বেই নাকি অনেকেই এ কারবার থেকে কাংখিত মুনাফা বানিয়ে এখন দেশপ্রেমিক ব্রাহ্মন সেজে বসে আছেন। এই ণঅইঅ নাকি এখন সীমান্ত এলাকার ফকিরন্নির ব্যবসা। যে কেউ করছে। পুলিশ প্রশাসনও বসে নেই। বসে নেই বিজিবিও। গত বৎসর যৌথ বাহিনীও নামতে বাধ্য হয়। ৩/৪ জন এর প্রাণও গেল বন্ধুক যুদ্ধে। যৌথ বাহিনী থাকা অবস্থায় হয়ত ক’টা দিন একটু অবসরে যায় ণঅইঅ। কিন্তু এর পর বিশাল বিশাল চালান ধরা পড়ায় প্রমাণিত হলো, দুই-চারটা মৃত্যুর বিনিময়ে YABA   ঠেকানো যাবে না, যায়নি। র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি, বিজিবি প্রতিদিন হয়ত কিছু না কিছু উদ্ধার করেই যাচ্ছে। কিন্তু পেছনের হাতি ঠেকাবে কে? YABA পাচারকারীর তালিকার তো শেষ নেই। তালিকা-বাজিরও শেষ নেই। YABA’র বন্যা কিন্তু ঠিকই বয়ে যাচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে? সারা দেশে। বড় বড় শহরগুলোতে তো YABA নাকি পানের দোকানেও পাওয়া যায়। ও হ্যাঁ, এই তালিকায়ও সাংসদ থেকে শুরু করে কে নাই? অনেকে বলেন, ণঅইঅ ব্যবসা সীমান্তে কে কে করছে এই তালিকা না করে, কে কে করেনা সেই তালিকা করাই নাকি সহজ হবে। তালিকা, ক্রসফায়ার, জেল, মামলা কোন কিছুই কাজ করছে না। করবেও না। কারণ বিষয়টি কোন একক ব্যক্তি বা গোষ্টি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত নয়। YABA বিষয়টি সীমান্ত জনপদে অনেকটা সার্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ণঅইঅ নিয়ে টেকনাফ উপজেলার দুর্নামের যাই হউক না কেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের জন্য এই টেকনাফে পোষ্টিং পাওয়া নাকি সোনার হরিনের চেয়েও বেশী। কিন্তু কেন? উৎস যতদিন বন্ধ না হচ্ছে ততদিন পানি যেমন নিচের দিকে গড়ায় এই YABA – ও সবসময় বাংলাদেশ-এর দিকেই গড়াবে। তালিকা করবেন? কত করবেন? ক’জন কে মারবেন? অর্থের জন্য শিক্ষিত/ অশিক্ষিত কেউ এই নীতি কথা শুনবেনা। বিষয়টিকে শুধু স্থানীয় সমস্যা না মনে করে আন্ত-দেশীয় সমস্যা হিসাবে আমলে নিয়ে প্রতিবেশি দেশের সমন্বয়ে যৌথ প্রচেষ্টায় উৎস ধ্বংস না করা পর্যন্ত চলতেই থাকবে। কিন্তু দেরীতে হলেও সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সেই প্রচেষ্টাই করছে বলে মনে হচ্ছে।

সার্ক থেকে আসিয়ান:
আদম পাচার চলমান দুঃস্বপ্নের নাম। রোহিঙ্গা মানবতার দুঃখিনি মায়ের কান্না আর হালের ক্রেজ YABA এতদাঞ্চলের যুব সমাজের ভ্রান্ত প্রাণের স্পন্দন।  এই ত্রয়ীর যাঁতাকলে বাংলাদেশ তথা সীমান্ত জনপদ উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিয়ত নাস্তানাবুদ হচ্ছে। একটি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব যখন কোন দল পায় তখন নিশ্চয় সেই দলের কিছু লক্ষ্যও উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু এই TRY তথা মানব পাচার/ রোহিঙ্গা সমস্যা/ YABA এককভাবে কোন দলীয় সমস্যা নয়। আমি বলি, তিনটিই সম্পূর্ণ জাতীয় সমস্যা। শুধু জাতীয় সমস্যা বললে কমই বলা হবে। বলতে হয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃদেশীয় তথা আসিয়ানও সার্কভূক্ত দেশেরও সমস্যা। সার্কের ও আসিয়ানভুক্ত কোন দেশ যদি ভাবে মানব-পাচার শুধুই বাংলাদেশের অভ্যন্তরিন সমস্যা তাহলে ভুল হবে। মানব পাচার কখনো একমুখি স্থির থাকে না। সময়ে বহুমুখি রূপধারণ করে। আমি ইতিমধ্যে জেনেছি ভারতীয় নাগরিক ও মালয়েশিয়া পাচারকালে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।
