কুরআন-সুন্নাহ’র আলোকে বিশুদ্ধ সালাম বিনিময়

প্রকাশ: ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৯ : অপরাহ্ণ

-মুফতি কিফায়তুল্লাহ শফিক

অবতরণিকা

اَلْـحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِيـْنَ وَ الصَّلٰوةُ وَ السَّلَامُ عَلٰي سَيِّدِ المُرْسَلِيـْنَ وَ عَلٰي اٰلِه وَ اَصْحَابِهِ اَجْـمَعِيـْنَ اَمَّا بَعْدُ

“আস্সালাম” আল্লাহ তা’আলার সুন্দর নামসমূহের একটি অন্যতম নাম। ইসলাম ধর্মে সালাম আদান-প্রদানের গুরুত্ব অপরিসীম। মুসলিম সমাজে সালাম শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক। জান্নাতিগণ জান্নাতের মধ্যে পরস্পরকে সালাম দ্বারা সম্বোধন করবেন এবং তাদের পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় হবে সালাম।
একজন মুসলমান কর্তৃক অপর মুসলমানকে সালাম দেয়ার অর্থ হল তার জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি, রহমত ও বরকতের দু’আ করা এবং তার যাবতীয় কল্যাণ কামনা করা।
সালাম মুসলমানদের মধ্যে পরস্পর মিল মুহাব্বত ও হৃদ্যতা সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ও দুশমনি দূর করে দেয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন : আমি তোমাদের কি এমন একটি বিষয়ের কথা বলব, যা করলে তোমাদের পরস্পর ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রসার কর। (মুসলিম শরীফ )
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন : হে মানব সকল! তোমরা সালামের প্রসার কর, মানুষকে খানা খাওয়াও, আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখ,আর মানুষ যখন ঘুমায় তখন তুমি সালাত আদায় কর। তা হলে তুমি নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(তিরমিযী শরীফ)
তিনি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, আল্লাহ তা’আলার নিকট সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে মানুষকে আগে সালাম দেয়।
(আবূ দাউদ শরীফ)
হযরত আবু উমামা রা. বলেন : রাসূলুল্লাহ সা. কে জিজ্ঞাসা করা হল : হে আল্লাহর রাসূল সা.! দুইজন ব্যক্তির মধ্যে যখন সাক্ষাৎ হবে, তখন কোন্ লোকটি প্রথমে সালাম দিবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাদের মধ্যে দুইজনের যে আল্লাহ তা’আলার অধিক কাছের লোক সে আগে সালাম দিবে। (তিরমিযী শরীফ)
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা.-কে প্রশ্ন করলেন, ইসলামের কোন কাজটি সব চেয়ে ভালো? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, খানা খাওয়ানো এবং পরিচিত-অপরিচিত সকলকে সালাম দেওয়া। (বুখারী শরীফ)
হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা.আমাকে বলেন : হে বৎস! তুমি যখন তোমার পরিবারের নিকট প্রবেশ করবে, তখন তাকে সালাম দিবে। এই সালাম তোমার জন্য এবং তোমার পরিবারের জন্য বরকত বয়ে আনবে। (তিরমিযী শরীফ)
রাসূলুল্লাহ সা.-এর ভাষ্য মতে সালামের প্রতিটি বাক্যে দশ নেকী। পরিপূর্ণ সালামে মোট তিনটি বাক্য আছে, সুতরাং যে পূর্ণ সালাম দিবে তার ত্রিশটি নেকী অর্জিত হবে। (তিরমিযী ও আবূ দাউদ শরীফ)
কুরআন শরীফে আল্লাহ তা’আলা বলেন, প্রত্যেক নেক আমলের ছওয়াবকে দশগুণ করে বৃদ্ধি করে দেয়া হবে। এ হিসাব মতে কোন মুসলমান একবার পূর্ণ সালাম দিলে (৩০দ্ধ১০=৩০০) কমপক্ষে তিনশটি ছওয়াব তার আমলনামায় যোগ হবে।
সালাম কিভাবে দিবেন?
সালাম শুধু মুসলমানদের দেওয়া যায়। আহলে কিতাব ও কাফির- মুশরিকদের সালাম দেওয়া বৈধ নয়। কোথাও যদি মুসলিম-অমুসলিম একত্রে থাকে সেখানেও শুধু মুসলমানের নিয়তে সালাম দিবে। হ্যাঁ, কোন অমুসলিম যদি সালাম দেয় সে ক্ষেত্রে জবাবে “وَعَلَيْكُمْ” অর্থাৎ ‘এবং তোমার উপরও’ বলবে। মাহরাম (যাদের দেখা বৈধ) নারীদেরও সালাম দেয়া সুন্নাত। আর ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে পর নারীকেও সালাম দেওয়া জায়েয। অনুরূপ নারীও ফিতনা থেকে নিরাপদ হলে পর পুরুষকে সালাম দিতে পারবে। যে কোন মুসলমানকে উপযুক্ত সময়ে সালাম দেয়া সুন্নাত। সালামের জবাব দেয়া ওয়াজিব। সালাম ও উত্তর উচ্চ স্বরে শুনে মত করে দেয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা উভয়টি উচ্চারণ করতে হয়। হাত বা ইশারা ইত্যাদি সালাম বলে গণ্য হয়না। হ্যাঁ দূরে হলে অথবা শুনতে কোন কিছু বাধা হলে মুখে উচ্চারণের সাথে সাথে হাত কিংবা মাথার ইশারায় জানিয়ে দেয়া যাবে। তবে কাউকে ঝুঁকে সালাম দেওয়া কোন অবস্থাতেই জায়িয নয়। (আল-আদাবুল মুফরাদ ও তিরমিযী শরীফ)
সালাম যদি বেশি মানুষকে দেয়া হয়, উক্ত সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিবে-কিফায়াহ অর্থাৎ যে কোন একজন উত্তর দিলে সবার পক্ষ থেকে ওয়াজিব আদায় হবে। তবে সকলেরই দেওয়া উত্তম। কেউ উত্তর না দিলে সকলেই গুনাহগার হবে। (আল-মজমুউ লিননববী ৪/৪৯৯)
ইমাম আবূ ইউসুফ রহ. বলেন, কারো দ্বারা সালাম প্রেরণ করা হলে উক্ত সালাম প্রাপক বরাবরে পৌঁছিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. বলেন, প্রাপক বরাবরে বাহক কর্তৃক সালাম পৌঁছিয়ে দেওয়া সুন্নাতেরই অন্তর্ভুক্ত। উত্তর দেওয়ার সময় সুযোগ থাকলে সালামের চেয়ে বাড়িয়ে উত্তর দেওয়া সুন্নাত। তবে সালামদাতা পূর্ণ সালাম দিলে উত্তরে আর বাড়ানোর সুযোগ থাকে না।

সালামের সঠিক উচ্চারণ
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحـْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُه
আস্সালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَرَحْـمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُه
ওয়া আলায়কুমুস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
অনারবদের জন্য আরবী উচ্চারণ একটু কঠিন বিধায় কোন অভিজ্ঞ আলেমের কাছ থেকে শিখে নিলে ভাল হবে। তবে মনে রাখতে হবে “আস্সালামু” শব্দের শুরু অক্ষর হামযার উচ্চারণ যেন পরিষ্কার হয় এবং “সীন”-এর তাশদীদ ও “মীম”-এর পেশ যেন শুদ্ধভাবে উচ্চারিত হয়।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, প্রতিদিন অসংখ্য ধার্মিক মুসলমানকে এভাবে সালাম দিতে শুনি যে, স্লামালাইকুম, সালামালাইকুম, আস্লামালাইকুম, সেলামালাইকুম, স্লামাইকুম, আস্সামুলাইকম, সালামাইকম, স্লামাইকুম স্যার ইত্যাদি, যা খুবই গর্হিত কাজ। এতে আরবীর সঠিক উচ্চারণ হয় না এবং অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়।
সালামের উত্তর দেওয়ার সময়ও শুনা যায় অগণিত ভুল শব্দের ব্যবহার, যেমন- ওয়ালাইকুস্ সালাম, আলাইকুম সালাম, সালামালাইকুম ইত্যাদি । মহান আল্লাহ তা’আলা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে যথাযথভাবে আদায় করার জন্য আমাদের সকল মুসলমানকে তাওফীক দান করুক।
সালাম বিনিময়ের পর মুসাফাহা বা করমর্দন করা সুন্নাত
মুসাফাহা বা করমর্দন হলো সালামের পরিপূরক। হযরত আবদুল্লাহ বিন মাস্উদ রা. ও হযরত বরাআ বিন আযিব রা. বর্ণনা করেন : রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, সালামের পরিপূর্ণতা হলো মুসাফাহা। (আল-আদব লিল-বুখারী, শরহুস সুন্নাহ লিল-বগভী)
হযরত আনাস রা. বর্ণনা করেন : রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিয়মিত অভ্যাস ছিল, কোন ব্যক্তি এগিয়ে এলে তার সাথে মুসাফাহা করতেন। সে ব্যক্তি হাত না সরানো পর্যন্ত তিনি নিজের হাত সরাতেন না এবং চেহারা না ফেরানো পর্যন্ত তিনি মুখ ফেরাতেন না। সঙ্গে উপবিষ্ট লোকদের সামনে হাঁটুদ্বয় ছড়িয়ে বসতেন না। (তিরমিযী শরীফ)
মুসাফাহা করার পদ্ধতি
সালাম বিনিময়ের পর দুই জনেরই স্বীয় দুই হাতের মাধ্যমে মুসাফাহা করা সুন্নাত। হযরত আবদুল্লাহ বিন মাস্উদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে “আত্তাহিয়্যাত” এমনভাবে মুখস্থ করিয়েছেন যে, আমার হাত তার উভয় হাতের মাঝে ছিল। (বুখারী শরীফ) এই জন্য ইমাম বোখারী রহ. স্বীয় বোখারী শরীফের মুসাফাহা অধ্যায়ে “উভয় হাত দ্বারা মুসাফাহা করা” নামে ‘বাব’ স্থাপন করেছেন এবং ইমামুল মুহাদ্দেসীন হযরত হাম্মাদ বিন যাইদ রা. ও খাতিমুল মুহাদ্দেসীন হযরত আব্দুল্লাহ বিন মুবারক রহ. দ্বয়ের মুসাফাহার কথা বর্ণনা করেছেন যে, তারা দুইজনই দুই হাত দ্বারা মুসাফাহা করেছেন। অতঃপর তিনি উভয় হাতে মুসাফাহার দলিল স্বরূপ উপরোক্ত আবদুল্লাহ বিন মাস্উদ রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীস শরীফটি পূর্ণ সনদে উল্লেখ করেন।
পক্ষান্তরে কোন হাদীস শরীফে সরাসরি একথা আসেনি যে, রাসূলুল্লাহ সা. শুধু এক হাতে মুসাফাহা করেছেন। শুধু এক হাতে মুসাফাহা করার বিষয়ে একটি যঈফ হাদীসও পাওয়া যায়নি। হ্যাঁ কিছু হাদীস শরীফে শুধু হাত দ্বারা মুসাফাহা করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বিভিন্ন হাদীস শরীফ পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, শুধু হাত বললে দুই হাতই বোঝানো হয়। যেমন রাসূলুল্লাহ সা বলেন : “প্রকৃত মুসলমান সে ব্যক্তি যার মুখ ও হাতের অনিষ্ট থেকে মুসলমানগণ (ও) নিরাপদ থাকে।” (বুখারী শরীফ) এই হাদীস শরীফে শুধু হাত বলা হলেও প্রকৃত পক্ষে দুই হাতই উদ্দেশ্য। হযরত আবূ সাঈদ রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি : “যে কোন অন্যায় হতে দেখলে সে যেন হাত দ্বারা তা প্রতিহত করে। যদি সম্ভব না হয় তা হলে যেন মুখ দ্বারা তার প্রতিবাদ করে। যদি সম্ভব না হয় তা হলে যেন অন্তর দ্বারা ঘৃণা করে। আর এটিই হল নিম্নস্তরের ঈমান।” (মুসলিম শরীফ)
এখানেও অবশ্যই শুধু হাত দ্বারা দুই হাতই বুঝানো হয়েছে আর যদি কোন ক্ষেত্রে এক হাত বুঝানো উদ্দেশ্য হয় তখন নির্দিষ্ট করে ডান বা বাম হাত উল্লেখ করা হয়। যেমন, হযরত উমার বিন আবি সালামা রা. বলেন, নবীজি সা. আমাকে বলেছেন : “তুমি তোমার ডান হাতে আহার কর।” হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ রা. বর্ণনা করেন, নবীজি সা. বলেছেন : “তুমি তোমার বাঁ হাতে আহার করো না।” (মুসলিম শরীফ)
সালাম বিনিময়ের পর সফর থেকে আগত কিংবা দীর্ঘদিন পরে সাক্ষাৎ পাওয়া ব্যক্তির সাথে মু’আনাকাহ বা কোলাকুলি করা সুন্নাত
সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করলে অথবা অনেক দিন পর দেখা-সাক্ষাৎ হলে পরস্পর মু’আনাকাহ বা কোলাকুলি করা সুন্নাত। মুফতিয়ে আযম আল্লামা রশিদ আহমদ সাহেব রহ. বলেন, সাক্ষাতের সময় তিন আমলের মধ্যে যে কোন দুইটি সুন্নাত অর্থাৎ সাধারণ সাক্ষাতে সালাম বিনিময়ের পর মুলাকাত করবে। সফর থেকে আগত কিংবা দীর্ঘ দিন পর সাক্ষাৎ পাওয়া ব্যক্তির সাথে সালাম বিনিময়ের পর মুসাফাহার পরিবর্তে শুধু মু’আনাকাহ করবে। (আহসানুল ফতাওয়া : ৮/৫১০)
হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, সাহাবা-ই-কিরাম পরস্পর সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করতেন আর সফর থেকে এলে তারা পরস্পর মু’আনাকাহ বা কোলাকুলি করতেন। (তাবরানী শরীফ)
হযরত আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর পালক পুত্র যাইদ বিন হারিছার সাথে দীর্ঘদিন পরে সাক্ষাৎ হলে কোলাকুলি বা মু’আনাকাহ করেন। (তিরমিযী শরীফ)
মু’আনাকাহ বা কোলাকুলি করার নিয়ম :
মু’আনাকাহ বা কোলাকুলি করার নিয়ম হলো দুই মুসলমানের প্রত্যেকে নিজ নিজ থুতনি অন্যের কাঁধের উপর রাখবে এবং একজনের গলা অন্যের গলার সঙ্গে লাগাবে, সাথে সাথে দুই হাত দ্বারা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরবে। (মু’জামু লুগাতিল ফুকাহা:৪০৮)
এরকমভাবে মু’আনাকাহ একবার করাই যথেষ্ট। তিন বারের প্রমাণ হাদীস শরীফে নেই।
যে সব অবস্থায় সালাম দেয়া মাকরূহ্
(১) নামায পড়া অবস্থায়। (২) তিলাওয়াতরত অবস্থায়। (৩) যিকির করা অবস্থায়। (৪) হাদীস পাঠদান অবস্থায়। (৫) খুৎবাহ প্রদান বা ওয়াজ-নসীহত করা অবস্থায়। (৬) খুৎবাহ কিংবা ওয়াজ-নসীহত শ্রবণ করা অবস্থায়। (৭) ফিকাহ নিয়ে আলোচনা অবস্থায়। (৮) বিচার কার্য পরিচালনা অবস্থায়। (৯) ফিকাহ নিয়ে গবেষণা করা অবস্থায়। (১০) আযান-ইক্বামত বলা অবস্থায়। (১১) পেশাব-পায়খানায় লিপ্ত অবস্থায়। (১২) যে কোন গুনাহের কাজে লিপ্ত অবস্থায়। (১৩) স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত অবস্থায়। (১৪) আহার করা অবস্থায়। (১৫) শিক্ষাদান অবস্থায়। (১৬) যে কোন ধর্মীয় জ্ঞান চর্চা অবস্থায়। (রদ্দুল মুহতার ও অন্যান্য ফতাওয়া গ্রন্থ)

