রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা নতুন বছরের অন্যতম চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ১ জানুয়ারি, ২০২০ ৯:৪৮ : অপরাহ্ণ

নতুন বছরে রোহিঙ্গা সংকটকে অন্যতম বড় সংকট বলে মনে করেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেছেন,‘নতুন বছরে আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে তার মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট অন্যতম।’

আজ বুধবার কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ডিকাব) সদস্যরা নতুন পররাষ্ট্র সচিবকে তার দপ্তরে অভিনন্দন জানাতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। ডিকাবের বিদায়ী সভাপতি রাহিদ এজাজ ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিবের নেতৃত্বে এ সময় নতুন পররাষ্ট্র সচিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গা চ্যালেঞ্জের ডায়মেনশন আরও বাড়ছে। এই ইস্যুতে আগে আমরা দ্বিপাক্ষিক পথে হেঁটেছি। এরপর বহুপাক্ষিক পথে হাঁটা শুরু করেছি। সাম্প্রতিক আমরা এই ইস্যুতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য বিচারিক পথেও চলছি। এগুলো সবগুলোই আসলে একটির সঙ্গে আরেকটি জড়িত। এখানে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো রোহিঙ্গারা যাতে সম্মান এবং নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের বাসভূমি মিয়ানমারে ফিরে যায় তা নিশ্চিত করা।’

তিনি বলেন, ‘এ বছরের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট মুজিববর্ষ শুরু হবে ১৭ মার্চ। এ উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রচুর অনুষ্ঠান আয়োজন করার পাশাপাশি বিদেশের সব মিশনেও বছরব্যাপী আয়োজন থাকবে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিও উদযাপিত হবে।

‘২০ বছর আগের চেয়ে এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক ভালো। বিশ্ব এখন আমাদের কাছ থেকে আরও নেতৃত্ব চায়, আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। এজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজাতে হবে। এ বছর দুটি বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন হবে বাংলাদেশে, একটি ডি-৮ এবং অন্যটি বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন, যোগ করেন পররাষ্ট্র সচিব।

তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য বিষয়ে বহুপাক্ষিক থেকে দ্বিপাক্ষিক দিকে যাওয়ার প্রবণতা, বাংলাদেশের জন্য এগুলো ভালো না। এই বিষয়গুলো কীভাবে মোকাবিলা করা যায় সে পথ বের করতে হবে। এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর আমাদের সুযোগ সুবিধাগুলো আরও থাকবে না। সুতরাং সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলা কীভাবে করব তা নিয়ে কাজ করতে হবে। তৈরি পোষাকখাতের জিএসপি সুবিধা পাওয়ার জন্য এখন থেকেই নেগোশিয়েশন শুরু করতে হবে। সামনে অনেক কাজ আছে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ মিশনগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে টিমওয়ার্কের ওপর জোর দেন নতুন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, ‘বিদেশে ৭০টিরও বেশি মিশনের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে টিম কাজ করবে। মিশনগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক মাধ্যমে আস্থা তৈরি করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে কাজ করবে মন্ত্রণালয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি দেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা মেনেই এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের যে উচ্চতা, তা ধরে রাখতে কাজ চলবে।’


সর্বশেষ সংবাদ