অন্যদিকে নিজ ভূমে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হয়ে রোহিঙ্গারা আজ শুধু সার্ক-আসিয়ানভূক্ত দেশ ছাড়িয়ে  আন্তঃ মহাদেশীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এটাই স্বাভাবিক। তাই এই ঞজণ- শুধু বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। এ সমস্যা নির্মূলে সার্ক-আশিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মাঝে দ্রুত সমন্বয়ের প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত গণকবর আবিষ্কারের পর থাই সরকার গুরুত্ব অনুধাবন করে আঞ্চলিক বৈঠকের ডাক দিয়েছে যাতে মালেশিয়া সরকার তড়িৎ সাড়া দিয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় বার্মা জান্তা সরাসরি আলোচনা নাকচ করে দিয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে বার্মার মনোভাব বুঝতে পারি। জান্তা সরকার চাচ্ছে রোহিঙ্গারা যেন যে কোন উপায়ে তার দেশ ছেড়ে যায়। তাই মানবপাচারে তাদের এক প্রকার উৎসাহই কাজ করেছে। কারণ রোহিঙ্গাদের গণকবর গোটা পৃথিবীর মানুষ কষ্ট পেলেও জান্তা সরকার যেন উল্লাসে ফেটে পড়ছে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে সারা বিশ্ব যখন মর্মাহত, আসিয়ানভুক্ত থাই-মালয়েশিয়া যখন এই ক্ষনিক বিপর্যয় নির্মূলের উপায় খুঁজতে মরিয়া, বৈঠকের আলোচনার আহবান সরাসরি না করে দিতে জান্তা সরকারের একটু লজ্জাও হয়নি। তাই বলি, ণঅইঅ’র বর্তমান উৎপত্তি বার্মা, রেহিঙ্গারাও বার্মার আর পাচারের উৎপত্তিস্থলও বার্মায়। এখন বলুন এই সমস্যাটি কি এখন আর ব্যক্তি পর্যায়ে আছে? প্রতিবেশীর ঘরে আগুন লেগেছে আর সেই আগুনের তীব্র তাপ চারিদিকে ছড়াবেই যা থেকে বাংলাদেশও রক্ষা পাচ্ছে না।

TRY-এর গডফাদার!! মূলহোতা !! কে?
পাঠকবৃন্দ উপরে আলোচনায় আশাকরি আমি TRY-সমস্যার গভীরতা ও করণীয় সম্পর্কে হয়ত মোটামুটি একটা ধারণা দিতে পেরেছি। চলুন এবার একটা হট টপিকে চলুন। গড ফাদার কে? বাংলাদেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক মিডিয়াগুলো ইতিমধ্যে মূল গডফাদার আবিষ্কার করে ফেলেছেন তাদের মত করেই।
হিন্দি সিনেমায় যেমন হিরো নাম্বার ওয়ান বেশ জনপ্রিয়। নানান কারণে, আমাদের এখানে “বদি নাম্বার ওয়ান” ও টক্ অফ দি কান্ট্রি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বার্মা সীমান্তে যা কিছুই হউক না কেন, সেই ঘটনার মূল নায়ক এমপি বদি, এই রকম আগাম ধারণা-রোগ আমাদের পেয়ে বসেছে সেই বেশ আগে থেকেই। নানানভাবে এই আমরাই বদিকে ভিলেন নং ওয়ান বানিয়ে কেন জানি মজা পাচ্ছি। জানিনা কেন? কিন্তু তাই হচ্ছে। ফলে হলো কি বদিকে যারা ব্যক্তিগতভাবে চেনেনা তারা ভাবে বদি হলো একটা ভীতিকর বস্তু, দ্যা গডফাদার!!! একজন ভিনগ্রহের মানুষ, এলিয়েন!!!
