টেকনাফ পৌরসভা এক যুগ পূর্ন হলেও সুবিধা বঞ্চিত পৌরবাসী

প্রকাশ: ২৪ জুন, ২০১২ ৩:১০ : অপরাহ্ণ

জেড করিম জিয়া, টেকনাফ…টেকনাফ ...পৌরসভার দীর্ঘ এক যুগ (১২ বছর) পূর্ন হলেও নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরবাসী। দীর্ঘ মেয়াদী কোন পরিকল্পনা না থাকায় পৌরবাসীর মৌলিক চাহিদার মধ্যে কোনটিই পূরন করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। এলাকার রাস্তাঘাট খানাখন্দকে ভরা, প্রধান সড়কে যত্রতত্র গাড়ী লোডিং-আনলোডিং করায় প্রতিনিয়ত যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। ভুক্তভোগীরা এর জন্য কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছে। যত্রতত্র রাস্তার উপর গাড়ী পাকিং করে যানজট সৃষ্টি করে মালামাল লোডিং-আনলোডিং করছে। এসমস্যার কারণে মালামাল বহনকারী ট্রাক চালক ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা লেগেই আছে । পৌরএলাকার বিভিন্ন মোড়ে অঘোষিত ট্রাক, বাস, মিনিবাস, জিপ, ফোর ষ্ট্রোক, রিক্সা স্ট্যান্ড গড়ে উঠলেও পৌর কর্র্তৃপক্ষের কোন সুদৃষ্টি নেই। প্রতি বছর বছর বাজার ইজারা দিয়ে নির্দিষ্ট বাজারের নির্দিষ্ট কোন স্থান নির্ধারণ করা হয়না। এতে অস্থায়ী দোকানদাররা হাছিল প্রদান করেও পৌরকর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। এতে ইজারাদারদের সাথে অস্থায়ী দোকানদারদের প্রতিনিয়ত বাকবিতন্ডা লেগে থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলে পৌরএলাকার অধিকাংশ নালা-নর্দমাগুলো ভরাট হয়ে প্রধান সড়কসহ অলিগলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকায় লোকজনের চলাচলে দুর্ভোগ নেমে আসে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এসব নালা-নর্দমা পরিষ্কারের কোনো ধরনের উদ্যোগও চোখে পড়ছে না।সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকার থানা সড়ক, লামার বাজার, শাপলা চত্বর, পুরাতন বাস ষ্টেশন, নিউ গণি মাকেট, লেঙ্গুরবিল সড়ক, জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, শাহপরীর দ্বীপ জিপ ষ্টেশন, কায়ুকখালীয়াপাড়া, থানা মোড়, বড় বাজার এলাকার সড়কে সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জমে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে মারাত্মক দূর্ভোগ পোহাতে হয় জনসাধারণকে এবং পুরাতন বাস ষ্টেশনে নির্মিত সৌন্দর্য্য বর্ধন ফোয়ারাটি একপ্রকার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। এ ফোয়ারার কারনে যানজট সামাল দিতে ট্রাফিক সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।বড় বাজারের ব্যবসায়ী জাহেদ হোসেন, মনিরুজ্জামান, বাস ষ্টেশনে ব্যবসায়ী আব্দুল গণি জানান, পৌরসভা প্রতিষ্টার পর থেকে নাগরিকরা পৌর কর নিয়মিত পরিশোধ করে আসলেও কর্তৃপক্ষ পৌরসভার উন্নয়ন পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেনি। পৌরসভার নালা-নর্দমাগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় সড়কগুলোতে হাটু পরিমান পানি জমে যায়। চলতি বর্ষা মৌসুমে পৌরএলাকার বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পানিবন্দী হয়ে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যা পৌরএলাকার চলতি বর্ষা মৌসুমে নতুন চিত্র।

টেকনাফ পৌরএলাকার কলেজপাড়ার জাহাঙ্গীর আলম আক্ষেপ করে বলেন, সামান্য বৃষ্টি বা বর্ষন হলে এএলাকায় কোমর সমান পানি জমে যায়। এথেকে টেকনাফের একমাত্র ডিগ্রী কলেজটিও রক্ষা পায় না। পৌর মেয়র পদে ক্ষমতাসীনরা আজ পর্যন্ত কোন ধরনের দীর্ঘ মেয়াদী ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করায় বছরকে বছর এসমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। যে দিন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় সেসময় পৌর কর্তৃপক্ষের দৌড়ঝাপ লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয় এলাকাবাসিরা অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন র্বোড ও পৌরসভা নাফনদী সংলগ্ন বেড়িবাঁধ মেরামত সঠিক সময়ে না হওয়ায় কারণে প্রতিবছর বর্ষার শুরুতে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রতিবছর জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় দেড় হাজার একর ফসলি জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল, বিভিন্ন পাড়া, মহল্লা, স্কুলসহ তলিয়ে যাচ্ছে। পৌরসভার নালা-নর্দমাগুলো ঠিকসময়ে পরিষ্কার না করার ফলে প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূর্ষিত হচ্ছে এবং পানি জমে থাকায় ময়লা-আর্বজনা থেকে মশা-মাছির বংশবিস্তার ঘটছে।

টেকনাফ মডেল থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার এক যুগ ধরে ও এখানে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি।ফলে সামান্য বৃষ্টি হলে থানা মোড়সহ পুরো শহর এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।প্রধান সড়ক,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানপাট ও ঘর-বাড়ী পানিবন্দী হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকেও দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ ইউনুছ জানান, নালা-নর্দমা পরিষ্কারের লোকবল থাকলেও নিয়মিত পরিষ্কার না করায় নালা-নর্দমা গুলো ভরাট হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে মেয়রকে  পৌর এলাকার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখার তাগিদ দেওয়া হলেও এ বিষয়ে তিনি উদাসিন থাকায় পৌরবাসীর পাশাপাশি আমাদেরও  দূভোর্গ পোহাতে হচ্ছে। পৌর এলাকায় রিক্সা ব্যতীত কোন স্থানে পায়ে হেঁটে চলাফেরা করা যায় না বলে তাঁরা জানান।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র হাজী মোঃ ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

টেকনাফ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র (প্যানেল-২) আব্দুল্লাহ মনির বলেন, পৌর এলাকার অধিকাংশ নালা-নর্দমা সরু হওয়ায় পানি নিষ্কাসনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। অতিশীঘ্রই দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়ে প্রশস্থ ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পৌরএলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে তিনি জানান।


সর্বশেষ সংবাদ