পরিবেশ অধিদপ্তরের ১শ মামলা তবুও থামছে না পাহাড় কাটা

প্রকাশ: ৯ জুন, ২০১৪ ৯:৩৬ : পূর্বাহ্ণ

10320512_857195284308070_1166286775451705054_nমাহাবুবুর রহমান ::: সারাদেশে পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম স্থান হিসাবে কক্সবাজারকে চিহ্নিত করে পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ সমুন্নত রাখার তাগিদে ৩ বছর আগে কক্সবাজারে চালু হওয়া সরকারি দপ্তর পরিবেশ অধিদপ্তর প্রকৃত পক্ষে জনগণের কোন কাজে আসছে না। শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মামলা হলেও ১টি মামলারও কোন সুরাহা করতে না পারা এর বড় প্রমাণ বলে দাবি করছেন সচেতন মহল। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জনগণের চাহিদা পূরণ করতে না পারার সত্যতা স্বীকার করেন।
কক্সবাজারের বিশিষ্ট আইনজীবী সাবেক পিপি এড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর এ পর্যন্ত জনগণের জন্য দৃশ্যমান কোন স্থায়ী উপকারে আসতে পারেনি। জেলার বাঁকখালী নদীর অব্যাহত দখল, ভরাট, পাহাড় কাটা বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত এই প্রতিষ্ঠানের উপর আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। যদিও মাঝেমধ্যে পত্রপত্রিকায় দেখেছি উনারা কিছু teknaf pic 7.6.14 (2)অভিযান বা মামলা করেছে। সেটা খুবই ভাল উদ্যোগ সেক্ষেত্রে যেকোন জিনিসের শেষ না হলে তার মর্যাদা নষ্ট হয়ে যায়। সবদিক বিবেচনা করে পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আলাপকালে সুজন জেলা কমিটির সহ সম্পাদক অধ্যাপক অজিত দাশ বলেন মূলত পরিবেশ অধিদপ্তর নামে থাকলেও মনে হয় উনারা রাজনৈতিক চাপের বাইরে যেতে পারেনা। যারা জবর দখলকারী, পরিবেশ ধ্বংসকারী উনারা হয় প্রভাবশালী না হয় রাজনৈতিক দলের ব্যানারধারী তাই অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে দেশ ও জাতির বৃহত্তর মঙ্গল ও কল্যাণের কথা চিন্তা করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে কাজ করতে হবে। ৩ বছরে ১টি মামলারও রায় না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।
আলাপকালে শিক্ষক হোসাইনুল ইসলাম, মাহবুব আলম বলেন শহরে বর্তমানে পরিবেশ ধ্বংসের কাজ শেষ পর্যায়ে। কোথাও পাহাড় বলতে নেই। নদীতে এখন অনেকের বাড়ি, ঝাউ বাগান অবৈধ দখলে। গাছ নেই, কোথাও পরিবেশ দপ্তরের ভূমিকা নেই। মাঝে মধ্যে থাকলেও তা এত বেশি গৌন যে বলার মত না। তাই বলতে পারি জেলার পরিবেশ অধিদপ্তর মানুষের কোন কাজে আসছে না। আলাপকালে জেলা প্রশাসনের এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন স্বয়ং জেলা প্রশাসক সাহেবের ডাক বাংলো যে পাহাড়ে অবস্থিত সেই পাহাড়টি কিছু লোক কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানালে প্রথমে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ২/৩ বার বলার পরে নিয়েছে। তাও শুনেছি কিছু নিরীহ লোককে মামলা দিয়েছে আসল প্রভাবশালীদের বাদ দিয়ে এবং এখনো ঐ পাহাড়ে মাটি কাটা চলছে। তাহলে তারা সাধারণ মানুষের কি উপকারে আসবে। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন ৩ বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত এই সরকারি অফিসে এতদিন শুধু আমি একাই সব কাজ করেছি। মাত্র ৩ মাস হলো ১ জন ইন্সপেক্টর যোগদান করেছে। মূলত জনবল সংকটের কারণে ইচ্ছা থাকলেও অনেক কিছু করা সম্ভব হয়নি। ৩ বছরে প্রায় ১০০টি মামলা করা হয়েছে। এতে আসামীও প্রায় ৭শ হবে। তবে ১টি মামলারও তদন্ত শেষ করা যায়নি স্বীকার করে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তর স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সঠিকভাবে পূরণ করতে পারছে না বলে জানান। –


সর্বশেষ সংবাদ