গত ২ সপ্তাহের জাতীয় পত্রিকা, অনলাইন, ইলেক্ট্রনিক সবখানে শুধু বদি ছাড়া কিছুই নাই। মানবপাচার প্রকাশিত তালিকায়? বদি, নাম্বার ওয়ান। YABA তালিকা? বদি, নাম্বার ওয়ান। রোহিঙ্গা বান্ধব তালিকা? বদি, নাম্বার ওয়ান। আমি হিসেব করে দেখলাম এম.পি বদি এই তিন তালিকা মিলে ইতিমধ্যে হ্যাট্রিক করে ফেলেছেন। মেসি বলব নাকি রোনাল্ডো বলবো বদিকে? সামনের দিনগুলোতে টেকনাফবাসীর কপালে আর কি কি তালিকা অপেক্ষা করছে জানিনা। কিন্তু আমি নিশ্চিত এম.পি বদি সেখানেও কাউকে নাম্বার ওয়ান হতে দেবেন না। নাম্বার ওয়ান বদির জন্য সংরক্ষিতই থাকবে।
হ্যাঁ TRY-এর তথাকতিথ তিন তালিকায়ই এম.পি বদি নাম্বার ওয়ান। আমি ঠিক বুঝতে পারিনা এই তালিকা কারা করে, কি উদ্দেশ্যেই বা করে? তবে এইটা বলতে পারি তালিকা করার উদ্দেশ্য যাই হউক না কেন স্থানীয়ভাবে তা নিয়ে বেশ ভালই তালিকাবাজির ব্যবসা চলে। বুঝলাম, তালিকা ধরেই অভিযান আর তালিকা ধরেই ক্রসফায়ার। যদি তাই হয়, এমপি বদির তো ইতিমধ্যে তিনবার ক্রসফায়ার হওয়ার কথা!!
আর তা না হয়ে ক্রসফায়ার কারা হচ্ছে? তাহলে কি ধরে নিতে হবে তালিকার নিচ থেকেই ক্রসফায়ার শুরু হয়েছে!! হ্যাঁ অনেকে বলতেই পারেন নাম্বার ওয়ান-আওয়ামী লীগ এর এমপি।  তাই তার কিছুই হবে না। তাহলে ভাই আমার প্রশ্ন এই তথাকথিত তালিকায় বদির নাম কেন? তখন কি বদি আ.লীগের এম.পি ছিলেন না? বুঝিনা আমি। বিগত দিনের বদি সংক্রান্তে আমি বাংলা ইংরেজি দৈনিকগুলোর সব সংবাদ পর্যালোচনা করে দেখলাম। অনেকবার পড়লাম নানানভাবে সব পত্রিক শুধু ঘুরে ফিরে উপসংহারে বা হেডলাইন করে শুধু বলছে “বদি নাম্বার ওয়ান, বদি টপস দ্যা লিষ্ট”। কিন্তু কেউ রহস্যটার শানে-নুযুল বলছে না। অনেকটা কান নিয়েছে চিলে-র অবস্থা। অন্যদিকে স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ করে টেকনাফভিত্তিক মিডিয়াগুলো তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে চরম বিমাতাসুলব আচরণ করে। যেমন, কেন জানি তালিকার অন্যান্য নামগুলো বিশাল গলায় বলছে আর বদির নাম নেওয়ার ক্ষেত্রে একটু চালাকির আশ্রয় নিচ্ছে। নাম না নিয়ে বলছে আলোচিত রাজনৈতিক নেতারাও আছেন তালিকায়। যা হউক, আমি বলতে চাচ্ছি সবাই নাম্বার ওয়ান বলছে কিন্তু আইনের আওতায় আনার মত তথ্য কেও দিচ্ছে না। এই কথার উত্তরে আবারও আ.লীগ-র কথা আসবে। ভুলে গেলে চলবে না এই আ.লীগ সরকারের সময়েই দূদক বদিকে জেলের ভাতও খাইয়েছে। আর সেই মামলা এখনো চলমান। তাই সঠিক তথ্য প্রমাণভিত্তিক প্রতিবেদন আমরা আশা করতেই পারি। একটু ভেবে কে দেখেন, শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের গুরু মহিউদ্দিন চৌ. কে বসিয়ে দিয়েছেন। অনেক সাবেক/ বর্তমান মন্ত্রী জেলে বা গ্রামের বাড়িতে লুঙ্গি পড়ে ঘুরাচ্ছেন। এক্ষেত্রেও অনেকে বলবেন সংসদীয় আসন-এর জন্য বদির বিকল্প নাই। শুনুন ঢাকা উত্তর-এর মেয়র আনিসুল হক বলেন “আমি রাজনীতির কেউ ছিলাম না কিন্তু শেখ হাসিনার এক ফুঁ-তেই আমি নেতা হয়ে গেলাম।” তাই বিকল্প নাই এই কথাও আমি মানতে নারাজ। এর পূর্বেও এই আসনটি আ.লীগ-এর ছিল কিন্তু বদি তখন আ.লীগের কেউ ছিলেন না। ভেবে দেখুন মানবপাচার বা ণঅইঅ পাচারে মোবাইল ফোনের ব্যবহার অত্যাবশ্যকীয়। এম.পি বদি যদি জড়িতই থাকে, প্রযুক্তি বা মোবাইল ট্রেকিং করেই তো তার কতোপকথনতো রেকর্ড করা যেতো। কই, তেমন কিছু নিয়ে তো কেউ সামনে আসলোনা। এমপি বদি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ নিয়ে বার বার চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছে আরো আশ্চর্য্যরে বিষয় হচ্ছে সেই চ্যালেঞ্জ কেউ গ্রহণ করছেনা।