সালাম-মুসাফাহার সুন্নাতসমূহ
সালাম-মুসাফাহার ৩৪টি সুন্নাত

١- من السنة البدء بالسلام قبل الكلام

১. মুসলমানকে কথা বলার আগে সহীহ-শুদ্ধ করে সালাম দেয়া সুন্নাত।

أ لمارُوِىَ عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:حَقُّ الْـمُسْلِمِ عَلَى الْـمُسْلِمِ سِتٌّ قِيلَ: مَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللهِ؟، قَالَ:إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ، وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ، وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ، وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللهَ فَسَمِّتْهُ، وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ. (صحيح مسلم : ٤/ ١٧٠٥

অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, একজন মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের হক্ব ছয়টি। জিজ্ঞাসা করা হল, হে আল্লাহ’র রাসূল! সেগুলো কি? তিনি বললেন, তোমার সাথে সাক্ষাৎ হলে সালাম দিবে। তোমাকে দাওয়াত দিলে তাতে শরিক হবে। উপদেশ কামনা করলে উপদেশ দিবে। হাঁচি দিয়ে اَلْـحَمْدُ للهِ বললে, তার উত্তরে يَرْحَـمُكَ اللهُ বলবে। অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে এবং মারা গেলে তার জানাযায় শরিক হবে। (মুসলিম শরীফ : ৪/১৭০৫)
ب) لمارُوِىَ عَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِاللهِ مَنْ بَدَأَهُمْ بِالسَّلَامِ. (سنن أبي داؤود : ٤/ ٣٥١
অর্থ : হযরত আবূ উমামা রা. হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, মহান আল্লাহর নিকট সর্বাধিক উত্তম ব্যক্তি যে মানুষকে আগে সালাম দেয়। (আবূ দাউদ শরীফ : ৪/৩৫১)

(ج) لمارُوِىَ عَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ : قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ الرَّجُلَانِ يَلْتَقِيَانِ أَيُّـهُمَا يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ؟ فَقَالَ:أَوْلَاهُمَا بِالله (سنن الترمذي : ٥ / ٥٦)

অর্থ : হযরত আবূ উমামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা.-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! দুই জন লোক পরস্পর সাক্ষাৎ হলে কে আগে সালাম দিবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাদের দুই জনের মধ্যে যে আল্লাহর নিকট অধিক উত্তম। (তিরমিযী শরীফ : ৫/৫৬)
(د) لمارُوِىَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهمُاَ ، مَرْفُوعًا:الْبَادِي بِالسَّلَامِ بَرِيءٌ مِنَ الْكِبْرِ (الآداب للبيهقي:١ / ٨٣)
অর্থ : হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, যে ব্যক্তি আগে সালাম দিবে সে অহংকার থেকে মুক্ত। (বাইহাক্বী শরীফ : ১/৮৩)

(ه) لمارُوِىَ عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ مَرْفُوْعاًإِنَّ أَعْجَزَ النَّاسِ مَنْ عَجَزَ عَنِ الدُّعَاءِ، وَأَبْخَلَ النَّاسِ مَنْ بَخِلَ بِالسَّلَامِ(صحيح ابن حبان : ١٠/ ٣٤٠)
অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, তোমাদের মধ্যে সব চেয়ে বড় অক্ষম সে ব্যক্তি যে দু’আ করার ব্যাপারে অক্ষম আর তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক কৃপণ সে ব্যক্তি যে সালাম দিতে কার্পণ্য করে। (ইবনে হিব্বান : ১০/৩৪০)

و) لمارُوِىَ عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:عَلٰى كُلِّ مُسْلِمٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَنْ يُطِيقُ هٰذَا؟ قَالَ: إِنَّ تَسْلِيمَكَ عَلَى الرَّجُلِ صَدَقَةٌ. (شعب الإيمان للبيهقي : ١٣/ ٤٨٩

অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, প্রত্যেক মুসলমানের প্রত্যেক দিন সদকাহ করতে হয়। তারা আরজ করলেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এটা কে পারবে? বললেন, তোমার কোন ব্যক্তিকে সালাম দেয়া তোমার জন্য সদকাহ্। (বাইহাক্বী শরীফ : ১৩/৪৮৯)

ز) لمارُوِىَ عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُـرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، دُلَّنِيْ عَلٰى عَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْـجَنَّـةَ. قَالَ:إِنَّ مِنْ مُوجِبَاتِ الْـمَغْفِرَةِ بَذْلُ السَّلَامِ، وَحُسْنُ الْكَلَامِ. (المعجم الكبير للطبراني : ٢٢/١٨٠

অর্থ : হযরত মিক্বদাদ বিন শুরাইহ্ রহ. তার পিতা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি বল্লাম, হে আল্লাহর রাসূল! সা. আমাকে এমন আমল বাতলিয়ে দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, নিশ্চয় ক্ষমা পাওয়ার কারণ হল সালামের বহুল প্রচার ও সুন্দর ব্যবহার। (তবরানী শরীফ : ২২/১৮০)
২. সালামের বেশি বেশি প্রচার-প্রসার করা সুন্নাত।                                                       ٢- من السنة إفشاء السلام
أ) لما رُوِىَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَامٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا أَيُّـهَا النَّاسُ، أَفْشُوا السَّلَامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوا وَالَنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُونَ الجَنَّةَ بِسَلَامٍ (سنن الترمذي : ٤ / ٦٥٢

অর্থ : হযরত আবদুল্লাহ বিন সালাম রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, হে লোক সকল! সালামের প্রসার কর, মানুষকে আহার করাও, আর মানুষ যখন ঘুমায় তখন সালাত আদায় কর। তা হলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিযী শরীফ : ৪/৬৫২)

ب) لما رُوِىَ عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:وَالَّذِيْ نَفْسِـيْ بِيَدِهِ، لَا تَدْخُلُونَ الْـجَنَّـةَ حَتّٰى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتّٰى تَحَابُّوا ، أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلٰى شَـيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَـحَابَبْتُمْ؟ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ. (مسند أحمد : ١٥/ ٤٤٢، صحيح مسلم : ١/٥٤

অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সে সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত (পূর্ণাঙ্গ) ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালবাসো ।আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দেবো না যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালবাসবে? নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও। (মুসনাদে আহমদ : ১৫/৪৪২, মুসলিম শরীফ : ১/৫৪)

ج) لما رُوِىَ عَنِ الْبـَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:أَفْشُوا السَّلَامَ، تَسْلَمُوا. (مسند أحمد : ٣٠/ ٤٩

অর্থ : হযরত বরাআ বিন আযিব রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা সালামের প্রসার কর, নিরাপদ থাকবে। অর্থাৎ দুনিয়াতে যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকবে আর আখিরাতের ভয়াবহ বিপদ থেকে মুক্তি পাবে। (মুসনাদে আহমদ : ৩০/৪৯৪)

