মহেশখালীতে বিখ্যাত মিষ্টিপানের বাম্পার ফলন

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর, ২০১২ ১০:৪৮ : অপরাহ্ণ

সিরাজুল হক সিরাজ-…মহেশখালীতে জগৎ বিখ্যাত মিষ্টিপানের বরজে বাম্পার ফলন হয়েছে। মহেশখালী উপজেলার গভীর পাহাড়ের ভিতরে সরজমিনে পর্যবেক্ষণে দেখা যায় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জগৎ বিখ্যাত শত শত পান বরজে দেখা যায় কি অপূর্ব সুন্দর পান গাছের পান ডানা মেলিয়া বাতাসে হেলিদুলি করিতেছে। পান চাষীরা পান বরজে কাজ করিতেছে। শত শত পান চাষীদের সহিত দেখা সাক্ষাত করিলে তারা বলেন এ বৎসর আমাদের পান বরজে প্রায় ১৫ বৎসর পরে এই বাম্পার ফলন হয়েছে। পান চাষীদের থেকে জানতে চাইলে তারা বলেন, এ বৎসর প্রথমে প্রবল বৃষ্টি হওয়াতে ব্যাপক পান বরজের ক্ষতি হয়। এরপর চাষীরা বলেন, তারা নতুন করে আবার পান বরজে চারা রোপন করে। এই রোপন কৃত পান ১৫ বৎসরের ভিতরে সব চাইতে উন্নত মানের পান উৎপন্ন হচ্ছে এবং বিক্রীও চড়া দামে বিক্রী করতে পারছেন। প্রতিটি পানের বিরাই ২ শত নব্বই টাকা থেকে ৩ শত পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রী হচ্ছে। পান চাষীদের থেকে জিজ্ঞাসা করিলে এই পান বরজে কি কি জিনিসপত্র লাগে, এতে পান চাষীরা বলেন সর্ব প্রথমে পাহাড়ের ঢালু জায়গায় আটি করে ঐ আটিতে গোবর, সার, খৈল, শুকনা মাছের গুড়ি দিয়ে মাটি সঙ্গে মিশিয়া ঐ মাটি শুকাইতে হয়। এরপর বিভিন্ন ধরনের ঔষুধপত্র ও কীটনাশক জাতীয় মাটিতে মিশাতে হয়। এর ১০ দিন পর পবিত্র অবস্থায় পানের চারা রোপন করা হয়। পানের চারা রোপন করার পর পান বরজের চারিদিকে টেংরা যুক্ত ঘেরা দিয়া কোন ধরনের গরু, ছাগল বা অন্যান্য প্রাণী ঢুকিতে না পারে সেরকম ভাবে গিরিয়া রাখিতে হয়। এরপর প্রতিদিন রোদ্র উঠার সাথে সাথে পান গাছের চারাতে পানি দিতে হয়। পানের চারা একটু বড় হইলে উপরের দিকে ছনের ছাউনি দিতে হয়। যেন প্রখর রোদ্র পানের ক্ষতি করিতে না পারে। এরপর শুকনা করে গোবর ও খৈল অন্যান্য মিশিয়া পান গাছের চারাতে দিতে হয়। পান গাছ দুই হাত উচ্চ হইলে উলা গাছের উলা দিয়া বাঁশের কাঠি সাথে বাধিঁয়া দিতে হয়। এরপরে প্রতি তিন দিন পর পর বড় বড় পান গুলি তুলিয়া লইয়া আটি বাঁধিয়া বাজারে বিক্রী করে বলে পান চাষীরা জানায়। প্রতিটি পানের বিরার অর্থ কি? জানতে চাইলে? পান চাষীরা বলেন, চারটি পানে একটি গন্ডা হয়, ৪৫ গন্ডাতে এক বিরা বলা হয়। পান চাষীদের জিজ্ঞাসা করিলে এই মহেশখালী গভীর পাহাড়ে এবং অন্যান্য স্থানে কতখানি মিষ্টিপানের পান বরজ আছে। চাষীরা বলেন কমপক্ষে ৮০ হাজারের উপরে মহেশখালী পাহাড়ে ও মহেশখালীর অন্যান্য স্থানে মিষ্টি পানের পান বরজ আছে। এই মিষ্টি পান বিক্রয়ের বাজার কোথায় কোথায় বসে চাষীদের থেকে জিজ্ঞাসা করিলে চাষীরা বলেন প্রধান পান বিক্রয়ের বাজার বসে বড় মহেশখালী নতুন বাজার মাঠে, কালারমার ছড়া বাজার মাঠে, হোয়ানক বাজার মাঠে, ছোট মহেশখালী লম্বা ঘোনা বাজার মাঠে, শাপলাপুর বাজার মাঠে, মহেশখালী পৌরসভার লামার বাজার মাঠে মিষ্টি পান বিক্রয়ের বাজার বসে। বড় বড় টুকরি করে পান ভর্তি করে ব্যবসায়ীরা পান লইয়া যায় ট্রাক গাড়ীতে করিয়া। চট্টগ্রাম, সাতকানিয়া, ঢাকা, সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পান ব্যবসায়ীরা মিষ্ঠিপান ক্রয় করে ট্রাক গাড়ীতে করিয়া পান লইয়া যায়। প্রতিটি শুক্রবার, সোমবার এই মিষ্ঠিপানের পান বিক্রয়ের ও পান ক্রয়ের বাজার বসে। সব চাইতে বেশি পান বিক্রী হয় এবং ক্রয় হয় বড় মহেশখালী নতুন বাজার মাঠে।

অদ্য শুক্রবার ক্রয় ও বিক্রয় পান চাষীদের ও ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চাইলে এই বাজারে কতটাকার পান ক্রয় বিক্রয় হয়? তারা বলেন, অনুমান ৯৫ লক্ষ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার পান ক্রয় বিক্রয় হয় বলে জানায়। এই ভাবে অন্যান্য প্রতিটি বাজারে শুক্রবার আর সোমবারে এই মিষ্ঠি পান বিক্রী ও ক্রয় হবে বলে রাজনৈতিক নেতা সচেতন মহল বিভিন্ন পেশাজীবিরা জানায় ৭ কোটি টাকারও বেশি মিষ্ঠি পান মহেশখালীর প্রতিটি বাজারে শুক্রবার, সোমবারে ক্রয় বিক্রি হয়। পান চাষীরা মিষ্ঠিপান ছড়া দামে বিক্রী করিয়া আনন্দে উৎপুল্ল অবস্থায় দেখা যায়।

মোহাম্মদ সিরাজুল হক সিরাজ-

মহেশখালী পৌরসভা, মহেশখালী, কক্সবাজার।

০১৭২৭৬২৮২৯৫


সর্বশেষ সংবাদ