যা হউক, অপরাধী বদি হউক বা যেই হউক, আমরা এসব-এর শেষ দেখতে চাই। শুধুমাত্র বদি গডফাদার বলাতে এই সমস্যার সমাধান নাই। সমাধান সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবনের মাঝেই। একটি আন্তঃ দেশীয় সমস্যাকে কতিপয় ব্যক্তির কাঁদে তুলে দেওয়ার মাঝে সমাধান নাই। বুঝতে হবে সরকারতো ৩০০/৪০০ জনকে ক্রসফায়ার দিতে যাবে না। ক্রসফায়ারে ব্যক্তির প্রাণ যায় কিন্তু সমস্যার মুলৎপাঠন হয়না, হতে পারে না। ভীতির সৃষ্টি নয়, আমরা সমাধান চাই। তাই শুধু “বদি নাম্বার ওয়ান” নামের রচনা সৃষ্টি করে গেলেই হবে না। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ ভারতে পেটের ভেতর ভৌগেলিক দিক দিয়ে। ভারত-বাংলাদেশের সীমানার দৈর্ঘ্য ৪০৯৬ কি.মি.।  পক্ষান্তরে বার্মার সাথে মাত্র ২৪৩ কি.মি.। ৪০৯৬ কি.মি. এর ভারত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে শুধু ভিটামিন আসেনা। গাজা, ফেনসিডিল থেকে শুরু করে সব মাদকই আসছে। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় ভূ-খন্ডে অবৈধ ফেনসিডিলের শত শত কারখানা যুগ যুগ ধরেই চলছে শুধু বাংলাদেশে চালান দেওয়ার জন্য। বেনাপোল, বাংলাবান্দা থেকে শুরু করে প্রতিটি পয়েন্ট দিয়ে নারী শিশু পাচার নিত্য দিনের। বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশের মেয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে সূদূর বোম্বের পতিতালয়ে। ঐকিক নিয়মে বলতেই হয় টেকনাফের এমপি ণঅইঅ বা ঞজণ-র গডফাদার হলে তাহলে বেনাপোলের এমপি ভারতের পতিতালয়ে বাংলাদেশী নারী পাচারের গডফাদার!! কিংবা চৌদ্দ গ্রামের এমপি ফেনসিডিল পাচারের গডফাদার!! বুঝতে হবে শুধু বাংলাদেশ বলে নয়, পৃথিবীর সব সীমান্তে, এমনকি আমেরিকার মত হাইটেক সীমান্তেও “কুচ কুচ হোতা হে”। এটাই সীমান্তের চরিত্র। কাঁটাতারে বেড়া দিয়ে যদি নিশ্চিত হওয়া যেত তাহলে আজ ফেলানীদের মৃতদেহ কাঁটাতারে ঝুলত না। সরকার শুধু এসব অপরাধকে একটা ন্যূনতম সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করে। আল্লাহ এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু সৃষ্টির পর কোন দেশের সীমানা নির্ধারণ করে দেননি। মানুষই তার প্রয়োজনে সেই সীমারেখা সৃষ্টি করেছে। আর সেই সীমান্তের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করা মানুষেরই দায়িত্ব আর তা হতে হবে অবশ্য মানবাধিকারের মানদন্ডে। খেয়াল করে দেখুন, প্রতিটি সীমান্তেই গরীব মানুষ আছে, পেটের দায়ে কিংবা কর্মসংস্থানের অভাবে এরা চলমান ণঅইঅ বা মানবপাচারের অংশ হয়ে যায়, বা যেতে বাধ্য হয়। দু’ মুঠো ভাতের জোগাড় করতে গিয়ে কেউ নিহত বা আহত হোক তা কারো কাম্য হতে পারে না।
