বিষণ্নতায় ভুগছেন রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৩ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মানসিক স্বাস্থ্য একেবারেই খারাপ। যুদ্ধের শিকার হয়ে সিরিয়ার যেসব নাগরিক জার্মানির শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন এবং ২০১১ সালে জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামির শিকারের মানুষের চেয়ে রোহিঙ্গারা তিনগুণ বেশি বিষণ্নতায় ভুগছেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত কক্সবাজারের স্থানীয়রাও বিষণ্নতায় ভুগছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে গুলশান-২-এ একটি হোটেলে ‘এক্সপেন্ডিং দ্য এভিডেন্স বেস ফর পলিসি অ্যান্ড ইন্টারভেনশনস ইন কক্সবাজার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

রোহিঙ্গাদের উদ্বৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমার মনে সবচেয়ে ভীতকর হল, যদি আমাদের আবার বার্মা পৌঁছে দেয়-এইটাই আমার চিন্তা।’

দ্য ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি), ইনোভেশনস ফর প্রভার্টি অ্যাকশন (আইপিএ) ও ইয়েল ইউনিভার্সিটির ওয়াই-রাইস ইনিশিয়েটিভস এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে ৯ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের বড় অংশেরই রয়েছে সহিংসতার অভিজ্ঞতা। সহিংসতার অভিজ্ঞতা থাকাদের মধ্যে অর্ধেকই বলছে, কাছ থেকে তারা হত্যা, নির্যাতন বা যুদ্ধ দেখেছেন। এক-তৃতীয়াংশ বলছেন, তাদের পরিবারের কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের কেউ হত্যার শিকার কিংবা জোর করে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এক-চতুর্থাংশের বেশি তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

তাতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রিত ৯০ শতাংশ রোহিঙ্গা সরাসরি ধর্ষণের ঘটনা দেখেছেন কিংবা শুনেছেন। প্রায় ৬০ শতাংশ রোহিঙ্গা এক থেকে দুইটি সহিংসতার ঘটনা দেখেছেন, প্রায় ২০ শতাংশ পাঁচ বা তার চেয়ে বেশি এই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। যাদের একবার এই ধরনের সহিংসতার ঘটনার অভিজ্ঞতা আছে, তাদের চেয়ে পাঁচ বা তার চেয়ে বেশি অভিজ্ঞতার রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশার হার ৭ শতাংশ বেশি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ মুশফিক মোবারক বলেন, ‘তারা বাংলাদেশে আসার আগে কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, তাতে দেখা গেল তাদের ট্রমা অনেক। বিশ্বের অন্য জায়গার চেয়ে এর মাত্রা অনেক বেশি। আফ্রিকায় যারা সহিংসতার শিকার, তাদের চেয়েও অনেক বেশি।’

রোহিঙ্গাদের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন জানান, রোহিঙ্গারা নানামুখী সংকটে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবহিত। এই সংকট আমাদের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে ১৯৭০ সাল থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। সবচেয়ে বেশি আসে ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে, যার পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৪৫ হাজার। বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় ৯ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।


সর্বশেষ সংবাদ