৩. মৌখিক কিংবা লিখিত যে কোন সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব।                                ٣- يجب رد السلام متي القي عليك شفاهة او كتابة
(أ) لمايقول الله تعالى : وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوْهَا إِنَّ اللهَ كَانَ عَلىٰ كُلِّ شـَيْءٍ حَسِيْبًا. (سورة النساء : ٨٦)

অর্থ : মহান আল্লাহ বলেন, যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয়, তোমরা অভিবাদন জানাও তার চেয়ে উত্তমভাবে অথবা তারই মত করে ফিরিয়ে দাও। (সূরা-ই-নিসা : ৮৬)

ب) لما رُوِىَ عَنْ عَبْدِ الرَّحـْمٰنِ بْنِ شِبْلٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ …. مَنْ أَجَابَ السَّلَامَ فَهُوَ لَهُ، وَمَنْ لَـمْ يُـجِبِ السَّلَامَ فَلَيْسَ مِنَّا (عمل اليوم والليلة لابن السني :١/ ١٧٣

অর্থ : হযরত আবদুর রহমান ইবনে শিব্ল রা. হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যিনি সালামের উত্তর দিলেন, তিনি নিজের উপকার করলেন আর যে উত্তর দেয় নাই সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (ইবনুস্সুন্নি : ১/১৭৩)

٤ – من السنة رفع الصوت و الجواب و الإشارة باليد او الرأس لا تعتبر سلاما و لا جوابا لمن قدر علي اللفظ حسا و شرعا

৪. উচ্চস্বরে ¯পষ্ট করে সালাম দেয়া সুন্নাত এবং সালামদাতা শুনতে পায় মত করে উত্তর দেয়া ওয়াজিব। (যদি সম্ভব না হয় উচ্চারণের পাশাপাশি ইশারা করে জানিয়ে দিবে)

أ) لما رُوِىَ عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: أَتَيْتُ مـَجْلِسًا فِيْهِ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا ، فَقَالَ: إِذَا سَلَّمْتَ فَأَسْمِعْ، فَإِنَّـهَا تَـحِيَّةٌ مِنْ عِنْدِ اللهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً. (الادب المفرد : ١ / ٣٤٧

অর্থ : হযরত ছাবিত ইবনে উবাইদ রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, আমি এক মজলিসে উপস্থিত হলাম যেখানে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ছিলেন। তিনি বললেন, যদি সালাম দাও (উচ্চ স্বরে) শুনে মত করে দাও। কারণ, এটি মহান আল্লাহ’র পক্ষ থেকে বরকতপূর্ণ ও পবিত্র অভিবাদন স্বরূপ। (আল-আদবুল মুফরাদ : ১/৩৪৭)

ب) لما رُوِىَ عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ رحمه الله ، قَالَ: انْتَهَيْتُ إِلَى ابْنِ عُمَرَ وَهُوَ جَالِسٌ يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَاسْتَيْقَظَ، فَقَالَ: أَبَا ثَابِتٍ قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: أَسَلَّمْتَ؟ قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: إِذَا سَلَّمْتَ فَأَسْمِعْ، وَإِذَا رَدُّوا عَلَيْكَ فَلْيُسْمِعُوكَ. (مصنف عبد الرزاق : ١ / ١٣٠

অর্থ : হযরত ছাবিত ইবনে উবাইদ রহ. বলেন, আমি হযরত ইবনে ওমর রা. এর নিকট এসে সালাম করলাম যখন তিনি নামাযের অপেক্ষায় বসা ছিলেন। তিনি বললেন, আবূ ছাবিত? বললেন, আমি বললাম হ্যাঁ! তিনি বললেন, তুমি সালাম দিয়েছো? আমি বললাম : জি হ্যাঁ! তখন তিনি বললেন, সালাম দিলে উচ্চস্বরে শুনা যায় মতো করে দিবে। তোমাকে উত্তর দেয়ার সময়ও তাই। (মুছান্নাফে আবদুর রয্যাক্ব : ১/১৩০)

ج) لما رُوِىَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ :لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا، لَا تَشَبَّهُوا بِاليَهُودِ وَلَا بِالنَّصَارٰى، فَإِنَّ تَسْلِيمَ اليَهُودِ الإِشَارَةُ بِالأَصَابِعِ، وَتَسْلِيمَ النَّصَارٰى الإِشَارَةُ بِالْأكُفِّ. (سنن الترمذي: ٥ / ٥٦)

অর্থ : হযরত আমর বিন শুআইব রহ. স্বীয় পিতা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্য রাখে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। তোমরা ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করো না। কারণ ইয়াহূদীদের অভিবাদন হল আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা আর খৃষ্টানদের অভিবাদন হল হাতের তালু দিয়ে ইশারা করা। (তিরমিযী শরীফ : ৫/৫৬)

د) لما رُوِىَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:لَا تُسَلِّمُوا تَسْلِيمَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارٰى، فَإِنَّ تَسْلِيمَهُمْ بِالْأكُفِّ وَالرُّؤوسِ وَالْإِشَارَةِ. (السنن الكبرى للنسائي : ٩ / ١٣٤

অর্থ : হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ রা. হতে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, তোমরা ইয়াহূদ ও খৃষ্টানদের মত সালাম দিবেনা। কারণ তাদের অভিবাদন হয় হাতের তালু, মাথা ও ইশারা দ্বারা। (নাসাঈ শরীফ : ৯/১৩৪)

ه) لما فـي الدر المختار  سعيد ٦/٤١٣: وَشَـرْطٌ فِـي الرَّدِّ وَ جَوَابِ الْعُطَاسِ إِسْمَـاعُهُ فَلَوْ أَصَمُّ يُرِيْهِ تَـحْرِيْكَ شَفَتَيْهِ

অর্থ : দুররে মুখতারে আছে, সালামের উত্তরে এবং হাঁচিদাতার উত্তরে প্রতিপক্ষের কর্ণ গোচর করা শর্ত। হ্যাঁ! যদি বধির হয় দুই ঠোঁট নাড়াচাড়া করে জানিয়ে দিতে হবে। (দুররে মুখতার : ৬/৪১৩)

و) الفتاوي الهندية (زكريا ) ٥/٣٢٦: لَا يَسْقُطُ فَرْضُ جَوَابِ السَّلَامِ إلَّا بِالْإسْمَاعِ كَمَا لَا يَـجِبُ إلَّا بِالْإسْمَاعِ.

অর্থ : ফতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে আছে, সালামের উত্তর দেয়ার দায়িত্ব শুনিয়ে দেওয়া ব্যতীত আদায় হবে না। যে রকম উত্তর দেয়া ওয়াজিব হওয়ার জন্য সালামের ধ্বনি কানে শুনা জরুরি। (ফতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৫/৩২৬)

ز) امداد الفتاوي ( زكريا) ٤/٢٧٦: اعلام ضروري ہے اگرقریب ہو تو اسماع سے اگر بعید ہو تو اشارہ سے مع تلفظ بلسان کے

অর্থ : ইমদাদুল ফতাওয়াতে আছে, সালামের উত্তর নিকটে হলে শুনিয়ে দিতে হবে। দূরে হলে মুখে উত্তর উচ্চারণের পাশাপাশি ইশারা করে জানিয়ে দিতে হবে। (ইমদাদুল ফতাওয়া : ৪/২৭৬)

٥ – من السنة أن يكون إلقاء السلام والرد بصيغته الكاملة “السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

৫. হাদীস শরীফে বর্ণিত বাক্য দ্বারা পরিপূর্ণ সালাম দেয়া। অর্থাৎ পরিপূর্ণ “আস্সালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু” বলা।

أ) لما رُوِىَ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَرَدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ، ثُمَّ جَلَسَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:عَشْـرٌ ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ، فَقَالَ:عِشْـرُونَ. ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْـمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ، فَقَالَ: ثَلَاثُونَ (سنن أبي داود : ٤ / ٣٥٠، سنن الترمذي : ٥/ ٥٣)

অর্থ : হযরত ইমরান বিন হুসাইন রা. হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, একদিন এক ব্যক্তি নবীজি সা.-এর কাছে এসে বললেন : ‘আস্সালামু আলায়কুম’। নবীজি সা. তার সালামের জবাব দিলে সে বসে পড়েন। তখন নবীজি সা. বললেন, সে দশটি নেকী পেয়েছে। এরপর এক ব্যক্তি এসে বললেন : ‘আস্সালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’। তিনি তার সালামের জবাব দিলে সে ব্যক্তি বসে পড়েন। তখন নবীজি সা. বললেন : সে বিশ নেকী পেয়েছে। এরপর এক ব্যক্তি এসে বললেন : ‘আস্সালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু’। তখন নবীজি সা. তার সালামের জবাব দিলে সে বসে পড়েন। তখন নবীজি সা. বললেন, সে ত্রিশটি নেকী পেয়েছে। (আবূ দাউদ শরীফ : ৪/৩৫০, তিরমিযী শরীফ : ৫/৫৩)

(ب) قَالَ اِبْنُ الْقَيُّمِ رحمه الله تَعَالٰى : وَكَانَ هَدْيُهُ (أى النبى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) انْتِهَاءَ السَّلَامِ إِلٰى  وَبَرَكَاتُهُ  (زاد المعاد ٢/٤١٧)

অর্থ : আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, নবীজির সা. আদর্শ হলো, সালামে ‘ওয়া বারকাতুহু’ পর্যন্ত বলা। (যাদুল মা’আদ : ২/৪১৭)

৬. প্রয়োজনে তিনবার সালাম দেয়া সুন্নাত।                             ٦- من السنة تكرار السلام ثلاثا إن دعت الحاجة لذلك

لما رُوِىَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ إِذَا تَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ أَعَادَهَا ثَلاَثًا، حَتّٰى تُفْهَمَ عَنْهُ، وَإِذَا أَتٰى عَلٰى قَوْمٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، سَلَّمَ عَلَيْهِمْ ثَلاَثًا . (صحيح البخاري :١ / ٣٠)

অর্থ : হযরত আনাস বিন মালেক রা. রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. যখন কোন বিষয়ে কথা বলতেন, তিনবার বলতেন। যাতে তার কথা স্পষ্ট হয়। আর যখন কোন কাওমের কাছে আসতেন, তাদেরকে তিনবার সালাম দিতেন। (বুখারী শরীফ : ১/৩০)

  ٧-  من السنة تعميم السلام على من عرفت ومن لم تعرف

৭. পরিচিত ও অপরিচিত সকল মুসলমানকে সালাম দেয়া সুন্নাত। 

أ) لما رُوِىَ عَنْ عَبْدِ الله بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا ، أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الإسْلاَمِ خَيْـرٌ؟ قَالَ:تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلاَمَ عَلٰى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لـَمْ تَعْرِفْ. (صحيح البخاري :١/ ٢١)

অর্থ : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সা.-কে এক লোক জিজ্ঞাসা করলো, ইসলামের কোন কাজটি সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি সা. বললেন, মানুষকে আহার করানো এবং পরিচিত ও অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া। (বুখারী শরীফ : ১/২১)

ب) لما رُوِىَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ  قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ أَشْـرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُسَلِّمَ الرَّجُلُ عَلَى الرَّجُلِ لَا يُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِلَّا لِلْمَعْرِفَةِ. (مسند أحمد : ٦/ ٣٩٨)

অর্থ : হযরত ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ক্বিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে একটি আলামত হল, মানুষ মানুষকে সালাম দিবে শুধু পরিচিতির কারণে। (মুসনাদে আহমদ : ৬/৩৯৮)

