পবিত্র শবে কদর

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট, ২০১২ ১২:৫৬ : পূর্বাহ্ণ

আজ বুধবার পবিত্র লাইলাতুল কদর। একটি রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। আজ সেই মহিমান্বিত রজনী। আজ ইফতারের মধ্যদিয়ে শেষ হবে ২৬ রমজান। শুরু হবে ২৭ রমজানের মহিমান্বিত শবে কদরের রাত। সূর্যাস্তের পর থেকে আজ পুরো রাত হচ্ছে ভাগ্য নির্ধারণের রাত। আর এই রাতেই অবতীর্ণ হয়েছিল মানবজাতির মুক্তির সনদ পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফ। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

সর্বশ্রেষ্ঠ রাতের মাহাত্ম্য মহান রাব্বুল আল-আমিন কোরআনে সুরা কদরে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ এ সুরায় বলেছেন, ‘লাইলাতুল কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর’। অর্থ হচ্ছেঃ হাজার মাসের চেয়ে সর্বোত্তম এই রাত। লাইলাতুল কদর এমন এক রাত যা হাজার মাস অপেক্ষা মহিমাময়। এ রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের চেয়ে বেশি সওয়াব লাভ করা যায়। বিশ্বের সকল মুসলমানের নিকট সওয়াব লাভ ও গুনাহ্ থেকে পরিত্রাণের রাত হিসাবে লাইলাতুল কদরের ফজিলত অতুলনীয়।

হাদিসে বলা হয়েছে, আখেরী নবী রাসুলুল্লাহর (সা.) উম্মতরা ইতিপূর্বেকার লোকদের মত বেশি ইবাদত করার জন্য দীর্ঘ হায়াত পাবে না। বিশ্বনবীর উম্মতরা কম হায়াত পাবে বলেই ইবাদত করে বেশি সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। আর এদিকটি বিবেচনায় নিয়ে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র রমজান মাসে শেষ নবীর উম্মতদের জন্য শবে কদরের রাত দিয়েছেন। একটিমাত্র রাতে ইবাদত করে হাজার মাসের চেয়ে বেশি ইবাদতের সওয়াব অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহ তা’আলা বিশ্ব মানবের হেদায়েত ও পথনির্দেশিকা কোরআন শরীফে এ রাতেই লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে সম্পূর্ণরূপে অবতীর্ণ করেছেন। অত:পর দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে প্রয়োজন অনুসারে রাসূলুল্লাহর (সা.) প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। শবে কদরের মহিমান্বিত রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে সুরা কদরে উম্মতে মোহাম্মদীকে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। আর সুসংবাদ হচ্ছে এই রাতের ইবাদত হাজার মাস ইবাদতের চেয়ে উত্তম বলে কোরআন শরীফে ঘোষণা করা হয়েছে।

কদর শব্দের অর্থ হচ্ছে সম্মান ও মাহাত্ম্য। যেহেতু এই রাতটি সম্মানিত রাত। সম্মান মাহাত্ম্যের জন্যই এই রাতের নামকরণ করা হয়েছে লাাইলাতুল কদর বা মহিমান্বিত রাত। ফেরেশতারা জিব্রাঈল (আ.) সহ জমিনে আগমন করেন। কদর শব্দের আরেকটি অর্থ হচ্ছে নির্ধারণ করা। এই রাতে আল্লাহ তা’আলা বান্দাদের অনাগত বছরের আয়-রোজগার, সুখ-দুঃখ, ব্যথা-বেদনা, জন্ম-মৃত্যু ইত্যাদির ভাগ্য নির্ধারণ করেন। সে কারণে এই রাতকে ভাগ্য নির্ধারণের রাত বলা হয়। আজ রাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানী ও দেশের সকল মসজিদে মুসল্লিরা রাতভর ইবাদত-বন্দেগি করবেন। বিশেষ করে তারাবিহ্ নামাজের পর এ রাতের গুরুত্ব ও তাত্পর্য তুলে ধরে মাওলানা ও মসজিদের খতিবগণ বয়ান করবেন। এছাড়া মুসল্লিরা কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার ও নফল নামাজ আদায় করবেন। আর ফজরের নামাজের পর বিশেষ মোনাজাত করা হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে এক বাণীতে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হাজার মাসের চেয়ে উত্তম পবিত্র লাইলাতুল কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পুণ্যময় রজনী। মহান রাব্বুল আলামিন তার অফুরন্ত রহমত ও বরকত দ্বারা আমাদের সকলের জীবনকে পরিপূর্ণ করে দেন, এই প্রার্থনা করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সিয়াম সাধনার মাস রমজানের এক মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর। এই রাতে মানব জাতির পথনির্দেশক পবিত্র আল-কোরআন পৃথিবীতে নাজিল হয়। কোরআনের শিক্ষা আমাদের পার্থিব সুখ-শান্তির পাশাপাশি আখেরাতের মুক্তির পথ দেখায়। পবিত্র এই রজনীতে আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, অব্যাহত শান্তি ও কল্যাণ কামনা করছি।


সর্বশেষ সংবাদ