টেকনাফে ভয়াবহ ডায়রিয়া

প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০১২ ৯:৪৭ : পূর্বাহ্ণ

ডায়রিয়াক্রান্ত ২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি…
হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফঃ…
টেকনাফে ভয়াবহ আকারে ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। গত ২দিনে শুধু টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালেই ২৮ জন ডায়রিয়া রুগী ভর্তি হয়েছে। ৭ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১৫ জন। ৬ আক্টোবর ভর্তি হয়েছে ১৩ জন। উপজেলার সর্বত্রই হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভার ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। তার প্রমাণ হচ্ছে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে ডায়রিয়াক্রান্ত রুগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মারা যাবার খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ৭ অক্টেবর এপ্রতিবেদক বিকালে টেকনাফ ৫০ শয্যা হাসপাতালে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ডায়রিয়াক্রান্ত রুগীদের করুণ চিত্র। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডায়রিয়াক্রান্ত রুগী সকলেই শিশু। এরা হচ্ছে ঃ টেকনাফ জাহালিয়াপাড়া নজির আহমদের পুত্র মিজানুর রহমান (১৫ মাস), হাবিরছড়া ছৈয়দ কাশেমের পুত্র মোঃ সোহেল (৯ মাস), গোদারবিল ফেরদৌসের কন্যা বেবি আয়শা (৭মাস), লেচুয়াপ্রাং আব্দুস সালামের পুত্র লুৎফুর রহমান (সাড়ে ৩ মাস), মহেশ খালিয়াপাড়া এজাহার মিয়ার পুত্র তানজিম (২), নতুন পল্লানপাড়া সিরাজ মিয়ার কন্যা ফাহিমা (১), লেঙ্গুরবিল মোবারকের কন্যা উম্মে হাবিবা (১), আলি আকবরপাড়া আব্দুল মালেকের কন্যা রেশমা (১৫ মাস), পুরান পল্লানপাড়া মোঃ আয়াছের কন্যা লিচুমা আক্তার (৮মাস), হাজমপাড়া মুজিবুর রহমানের পুত্র মোঃ শাহিন (১০ মাস), মুন্ডারডেইল রশিদ আলমের কন্যা হাসনা বগেম (৬মাস), পল্লানপাড়া ছৈয়দ হোছাইনের পুত্র রফিকুল ইসলাম (২), ইসলামাবাদ আহমদ হোছনের পুত্র কামাল হোসেন (১৭ মাস), খারাংখালী নাচরপাড়া ইউসুফ আলীর পুত্র নূর (৬মাস), সাবরাং রুবেলের পুত্র সাহিন (১০ মাস), শাপরীরদ্বীপ মোঃ আলমের পুত্র মোঃ আরকান (৯মাস), শাহপরীরদ্বীপ মোঃ কাশেমের পুত্র মোঃ হোছাইন (১৩মাস), নতুন পল্লানপাড়া মোঃ আনোয়ারের কন্যা নুর কালিমা (১৪মাস), হ্নীলা পূর্ব সিকদারপাড়া টেকনাফ এজাহার গালর্স হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শব্বির আহমদের পুত্র সাজ্জাদ নুর (১৬মাস), অলিয়াবাদ এনামুল হকের পুত্র মোঃ হোছান (১১মাস), হোয়াইক্যং মোঃ ছলিমের পুত্র শাহএমরান (৬ মাস), জাদিমুরা আবুল কাশেমের পুত্র ফায়সাল (৯মাস), রঙ্গীখালী মাওঃ নুরুল আমিনের কন্যা খাওলা (৯মাস), শাহপরীরদ্বীপ হোছন আহম্মদের কন্যা ঝর্ণা(২), সেন্টমার্টিনদ্বীপ আব্দুল গফফারের পুত্র হামিদুর রহমান (১), ডেইলপাড়া নুরুল আমিনের পুত্র তানভীর (৪), পুরান পল্লানপাড়া ওসমানের পুত্র মুজাহিদ (১০মাস), কুইয়াংছড়িপাড়া ধলুমিয়ার পুত্র হিজবুল্লাহ (১৫মাস), কুলালপাড়া নুরুল আমিনের পুত্র মিনহাজ (৪) । রুগীদের সাথে আগত মা-বাবাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- গ্রাম্য ডাক্তারদের নিকট চিকিৎসা করে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা হাসপাতালে এসেছে। ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে গ্রাম্য ও পল্লী চিকিৎসকের নিকট এবং অবস্থাসম্পন্ন পরিবার গুলো নিজ বাড়ীতে চিকিৎসা নিচ্ছে- এমন ডায়রিয়াক্রান্ত রুগীর সংখ্যা খুব বেশী। সচেতনতার অভাব ও অর্থিক সংকটের কারণে আরও শত শত ডায়রিয়াক্রান্ত রুগী উপজেলা হাসপাতাল পর্যন্ত পৌছতে পারেনি। হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের পুরোটাই, বারান্দার মেঝে, চলাচলের পথে, নার্স ডিউটি রুমের মেঝেতে ডায়রিয়াক্রান্ত রুগীতে ভর্তি। দূর দূরান্ত থেকে একের পর এক ডায়রিয়া রুগী আসছে। এমনকি সেন্টমার্টিনদ্বীপ থেকেও রুগী এসেছে। রুগীর অভিভাবকরা জানান- ভর্তি হওয়ার সময় ডাক্তার দেখেছেন, এরপর আর ডাক্তারের দেখা মিলেনি। এমনকি নার্স স্যালাইন পুশ্ করে দিয়েছেন, শেষ হয়ে গেলে সুই খুলে নেয়ার জন্য আসেননা, স্যালাইন ফুরিয়ে গেলে রুক্ত উঠে আসে। অনেক রুগীর মা-বাবাকে হাত পাখা দিয়ে গরমে ছটফট করা রুগীকে বাতাস করতে দেখা গেছে। টেকনাফ উপজেলার সর্বত্র হঠাৎ করে ভয়াবহ আকারে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া, ডায়রিয়াক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ার কারণ বিষয়ে কথা বলতে ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আবাসিক মেডিকেল অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এবিষয়ে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। দায়িত্বরত নার্স জানান- ৬ অক্টোবর ৩৬ জন, ৭ অক্টোবর ২৩ জন, মোট ৫৯জন রুগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তম্মধ্যে প্রায় সকলেই ডায়রিয়া রুগী।
নিউমোনিয়া ঃ
ডায়রিয়ার পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়াও দেখা নিয়েছে। ৭অক্টোবর বিকালে সরেজমিন পরিদর্শনকালে নিউমোনিয়ায় আক্তান্ত ৪জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় পাওয়া গেছে। এরা হচ্ছে ঃ জাদিমুরা নুরুল আলমের কন্যা রোকসানা (৭মাস), টেকনাফ সাবরাং আবুল কাশেমের কন্যা সায়িমা (১৮মাস), বরইতলী ইমরান হোসেনের পুত্র ফায়সাল (৫মাস), পুরান পল্লানপাড়া মোঃ ইউনুছের পুত্র মিজান (৪বছর ৩মাস)। ##


সর্বশেষ সংবাদ