আত্মসমর্পণ করা ৯৬ জনকে এক লাখ টাকা করে অনুদান দিচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:৪১ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:: মহেশখালীতে আত্মসমর্পণ করা ৯৬ জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগরকে এক লাখ টাকা করে অনুদান দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল’ থেকে এই টাকা দিতে এরইমধ্যে অনুমোদন দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ শামীম মুসফিক স্বাক্ষরিত চিঠিটি বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমার ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে ১২টি দস্যু বাহিনীর ৯৬ জন জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, আত্মসমর্পণ করা জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগরদের পুনর্বাসনের জন্য প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে ৯৬ জনকে ৯৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১২টি জলদস্যু বাহিনীর ৯৬ সদস্য ও অস্ত্র কারিগর গত ২৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির উপস্থিতিতে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমার ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা ১৫৫টি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৭৩ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দেন।

জলদস্যুদের জমা দেওয়া অস্ত্র (ফাইল ছবি)
জলদস্যুদের জমা দেওয়া অস্ত্র (ফাইল ছবি)

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আলোচিত জিয়া বাহিনীর প্রধান জিয়াউর রহমান জিয়াসহ ১৫ জন, চেয়ারম্যান তারেক শরীফের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কালা জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর আলমসহ ১৫ জন, মাহমুদুল্লাহ বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ আলীসহ ১৫ জন, সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজ-উদ-দৌলাহ, মুজিব বাহিনীর প্রধান মজিবুর রহমান এবং কালু বাহিনীর প্রধান কালু প্রকাশ গুরা কালুসহ তার বাহিনীর ২০ জন জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর ছিলেন।

এরআগে, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর র‌্যাবের মাধ্যমে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছিলেন। দীর্ঘদিন থেকে জলদস্যুরা সাগর ও নদীতে জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, মাছ লুট, ঘের ডাকাতি করে আসছিল। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে খুনোখুনি লেগেই ছিল। সরকারের এসব উদ্যোগের কারণে জলপথের অপরাধ কমে এসেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, যারা আত্মসমর্পণ করেছে তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে। আর যারা আত্মসমর্পণ করেনি তাদের ধরা হবে। একইসঙ্গে জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগরদের গডফাদারদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করা ৯৬ জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগরকে পুনর্বাসনে আর্থিক অনুদান ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘কিছু বিষয় প্রকাশ করার বিষয় নয়।’ তবে আত্মসমর্পণ করলে তাদের যেসব সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।


সর্বশেষ সংবাদ