   ٨- من السنة أن يكون إبتداء السلام ممن جاءت السنة بإبتدائه 

৮. হাদীস শরীফে বর্ণিত ক্রমানুসারে সালাম শুরু করা সুন্নাত।   

أ) لما رُوِىَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ:يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى المَاشِي، وَالمَاشِي عَلَى القَاعِدِ، وَالقَلِيلُ عَلَى الكَثِيـْرِ. وَفِـيْ رِوَايَةٍ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:يُسَلِّمُ الصَّغِيْـرُ عَلَى الكَبِيْـرِ، وَالمَارُّ عَلَى القَاعِدِ، وَالقَلِيلُ عَلَى الكَثِيْـرِ:
(صحيح البخاري : ٨ / ٥٢)

অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রাহ রা. রাসূলুল্লাহ সা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, বাহনে আরোহনকারী ব্যক্তি পদচারী ব্যক্তিকে সালাম দিবে, হাঁটা ব্যক্তি বসা ব্যক্তিকে সালাম দিবে। ছোট দল বড় দলকে সালাম দিবে। (বুখারী শরীফ : ৮/৫২)
হযরত আবূ হুরায়রাহ রা. -এর অন্য এক রেওয়ায়াতে বর্ণিত আছে, ছোট ব্যক্তি বড় জনকে সালাম দিবে, পদচারী ব্যক্তি বসা ব্যক্তিকে সালাম দিবে আর ছোট দল বড় দলকে সালাম দিবে। (বুখারী শরীফ : ৮/৫২)
উভয় পক্ষ একই রকম হলে দুই পক্ষেরই সমান দায়িত্ব। যে আগে পারে সে দিবে।

ب) لما رُوِىَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ: فَأَخْبَرَنِـيْ أَبُو الزُّبَيـْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ: الْـمَاشِيَانِ إِذَا اجْتَمَعَا فَأَيُّـهُمَـا بَدَأَ بِالسَّلَامِ فَهُوَ أَفْضَلُ) . الادب المفرد : ١/ ٣٤٤

অর্থ : হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত : দুইজন পদচারী একত্রিত হলে তাদের মধ্যে যে আগে সালাম দেয় সে ব্যক্তি উত্তম।  (আল-আদবুল মুফরাদ : ১/৩৪৪)

৯. বাচ্চাদেরকে সালাম দেয়া সুন্নাত।                                     ٩- من السنة السلام على الصبيان
لما رُوِىَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ كَانَ يَمْشِيْ مَعَ رَسُولِ اللهِصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَرَّ بِصِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ. (صحيح مسلم : ٤/ ١٧٠٨

অর্থ : হযরত আনাস বিন মালেক রা. হতে বর্ণিত : তিনি রাসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে বাচ্চাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন নবীজি সা. তাদেরকে সালাম দিলেন। (মুসলিম শরীফ : ৪/১৭০৮)

١٠) يجوز السلام علي النساء المحارم أما غيرهن فيجوز عليهن إذا أمنت الفتنة بهن و عليهن و كذا الإشارة باليد عند إلقاء السلام من بعيد

১০. মাহ্রাম (যাদের দেখা দেওয়া জায়েয) নারীদের পাশাপাশি পর নারীকেও সালাম দেওয়া যায় যদি ফিতনার আশংকা না থাকে এবং দূর থেকে শুনা না গেলে সালাম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাত দ্বারা ইশারাও করা যাবে।

(أ-  لمِاَ رُوِيَ عَنْ جَرِيرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: اِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلٰى نِسْوَةٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِنّ (مصنف ابن أبي شيبة : ٥ / ٢٥١

অর্থ : হযরত জরীর রা. হতে বর্ণিত : তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সা. নারীদের জমাতের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন এবং তাদেরকে সালাম দেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ : ৫/২৫১)

)ب) لمِاَ رُوِيَ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتَ يَزِيدَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا ، قَالَتْ : اِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ فِي المَسْجِدِ يَوْمًا وَعُصْبَةٌ مِنَ النِّسَاءِ قُعُودٌ، فَأَلْوٰى بِيَدِهِ بِالتَّسْلِيمِ. (سنن الترمذي : ٥ / ٥٨)

অর্থ : হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এক দিন মসজিদ দিয়ে যাচ্ছিলেন, নারীদের একটি দল মসজিদে বসা ছিল। রাসূলুল্লাহ সা. তাদের সালাম দিলেন এবং হাত দ্বারা ইশারা করে সালাম দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন। (তিরমিযী শরীফ : ৫/৫৮)

১১. একাধিকবার দেখা হলে প্রতিবারে সালাম দেয়া সুন্নাত।        ١١)  من السنة إعادة السلام إذا إفترق الشخصان ثم تقابلا
أ) لمِاَ رُوِيَ عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَة رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ:إِذَا لَقِيَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ، فَإِنْ حَالَتْ بَيْنَهُمَـا شَجَرَةٌ أَوْ جِدَارٌ، أَوْ حَجَرٌ ثُمَّ لَقِيَهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ أَيْضًا. (سنن أبي داود ٤ / ٣٥١

অর্থ : হযরত আবূ হুরাইরাহ রা. বলেন, তোমরা যখন তোমার অপর ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তাকে সালাম দিবে। যদি তারা গাছ, দেয়াল বা পাথরের আড়াল হয় তারপর পুনঃরায় দেখা হয় তা হলেও তোমরা আবার সালাম দিবে। (আবূ দাউদ শরীফ : ৪/৩৫১)

ب) لمِاَ رُوِيَ عَنْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَمَـاشَوْنَ، فَإِذَا لَقِيَتْهُمْ شَجَرَةٌ أَوْ أَكَمَةٌ تَفَرَّقُوا يَمِينًا أَوْ شِمَالًا، فَإِذَا الْتَقَوْا مُرُورًا بِـهَا سَلَّمَ بَعْضُهُمْ عَلٰى بَعْضٍ. (شرح مشكل الاثار : ١٣/ ١٥٥

অর্থ : হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত : নবীজি সা.-এর সাহাবাগণ একত্রে চলাবস্থায় তাদের সামনে কোন গাছ কিংবা টিলা প্রতিবন্ধক হওয়ায় তাদের কতক ডানপাশ দিয়ে এবং কতক বামপাশ দিয়ে যেতেন অতঃপর যখন পুনরায় তাদের সাক্ষাৎ হত পরস্পর সালাম করতেন। (শরহু মুশকিলিল আছার : ১৩/১৫৫)
১২. যে কোন গৃহে প্রবেশ করার সময় সালাম দেয়া সুন্নাত।                  ١٢( من السنة السلام عند دخول البيت 

(أ- لما يقول الله جَلَّ وَعَلا :فَإِذا دَخَلْتُمْ بُيُوتاً فَسَلِّمُوا عَلى أَنْفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِنْ عِنْدِ اللهِ مُبارَكَةً طَيِّبَةً. [النور: ٦١

অর্থ : মহান আল্লাহ বলেন, অতঃপর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ কর, তখন তোমরা নিজেদের উপর সালাম করবে। এটা আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে বরকতপূর্ণ ও পবিত্র অভিবাদন স্বরূপ। (সূরা-ই-নূর :৬১)
ب) لما رُوِىَ عَنْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا دَخَلْتُمْ بَيْتًا فَسَلِّمُواعَلَى أَهْلِهِ، وَإِذَا خَرَجْتُمْ فَأَوْدِعُوا أَهْلَهُ السَّلَامَ.  مصنف عبدالرزاق : ١٠/ ٣٨٩)
অর্থ : হযরত কতাদাহ রা. হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন তোমরা কোন ঘরে প্রবেশ করবে, ঘরের লোকজনকে সালাম দিবে। আর যখন তোমরা ঘর থেকে বের হবে, ঘরের লোকজনকে সালাম দ্বারা বিদায় জানাবে। (মুসান্নাফে আবদুর রয্যাক্ব : ১০/৩৮৯)
(١٣) من السنة السلام عند دخول البيت الخالى أيضا
১৩. মানবশূন্য ঘরে প্রবেশ করার সময়ও সালাম দেয়া সুন্নাত। এভাবে বলা-
السَّلَامُ عَلَيْنَا، وَعَلٰى عِبَادِ الله الصَّالِـحِيْنَ
أ) لما رُوِىَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ:إِذَا دَخَلَ الْبَيْتَ غَيْـرَ الْمـَسْكُونِ، فَلْيَقُلِ: السَّلَامُ عَلَيْنَا، وَعَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِـحِيـْنَ
الادب المفرد : ١ / ٤٠٧
অর্থ : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, তোমরা যখন কোন মানবশূন্য খালি ঘরে প্রবেশ করবে তখন السَّلَامُ عَلَيْنَا، وَعَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِـحِيـْنَ বলবে। (আদবুল মুফরাদ লিল বুখারী : ১/৪০৭)
ب) قَالَ الْعَلَّامَةُ ابْنُ الْحـَجَرِ الْعَسْقَلَانِـيُّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالٰى : يَدْخُلُ فِـيْ عُمُومِ إِفْشَاءِ السَّلَامِ السَّلَامُ عَلَى النَّفْسِ لِمَنْ دَخَلَ مَكَانًا لَيْسَ فِيهِ أَحَدٌ لِقَوْلِهِ تَعَالٰى : [فَإِذَا دَخَلْتُم بُيُوتًا فَسَلِّمُوْا عَلٰى أَنْفُسِكُمْ]. (فتح الباري لابن حجر : ١١/ ٢٠)
অর্থ : আল্লামা ইবনে হাজর আসক্বলানী রহ. বলেন, কুরআন শরীফের বর্ণনায় যে কোন গৃহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব, মানবশূন্য খালি ঘরেও সালাম দিতে হবে। এটা কুরআন শরীফ দ্বারাই প্রতীয়মান। (ফতহুলবারী :১১/২০)

                          ١٤) من السنة إلقاء السلام علي أهله

১৪. নিজের পরিবারকে সালাম দেয়া সুন্নাত।

أ) لمِاَ رُوِيَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا ، قَالَ: قَالَ لِـيْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:يَا بُنَيَّ إِذَا دَخَلْتَ عَلٰى أَهْلِكَ فَسَلِّمْ ، يَكُونُ بَرَكَةً عَلَيْكَ وَعَلٰى أَهْلِ بَيْتِكَ (سنن الترمذي : ٥ / ٥٩

