ওরে নীল দরিয়া,টেকনাফ হইতে কক্সবাজার পৌছাইতে নিয়ন্ত্রণ হারাইয়া দেয়রে মারিয়া!

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১১:০০ : অপরাহ্ণ

নুরুল হোসাইন,টেকনাফ::::
ওরে নীল দরিয়া, টেকনাফ হইতে কক্সবাজার পৌছাইতে নিয়ন্ত্রণ হারাইয়া দেয়রে মারিয়া!  নীল দরিয়া সার্ভিস তেমন ভাল নয়, ড্রাইভার যুদ্ধে যায় মনে হয়। হেল্পার এর আচরণ মোটেই ভাল না। গাড়ি গুলোর ওজন ভারসাম্য ঠিক নেই। ভারসাম্য ঠিক রাখতে অবশ্যই চাকা গুলো বড় করলে ও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেশী। একদম পালতু গাড়ি। ছোট হেলপারের ব্যবহার ভাল না।ঈদানিং কয়েকবার মেরিন ড্রাইভে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ গাড়ী চলাচলপথে ব্যবহারের কোন উপযোগী নয়।

টেকনাফ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাস মাধ্যমে জানান, গত সপ্তাহে জরুরী কাজে কক্সবাজার যেতে হয়েছিল। তাই মেরিন ড্রাইভ দিয়ে নীল দরিয়া গাড়ি যোগে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য গাড়ি কাউন্টারে উপস্থিত হলাম। শিক্ষক পরিচয় দেওয়ার পরও কাউন্টারে জনপ্রতি নিল ১৭০ টাকা। সাথে আমার এক সহকর্মী ছিলেন। যথারীতি ১০ ঘটিকায় নীল দরিয়া গাড়িটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দিল। প্রথমে মেরিন ড্রাইভে পৌছলাম। তারপর শুরু হল ট্রাজিক যাত্রার পালা। ড্রাইভারের গাড়ি চালানো দেখে মনে হল গতি প্রতিযোগিতায় নেমেছেন তিনি। হেলে দোলে গাড়িটি দ্রুত বেগে চালক চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই অবস্থায় বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির কাছাকাছি পৌঁছতে ঘটল বড় দুর্ঘটনা। সাত অথবা আট বয়সী এক শিশুকে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জোরে দেয় ধাক্কা। আমরা চালককে গাড়ি থামাতে বলি। নেমে দেখি শিশুটি অজ্ঞান হয়ে রাস্তা পড়ে আছে। চোয়াল ভেঙে মুখ দিয়ে প্রচুর রক্ত বের হচ্ছিল। ঐ অবস্হায় শিশুটির বাবাসহ আমরা শিশুটিকে ঐ গাড়িতে তুলে নিয়ে কক্সবাজার মেডিক্যালের দিকে ছুটে চলি। কারণ পাশে কোন নির্ভরযোগ্য হাসপাতাল না থাকায়। গাড়িতে শিশুটির বাবার কান্না দেখে অপরাপর যাত্রীদের চোখেও জল চলে আসছিল। প্রায় আধাঘন্টা পর শিশুটির হুশ এল। হুশ ফিরে পেলেও শিশুটির অবস্থা মোটেই ভালো ছিল না। মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং শিশুটি খুবই কান্না করছিল। বাবা জল ভরা চোখে শুধু সান্ত্বনা দিচ্ছিল। পথিমধ্যে বিভিন্ন চেকপোস্ট থাকলেও রোগী থাকায় থামাতে হয়নি। এরি মধ্যে এক যাত্রী গাড়ি থেকে নাম্বার নিয়ে কতৃপক্ষকে দূর্ঘটনার কথা বারবার বলছিল শিশুটির জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্হা করানোর জন্য। কিন্তু কক্সবাজারে তাদের কাউন্টারে পৌঁছে দেখি শিশুটির জন্য কোন ব্যবস্হা করে নাই। এই সময় আমরা সবাই জোর প্রতিবাদ করলে পরবর্তীতে তাদের টনক নড়ে। তাদের এহেন ব্যবস্হাপনা দেখে মনে মনে খুব হতাশ ও রাগ হচ্ছিল। মনে মনে বললাম কিসের প্রতিযোগিতায় নেমেছে নীল দড়িয়া কর্তৃপক্ষ। টাকার নাকী গতির?যদি এই দুই প্রতিযোগিতায় নেমে থাকে তাহলে যাত্রীদের কপালে আরো বড় বড় বিপদ আসন্ন। তাই দক্ষ চালক ও নিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালানোর দিকে গভীর দৃষ্টি দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। মনে রাখবেন একটি দুর্ঘটনা ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য সারা জীবনের কান্না।


সর্বশেষ সংবাদ