আল্লাহর ওয়াস্তে “যৌন-নির্যাতনকে” বাঙালি সংস্কৃতির অংশে পরিণত করবেন না -হেফাজতে ইসলাম

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল, ২০১৫ ৪:১৬ : অপরাহ্ণ

মাওলানা আবু রায়হান = ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল, জাহাঙ্গীরনগরসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিশেষত টিএসসি’তে পয়লা বৈশাখের ‘নববর্ষ বরণ’ অনুষ্ঠানে নারী সমাজের উপর ন্যক্কারজনক যৌন-নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি দাবি করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী আজ এক যুক্তবিবৃতিতে বলেছেন, আল্লাহর ওয়াস্তে “যৌন-নির্যাতনকে” বাঙালি সংস্কৃতির অংশে পরিণত করবেন না।
হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, আল্লাহর এই জমিনে বসবাসকারী মুসলমানদের ধর্মবিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং নীতি-নৈতিকতাকে ক্রমাগত আঘাত করে মুছে ফেলার লক্ষ্য থেকেই বাঙালি সংস্কৃতির নামে গত ছিষট্টি-সাতষট্টি বছর ধরে জোরদার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। শুরু থেকেই যা বলপ্রয়োগের রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় জবরদস্তির প্রতাপে বলীয়ান। আমাদের সমাজে ভয়াবহ ভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টিকারী লুটপাটের রাজনীতি ও অর্থনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় পরাক্রমতা অর্জনকারী এই গোষ্ঠি মূলত ঔপনিবেশিক হিন্দু জাতীয়তাবাদী ধারার সনাতনী আচার, অর্চনা, উৎসব ও উদযাপনকে বাঙালি সংস্কৃতি বলে চালানোর চেষ্টা করছে। এই প্রচেষ্টা শুরু থেকেই মজলুমকে দূরে ঠেলে, দুর্বলকে হেয় করে এবং নিপীড়িতের আশ্রয়স্থল মহান আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামের প্রতি ঘৃণার চর্চা লালন করে আসছে।
হেফাজত নেতৃদ্বয় আরো বলেন, সে কারণে এরা সুযোগ পেলেই নারীসহ সমাজের সকল দুর্বল, বিনম্র ও নির্বাক অংশের উপর উপদ্রƒপ চালায়, সুযোগ পেলেই হরহামেশা বেইজ্জতি করে এবং জুলুম চালাতে থাকে। রসুলে পাকের (সা.) সুন্নাহ অনুসরণে যারা দাড়ি রাখেন এবং টুপি পরেন তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ায়। এরা শুধু যে পয়লা বৈশাখের ‘নববর্ষ বরণ’ অনুষ্ঠানেই নারী নিযার্তন করে তাই নয়; বই মেলা, শহীদ মিনার, লক্ষ কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতসহ অনুরূপ সকল গণসমাবেশেই তাদের হাতে উপস্থিত নারীদের একটি অংশ যৌন-নির্যাতনের শিকার হন। দলীয় শক্তিতে বলীয়ান কিছু ছাত্র ও যুবকের কাছে এমন সকল অনুষ্ঠান ‘যৌন-উপভোগের ভীড় উৎসবে’ পরিণত হয়েছে। এরা ফ্যাসিষ্ট রাজনীতি ও বাঙালি সংস্কৃতি রক্ষার নওজোয়ান হওয়ায় এদের চিহ্নিত করে বিচার কিংবা শাস্তি দেয়া হয় না। আমাদের আশঙ্কা অতীতের মত এবারও এই অপরাধীদের কোন বিচার হবে না।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, দুঃখজনকভাবে এমন সকল ঘৃণিত অপকর্মের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে সরকারি অর্থে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় এবং তথাকথিত ‘আধুনিক’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ ডিগ্রীধারীরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আধিপত্য বিস্তার করছেন বলে আজ এদেশে বিচার নেই, মানবাধিকার নেই, ইনসাফ নেই এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সম্মতিতে তৈরি হওয়া সরকার নেই। রাজনৈতিক অধিকার সঙ্কুচিত; হত্যা-গুম-খুন-সন্ত্রাস-দুর্নীতির মহামারিতে আক্রান্ত জনপদ।
তাঁরা বলেন, মুসলমানরা ইমান, আকিদা, শালীনতা, পর্দা ও মুরব্বিদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সকল ধরনের আনন্দ ও উৎসব করাকে ইসলাম সবসময় উৎসাহিত করে। আমাদের পূর্বপুরুষরা হাজার বছর ধরে অভাব-অনটন-দারিদ্রকে পায়ে দলে, খেয়ে-না খেয়ে, শাহাদতের মর্যাদা লাভ করার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করে ইসলামের পথে মুসলিম জীবনাদর্শের যে কৃষ্টি ও ধারা এই জমিনে সৃষ্টি করেছেন তাকে আঁকড়ে ধরলেই কল্যাণ ও নাজাত পাওয়া সম্ভব। আজ অনেকের অর্থ-সামর্থ্য, জ্ঞান-গরিমা, প্রভাব-প্রতিপত্তি হয়েছে বলে আমাদের পূর্বপুরুষদের ত্যাগ ও কোরবানির স্মৃতি ভুলে যাবেন না।
আমরা বিশ্বাস করি, একমাত্র সেই সুমহান ঐতিহ্যকে আগলে রেখে, ইসলামী আক্বিদার প্রতি অটল থাকলে ১৬ কোটি মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা যাবে, সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতিনৈতিকতার শিক্ষা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সবাইকে আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানাই। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন।

বার্তা প্রেরক
মাওলানা আবু রায়হান
কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ


সর্বশেষ সংবাদ