জনির বদলী

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:২৬ : অপরাহ্ণ

রফিক উল্লাহ … জনি একজন পদস্ত কর্মকর্তা। চাকুরির প্রথম জীবনে তার গ্রামের বাড়ি থেকে অনেক দূরে পোষ্টিং। টগবগে যুবক, যৌবনে ভরপুর, সুদর্শন, কথা বলেতে পারে সাজিয়ে গুছিয়ে। অনেককে একসাথে করে আড্ডা দেয়াটি তার খুবই পছন্দ। পোষ্টিং পেয়ে বেশি বিচলিত বা অখুশি হয়নি। কারণ অনেক চড়ায় উতরাই চাকুরিটি পাওয়া যায়। নিজে, তার বাবা, পরিবারের আত্বীয় স্বজন অনেকে তার জন্য কম বেশি দৌড়াদৌড়ি করে এমন একটি চাকুরি পেয়েছে। মনে অনেক প্রশান্তি। চাকুরির বাজার অনেক কঠিন। যোগ্যতা যেমন লাগে, তেমনি অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ থাকে বিজ্ঞপ্তিতে। আবার দলিয় করণ, আত্বীয়করণ, যোগ্যতা ছাড়াও অনেকে চাকুরি পায় সহজে। যোগ্যতা ছাড়া শুধু চাকুরি নয় ভাল এবং গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিংও পাওয়া যায়। জনি মনে মনে স্থির করে যে, চাকুরি হোক ছোট কিংবা বড় একটি পেলেই হল। যেখানে পোষ্টিং দেয় সেখানে যোগদান করবে। প্রথম চাকুরি সন্তোষজনক হওয়ায় অনেক খুশি সে। সেকারণে পোষ্টিং এর বেলায় আর কোন তদবির বা ঝামেলা করেনি। পরবর্তী সময়ে হয়তো ভাল পোষ্টিং পাওয়া যাবে সে আশায় বা গ্রামের বাড়ির কাছাকাছি একটি সুন্দর পোষ্টিং পাবে এমন চিন্তা ছিল তার মনে। যোগদান পত্র হাতে পেয়ে মা-বাব, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন অনেককেই সুখবরটি জানায়। তার কয়েক বছরের ছোট একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তার ছোট খালার মেয়ে অঞ্জনা আশা করছিল সেও জানবে প্রথম সুসংবাদটি। কারণ একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রায় প্রতিদিন ক্যাম্পাসে দেখা হত। দুজনে অনেক কথা বলত। নিজেদের ভাগ্য, তাদের পারিবারিক অবস্থা এসব বিষয় নিয়ে। ছাত্র জীবন শেষ হলে তাদের পরবর্তী জীবন কেমন হবে, সে অনেক কথা বলা হতো। অঞ্জনা এখনো অধ্যায়নরত, তার পড়ালেখা শেষ হতে আরো বছর দুয়েক রয়েছে। তার মনে অনেক আশা। জীবন সঙ্গি তার মনের মত না হলে জীবনে চলার পথটি হয়তো সুখকর হবে না। তার বড় ভাই জনির কথাবার্তা এবং চালচনের সাথে অনেকাংশই তার মনের সাথে মিল আছে মনে করে অঞ্জনা। অঞ্জনা পড়ালেখায় অনেক ভাল, তার রেজাল্টও ভাল, তার চিন্তা হল একই বিশ্বব্যিালয়ে যদি তার একটি চাকুরি হয় তা হলে তার জন্য খুবই ভাল হয়। তবে সে ভাগ্য কয় জনেরই জীবনে জোটে। জনি তার যোগদান পত্র নিয়ে আনন্দের খবরটি মা-বাবাকে জানিয়েছে ফোনে, কিন্তু দেখা হয়নি এখনো। ছোট বোন প্রিয়া চেয়ে আছে কখন ভাইয়া আসবে, তাকে আদর করে জড়িয়ে ধরে বলবে, তার বড় একটি চাকুরি হয়েছে, তার জন্য গিফ্ট হিসেবে একটি নতুন জামা আনবে। প্রিয়া মাকে বারবার জিজ্ঞাসা করে ভাইয়ার নতুন চাকুরি হয়েছে, কখন বাড়ি আসবে, তার নতুন জামা কখন আনবে, কোথায় পোষ্টিং হয়েছে। যদি অনেক দুরে চলে যায় তাহলে আবার কখন দেখা হবে। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে মা অস্থির। এমনি এক সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ করে জনি বাড়িতে এসে হাজির। বাড়ির উঠানে এসে মাকে ডাক দেয় মা মা বলে। তার মা রান্নাঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত। ছেলে আসলে তাকে কি খাওয়াবে, চাকুরির খুজে অনেকদিন বাড়িতে আসেনি। ছেলে কেমন হয়ে গেছে, শরির ভাল আছে কিনা। মা এর অনেক চিন্তা ছেলেকে নিয়ে। তাই ছেলে আসার সংবাদ পেয়ে বাবা বাজার হতে অনেক পছন্দের মাছ, মাংস এবং নতুন সবজি কিনে এনেছে। রান্নাঘরে খুবই ব্যস্ত, চুলায় মাছ রান্নার হাড়ি, মাংসের মসল্লা প্রস্তুতি, কাজের মেয়ে কলসি নিয়ে নলকুপ থেকে পানি আনছে। মাঝে মধ্যে কাজের মেয়েটি জনির মাকে বলে, খালা ভাইয়ার অনেক বড় চাকুরি হয়েছে, তাদের অনেক খুশির খবর। তার খালাতো বোন অঞ্জনা অনেক সুন্দরী, শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, পড়ালেখায়তো অনেক ভাল শুনেছি। তার মা-বাবা পাড়ায় পড়ায় গল্প করে। আবার গ্রামের অনেক লোকজনও বলে। তাদের বাড়িতে অনেক সম্পদও আছে। অঞ্জনাকে বৌ করে আনলে অনেক ভাল হবে। খালা কাজের মেয়েকে বলে এসব বলিস না। ছেলের পছন্দের বিষয়ে আমাদের করার কি আছে। ছেলে যা পছন্দ করে তাই হবে, এসব কথা এখন বলিস না। এ কথা শুনে জনির মা মনে মনে অনেক খুশি। বোনের মেয়ে, বোনের সাথে একটি ভাল সম্পর্কও রইল। কাজের মেয়েকে মুখ খুলে কিছুই বলতে পারে না। ছেলে শুনে ফেললে আবার কি না কি মনে করে। এমন সময় প্রিয়া মাকে বলে ওঠে, মা মা ভাইয়া এসেছে। ভাইয়াকে দৌড়ে গিয়ে ঝাপটে ধরেছে। ভাইয়াও প্রিয়াকে অনেক আদর করে জড়িয়ে ধরে। জনি জানে প্রিয়া ভাইয়াকে আদর করা মানে তার পছন্দের জামা। প্রিয়ার খেয়াল ভাইয়ার দিকে না তার হাতের দিকে। ভাইয়ার হাতে একটি প্যাকেট। প্রিয়া বুঝতে পেরেছে তার জন্য নতুন জামা এনেছে। ভাইয়ার হাত হতে টান দিয়ে নিয়ে দৌড়ে মাকে বলে মা মা ভাইয়া এসছে, তার জন্য নতুন জামা এনেছে, প্রিয়া অনেক খুশি। ড্রইং রুমে না বসে সোজা রান্না ঘরে মায়ে সামনে জনি। জনির বাবা ড্রইং রুমে বসে আছে, তার শ্বশুর বাড়ির অনেকে এসেছে তাদের সাথে কথা বলছিল। তাদেরকে চা নাস্তা এসব দিয়েছে। সবাই এসেছে জনি বড় চাকুরি পেয়েছে, তার সাথে দেখা হবে, কথা বলবে। একটু শুভেচ্ছা জানাবে, এসব চিন্তা। এলাকার ছেলে, আবার অনেকের আত্বীয়ও বটে। কোন না কোন সময় উপকারে আসতে পারে। তাদের ভাবনার অভাব নেই। এদিকে তার খালু আনু মিয়া আশা করছিল তার মেয়ে অঞ্জনাও সাথে আসবে। ইতো পূর্বে বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদদ্যালয় বন্ধ হলে দুজন একসাথে বাড়িতে আসত খোলার সময় একসাথে যেত। আজ তার