সেন্টমার্টিনে বাইসাইকেল

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি, ২০১৬ ৬:১৪ : অপরাহ্ণ

আবদুল্লাহ নয়ন, কক্সবাজার : দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জনপ্রিয় উঠছে ‘বাইসাইকেল’। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও বাইসাইকেল একটি আকর্ষণীয় মাধ্যম। সাইকেল চালিয়ে সেন্টমার্টিনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় বলেই ক্রমশ: সাইকেলের চাহিদা বাড়ছে।

সম্প্রতি সেন্টমার্টিনে দেখা যায়, দ্বীপের চারদিকে নীল সমুদ্রের পানি ও জীব বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকরা ছুটছেন বাইসাইকেল নিয়ে। কেউ একা, কেউ আবার দল বেঁধে ঘুরে ঘুরে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

এক সময় দ্বীপে চলাচলের জন্য ভ্যান গাড়ি ছাড়া তেমন কোনো যানবাহন ছিল না। বছর দুয়েক ধরে ক্রমশ: জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাইসাইকেল।

প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটারের এ দ্বীপে চারদিকে পর্যটকরা ঘুরতে পারেন বাইসাইকেল চড়ে। তবে পশ্চিম দিকে বিশাল বড় পাথরগুলো গতিরোধ করলেও সাইকেল হাতে তুলে আবারও চালিয়ে ঘুরা সম্ভব।

দ্বীপের উত্তর পাড়ার সাইকেল ব্যবসায়ী মোঃ আবদুস শুক্কুর (৩৩)। তিনি এক বছর আগে ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে মাত্র চারটি সাইকেল কিনেন। চাহিদা বাড়ায় এখন তিনি ১৬টি সাইকেল এনেছেন।

আবদুস শুক্কুর দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম-কে বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় সব সাইকেলই ভাড়া হয়ে যায়। ঘন্টায় ৪০ টাকা করে ভাড়া দেন। সাইকেল দিয়ে দৈনিক তিনি প্রায় দেড় হাজার টাকা আয় করেন।’

তিনি বলেন, ‘দ্বীপে ৮ জন সাইকেল ব্যবসায়ী রয়েছেন। সব মিলে ৩৬৫ টি সাইকেল রয়েছে। প্রায় আট হাজার জনসংখ্যার মধ্যে তরুণরা এখন সাইকেল ব্যবহার করছে। তবে স্থানীয়দের চেয়ে পর্যটকরাই বেশি সাইকেল ভাড়া নেন।’

সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব খান দ্য রিপোর্ট-কে বলেন, ‘প্রচুর প্রবাল পাথর, স্বচ্ছ পানিতে জীব বৈচিত্র্যের আনাগোনা দেখতে পর্যটকরা ছুটে যান ছেঁড়াদ্বীপে। ট্রলারযোগে ছেঁড়াদ্বীপ থেকে ২০ মিনিট লাগলেও বাইসাইকেলে এর চেয়ে কম সময় লাগে।

সেন্টমার্টিনের ভিতরেও সাইকেল চালিয়ে সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়। ভেতর অংশের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, কেওড়া গাছ, নারিকেল গাছের মোহনীয় দৃশ্য দেখা যায় সাইকেলে চড়ে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দ্য রিপোর্ট-কে বলেন, ‘কক্সবাজার শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষে ক্ষুদ্র এ দ্বীপটি কেবল বাংলাদেশিদের কাছে নয়, বিশ্ববাসীর জন্য আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। ৭ দশমিক ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং কিছু উত্তর-দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন।’

তিনি বলেন, ‘এখানে পর্যটকরা নিরাপদে আসা-যাওয়া করেন। তাদের হয়রানি করা হয় না।

ভৌগোলিকভাবে সেন্টমার্টিন তিন অংশে বিভক্ত। উত্তর পাড়া, মধ্য পাড়া ও দক্ষিণ পাড়া। প্রবাল দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ ছেঁড়াদ্বীপ। জোয়ারের সময় সেন্টমার্টিনের মূল ভুখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলেই এটাকে ছেঁড়াদ্বীপ বলা হয়। প্রতি বছর দেশি বিদেশি লাখো পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আসেন।


সর্বশেষ সংবাদ