টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জলপথে ‘বে ক্রুজ ইন্টারন্যাশনাল’

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর, ২০১২ ৭:৪৫ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক…সাগরের ডুবো চর এবং কক্সবাজার শহরে জেটি না থাকায় শুরুতেই হোঁচট খেল কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন জলপথের নৌ সার্ভিস। মাত্র ২টি ট্রিপ চলার পরই বন্ধ করে দেওয়া হল এই পথের একমাত্র যানটি। তবে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটের পরিবর্তে আপাতত টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জলপথেই চলাচল করবে জাহাজটি। বৃহস্পতিবার বিকালে কক্সবাজারে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিং-এ এই তথ্য জানানো হয়।
জানা যায়, সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ‘বে ক্রুজ ইন্টারন্যাশনাল’ নামক একটি ট্যুরিজম সংস্থা চলতি মাসের গোড়ার দিকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন জলপথে সরাসরি নৌ সার্ভিস চালু করে। কিন্তু মাত্র ২টি ট্রিপ চলার পরই এই রুটের নৌ সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাগরের ডুবো চর এবং কক্সবাজার শহরে জেটি না থাকায় এই নৌ সার্ভিস বন্ধ করতে বাধ্য হন বলে জানান ‘বে ক্রুজ ইন্টারন্যাশনাল’ এর পরিচালক (এডমিন এন্ড ফাইন্যান্স) কর্ণেল (অব:) মো. আজিজুল আশরাফ।
তিনি জানান, জেটি নির্মিত হলে এবং সাগরের ডুবোচর মিলিয়ে গেলে যেকোন মুহুর্তে আবারও আগের নৌ পথটি চালু করে দেওয়া হবে।
তবে এই রুটের দ্রুতগামী ওই জলযানটি আপাতত টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জলপথেই চলাচল করবে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, ২৫২ আসন বিশিষ্ট এই সুপরিসর ও বিলাসবহুল জাহাজটি সর্বোচ্চ এক ঘন্টায় টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে পৌঁছাবে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টায় জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট ছেড়ে যাবে এবং বিকাল ৪টায় সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে।
এবিষয়ে এক প্রেসব্রিফিং গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ‘বে ক্রুজ ইন্টারন্যাশনাল’ এর কক্সবাজার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসব্রিফিং-এ কোম্পানীর উপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আলীসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা এবং ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ) এর সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, বৃটিশ আমলে কলকাতা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ এবং মিয়ানমারের আকিয়াব (বর্তমান নাম সিতওয়ে, আরাকান বা রাখাইন প্রদেশের রাজধানী) হয়ে রেঙ্গুন (ইয়াঙ্গুন, মিয়ানমারের সাবেক রাজধানী) পর্যন্ত সরাসরি নৌ-যোগাযোগ চালু ছিল। উপ মহাদেশ ভাগের পর এই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেলেও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যোগাযোগ ছিল স্বাধীনতার পরেও। কিন্তু জলপথের চেয়ে সড়ক পথ সহজলভ্য হওয়ায় পরবর্তীতে যাত্রীর অভাবে ধীরে ধীরে নৌ সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়।


সর্বশেষ সংবাদ