সাথে অঞ্জনাকে না দেখে মন একটু খারাপ। মনে মনে তারও অনেক আশা জনিকে নিয়ে। অনেক আলোচনা করা হল, সময় অনেক পার হল, গল্প গুজব হল। জনি ড্রইং রুমে এসে আত্বীয় স্বজনদের সাথে দেখা করে, কুশল বিনিময় করে, পোষ্টিং এর বিষয়াদি জানায়। এলাকার সবাই খুশি। আলাপ আলোচনা শেষে আত্বীয় স্বজন একের পর এক বিদায় নিয়ে চলে যায়। মা রান্নাঘর হতে ড্রইং রুমে আসেন। প্রিয়াও মা এর পিছু ছাড়ছে না। ভাইয়ার সাথে প্রিয়া অনেক দিনের জমানো কথা বলছে একের পর এক। মা-বাবা, প্রিয়া ও জনি কথা বলতে বলতে অনেক রাত হয়ে যায়। খাবারের সময় পার হয়ে গেছে একটুও মনে নেই। টেবিলে খাবার দেয়ার কথা বলে মা উঠার সময় প্রিয়া কথার ছলে ভাইয়াকে বলে ফেলে, ভাইয়া অঞ্জনা আপুকে আন নাই কেন? জনি লজ্জা পেল সামান্য, বাবার সামনে এমন কথা বলাতে। জনি প্রিয়াকে ধমকের সাথে বলে ফেলে তুই বেশি কথা বলিস। এ বলে মা রান্না ঘরে খাবার আনতে চলে যায়। টেবিলে খাবারে সময় মা-বাবার সাথে অনেক আলাপ আলোচনা হয়। মা-বাবার অনেক নির্দেশ ছেলের প্রতি, একমাত্র ছেলে জনি। যেহেতেু ভাল চাকুরি প্রথম পোষ্টিং যেখানেই দেয়া হোক না কেন যোগদান করতে হবে। এই সিদ্ধান্তে জনি পরদিন সকাল বেলা সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। কিন্তু প্রিয়া মানে না, ভাইয়ার আদর আর পাবে কিনা, কখন আসবে, তার জন্য নতুন জামা, চিপস কে আনবে। গলায় চেপে ধরে কে আদর করবে। এসব চিন্তায় অনেক্ষণ কান্না করে। মা অনেক বলে বুঝিয়ে তার কান্না থামায়। যাওয়ার সময় মা ছেলের জন্য কিছু তার পছন্দের খাবার রান্না করে ব্যাগে দিয়ে দেয়। নতুন কর্মস্থল কেমন হবে, বস কেমন হবে, সহপাঠিরা কেমন হবে, থাকার জায়গা সময়মত পাওয়া যায় কি না এসব চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেক দিনের স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয়কে সহজে ভুলতে পারা যায় না। বন্ধুদের কথা বেশি বেশি মনে পড়ে যাদের সাথে অনেক বছর লেখাপড়া, একসাথে থাকা খাওয়া, খেলা-ধুলা, গল্প করে সময় কাটনো। সন্ধ্যাবেলা আড্ডার সময় কত বান্ধবী মিলে একসাথে হাসি টট্টা করা হত। বিশেষ করে অলির সাথে কয়েকদিন পরপর ঝগড়া হত। আবার একসাথে বসা হত। পূর্বের স্মৃতি ভুলে গিয়ে আবার এক সাথে বসে গল্প করা হত। শরিফ মিয়ার চা এর দোকান, আড্ডার প্রাণ কেন্দ্র। এসব চিন্তা প্রায় সময় মাথায় আসে। অঞ্জনার কথাও মনে পড়ে মাঝে মাঝে। চাকুরির সংবাদটি তাকে প্রথমে শুনানোর কথা ছিল কিন্তু তাকে প্রথম না বলায় অনেকদিন হয়ে গেল বলব বলব করে নিজেরে মনের মধ্যে লজ্জার সৃষ্ঠি হওয়ায় আর বলা হয়নি। এখন বললে সে কি মনে করে, নিজেকে স্বার্থপর বলে মনে হচ্ছে। বলা হয়নি নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর বলবে। সাথে অনেক দিনের জমানো কথাও বলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ হয়। প্রতিবরের মত বাড়িতে যাওয়ার সঙ্গি এখন আর নেই অঞ্জনার। কার সাথে যাবে, বাবাকে ফোন করে তাকে নিয়ে যেতে বলতে হবে। বাবাকে ফোন করলে বলে কজের ব্যস্ততার জন্য সে আসতে পারবে না। অঞ্জনা প্রথমবারের মত একা একা বাড়ি যায়। আত্বীয় স্বজনদের বাড়িতে যায়, সবাই খোচা দিয়ে বলে বড় অফিসার, অনেক বড় চাকুরি, তারা অনেক খুশি। অঞ্জনা মনে মনে অনেক রাগ, জনি চাকুরির খবর এখনো তাকে বলেনি। বাবাও মনে মনে মেয়ের মনের অশান্তি অনুভব করতে পারছে। মেয়েকে আকারে ইঙ্গিতে বুঝায় লেখা পড়া শেষে করলে অঞ্জনাও আরো অনেক বড় চাকুরি পাবে। এমনি কয়েকদিন যেতে না যেতে অঞ্জনার ছুটি শেষ। তার বাবা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁেছ দিয়েছে, গাড়িতে অনেক বুঝিয়েছে মনদিয়ে পড়া-লেখা করার জন্য। অঞ্জনা বিশ্ববিদদ্যারয়ে যাওয়ার পর পড়া লেখায় সঠিকভাবে মন বসাতে পারে না। হলে বান্ধবীরা অনেক কথা বলে। সাথী কোথায় জানতে চায়, ফোন করে না কেন। নতুন কোন সন্ধান পেল কি না। কথার শেষ নেই সহপাটি ও বন্ধবীদের। বিকেলের আড্ডা প্রায় হয়, শুধু একজন নেই। আরো নতুন অনেকে আসে সে আড্ডাতে। পড়ালেখা আর আড্ডা এসব মিলে হলের সবাই ভাল আছে।

নতুন কর্মস্থলে যোগদান করে জনি। জনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় তার অনেক গুণের কথা ইতোপূর্বে নতুন কর্মস্থলের সবাই অবগত। জনি মাঝে মাঝে গান গেয়ে তার হলের সবাইকে মাতিয়ে রাখত। অনেক সময় অভিনয়ও করত। তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন তার অফিসের সর্বোচ্চ কর্তা বড় সাহেব। তাকে অফিসের করণীয় বর্জনীয় অনেক আদেশ উপদেশ দেয়া হল। পুরাতন সহপাঠিদের সাথে থাকার সুব্যবস্থা করা হল। অফিসের পিওন আবদুলকে বলে দিয়েছে জনিকে দেখা শুনা করার জন্য। আবদুল একদিন আসেতো একদিন আসে না। নতুন কর্মস্থলে অনেক লোক, অনেক কর্মকর্তা, তার সাথে কথা বলে সময় কাটায়, অফিসেও সবাই সবার পরিপুরক, পরিবারের কথা জানতে চায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা জানতে চায়। অফিসের সামনে অনেক বড় খেলার মাঠ। অফিস শেষে বিকেল বেলা অনেকে এই মাঠে খেলতে আসে। মাঠের চতুর্দিকে ফলজ, বনজ ও ফুলের বাগান রয়েছে। গোলাপ, গাদা ফুল ফুটে সকাল বেলা। কৃঞ্চচুড়া গাছে ছাতার মত ফুল ফোটেছে। মনে হচ্ছে গাছটি আকাশের সাথে ফুলের মিতালী করছে। বিকেল হতে হতে সে ফুলের পাপড়ি আর তাজা থাকে না। বিকেল বেলা কৃঞ্চচুড়া ফুলের পাপড়ি মাঠে পড়ে লাল গালিচা বিছানোর মত হয়ে যায়। মাঠের পাশে এক বড় পুকুর, অফিসের সবাই এই পুকুরে গোসল করে। এলকার অনেকে লাইন ধরে গোসল করে। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা কোন ঘাটলা নেই। সকলে একসাথে পাশাপাশি গোসল করে। যার যার মত করে চলে যায়। জনিও সে পুকুরে গোসল করে, সাতার কাটে, ছোটবেলা নিজেদের পুকুরে সাতার কাটা ভুলে যায়নি জনি। আবদুল সাকালের নাস্তা এনে দেয় হোটেল হতে। এতদিন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের পাতলা ডাল এখন হোটেলের খাবার। মনে অনেক রাগ, কখন যে আপনজনের হাতের রান্না খেতে পারবে। বড় সাহেব একদিন জনিকে বাসায় রাতে খাবারের দাওয়াত দেয়। বড় সাহেবের ছোট মেয়ে শাকিলা ঢাকায় একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। শাকিলার বিশ্ববিদ্যালয় তিন দিনের বন্ধ হওয়ায় সে তার বাবার কর্মস্থলে এসেছে, কর্মস্থলে তারা সপরিবারে বসবাস করেন। শাকিলার বাবার অনেক বড় বাংলো বাড়ি। বাড়ির চারিেিক প্রাচির দিয়ে ঘেরা। পুকুর, নানা ধরণের গাছে ভরপুর। শাকিলার বাবার পশু-পাখি পালনের অনেক বেশি শখ। তাই তার বাংলোতে অনেক পশু-পাখি আছে। অফিসের লোকজন এসব দেখাশুনা করে। মায়া হরিন, শালিক, ময়না, কবুতর এসবে ভরপুর। নতুন মেহমান আসলে সবাইকে জনির বড় সাহেব বাংলোতে পশু পাখির খামার দেখিয়ে নিজে তৃপ্তি পায়। শাকিলার বাবা তার মেয়ে ও ছেলে আরমানকে জনির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। সাথে আরমানের মাও ছিল। আজ তাদের বাড়িতে অন্য কোন লোককে দাওয়াত দেয়নি। শাকিলা দেখতে অনেক স্মার্ট, জিনস প্যান্ট পরা তার সাথে রং মিলিয়ে একটি হালকা গোলাপি রং এর টপস পরেছে, বব কাটিং চুল, কিন্তু একটু খাট দেখতে বেশি লম্বা নয়। শাকিলার সাথে কথা বলার সময় অঞ্জনার কথা মনে পড়ে জনির। অঞ্জনা অনেক লম্বা, গায়ের রং ফর্সা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অঞ্জনার গায়ে লেগে আছে। শাকিলা চুল অর্ধেকের মত ব্রাউন করেছে। পায়ের উপর পা তুলে সোফায় বাবার পাশে বসে জনির সাথে কথা বলছে। কথার মাঝে শাকিলা মাথা একটু হালকা নাড়া দেয় সাথে চুলগুলো অনেক সুন্দর করে বাতাসের উড়ে আবার বসে। গল্প করতে করতে অনেক রাত হল। আবদুল টেবিলে খাবার বসিয়ে দিল। শাকিলার মা রান্নাঘরে চলে গেল খাবার ঘুছিয়ে দিতে। শাকিলার বাবা ফ্রেশ হওয়ার জন্য বাথ রুমে গিয়েছে। আরমান তার বন্ধুর ডাকে উঠানের দিকে বের হয়। শাকিলা ও জনি গল্প করতে করতে আরমানে মা টেবিলে খাবার বসিয়ে দেয়। খাবার টেবিলে বসার জন্য সবাইকে বলা হল। বড় সাহেবের পাশে তার মেয়ে শাকিলা বসে। তার পাশে জনি এবং শাকিলার ভাই আরমান বসে। মাকে বসতে বলা হল কিন্তু মা টেবিলে বসেনি, তিনি সবাইকে প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছে। অনেক রান্না, মুরগি পোলাও, ছোট মাছে ছরছড়ি, ইলিশ ভুনা, ইলিশ মাছের ডিম ভুনা। জনি পূর্ব হতেই মুরগির পোলাও পছন্দ করে, তার তার চাহিদা মত তার মা প্রায় মুরগির পোলাও রান্না করে খাওয়াত। খবাররে সময় মায়ের কথা মনে পড়ে কিছুক্ষণ না খেয়ে বসে থাকায় শাকিলা জিজ্ঞাসা করে। শাকিলার সন্দেহ জনি কি চিন্তা করে খাবার না খেয়ে। পরক্ষণে খাওয়া শুরু করে জনি। খাবার শেষে