রোহিঙ্গা নারীদের ভারতের পতিতালয়ে বিক্রি: আটক ১৩ রোহিঙ্গা নারী ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ৯:৫৪ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::  রাজধানীর বাড্ডা থানার আফতাবনগর থেকে উদ্ধার ১৩ রোহিঙ্গা নারীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠিয়েছেন আদালত। এদিকে ওই রোহিঙ্গা নারীদের ভারতের পতিতালয়ে বিক্রির উদ্দেশ্য পাঁচারের জন্য রাখা দুই মানবপাচারকারীর তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী শুনানি শেষে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে এবং রিমান্ডের এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন, কবির আহমেদ এবং এমরান।

advertisement

রাজধানীর তেজগাঁওস্থ ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর আদেশ হওয়া ১৩ রোহিঙ্গা নারী হলেন, সামিরা (১৯), আসমা আক্তার (১৭), কানিজ ফাতেমা (১৬), জমিলা (১৭), তাছলিমা (১৮), নূর বেগম (১৭), নূর হাকিমা (১৮), সাহিদা (১৭), হারেছা (১৬), সানজিদা (১৯), আছমা (২২), সেতারা (২৫) ও আয়েশা (১৭)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার নিরাপদ হেফাজতে রাখার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস আলম আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আর ১৩ রোহিঙ্গা নারীকে তেজগাঁওস্থ ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, র‌্যাব-৩ গত ২৬ জানুয়ারি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির থেকে কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা যুবতীর পরিবেশগত অসহায়ত্বকে পুঁজি করেছে। তাদের উন্নত জীবনের মিথ্যা আশ্বাসে প্রলুব্ধ করে ভুল নাম, পরিচয় ও ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরি ও অবৈধ উপায়ে ভিসা প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে ভারতে পতিতালয়ে পাচার করার জন্য বাড্ডা থানাধীন আফতাবনগরস্থ বাসায় একত্রিত হয়েছে। পরে র‌্যাব সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৩ রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার এবং দুই জনকে আটক করে।

আসামি কবির আহমেদ, এমরান ও তার সঙ্গে থাকা আরও সাতজন সংঘবদ্ধভাবে ১৩ রোহিঙ্গা নারীকে মালয়েশিয়ায় ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন কুতুবপালং, বালুখালী এবং টেংখালী ক্যাম্প থেকে আসামি কবির আহম্মেদের ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে। পরে মানবপাচার চক্রের অন্য সক্রিয় সদস্য পলাতক আসামি মো. আইয়ুব হোসেন বিভিন্ন সরকারি অফিসের সঙ্গে যোগসাজসের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন সনদ, সাময়িক জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট তৈরিসহ বর্হিগমনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিসহ তারা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন প্রসিদ্ধ পতিতালয়ে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গা নারী সদস্যদের যশোরের বেনাপোল হয়ে ভারত এবং সেখানে তাদের মনোনীত দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া পাচার করে থাকে।

এর আগে গত রোববার বেলা ১২টার দিকে আফতাবনগরের বি ব্লকের ২ নাম্বার রোডের ৪০ নম্বর বাসায় র‌্যাব- ৩ অভিযান চালিয়ে ১৩ রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করে। এ সময় কবির আহমেদ এবং এমরানকে আটক করা হয়।


সর্বশেষ সংবাদ