অর্থ : হযরত আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে বলেন, হে বৎস! তুমি যখন তোমার পরিবারের নিকট প্রবেশ করবে, তখন তাদের সালাম দিবে। উক্ত সালাম তোমার এবং তোমার পরিবারের জন্য বরকত বয়ে আনবে। (তিরমিযী শরীফ : ৫/৫৯)
ب) لمِاَ رُوِيَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمْ ضَامِنٌ عَلَى اللهِ، إِنْ عَاشَ كُفِيَ، وَإِنْ مَاتَ دَخَلَ الْجـَنَّـةَ: مَنْ دَخَلَ بَيْتَهُ بِسَلَامٍ، فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ. وَمَنْ خَرَجَ إِلَى الْـمَسْجِدِ، فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللهِ، وَمَنْ خَرَجَ فِـيْ سَبِيلِ اللهِ، فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى الله (الأدب المفرد للبخاري : ١ / ٤٢٢) ابوداؤود و ابن السني و الطبراني و البيهقي و ابن حبان و الحاكم
অর্থ : হযরত আবূ উমামা রা. থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তিন ব্যক্তির প্রত্যেকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ তা’আলার জিম্মায় থাকে। সে বেঁচে থাকলে আল্লাহ তা’আলাই তার জন্য যথেষ্ট হবে এবং মারা গেলে বেহেশ্তে প্রবেশ করবে- ১. যে ব্যক্তি নিজের ঘরে সালাম দিয়ে প্রবেশ করে, তার জন্য মহামহিম আল্লাহ যামিন হন। ২. যে ব্যক্তি মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় তার জন্যও আল্লাহ তা’আলা যামিন। ৩. যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার পথে (জিহাদে) রওয়ানা হয় তার জন্যও মহান আল্লাহ যামিন হন। (আল-আদবুল মুফরাদ : ১/৪২২)
١٥) من السنة السلام عند دخول المجلس وعند مفارقته
১৫. যে কোন বৈঠক কিংবা সমাবেশে প্রবেশ করার সময় এবং ত্যাগ করার সময় সালাম দেয়া সুন্নাত। যদি তারা কোন দ্বীনি কাজে ব্যস্ত না থাকে।
لما رُوِىَ عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا انْتَهٰى أَحَدُكُمْ إِلَى الْمـَجْلِسِ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَقُومَ فَلْيُسَلِّمْ، فَلَيْسَتِ الأولٰى بِأَحَقَّ مِنَ الآخِرَةِ . (سنن أبي داود للسجستاني :٤/ ٥٢٠، سنن الترمذي :٥/ ٦٢، مسند أحمد بن حنبل :٢/ ٢٣٠
অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রাহ রা. হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন তোমরা মজলিসে গিয়ে পৌঁছবে তখন সালাম দিবে। আর যখন তোমরা মজলিস শেষ করে উঠে দাঁড়াবে তখন সালাম দিবে। প্রথম সালাম শেষের সালাম থেকে অধিক গুরুত্ব বহন করে না। (আবূ দাউদ শরীফ : ৪/৫২০, তিরমিযী শরীফ : ৫/৬২, মুসনাদে আহমদ : ২/২৩০)
١٦( من السنة خفض الصوت بالسلام إذا دخل علي قوم وهم نائمون
১৬. কোন মজলিসে ঘুমন্ত ব্যক্তি থাকলে নিম্ন স্বরে সালাম দেয়া সুন্নাত।
لمِاَ رُوِيَ عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـجِيءُ مِنَ اللَّيْلِ فَيُسَلِّمُ تَسْلِيمًـا لَا يُوقِظُ نَائِمًـا، وَيُسْمِعُ الْيَقْظَانَ
(صحيح مسلم : ٣ / ١٦٢٥

অর্থ : হযরত মিকদাদ বিন আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণিত; (দীর্ঘ হাদীসটিতে) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে এসে এমনভাবে সালাম দিতেন, যাতে কোন ঘুমন্ত ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগত না, তবে যারা জাগ্রত থাকত তারা সালাম শুনতে পেত। (মুসলিম শরীফ : ৩/১৬২৫)
١٧- من السنة تبليغ السلام من بعيد و تحمله
১৭. দূর থেকে সালাম প্রেরণ করা এবং বহন করা সুন্নাত।
لما رُوِىَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ لَهـَا:يَا عَائِشَةُ هٰذَا جِبْرِيلُ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلاَمَ ، فَقَالَتْ: وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ (صحيح البخاري : ٤/ ١١٢

অর্থ : হযরত আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে বলেছেন, হে আয়িশা! এ হল জিবরাঈল, তোমাকে সালাম দিচ্ছেন। আয়িশা রা. বলেন, আমি বল্লাম : وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ ‘তার উপর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক’। (আদবুল মুফরাদ : ৪/১১২)
١٨- من السنة رد السلام على من حمل إليه السلام والمحمول إليه
১৮. সালাম প্রেরক ও বাহক উভয় জনকে সালামের উত্তর দেয়া সুন্নাত। এভাবে বলা-
وَعَلَيْكَ وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
لما رُوِىَ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: أَبِـيْ يُقْرِئُكَ السَّلَامَ، فَقَالَ:وَعَلَيْكَ وَعَلٰى أَبِيكَ السَّلَامُ.
(سنن أبي داود : ٣ /١٣١)
অর্থ : ইমাম আবূ দাউদ রহ. কর্তৃক বিশুদ্ধ সনদে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণিত : এক ব্যক্তি নবীজি সা.-এর নিকট আসলেন, তিনি বললেন, আমার আব্বাজান আপনাকে সালাম বলছেন। তদুত্তরে তিনি সা. وَعَلَيْكَ وَعَلٰى أَبِيكَ السَّلَامُ বললেন। অর্থাৎ ‘এবং তোমার উপর ও তোমার পিতার উপর শান্তি বর্ষিত হোক’। (আবূ দাউদ শরীফ : ৩/১৩১)
١٩- لايجوز إلقاء السلام علي أحد من الكافرين
১৯. কোনো অমুসলিমকে ইসলামী সালাম দেয়া জায়েয নয়। তবে প্রয়োজনে আদাব, এড়ড়ফ সড়ৎহরম ইত্যাদি বলা যেতে পারে।
(أ) لمِاَ رُوِيَ عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:لَا تَبْدَءُوا الْيَهُودَ وَلَا النَّصَارٰى بِالسَّلَامِ، فَإِذَا لَقِيتُمْ أَحَدَهُمْ فِي طَرِيقٍ، فَاضْطَرُّوْهُ إِلٰى أَضْيَقِهِ. (صحيح مسلم : ٤ / ١٧٠٧)
অর্থ : হযরত আবূ হুরাইরাহ রা. থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের সাথে দেখা হলে, প্রথমে তোমরা তাদের সালাম দ্বারা আরম্ভ করবে না। যখন রাস্তায় তোমাদের সাথে তাদের কারো সাক্ষাৎ হয়, তাদেরকে তোমরা রাস্তার সংকীর্ণ পথে হাঁটতে বাধ্য কর। অর্থাৎ নিজেকে ছোট করে তাদের জন্য রাস্তা প্রশস্ত করে দিওনা। (মুসলিম শরীফ : ৪/১৭০৭)
ب) لمِاَ رُوِيَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَهْلُ الكِتَابِ فَقُولُوا: وَعَلَيْكُمْ.
( صحيح البخاري : ٨ / ٥٧، صحيح مسلم : ৪/১৭০৫)
অর্থ : হযরত আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আহলে কিতাবগণ তোমাদেরকে সালাম দিলে তার উত্তরে তোমরা শুধু وَعَلَيْكُمْ অর্থাৎ ‘তোমাদের উপরও’ বলবে। (বুখারী শরীফ : ৮/৫৭, মুসলিম শরীফ : ৪/১৭০৫)
(ج) قال العلامة المفتى الأعظم محمد كفاية الله الدهلوى رحمه الله تعالى : غیر مسلم کو آداب عرض کہنا جائز ہے کہ اسکی بحیثیت ہندو ہونیکے تکریم مقصود نہ ہو
(کفایۃ المفتی : ٩/٩٠)
قال الحافظ المقرى المفتى السيد عبد الرحيم رحمه الله تعالى : سوال ہندؤوں کو نمشکار یا نمستے کہنا کیساہے؟ الجواب : اسکی اجازت نہیں، کیونکہ یہ مخصوص مذہبی الفاظ ہیں، ومن تشبہ بقوم فھو منھم، البتہ جو الفاظ مذہبی نہیں ہیں معاشرتی ہیں جیسے ۔ آداب! یاآداب عرض ہے ! انکی گنجائش ہے۔ (فتاوی رحیمیہ : ٦/٢٥٦)
وفى الفتاوى المحمودية : للعلامة المفتى محمود الحسن الغنغوهى رحمه الله تعالى :
سوال : “آداب عرض ہے ” اور اسی جیسی دوسرے لفظوں سے مصلحۃ کسی ڈاکٹر، لیڈر یا امیر سے اسکے گمان بدخلقی وبدتہذیبی سے بچنے کیلئے یا جان پہچان ہونیکی وجہ سے یا ایسے ہی کسی اور وجہ سے غیرمسلم سے سلام کے بجائے ان لفظوں کو استعمال کرنا کیسا ہے؟ الجواب حامدا ومصلیا : گنجائش ہے فقط واللہ اعلم باالصواب (فتاوی محمودیہ : ١٩/٨٨-٨٩)
)٢٠) السلام علي من اتبع الهدي يقال للكافرين
২০. কোনো অমুসলিমকে দ্বীনি দাওয়াতের নিয়তে সালাম দিতে হলে-
اَلسَّلَامُ عَلٰى مَنِ اتَّبَعَ الْـهُدٰى বলা।
(أ) كَمَا يَقُوْلُ اللُه تَعَالٰى حِكَاَيةً عَنْ نَّبِيِّهِ مُوْسٰي عَلَيْهِ السَّلَام عِنْدَ مَا يُـخَاطِبُ فِرْعَوْنَ وَ يَدْعُوْهُ إِلىَ اللهِ تَعَالٰى فَقَالَ : [قَدْ جِئْنَاكَ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكَ وَالسَّلَامُ عَلٰى مَنِ اتَّبَعَ الْـهُدٰى] [طه: ٤٧]
অর্থ : কুরআন শরীফের বর্ণনা মতে, হযরত মূসা আ. ও হযরত হারুন আ. কাফির বাদশাহ ফিরআউন-এর সাথে দাওয়াতী সাক্ষাতে السَّلَامُ عَلٰى مَنِ اتَّبَعَ الْـهُدٰى বলে সম্বোধন করেছেন।
(সূরা-ই ত্বহা : ৪৭) এতে বুঝা যায়, এই বাক্য কাফিরদের জন্যই প্রযোজ্য।
)ب) كما ثبت ذلك في رسائل النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التي كان يبعث بـها إلى الملوك يدعوهم فيها إلى الإسلام
অর্থ : রাসূলুল্লাহ সা. যখন অমুসলিম বাদশাহগণের নিকট দাওয়াতী পত্র প্রেরণ করেছিলেন, সেখানে তিনি তাদেরকেالسَّلَامُ عَلٰى مَنِ اتَّبَعَ الْـهُدٰى বলে স¤েصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَাধন করেছেন। নবীজি সা. এই বাক্য শুধু কাফিরদের জন্য ব্যবহার করেছেন বিধায় মু’মিনের জন্য এটি প্রয়োগ করার সুযোগ নেই।
ج) لمِاَ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ أَخْبَرَهُ: أَنَّ هِرَقْلَ أَرْسَلَ إِلَيْهِ فِي رَكْبٍ مِنْ قُرَيْشٍ، وَكَانُوا تـُجَّارًا بِالشَّأْمِ فِي المُدَّةِ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَادَّ فِيهَا أَبَا سُفْيَانَ وَكُفَّارَ قُرَيْشٍ، فَأَتَوْهُ – فَذَكَرَ الحَدِيثَ – قَالَ: ثُمَّ دَعَا بِكِتَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُرِئَ، فَإِذَا فِيهِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُـحَمَّدٍ عَبْدِ اللهِ وَرَسُولِهِ، إِلٰى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ، السَّلاَمُ عَلٰى مَنِ اتَّبَعَ الـهُدٰى، أَمَّا بَعْدُ
(صحيح البخاري : ١ / ٨)
অর্থ : হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত : আবূ সুফিয়ান বিন হারব তাকে বলেছেন, বাদশাহ হিরাক্লিয়াস একদা তার নিকট লোক প্রেরণ করলেন, তিনি ব্যবসা উপলক্ষ্যে কুরাইশদের কাফেলায় সিরিয়া ছিলেন। আল্লাহ’র রাসূল সা. সে সময় আবূ সুফিয়ান ও কুরাইশদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্ধিতে আবদ্ধ ছিলেন। আবূ সুফিয়ান তার সাথীসহ হিরাক্লিয়াসের নিকট আসলেন, দীর্ঘ কথাবার্তার পর তিনি রাসূলুল্লাহ সা. কর্তৃক তার নিকট প্রেরিত পত্রখানি আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি তা পড়লেন। তাতে (লেখা) ছিল ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ আল্লাহ’র বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সা. এর পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি- السَّلَامُ عَلٰى مَنِ اتَّبَعَ الْـهُدٰى অর্থাৎ ‘শান্তি (বর্ষিত হোক) তার প্রতি, যে হিদায়ত এর অনুসরণ করে’।(বুখারী শরীফ : ১/৮)
(د) قال العلامة المفتي محمود حسن الغنغوهي الديوبندي : وقت ضرورت ان (كفار) كو السَّلاَمُ عَلٰى مَنِ اتَّبَعَ الهُدٰى سے خطاب كرنا درست اور ثابت ہے
(فتاوي محمودیہ : ١٩/٩٢)
(ه) قال العلامة المفتي عزيز الرحمن العثماني الديوبندي : ہندووں کو اگر سلام کرے اسطرح کرے السَّلاَمُ عَلٰى مَنِ اتَّبَعَ الهُدٰى
(فتاوی دار العلوم ديوبند : ١٧ / ٢٠٧ بحوالہ رد المختار : ٩/٥٠٤)

