টেকনাফ-উখিয়ায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র হস্তান্তর

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ৯:৫৮ : অপরাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … বিশ^ খাদ্য কর্মসুচী (ডব্লিউএফপি) উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় ৪০টি নতুন আশ্রয়কেন্দ্র হস্তান্তর করেছে। ১৯ জানুয়ারী রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া শীলখালী এলাকায় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্টানে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্র গুলো হস্তান্তর করা হয়। এতে ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়, বিশ^ খাদ্য কর্মসুচীর (ডব্লিউএফপি) উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, টেকনাফের সহকারী কমিশণার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবুল মনসুর উপস্থিত ছিলেন।
বিশ^ খাদ্য কর্মসুচী (ডব্লিউএফপি) এমারজেন্সি কো-অরডিনেটর পিটার গেস্ট বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্যোগ প্রবণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে কক্সবাজার অন্যতম। একারণেই আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জীবন রক্ষা করতে স্থানীয় জনগনের সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস এই পুনর্বাসন কাজগুলো এই অঞ্চলের মানুষের জীবন টেকসই এবং ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কাঠামগুলোকে অক্ষম-বান্ধব এবং ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সময় আরও দৃঢ়ভাবে সক্ষম করতে বিশ^ খাদ্য কর্মসুচী (ডব্লিউএফপি) ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে এবং সেগুলোর প্রত্যেকটিতে পানি এবং স্যানিটেশন সুবিধা যুক্ত করেছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। বিশ^ খাদ্য কর্মসুচী (ডব্লিউএফপি) ডিসাসটার রিসিলিআন্স প্রোজেষ্ট এর প্রথম পর্যায়ের অংশ হিসেবে এগুলো কাঠামোগতভাবে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্ততি গ্রহণ এবং সাড়া দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার এবং সম্প্রদায়ের সক্ষমতা জোরদার করা বিশ^ খাদ্য কর্মসুচী (ডব্লিউএফপি) ডিসাসটার রিসিলিআন্স প্রোজেষ্ট এর অন্যতম লক্ষ্য। ছয় মাস ব্যাপী পুনর্বাসন কাজের মাধ্যমে এই প্রোজেষ্ট কক্সবাজার জেলার স্থানীয় প্রায় ৪ হাজার ৪০০ জন মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে’।
ইউএসএআইডি এর ইউএস ফরেন ডিসাসটার অফিসার মিস রেচেল গালাগার বলেন, ‘বেশির ভাগ সময় এই দালানগুলো স্কুল বা মিউনিসিপ্যাল অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যখন পরবর্তী দুর্যোগ আঘাত হানবে, এই পুনর্বাসিত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর প্রত্যেকটি প্রায় ১ হাজার মানুষকে বন্যা, ভূমিধ্বস, বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া থেকে বাঁচাতে পারবে। আমরা কক্সবাজারকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে আরও সহনশীন করতে কাজ করেছি। বিশ^ খাদ্য কর্মসুচী (ডব্লিউএফপি) ২০২০সালের মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আরও ৪০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র পুনর্বাসন করার আশা করছে। বিশ^ খাদ্য কর্মসুচী (ডব্লিউএফপি), স্থানীয় এনজিও, বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে আমাদের স্বাবলম্বনের যে যাত্রা তার সহযোগি অংশীদারত্ব নিয়ে আমরা গর্বিত’। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজাহান আলি বলেন, ‘আমি বিশ^ খাদ্য কর্মসুচী (ডব্লিউএফপি) এবং ইউএসএএইডি, ওএফডিএ’র প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা এবং প্রশংসা জানাই। তাঁদের যোগ্য নেতৃত্ব এবং কক্সবাজারের আক্রান্ত স্থানীয় সমাজের প্রতি তাদের কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতির জন্য যা একান্তভাবে প্রয়োজন। এই সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অন্যান্য অভিযোজন অবকাঠামোগুলোর সাথে বিশেষতঃ বৃষ্টিপাত এবং বন্যার তীব্রতার সময় স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহনশীলতা বাড়াতে অবদান রাখবে’। ##


সর্বশেষ সংবাদ