চার্জশিট থেকে আসামির নাম বাদ, পুনঃতদন্তে করে ইয়াবার গডফাদার ধরলো পিবিআই

প্রকাশ: ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:১১ : অপরাহ্ণ

টেকনাফনিউজ ডেস্ক []
যাত্রীবাহী একটি বাস থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের তদন্তে বাদ দেওয়া এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পুনঃতদন্তে আসামি আবুল কাশেম প্রকাশ শাহিন (৩০) এর সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরপর সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকালে কক্সবাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈনউদ্দিন। এর আগে বাকলিয়া থানা পুলিশ ও নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট শাহিনসহ তিন জনকে এই মামলার চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দিতে আদালতে আবেদন করেছিলেন।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেস বড়ুয়া মামলাটি তদন্ত করে ৩০ জুন আতিয়ারসহ ছয় জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়ে অভিযোগপত্রে এজাহারনামীয় আসামি আবুল কাশেম ও রাজুসহ তিন জনকে মামলা থেকে বাদ দিতে আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈনউদ্দিন বলেন, ‘চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর শাহ আমানত সেতু এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকনিকের বাস আটক করে র‌্যাব। ওই বাস থেকে ২৩ কেজি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে র‌্যাব বাদী হয়ে ৮ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। র‌্যাবের দায়ের করা মামলার ৭ নম্বর আসামি ছিল আবুল কাশেম শাহিন। এই মামলায় গ্রেফতার আসামি আতিয়ার রহমান ও বাসের ড্রাইভার মো. ইকবাল হোসেনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও তার নাম উঠে আসে। কিন্তু বাকলিয়া থানা পুলিশ ও নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তদন্ত শেষে উল্লেখিত আসামির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না পাওয়ায় মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করে। আদালত ওই চার্জশিট গ্রহণ না করে মামলাটি অধিক তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। এরপর মামলাটি পুনঃতদন্ত করতে গিয়ে আবুল কাশেমের সম্পৃক্তার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবুল কাশেম প্রকাশ শাহিন কক্সবাজারের রামু এলাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ইয়াবার গডফাদার। শাহিন ২০১৩ সালে ঈদগড় ঈদগাঁও-বাইশারী সড়কে হিল লাইন সার্ভিসে হেলপার হিসেবে চাকরি করতো। হেলপারের চাকরির সুযোগে সে ডাকাত দলের সোর্স হিসেবে কাজ করতো। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে শাহিন হেলপারের চাকরি ছেড়ে পালিয়ে পাহাড়ের ভেতর গিয়ে সরাসরি ডাকাত দলে যোগ দেয়। ২০১৬ সালে তার নেতৃত্বে ঈদগড় বড়বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুচ্ছফাকে নিজ বাড়িতে স্ত্রীর সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলা আছে। পরবর্তীতে শাহিন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এতদিন সে বিভিন্ন ছদ্মনামে ইয়াবা সরবরাহ, পরিবহন ও বিক্রি করে আসছিল।’

মো. মঈন উদ্দিন আরও বলেন, ‘শাহিন ও তার পরিবার বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রধারী নাগরিক হলেও তারা মূলত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা। প্রায় ৪০ বছর আগে তার বাবা নবী হোসেন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে কৌশৈলে নাগরিক হয়ে যান। পরে বাংলাদেশী নাগরিক গোলজার বেগমকে বিয়ে করে রামু এলাকায় বসবাস করে আসছিল সে। আবুল কাশেম শাহিনের বাবা নবী হোসেন ও ভাই শাহজাহান বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী। তারা দুজনই সৌদি আরব প্রবাসী। তার এক বোন মালয়েশিয়াতে থাকে।’


সর্বশেষ সংবাদ