٢١) من السنة إذا سلم عليكم كافر فقولوا “وعليكم”
২১. কোন অমুসলিম সালাম দিলে তার উত্তরে শুধু ‘ওয়া’আলায়কুম’ বলা সুন্নাত।
أ) لما رُوِىَ عَنْ أَبِـيْ بَصْـرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا غَادُونَ عَلٰى يَـهُوْدَ فَلَا تَبْدَءُوهُمْ بِالسَّلَامِ فَإِذَا سَلَّمُوا   ৪৫/ ২১১-عَلَيْكُمْ فَقُولُواوَعَلَيْكُمْ. (مسند أحمد
অর্থ : হযরত আবূ বছরাহ রা. হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আমরা প্রভাতে ইয়াহূদীদের নিকট গমন করব। তোমরা তাদেরকে আগে সালাম দিবে না। তারা (আহলে কিতাব তথা অমুসলিমগণ) তোমাদেরকে সালাম দিলে তার উত্তরে তোমরা শুধু وَعَلَيْكُمْ বলবে। অর্থাৎ ‘এবং তোমাদের উপরও’। (মুসনাদে আহমদ : ৪৫/২১১)
ب) لمِاَ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمُ اليَهُودُ، فَإِنَّمَـا يَقُولُ أَحَدُهُمْ: السَّامُ عَلَيْكَ، فَقُلْ: وَعَلَيْكَ . (صحيح البخاري : ٨ / ٥٧
অর্থ : হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের কেউ তোমাদেরকে সালাম দিলে অবশ্যই সে বলে, ‘আস্সামু আলাক’ অর্থাৎ ‘তোর মরণ হোক’। অতএব, তোমরাও বলো وَعَلَيْك অর্থাৎ ‘তোমারও মরণ হোক’। (বুখারী শরীফ : ৮/৫৭)
ج) لمِاَ رُوِيَ عَنْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، أَنَّ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالُوا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ يُسَلِّمُونَ عَلَيْنَا فَكَيْفَ نَرُدُّ عَلَيْهِمْ؟ قَالَ قُولُوا وَعَلَيْكُمْ. (صحيح مسلم : ٤ / ١٧٠٥
অর্থ : হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত : সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ সা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আহলে কিতাবগণ আমাদেরকে সালাম দেন। আমরা কিভাবে উত্তর দেব? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তোমরা তাদের উত্তরে ‘ওয়া আলায়কুম’ বলবে। (মুসলিম শরীফ : ৪/১৭০৫)

٢٢( من السنة السلام علي مجموعة من المسلمين و المشركين و يقصد المسلمين فقط
২২. মুসলিম ও অমুসলিম একত্রিত থাকলে সেখানে মুসলিমের নিয়তে সালাম দেয়া সুন্নাত।
لمِاَ رُوِيَ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، أَنَّ النَّبِيَّصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِمَجْلِسٍ فِيهِ أَخْلَاطٌ مِنَ الْـمُسْلِمِينَ وَالْـمُشْرِكِينَ عَبَدَةِ الْأوْثَانِ، وَالْيَهُودِ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ. (صحيح البخاري : ٨ / ٥٦، صحيح مسلم : ٣ / ١٤٢٢)
অর্থ : হযরত উসামাহ বিন যাইদ রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সা. একটি মজলিসের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যে মজলিসে মুসলিম ও মুশরিক-মূর্তি পূজক ও ইয়াহূদীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক উপস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ সা. তাদেরকে সালাম দেন।
(বুখারী শরীফ : ৮/৫৬, মুসলিম শরীফ : ৩/১৪২২)
٢٣) من السنة تقديم السلام قبل الإستئذان في الدخول لمحل لايملكه ويقول السلام عليكم أأدخل
২৩. পরগৃহে প্রবেশ করার পূর্বে অনুমতি পাওয়ার জন্য সালাম পেশ করা সুন্নাত। এভাবে বলা- السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ
أ) كما يقول الله تعالى : [يَا أَيـُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتّٰى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلىٰ أَهْلِهَا، ذٰلِكُمْ خَيـْرٌ لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ [النور: ٢٧
অর্থ : মহান আল্লাহ বলেন, হে মু’মিনগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ। (সূরা-ই-নূর : ২৭)
ب) لمِاَ رُوِيَ عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ فَجَاءَ مَعَ الرَّسُولِ، فَهُوَ إِذْنُهُ
(الأدب المفرد: ١ / ٣٦٩)
অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, তোমাদের কাউকে ডাকা হলে আর সে বার্তাবাহকের সাথে আগমন করলে সেটাই তার জন্য অনুমতি। (আল-আদবুল মুফরাদ : ১/৩৬৯)
ج) لمِاَ رُوِيَ عَنْ رِبْعِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَجُلٌ مَنْ بَنِيْ عَامِرٍ أَنَّهُ اسْتَأْذَنَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِـيْ بَيْتٍ. فَقَالَ: أَأَلِجُ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِـخَادِمِهِ: اخْرُجْ إِلٰى هٰذَا فَعَلِّمْهُ الِاسْتِئْذَانَ، فَقُلْ لَهُ: قُلِ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُلُ؟ فَسَمِعَهُ الرَّجُلُ، فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُلُ؟ فَأَذِنَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَدَخَلَ. (سنن أبي داود : ٤ / ٣٤٥
অর্থ : হযরত রিবয়ী বিন হিরাশ থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, বনি আমের গোত্রের এক লোক আমাকে হাদীস বর্ণনা করেন, একদিন সে রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট তার ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি প্রার্থনা করে, তখন রাসূলুল্লাহ সা. ঘরে অবস্থান করছিলেন। লোকটি বল্ল, আমি কি আসবো? তার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সা. খাদেমকে ডেকে বল্লেন, তুমি যাও এবং লোকটিকে অনুমতি চাওয়ার পদ্ধতি শেখাও। তাকে বল,- বল ‘আস্সালামু আলায়কুম’, আমি কি প্রবেশ করবো? লোকটি এ কথা শুনে বলল, আস্সালামু আলায়কুম, আমি কি প্রবেশ করবো? তারপর রাসূলুল্লাহ সা. তাকে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি দিলেন এবং সে ঘরে প্রবেশ করল। (আবূ দাউদ শরীফ : ৪/৩৫৪)
د) لمِاَ رُوِيَ عَنْ كَلَدَةَ بْنِ حَنْبَلٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، أَنَّ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، بَعَثَهُ إِلٰى رَسُولِ اللهِصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَبَنٍ وَجَدَايَةٍ وَضَغَابِيسَ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَعْلٰى مَكَّةَ، فَدَخَلْتُ وَلَـمْ أُسَلِّمْ، فَقَالَ ارْجِعْ فَقُلِ السَّلَامُ عَلَيْكُم  .(سنن الترمذي : ٥/ ٦٥: سنن أبي داود : ٤ / ٣٤٤)
অর্থ : হযরত কালাদাহ বিন হাম্বল রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, একদা হযরত সাফওয়ান বিন উমাইয়্যাহ রা. তাকে কিছু দুধ, একটি হরিণ ছানা ও কিছু শসাসহ রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট প্রেরণ করলেন, তখন নবীজি সা. মক্কা শরীফের উঁচু স্থানে অবস্থান করছিলেন। আমি সালাম না দিয়েই প্রবেশ করলে, তিনি (সা.) আমাকে বললেন : ফিরে যাও! এবং বল, ‘আস্সালামু আলায়কুম’।
(তিরমিযী শরীফ : ৫/৬৫, আবূ দাউদ শরীফ : ৪/৩৪৪)
٢٤(من السنة أن يقف المستأذن عن يمين و شمال الباب
২৪. অনুমতি চাওয়া ব্যক্তি দরজার ডানে-বামে দাড়ানো সুন্নাত।
أ) لمِاَ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، صَاحِبِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : [أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ] ” [كَانَ] إِذَا أَتٰى بَابًا يُرِيدُ أَنْ يَسْتَأْذِنَ لَمْ يَسْتَقْبِلْهُ؛ جَاءَ يَمِينًا وَشِمَالًا؛ فَإِنْ أُذن لَهُ وَإِلَّا انْصَـرَفَ” (الأدب المفرد للبخاري : ١ / ٤١٧، و مسند أحمد ط الرسالة : ٢٩/ ٢٣٨، و ابوداؤود
অর্থ : হযরত আবদুল্লাহ বিন বুছর রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. কারো ঘরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার জন্য গেলে দরজার মুখোমুখি দাঁড়াতেন না। দরজার ডানে বা বাঁয়ে সরে দাঁড়াতেন। অনুমতি দেয়া হলে ভালো, অন্যথায় ফিরে যেতেন। (আদবুল মুফরাদ লিলবুখারী : ১/৪১৭)
ب) لمِاَ رُوِيَ عن عُمَرَ بْنَ الْـخَطَّابِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ :مَنْ مَلَأَ عَيْنَيْهِ مِنْ قَاعَةِ بيتٍ؛ قَبْلَ أَنْ يُؤْذَنَ لَهُ، فَقَدْ فَسَقَ. (الأدب المفرد بالتعليقات للبخاري : ١ / ٦١٢
অর্থ : হযরত উমর বিন খত্তাব রা. বলেন, কোন ব্যক্তিকে অনুমতি দেওয়ার পূর্বেই তার চক্ষুদ্বয় ঘরের কামরায় প্রবেশ করালে সে পাপাচারে লিপ্ত হলো। (আল-আদবুল মুফরাদ : ১/৬১২)
٢٥( من السنة تعريف المستأذن عن نفسه
২৫. অনুমতি চাওয়া ব্যক্তির জন্য নিজের পরিচয় দেয়া সুন্নাত।
أ) لمِاَ رُوِيَ عَنْ جَابِـرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا ، يَقُولُ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فـِيْ دَيْنٍ كَانَ عَلٰى أَبـِيْ، فَدَقَقْتُ البَابَ، فَقَالَ:مَنْ ذَا فَقُلْتُ: أَنَا، فَقَالَ:أَنَا أَنَا كَأَنَّهُ كَرِهَهَا. (صحيح البخاري ٨ / ٥٥)
অর্থ : হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে আসি এবং তাঁর দরজায় আওয়াজ করি। তিনি বল্লেন, লোকটি কে? আমি বল্লাম, আমি। একথা শুনে তিনি সা. বল্লেন, আমি, আমি! মনে হয় যেন তিনি এই রকম উত্তর দেয়াকে অপছন্দ করেছেন। (বুখারী শরীফ : ৮/৫৫)
ب) لمِاَ رُوِيَ عَنْ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتِ أَبِـيْ طَالِبٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا ، تَقُولُ: ذَهَبْتُ إِلٰى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الفَتْحِ فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ وَفَاطِمَةُ تَسْتُـرُهُ فَقَالَ:مَنْ هٰذِهِ؟ فَقُلْتُ: أَنَا أُمُّ هَانِئٍ. (صحيح البخاري : ١ / ٦٤
অর্থ : হযরত উম্মে হানী রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সা. এর দরবারে এসে দেখি, তিনি গোসল করছেন এবং ফাতিমা রা. তাকে একটি কাপড় দ্বারা আড়াল করে রাখেন, তার পর তিনি সা. জিজ্ঞাসা করলেন, কে সে? আমি বল্লাম : আমি উম্মে হানী। (বুখারী শরীফ : ১/৬৪)
ج) لمِاَ رُوِيَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا فِى الْإسْـرَاءِ : فَانْطَلَقَ بِـيْ جِبْرِيلُ حَتّٰى أَتَى السَّمَاءَ الدُّنْيَا فَاسْتَفْتَحَ، فَقِيلَ مَنْ هٰذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ، قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُـحَمَّدٌ. (صحيح البخاري : ٥ / ٥٢
অর্থ : হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত : মি’রাজের প্রসিদ্ধ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, তারপর জিবরীল আ. আমাকে নিয়ে দুনিয়ার আসমানে আরোহণ করেন এবং দরজা খুলে দেয়ার অনুরোধ করেন। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, তুমি কে? উত্তরে তিনি বললেন, আমি জিবরীল। তারপর জিজ্ঞাসা করা হল, তোমার সাথে কে? বলল, আমার সাথে মুহাম্মদ সা.। (বুখারী শরীফ : ৫/৫২)
٢٦) من السنة سلام الإستئذان ثلاث فإن أذن لك وإلا فارجع
২৬. অনুমতি পাওয়ার সালাম সর্বোচ্চ তিনবার দেয়া সুন্নাত। অনুমতি দিলে ভালো, অন্যথায় ফিরে যাবে।
أ) لمِاَ رُوِيَ عَنْ أَبِـيْ مُوسٰى الْأَشْعَرِيِّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ:الِاسْتِئْذَانُ ثَلَاثٌ، فَإِنْ أُذِنَ لَكَ، وَإِلَّا فَارْجِعْ (صحيح البخاري و صحيح مسلم : ٣ / ١٦٩٦
অর্থ : হযরত আবূ মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি, অনুমতি চাওয়া তিন বার। তারপর যদি তোমাকে অনুমতি দেয়, প্রবেশ কর, অন্যথায় ফেরত চলে যাবে। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ : ৩/১৬৯৬)

