সাগর পথে মালয়েশিয়া: ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বাঁচার আকুতি

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:২৭ : পূর্বাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::

বঙ্গোপসাগর দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সেন্টমার্টিনের কাছে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বাঁচার আকুতি জানানো হয়েছিল। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপের কাছে ডুবন্ত পাথরে ধাক্কা খেয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এসময় ট্রলারে থাকা যাত্রী ও উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল (২৮) জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করে বাঁচার আকুতি জানান। পরে কোস্টগার্ডের তৎপরতায় জীবিত উদ্ধার হন আব্দুল।

 আব্দুল বলেন, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১৩৮ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে টেকনাফের নোয়াখালী পাড়া গ্রাম থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে বড় একটি ট্রলারে নিয়ে যায় দালালেরা। সেন্টমার্টিনের দক্ষিণের দিকে ছেঁড়া দ্বীপের কাছে পৌঁছালে ট্রলারটি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে ট্রলারটির তলা ফেটে গিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এসময় দালাল ও মাঝি-মাল্লারা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে যায়।

আব্দুল জানান, প্রথমে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বাঁচার আকুতি জানান। সেখান থেকে টেকনাফের কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার সোহেল রানার নম্বর দেওয়া হয়। পরে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিস্তারিত জানান আব্দুল। তবে কোস্টগার্ডের অনুসন্ধানী দল খুঁজে পাওয়ার আগে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা ভাসমান অবস্থায় ১৫টি লাশ উদ্ধার করে। এর মধ্যে ১২ জন নারী ও তিনটি শিশু। এছাড়া ৭১ জনকে (৪৬ জন নারী, ২১ জন পুরুষ, ৪ শিশু) জীবিত উদ্ধার করে কোস্টগার্ড।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, কোস্টগার্ড সদস্যরা অনুসন্ধান চালিয়ে জীবিত ৭১ এবং ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। ট্রলারটিতে ১৩৮ জন যাত্রী ছিল বলে কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা।

কোস্ট গার্ড আরও জানায়, ডুবে যাওয়া ট্রলারের সবাই রোহিঙ্গা এবং তারা নুর আলম ও সৈয়দ আলম নামের দুই জন দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় তারাও ট্রলারে অবস্থান করছিল। ট্রলারে থাকা ওই দুজন দালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


সর্বশেষ সংবাদ