হ্যাঁ আমি অপরাধ দমনে মিডিয়ার ভূমিকার কথা অস্বীকার করছি না। অপরাধ দমনে, অপরাধ চিহ্নিতকরণে যুগে যুগে বাংলাদেশে মিডিয়া ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে, করে যাচ্ছে। তা করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিকের প্রাণও গেছে। এমপি বদি সংক্রান্তে আমি সাংবাদিক ভাইদের সমালোচনা করছিনা, বরং তথ্য প্রমাণ বা দালিলিক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি মাত্র। কিসের ভয়!! বদি যদি অন্যায় কর তা অবশ্য লিখতে হবে। আবার তার ভাল কাজের প্রসারও করতে হবে। এমপি বদি আর আমি পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ট। কিন্তু আমিই হয়ত প্রথম, যে সংবাদ নয়, পূর্ণাঙ্গ কলাম লিখেছি বদির বিরুদ্ধে। কারণ একজন শিক্ষক নিগৃহের ব্যাপারটি আমার ভাল লাগেনি। তাই কোন বায়বীয় গডফাদার বা এ জাতীয় কিছুতে ভীত হলে সংবাদ কর্মী হয়ে লাভ নাই।
মনে রাখবেন, এ এলাকার অধিবাসী আমরা। এই এলাকার ভালমন্দের সাথে আমাদের জীবনযাত্রার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। YABA, মানবপাচার দমনের দায়িত্ব শুধু একা সরকার-এর উপর ছেড়ে দিলে হবেনা। আমাদের সকলকে সংশ্লিষ্ট হতে হবে। সচেতন করতে হবে মানুষকে। বুঝতে হবে ণঅইঅ বিধ্বংসী, অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া উচিত নয়। আর সরকারের উচিত হবে স্থানীয় সরকারের ঘুমন্ত অংশকে জাগিয়ে তুলে সামগ্রিক কর্মকান্ডে তাদের অংশিদারিত্ব বৃদ্ধি করা। অন্যদিকে বিদেশ যাওয়ার সহজও বৈধ রাস্তা তৈরী করতে হবে। আর আমাদের এমপি “বদি নাম্বার ওয়ানের” উচিত হবে সংসদে ঞজণ-এর উপর সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। ঞজণ-  মোকাবেলায় তৃণমূলের চিন্তা-ভাবনা, আকাংখা তুলে ধরা। বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা যেন আমরা বলতে পারি সংসদেও এমপি বদি নাম্বার ওয়ান, এমপি নং ওয়ান। খোদা হাফেজ।
শহীদুল্লাহ শহীদ
E-mail: shahidcox11@gmail.com
Phone: ০১৭৫৩৫০০৫৮০
লেখক : একটি বেসরকারী সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা
সূত্র : বিভিন্ন ওয়েবসাইট
পাদটীকা : ইতিমধ্যে মানব পাচারের সহিত সংশ্লিষ্ট ২৪ পুলিশ কর্মকর্তার তালিকাও প্রকাশ পেয়েছে।

২ Comments

  1. এমপি বদি প্রথমবার এমপি হওয়ার পর জাতীয় মিডিয়াকে তার জাতটা চিনিয়ে দিলেন। বার বার তাঁর কুকর্মের জন্য মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে যাচ্ছিলেন। এটা সত্য যে, মিডিয়া জগতে আওয়ামী লীগের পাল্লা ভারী। তদুপরি তিনি আওয়ামী লীগ দলীয় একজন এমপি এবং পয়সা দিয়ে যে কাউকে ম্যানেজ করার সামর্থ রাখেন! আওয়ামী লীগের বর্তমান পোয়াবারো অবস্হায় তিনি কেন মিডিয়ার ষড়যন্ত্রের শিকার হবেন? দেশে বর্তমানে যেখানে দ্বৈতশাসন চলছে যারা আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত তারা প্রথম শ্রেণীর নাগরিক। সবকিছুতে তাদের দায়মুক্তি আছে। বাকীরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে সেই নেকড়ে ও মেষ শাবকের গল্পের মত অভিযোগ এনে অহরহ দন্ড দেয়া হচ্ছে। এমপি বদি এমন কোন আহামরি ব্যাক্তিত্ব নয় যে মিডিয়া তাকে অনুসরণ করবে। বরং এই লোকের এমপি হওয়ার জন্য চারিত্রিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক কোন যোগ্যতাই নেই। বলা যায় গেল ও বর্তমান সংসদের সবচেয়ে অযোগ্য ব্যাক্তি।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.