ب) لمِاَ رُوِيَ عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: زَارَنَا رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـيْ مَنْزِلِنَا فَقَالَ:السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ فَرَدَّ سَعْدٌ رَدًّا خَفِيًّا، قَالَ قَيْسٌ: فَقُلْتُ: أَلَا تَأْذَنُ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: ذَرْهُ يُكْثِرُ عَلَيْنَا مِنَ السَّلَامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْـمَةُ اللهِ  فَرَدَّ سَعْدُ رَدًّا خَفِيًّا، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ  ثُمَّ رَجَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاتَّبَعَهُ سَعْدٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنـِّيْ كُنْتُ أَسْمَعُ تَسْلِيمَكَ وَأَرُدُّ عَلَيْكَ رَدًّا خَفِيًّا لِتُكْثِرَ عَلَيْنَا مِنَ السَّلَامِ، قَالَ: فَانْصَـرَفَ مَعَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (سنن أبي داود : ٤ / ٣٤٧
অর্থ : ক্বাইস বিন সা’আদ রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের সাথে দেখা করতে আমাদের বাড়ীতে আসলেন। তিনি বললেন, ‘আস্সালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’। বর্ণনাকারী বলেন, সা’আদ রা. সালামের উত্তর আস্তে করে দিলেন। ক্বাইস রা. বলেন, আমি বললাম : আপনি কি রাসূলুল্লাহ সা.-কে প্রবেশের অনুমতি দিবেন না? তিনি বললেন, থামো। তাঁকে আমাদেরকে বেশি বেশি সালাম দিতে দাও। রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ‘আস্সালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’। সা’আদ রা. এবারও সালামের উত্তর আস্তে করে দিলেন। পুনঃরায় রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ‘আস্সালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’। অতঃপর তিনি ফিরে যেতে থাকলেন। সা’আদ রা. তাঁর পিছনে পিছনে গিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, হে আল্লাহ’র রাসূল! সা. নিশ্চয়ই আমি আপনার সালাম শুনতে পাচ্ছিলাম এবং নীচু স্বরে উত্তর দিচ্ছিলাম, যাতে আপনি বেশি বেশি সালাম দেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. তার সঙ্গে ফিরে আসলেন। (আবূ দাউদ শরীফ :৪/৩৪৭)
(٢٧) من السنة الرجوع في حالة عدم السماح بالدخول بعد تقديم السلام ثلاثا
২৭. তিনবার সালাম পেশ করার পরও অনুমতি না পাওয়া গেলে ফিরে যাওয়া সুন্নাত।
أ) كَماَ يقول الله تعالي : [فَإِنْ لَـمْ تـَجِدُوا فِيهَا أَحَدًا فَلَا تَدْخُلُوهَا حَتّٰى يُؤْذَنَ لَكُمْ وَإِنْ قِيلَ لَكُمُ ارْجِعُوا فَارْجِعُوا هُوَ أَزْكٰى لَكُمْ وَالله بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ  [النور: ٢٨
অর্থ : মহান আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা গৃহে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্য অনেক পবিত্রতা আছে এবং তোমরা যা কর, আল্লাহ তা’আলা তা ভালভাবে জানেন। (সূরা-ই-নূর :২৮)
٢٨) من السنة السلام على أهل القبور
২৮. কবরবাসীদের সালাম দেয়া, তাদের জন্য রহমত ও মাগফিরাতের জন্য দু’আ করা সুন্নাত। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণিত।
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ القُبُورِ، يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَلَكُمْ، أَنْتُمْ سَلَفُنَا، وَنَحْنُ بِالأثَرِ
“হে ক্ববরবাসীগণ, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ তা’আলা আমাদের এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করুক। তোমরা আমাদের অগ্রবর্তী, আমরাও পরপর তোমাদের সাথে মিলিত হবো”।
لمِاَ رُوِيَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقُبُورِ الْـمَدِينَةِ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمْ بِوَجْهِهِ، فَقَالَ:السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ القُبُورِ، يَغْفِرُ اللهُ لَنـَا وَلَكُمْ، أَنْتُمْ سَلَفُنَا، وَنَحْنُ بِالأثَرِ. (سنن الترمذي : ٣/ ٣٦٠
অর্থ : হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. একদিন মদীনা শরীফের কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাদের মুখোমুখী দাঁড়িয়ে উপরোক্ত দু’আটি করেছিলেন। (তিরমিযী শরীফ : ৩/৩৬০)
٢٩) من السنة أن يكون السلام مع المصافحة
২৯. সালাম-বিনিময়ে পর মুসাফাহা বা করমর্দন করা সুন্নাত।
أ) لمارُوِىَ عَنْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: قُلْتُ لِأَنَسٍ: أَكَانَتِ الْـمُصَافَحَةُ فِـيْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ:نَعَمْ.
(صحيح البخاري : ٨ / ٥٩)
অর্থ : হযরত ক্বাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সা.-এর যুগে সাহাবাগণের মধ্যে মুসাফাহা করার প্রচলন ছিল কি? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ! ছিল। (বুখারী শরীফ : ৮/৫৯)
ب) لمِاَ رُوِىَ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:مِنْ تَمَامِ التَّحِيَّةِ الأَخْذُ بِاليَدِ. سنن الترمذي : ٥ / ٧٥
অর্থ : হযরত ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সালামের পরিপূরক হলো হাত ধরা, অর্থাৎ মুসাফাহা করা।
(তিরমিযী শরীফ : ৫/৭৫)
ج- لمِاَرُوِىَ عَنْ عَبْد اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قال:مِن تَمَامِ التَّحِيَّةِ الْـمُصَافَحَةُ -شرح السنة للبغوي : ١٢/ ٢٩٠
অর্থ : হযরত ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, সালামের পরিপূর্ণতা হলো মুসাফাহা করা। (শরহুস্ সুন্নাহ :১২/২৯০)
د) لمارُوِىَ عَنِ الْبَـرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ:مِنْ تَمَامِ التَّحِيَّةِ أَنْ تُصَافِحَ أَخَاكَ  الأدب المفرد: ١ / ٣٣٦
অর্থ : হযরত বরাআ বিন আযিব রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, সালামের পরিপুরক হলো তোমার ভাইয়ের সাথে মুসাফাহা করা। (আল-আদবুল মুফরাদ : ১/৩৩৬)
ه) لمِاَرُوِىَ عَن البَـرَاءِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ تَمَامِ التَّحِيَّةِ الْـمُصَافَحَةَ. (الترغيب في فضائل الأعمال وثواب ذلك لابن شاهين : ١ / ١٢٦
অর্থ : হযরত বরাআ বিন আযিব রা. থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সালামের পরিপুরক হলো মুসাফাহা করা। (আত্ তারগীব : ১/১২৬)
و) لمِاَرُوِىَ عَنِ الْبَـرَاءِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يَلْتَقِيَانِ، فَيَتَصَافَحَانِ إِلَّا غُفِرَ لَـهُمَا قَبْلَ أَنْ يفترقا (سنن أبي داود : ٤ / ٣٥٤
অর্থ : হযরত বরাআ রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন দুই জন মুসলমান একত্রিত হয় এবং একে অপরের সাথে মুসাফাহা করে, তারা উভয়ে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই আল্লাহ তা’আলা তাদের ক্ষমা করে দেন। (আবূ দাউদ শরীফ : ৪/৩৫৪)
ز) لِماَرُوِىَ عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمـَانِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْـمُؤْمِنَ إِذَا لَقِيَ الْـمُؤْمِنَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، وَأَخَذَ بِيَدِهِ، فَصَافَحَهُ، تَنَاثَرَتْ خَطَايَاهُمَا، كَمَا يَتَنَاثَرُ وَرَقُ الشَّجَرِ . (المعجم الأوسط للطبرانى : ١ / ٨٤
অর্থ : হযরত হুযায়ফাহ বিন ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন কোন মুমিন বান্দা তার অপর মুমিন ভাইয়ের সাক্ষাৎ হওয়ার পর তাকে সালাম দেয় এবং তার হাত ধরে, তার সাথে মুসাফাহা করে, তখন তার গুনাহগুলো এমনভাবে ঝরে পড়ে যেমনিভাবে গাছের পাতাসমূহ ঝরে পড়ে। (তবরানী শরীফ : ১/৮৪)
ح) لما رُوِىَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْـخُرَاسَانِـيِّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَصَافَحُوا يَذْهَبِ الْغِلُّ وَتَـهَادَوْا تَـحَابُّوا وَتَذْهَبِ الشَّحْنَاءُ (موطأ مالك : ٥ / ١٣٣٤
অর্থ : হযরত আতা বিন আবদুল্লাহ আল-খুরাসানী রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, পরস্পর মুসাফাহা কর, হিংসা-বিদ্বেষ চলে যাবে। পরস্পর উপহার বিনিময় কর, মিল-মুহাব্বত সৃষ্টি হবে এবং ঘৃণা ও শত্রুতা চলে যাবে। (মুআত্তা মালেক : ৫/১৩৩৪)
