বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমাদের বোধোদয় হওয়া উচিত

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:৩৬ : পূর্বাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:: বাংলাদেশে দীর্ঘদিন শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপনে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারগুলো হতাশ হয়ে পড়েছে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনকভাবে সমুদ্রপাড়ি দিয়ে দুর্দশাগ্রস্ত এই জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল।

মঙ্গলবার টলারডুবিতে রোহিঙ্গা শিশু ও নারীর মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে একথা বলেন আন্তর্জাতিক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেনের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার এথেনা রেবার্ন। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফেরত নেয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংস্থাটির ঢাকাস্থ কার্যালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

এথেনা রেবার্ন বলেন, ‘বাংলাদেশ সমুদ্রসীমায় সাম্প্রতিক টলারডুবির ঘটনায় আরও কিছু নিরীহ রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রাণনাশ ঘটেছে। হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় মরিয়া হওয়ায় এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার কোনো জোরালো সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না, তাই ভবিষ্যতের কোনো লক্ষ্য না থাকায় রোহিঙ্গা শিশুরা হারিয়ে যাওয়া প্রজন্মে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে এথেনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার দুই বছরের বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে উদারতার পরিচয় দিয়েছে। তারপরও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অস্তিত্বের জন্য রোহিঙ্গাদের মরিয়াভাব প্রকট হয়ে উঠছে।’

‘রোহিঙ্গা শিশুদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের সঙ্গে সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও স্বীকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। রোহিঙ্গা শিশুরা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরে যাতে তাদের শেখার ও বিকাশের পথ চলমান থাকে সেজন্য তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটাই একমাত্র উপায়’ বলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের এই হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যাতে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের স্বদেশে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য মিয়ানমার সরকারকে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আজ বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমাদের সবার বোধোদয় হওয়া উচিত।


সর্বশেষ সংবাদ