তীব্র ঠান্ডায় স্থবির জনজীবন: আরও ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমতে পারে

প্রকাশ: ৭ জানুয়ারি, ২০২০ ১১:১৯ : অপরাহ্ণ

তীব্র ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাজধানীর ফুটপাতসহ নিম্নবিত্ত মানুষদের ভোগান্তি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাস সুচের মতো বিঁধছে শরীরে। আগামী দুইদিন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) গড়ে আরও ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমতে পারে।

সকাল থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল রাজধানী। দুপুরে সূর্য উঠলেও তাপ ছড়াতে পারেনি। ফলে বাড়েনি তাপমাত্রা। উল্টো দুপুরের পর আরও কমে গেছে তাপমাত্রা। বিকাল থেকে শুরু হয় কনকনে বাতাস। ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বইছে বাতাস। আরও এক থেকে দুইদিন স্থায়ী হতে পারে এই তাপমাত্রা। এরপর আবার বৃষ্টিরও শঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা আগের মতোই থাকবে আর বৃষ্টি না হলে তাপমাত্রা কমে পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

সকালে ঘন কুয়াশার মধ্যেই স্কুলে নতুন ক্লাসে যেতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। ঠান্ডা বাতাসের কারণে সকালে যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে। একই অবস্থা হয় অফিসগামী সাধারণ মানুষের।

দুপুরে রিকশাচালক মনির মিয়া বলেন,‘ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। রিকশা চালাতে অনেক কষ্ট হয়। আমাদের অনেকেই আজ এক বেলা রিকশা চালাচ্ছে। অনেকেই রাতে রিকশা চালিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’

অন্যদিকে ফুটপাতে গরম কাপড় বিক্রি বেড়ে গেছে। পুরানা পল্টনে ফুটপাতে কাপড়ের দোকান ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন জানান,গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে বিক্রি বেশি। সবাই মোটা কাপড় কিনছেন।

কুয়াশা আর কনকনে বাতাসের কারণে আজ  মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকাল থেকেই সন্ধ্যার মতো কিছুটা অন্ধকার নেমে আসে রাজধানীতে। রাস্তার পাশে কাগজে আগুন দিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করেন কেউ কেউ। রাতে ফুটপাতে শুয়ে থাকা মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। হু হু বাতাসের মধ্যে পাতলা একটা চাদরে নিজেকে মুড়িয়ে ঘুমাতে দেখা যায়  অনেককেই।

আবহাওয়া অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান,ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ না হলেও ঠান্ডার অনুভূতি অনেক। কারণ ঢাকায় সূর্য উঠলেও তাপ ছড়াতে পারেনি। ফলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা খুব একটা বাড়েনি। আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ৬। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬। এই দুই তাপমাত্রার মধ্যে ব্যবধান কম হওয়ার কারণে ঠান্ডার অনুভূতি বেশি হচ্ছে। তিনি বলেন,এই তাপমাত্রার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমের বাতাসের কারণে রাজধানীবাসীর ঠান্ডা বেশি লাগছে। এদিকে চলতি মাসের মাঝামাঝি আরও একটি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদফতর। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়,চলতি মাসে দেশে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুইটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।

আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়, ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।  গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজুপুরে, ৮ দশমিক ৮। আগের দিন শনিবার দিনাজপুরে ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।এদিকে ঢাকায় আজ তাপমাত্রা কমেছে আরও ২ ডিগ্রি। আজ তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি ছিল,গতকাল ছিল ১৩ দশমিক ৫।চট্টগ্রামে কমেছে দুই ডিগ্রি।সিলেটে কমেছে ২ ডিগ্রি,আজ ছিল ১২ দশমিক ৪। তাপমাত্রা বেড়েছে রাজশাহীতে। আজ ছিল ১০ দশমিক ৪, গতকাল ছিল ৮ দশমিক ৮,রংপুরে কমেছে দুই ডিগ্রি,আজ ছিল ৯ দশমিক ৮,গতকাল ছিল ১১। খুলনায় আজ ছিল ১১,গতকাল ছিল ১২। বরিশালে আজ ছিল ১১,গতকাল ছিল ১২ দশমিক ৪। এদিকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আছে টাঙ্গাইল,ঈশ্বরদী,রংপুর,সৈয়দপুর, তেঁতুলিয়া,ডিমলা,রাজারহাট ও যশোর অঞ্চলে। ফলে এই এলাকাগুলোতে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি।

আবহাওয়ার ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়,পাবনা, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ ও যশোর অঞ্চল এবং রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটা অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্য রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ বলেন,আজ রাতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও এক ডিগ্রি কমতে পারে। দিনের বেলা একই থাকবে। আগামী দুইদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।এরপর বৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে। না হলে আগের চেয়ে পরিস্থিতি ভালো হবে।


সর্বশেষ সংবাদ