ط- قَالَ النَّوَوِيُّ رحمه الله تعالى الـْمـُصَافَحَةُ سُنَّةٌ مُـجْمَعٌ عَلَيْهَا عِنْدَ التَّلَاقِي. (فتح الباري لابن حجر : ١١/ ٥٥
অর্থ : ইমাম নববী রহ. বলেন, পরস্পর সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করা সর্বসম্মত সুন্নাত। (ফতহুল বারী লি-ইবনে হাজর :১১/৫৫)
৩০. মুসাফাহা বা করমর্দন উভয় হাতে করা সুন্নাত।  ٣٠) من السنة المصافحة باليدين
أ) لمِاَرُوِىَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا ، قَالَ:عَلَّمَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التَّشَهُّدَ، وَكَفِّي بَيْنَ كَفَّيْهِ – صحيح البخاري : ٨ / ٥٩
অর্থ : হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে ‘আত্তাহিয়্যাত’ এমনভাবে মুখস্থ করিয়েছেন যে, আমার হাত তার উভয় হাতের মাঝে ছিল। (বুখারী শরীফ : ৮/৫৯)
-ب) لِماَ بَوَّبَ الإمَامُ البُخَارِيُّ رحمه الله تعالى تَعَالٰى فِـيْ كِتَابِهِ : بَابُ الأَخْذِ بِاليَدَيْنِ وَصَافَحَ حَـمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ابْنَ المُبَارَكِ بِيَدَيْهِ .(صحيح البخاري : ٨/ ٥٩)
অর্থ : ইমাম বুখারী রহ. স্বীয় বুখারী শরীফের মুসাফাহা অধ্যায়ে “উভয় হাত দ্বারা মুসাফাহা করা এবং হাম্মাদ বিন যাইদ রা. আবদুল্লাহ বিন মুবারক রা.-এর সাথে দুই হাতে মুসাফাহা করা” নামে অধ্যায় স্থাপন করেছেন এবং তার দলিল স্বরূপ উপরে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীস শরীফটি পূর্ণাঙ্গ সনদে উল্লেখ করেন। (বুখারী শরীফ :৮/৫৯)
ج) لِماَ ذَكَرَ الإمَامُ البُخَارِيُّ رحمه الله تعالى تَعَالٰى فِـيْ تَارِيـْخِهِ فِـيْ تَرْجَمَةِ أَبِيْهِ إِسْمَاعِيْلَ بْنِ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ الْـمُغِيْـرَةِ الـْجُعْفِيِّ أَنَّهُ رَأٰى حَمَّادَ بْنِ زَيْدٍ صَافَحَ ابْنَ الْـمُبَارَكِ بِكِلْتَا يَدَيْهِ . (تغليق التعليق على صحيح البخاري : ٥/ ١٢٩
অর্থ : ইমাম বুখারী রহ. স্বীয় কিতাব আত্তারীখুল কাবীরে উল্লেখ করেন, তাঁর পিতা ইসমাঈল বিন ইব্রাহীম বিন মুগীরাহ আল্ জু’ফী রা. হযরত হাম্মাদ বিন যাইদ রা.-কে হযরত আবদুল্লাহ বিন মুবারকের সাথে উভয় হাতে মুসাফাহা করতে দেখেছেন।
(তাগলীকুত্ তালীক আ’লা সহীহিল বুখারী :৫/১২৯)
٣١) يجوز للرجل أن يصافح محارمة من النساء البالغات
৩১. মাহ্রাম (যাদের দেখা বৈধ) বালিগা নারীদের সাথে মুসাফাহা করা জায়েয।
لمِاَ رُوِىَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا مَا مَسَّتْ يَدُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَ امْرَأَةٍ إِلاَّ امْرَأَةً يَمْلِكُهَا. (سنن الترمذي : ٥ / ٢٦٦
অর্থ : হযরত আয়িশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা.-এর হাত মুবারক শুধুমাত্র বৈধ নারী ছাড়া কখনো বেগানা নারীর হাতকে স্পর্শ করে নি।
(তিরমিযী শরীফ : ৫/২৬৬)
٣٢ (مصافحة الرجل للمرأة الأجنبية حرام لا يجوز اتفاقا أما كبيرة السن ففيه خلاف
৩২. পর নারীদের সাথে মুসাফাহা করা সর্বসম্মতভাবে হারাম। অতি বয়স্কাদের ব্যাপারে আলেমগণের দ্বিমত রয়েছে।
أ) لما رُوِىَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ … لاَ وَاللهِ مَا مَسَّتْ يَدُهُ يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ فِي المُبَايَعَةِ، مَا يُبَايِعُهُنَّ إِلَّا بِقَوْلِهِ:قَدْ بَايَعْتُكِ عَلٰى ذَلِك
(صحيح البخاري : ٦ /١٥٠)
অর্থ : হযরত আয়িশা রা. বলেন, আল্লাহ তা’আলার শপথ রাসূলুল্লাহ সা. বায়’আত করার সময় কখনো কোন বেগানা নারীর হাতকে স্পর্শ করেন নি। তিনি নারীদেরকে শুধুমাত্র কথার দ্বারা বায়’আত করাতেন। তিনি বলতেন, আমি তোমাকে এসব বিষয়ের উপর বায়’আত করলাম। (বুখারী শরীফ : ৬/১৫০)
ب) لمِاَ رُوِىَ عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَأَنْ يُطْعَنَ فِـيْ رَأْسِ أَحَدِكُمْ بِمِخْيَطٍ مِنْ حَدِيدٍ خَيْـرٌ لَه مِنْ أَنْ يَمَسَّ امْرَأَةً لَا تَـحِلُّ لَهُ. (المعجم الكبير للطبراني :٢٠/ ٢١١
অর্থ : হযরত মা’কিল বিন ইয়াছার রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, কোন ব্যক্তির মাথায় লোহার করাত দিয়ে আঘাত করা অধিক উত্তম, কোন নারীর হাত স্পর্শ করা যা তার জন্য হালাল নয়, তা হতে। (তবরানী শরীফ : ২০/২১১)
٣٣) تقبيل العلماء و اهل الفضل مستحب
৩৩. ওলামা-ই কিরাম ও বড়দের চুমু দেয়া মুস্তাহাব।
أ) لِماَ رُوِىَ عَنِ الشَّعْبِىِّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ، أَنَّ النَّبِىَّ -صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- تَلَقَّى جَعْفَرَ بْنَ أَبِـيْ طَالِبٍ ، فَالْتَزَمَهُ وَقَبَّلَ مَا بَيْنَ عَيْنَيْهِ.
(سنن أبي داود : ٤/ ٥٢٤)
অর্থ : হযরত আশ-শা’বী রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা.-এর দেখা হলো জাফর বিন আবূ তালিবের সঙ্গে। রাসূলুল্লাহ সা. তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং তার দুই চোখের মাঝখানে চুমু দিলেন। (আবূ দাউদ শরীফ : ৪/৫২৪(
ب) لما رُوِىَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْـمٰنِ بْنِ أَبِـيْ لَيْلٰى، حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ، حَدَّثَهُ وَذَكَرَ قِصَّةً، قَالَ: فَدَنَوْنَا يَعْنِي مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَبَّلْنَا يَدَهُ.
(سنن أبي داود : ٤ / ٣٥٦)
অর্থ : হযরত আবদুর রহমান বিন আবূ লায়লা রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) তার নিকট হাদীস বর্ণনা করলেন। অতঃপর একটি ঘটনা বর্ণনা করে বললেন, আমরা নবী সা.-এর নিকটবর্তী হয়ে তার হাতে চুমু দিলাম। (আবূ দাউদ শরীফ : ৪/৩৫৬(
ج) قَالَ النَّوَوِيُّ رحمه الله تعالى تَقْبِيلُ يَد الرَّجُلِ لِزُهْدِهِ وَصَلَاحِهِ أَوْ عِلْمِهِ أَوْ شَـرَفِهِ أَوْ صِيَانَتِهِ أَوْ نَحْوِ ذٰلِكَ مِنَ الْأُمُوْرِ الدِّينِيَّةِ لَا يُكْرَهُ بَلْ يُسْتَحَبُّ، فَإِنْ كَانَ لِغِنَاهُ أَوْ شَوْكَتِهِ أَوْ جَاهِهِ عِنْدَ أَهْلِ الدُّنْيَا فَمَكْرُوهٌ شَدِيدُ الْكَرَاهَةِ. وَقَالَ أَبُوْ سَعِيدٍ الْـمـُتَوَلِي لَا يَـجُوْزُ .
(فتح الباري لابن حجر : ١١/ ٥٧)
অর্থ : ইমাম নববী রহ. বলেন, কোন ব্যক্তির হাতে তার দ্বীনদারি ও তাকওয়া পরহেজগারী ইত্যাদির কারনে চুমু দেয়া মাকরুহ নয় বরং মুস্তাহাব। তবে দুনিয়াবী ক্ষমতা ও অর্থের কারণে কাউকে চুমু দেয়া কঠিনভাবে নিষিদ্ধ। (ফতহুল বারী লিইবনে হাজর : ১১/৫৭(
٣٤) من السنة أن يكون السلام مع المعانقة بالنسبة للقادم من السفرو نحوه
৩৪. সফর থেকে আগত কিংবা অনেক দিন পরে সাক্ষাৎ পাওয়া ব্যক্তির সঙ্গে সালামের পর মু’আনাকাহ বা কোলাকুলি করা সুন্নাত।
أ) لما رُوِيَ عنْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا تَلَاقَوْ ا تَصَافَحُوا، وَإِذَا قَدِمُوا مِنْ سَفَرٍ تَعَانَقُوا.
المعجم الاوسط للطبراني : ١ / ٣٧، مسند أحمد : ٢٠/ ٣٤١)
অর্থ : হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহাবাগণ যখন সাক্ষাৎ করতেন তখন মুসাফাহা করতেন এবং যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখন মু‘আনাকাহ করতেন। (তবরানী শরীফ :১/৩৭, মুসনাদে আহমদ : ২০/৩৪১)
ب) ، قَالَ: لَـمَّـا قَدِمَ جَعْفَرٌ مِنْ هِجْرَةِ الْـحَبَشَةِ، تَلَقَّاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَانَقَهُ، وَقَبَّلَ مَا بَيْنَ عَيْنَيْهِ . (المعجم الكبير للطبراني : ٢ / ١٠٨)
অর্থ : হযরত ’আওন বিন আবূ জুহায়ফা রা. তার পিতা আবূ জুহায়ফা রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, হযরত জাফর বিন আবূ তালেব রা. হাব্শাহ তথা আবিসিনিয়ার হিজরত থেকে আগমন করার পর নবীজি সা.-এর সাথে তার সাক্ষাৎ হলে তিনি (সা.) তার সাথে মু’আনাকাহ্ বা কোলাকুলি করেন এবং তার দুই চোখের মাঝখানে চুমু দেন। (তবরানী শরীফ : ২/১০৮)
…………………………………………………….
মুহ্তামিম ও শায়খুল হাদীস, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া টেকনাফ।
প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার কক্সবাজার।


সর্বশেষ সংবাদ