বান্দরবানে অজ্ঞাত রোগে ৩৩ জন আইসোলেশনে

প্রকাশ: ১৬ মার্চ, ২০২০ ১১:৩৪ : অপরাহ্ণ

বান্দরবানের লামা উপজেলায় অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত ৩৩ জনকে লামা হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়ছে। আজ সোমবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্গম লাইল্যা মুরুং পাড়া থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় টলি-ট্রাক্টরে করে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদুল হক। তিনি বলেন, ‘রোগের আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রোগটি হাম। তারপরও নিশ্চিত হতে আক্রান্তদের কাছ থেকে নমুনা রক্ত সংগ্রহ করে ঢাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের গবেষণাগারে পাঠানো হবে।’

মোহাম্মদুল হক বলেন, ‘গতকাল খবর পাওয়া মাত্র আমরা তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম সেখানে পাঠিয়েছিলাম। তারা সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। হাসপাতালে আনার পর আমাদের পুরো মেডিকেল টিম আক্রান্তদের সেবা দিচ্ছে। হাসপাতালে দুটি ওয়ার্ডকে আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। ৩৩ জন রোগীকে সেখানে আলাদা করে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।’

মোহাম্মদুল হক জানান, রোগীদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। আইসোলেশনে থাকা রোগীদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

পুরাতন লাইল্যা মুরুং পাড়ার প্রধান লাতুং কারবারী বলেন, ‘গত একমাস ধরে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পাড়ার লোকজন প্রায় সবাই অসুস্থ। ইতিমধ্যে দুতিয়া ম্রো (৮) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।’

লাতুং কারবারী জানান, এই পাড়াটি লামা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। এই এলাকায় ব্যবসা করতে গিয়ে রোগের বিষয়টি আব্দুল কাদের নামের এক ব্যবসায়ীর নজরে প্রথম আসে। তার মাধ্যমে সবাই বিষয়টি জানতে পারে।

লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে আজ সকালে ট্রাক্টর নিয়ে তাদের বুঝিয়ে লামা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসি। না হলে আরও কয়েকজন মারা যেত। আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের চিকিৎসা ও খাবারের খরচ বহন করব।’

মিন্টু কুমার সেন জানান, লামা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্গমে অবস্থিত পুরাতন লাইল্যা মুরুং পাড়ার আটটি পরিবারের প্রায় ৭০ জন শিশু, নারী ও পুরুষ সবাই অজ্ঞাত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

বান্দরবান জেলার সিভিল সার্জন ডা. অংসুই প্রু মারমা জানান, আক্রান্তদের শরীরে হামের মতো গুটি উঠেছে। তারা মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে পাড়ার আশেপাশে যাতে রোগ আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সেখানে একটি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

এদিকে রোগীদের হাসপাতালে আনা হলে লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি, লামা পৌরসভার মেয়র ও লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।


সর্বশেষ সংবাদ