নেটওয়ার্ক বন্ধ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় : করোনা ভাইরাসের সঠিক তথ্য পাচ্ছেনা রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ২৪ মার্চ, ২০২০ ১:৩১ : পূর্বাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ক্যাম্প এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা না থাকায় রোহিঙ্গারা পাচ্ছেনা মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা। ফলে ক্যাম্পে ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের গুজব। বাড়তি কোন সতর্কতাও নেই রোহিঙ্গাদের মাঝে।কক্সবাজারের ৩০টি ক্যাম্প হয়ে উঠেছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। ক্যাম্পে করোনা ছড়ালে আশে-পাশের স্থানীয় কমিউনিটি তথা পুরো জেলাও ঝুঁকিমুক্ত থাকবেনা।

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ৩জি ও ৪জি নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে রোহিঙ্গাদের মোবাইল যোগাযোগে ভাটা পড়ে। নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধের আগে রোহিঙ্গারা ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে পরষ্পর যোগাযোগ রক্ষা করতে পারতো, বিদেশে অবস্থানরত আত্মিয় স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারতো, অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে সংবাদ পড়তে পারতো এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নানা বিষয়ের সমাধান পেতো ও সচেতন হতে পারতো। কিন্তু গত ৫ মাস ধরে ইন্টারনেট গতি কমিয়ে দেয়ায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঠিক খবরাখবর নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এ ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাব পড়েছে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনা ভাইরাস নিয়ে রোহিঙ্গাদের সতর্কতা ও সচেতনতা নিয়েও। রোহিঙ্গারা এখন করোনার সর্বশেষ আপডেট পাচ্ছেনা, করোনার ঝুঁকি, লক্ষণ সম্পর্কেও অবগত হতে পারছেনা। করোনা হলে কী করণীয় কিংবা করোনা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নিতে হবে তাও রোহিঙ্গাদের অজানা। ফলে করোনা সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের মুখে মুখে গুজব ছড়িয়ে পড়ছে।
কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা আমানুল্লাহ (৩৫) জানান, ইন্টারনেট সুবিধা থাকলে আমরা গুগল, ইউটিউব ও অনলাইন টিভি চ্যানেল দেখার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতাম। সচেতন হতে পারতাম, নিজেদের কমিউনিটির ভেতর সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারতাম। কিন্তু এখন ব্যর্থ।

মধুরছড়ার আবুল হোছনের স্ত্রী শফিকা (৪৫) বলেন, করোনার নাম শুনেছি। এটিকে প্রথমে রাক্ষস জাতীয় বা ছেলেধরা মনে করেছিলাম। কিন্তু এনজিও কর্মীরা জানিয়েছে এটা একটা রোগ বালাই। তবে এনজিও কর্মীদের কাজের সীমাবদ্ধতার কারনে এত মানুষকে বুঝানো সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে অনেক রোহিঙ্গাদের করোনা সম্পর্কে ধারণাই নেই।

এদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সতর্কতা হিসেবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অনেক রোহিঙ্গাই জানেনা যে, কেন স্কুল বন্ধ? স্কুল বন্ধ হলেও রোহিঙ্গাদের ছেলে মেয়েরা রাস্তায়-বাজারে-মাঠে ঠিকই ঘুরাফেরা করছে।


সর্বশেষ সংবাদ