জোরালো হচ্ছে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন, ২০১২ ২:২৩ : অপরাহ্ণ

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। সম্প্রতি পুঁজিবাজার সর্ম্পকে ‘কুটূক্তি’ করায় তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে ব্যক্তি শ্রেণীর বিনিয়োগকারীরা। গত সোমবার প্রথম এই দাবিতে রাস্তায় নামে বিনিয়োগকারীরা। পরে বৃহস্পতিবার তারা ডিএসই’র সামনে বিক্ষোভ করে। শুক্র ও শনিবার পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় কোনো ধরনের প্রতিবাদ জানাতে পারেনি বিনিয়োগকারীরা। রোববার দুপুর একটায় ডিএসই’র সামনে ফের বিক্ষোভ শুরু করে বিনিয়োগকারীরা। পরে দুইটার দিকে রাস্তায় শুয়ে পড়ে বিনিয়োগকারীরা। এতে ইত্তেফাক থেকে শাপলা চত্বরের দিকের রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশিদ চৌধুরী বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “অর্থমন্ত্রীর দেশের অর্থনীতি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। এমনকি দেশের শিল্পায়ন নিয়ে কোনো ধরনের চিন্তা-ভাবনাও নেই। তিনি পদত্যাগ না করলে দেশের পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হবে না। এই অর্থমন্ত্রীকে দিয়ে দেশের কোনো উন্নয়ন হবে না। দেশের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করবে।”

 

অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ কেন চান এমন প্রশ্নের জবাবে দিপু তালুকদার নামে এক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল সেগুলোর বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নেননি তিনি। সর্বোপরি দেশের পুঁজিবাজারের ভয়াবহ ধ্বসের পেছনে অর্থমন্ত্রীর হাত রয়েছে বলে মনে করে বিনিয়োগকারীরা। এ জন্য এই মুহূর্তে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে।”

 

সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “অর্থমন্ত্রী বহুবার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন। বার বার বলেছেন পুঁজিবাজারে ‘৯৬ আর আসবে না। তার এই আহবানে সাড়া দিয়ে দেশের আপামর জনতা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। কিন্তু এর পরেই সেই ভয়াবহ ধ্বসের পর তিনি সুর পাল্টিয়ে বলা শুরু করলেন পুঁজিবাজার একটি ‘ফটকা’ বাজার, বিনিয়োগকারীদের বললেন ‘জুয়াড়ী’, সর্বশেষ বলেছেন এটি একটি ‘দুষ্টু’ শেয়ারবাজার। তার এ ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত বক্তব্যে পুঁজিবাজারের ধ্বস তরান্বিত হয়েছে। এই অবস্থায় অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া এই বাজার স্থিতিশীল হবে না।”

 

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে সোমবার সংসদে সম্পূরক বাজেট আলোচনা শেয়ারবাজারকে ‘দুষ্ট শেয়ারবাজার’ বলে মন্তব্য করেন। এরপর বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবার একই মন্তব্য করেন। তার এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ডিএসই। একই সঙ্গে তার পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করে বিনিয়োগকারীরা।

 

বার্তা২৪ ডটনেট/


সর্বশেষ সংবাদ