ডেজার্ট, অনেক রকমের ফলের রেসিপি, সুন্দর করে পিরিচে বসানো আছে। শাকিলার আম্মু রান্নায় অনেক পারদর্শী। সে নিজের হাতে সব রান্না করেছে। খাবার খেতে খেতে অনেক গল্প করা হল। অফিসেরও অনেক কথা বলা হল। অনেক রাত হয়েছে, জনির চলে যাওয়ার সময়। শাকিলা জনির সাথে গল্প করতে চায় কিন্তু আজ মাত্র প্রথম দিন। পরে অনেক সময় পাওয়া যাবে গল্প করার জন্য। তাছাড়া মোবাইলেও কথা বলা সহজ। গল্প করতে করতে শাকিলা জনিকে মোবইল নম্বার দিয়ে দিয়েছে। জনি মোবাইল নম্বার নিতে বেশি আগ্রহ দেখায়নি। না নিলে বড় সাহেব যদি কোন কিছু মনে করেন। তাই জনি শাকিলার মোবাইল নম্বার তার মোবাইলে সেইভ করে রেখেছে। বলতে বলতে জনিকে বিদায় জানানো হল। শাকিলা, তার মা ও বড় সাহেব সবাই জনিকে তাদের বাংলোর গেইট পর্যন্ত এগিয়ে দেয়।

নয়ন সাহেব অফিসের দ্বিতীয় কর্মকর্তা। নয়ন সাহেবকে দিয়ে ইতোপূর্ব অফিসের সকল কাজ করাতেন বড় সাহেব। নয়ন সাহেব পরিবার নিয়ে সরকারী বাসায় বসবাস করেন। তার এক মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, এক ছেলে হামাগুড়ি দেয় মাত্র। নয়ন সাহেবের শালিকা অনামিকা তাদের সাথে থাকেন। অনামিকা স্থানীয় একটি কলেজে পড়ে। অনামিকা দেখতে খুবই রূপসী, চালচলন ভাবভঙ্গি অন্যরকম। নয়ন সাহেবের সাথে বড় সাহেবের বেশ ভাল সম্পর্ক। উন্নয়ন কাজ নয়ন সাহেব বেশি মন দিয়ে করেেত পছন্দ করেন। নতুন কাজের প্রতি তেমন কোন আগ্রহ থাকে না নয়ন সাহেবের। রিপেয়ারিং কাজ করতে অনেক পছন্দ করেন বলে অফিসের অনেকে নয়ণ সাহেবকে নিয়ে বলাবলি করেন। বড় সাহেবও নয়ন সাহেবকে দিয়ে অন্যান্য কজের সাথে উন্নয়ন কাজ করার এবং টিকাদাররে কাজ তদারকি করার জন্য দায়িত্ব দেন সবসময়। অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারিরা নয়ন সাহেবকে দুষ্টুমি করে টিকাদার বলে ডাকেন। টিকাদাররে সাথে নয়ন সাহেবের অনেক সক্ষতা রয়েছে। টিকাদারেদের অনেক ক্ষমতা, কারণ টিকাদারেরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকেন। নয়ন সাহেবের মাধ্যমে টিকাদারদের সাথে বড় সাহেবের সুসম্পর্ক রয়েছে। অনেক সময় টিকাদার বড় সাহেবকে গল্প শুনানোর মত করে ঐ অফিসে কর্মরত অনেক অফিসার ও কর্মচারিদের ভালমন্দ বলে থাকেন। বড় সাহেব এসব কথা শুনতে পছন্দও করেন বেশি। কর্মকর্তাদের দোষত্রæটি বের করার জন্য বেশি আগ্রহ করে এসব কথাগুলো শুনেন।

আজ শুক্রবার অফিস বন্ধ, শনিবারও অফিস বন্ধ। কিন্তু বড় সাহেব শনিবারে একটি কাজ দিয়েছে তাই কোথাও যেতে পারছে না জনি। শুক্রবার দেরি করে ঘুমানোর পর ওঠে হাত, মুখ ধৌত করা, তোয়ালে, লুঙ্গি ও টি-শার্ট কাঁধে নিয়ে পুকুর ঘাটে গোসল করতে যাওয়ার পথে নয়ন সাহেবের সাথে দেখা হল। সপ্তাহের বাজার করেতে বের হয়েছে। সাথে নয়ন সাহেবের শালিকা অনামিকাও আছে। জনি লুঙ্গি পরা তাই অনামিকাকে দেখে একটু ইতস্থ ভাব পরিলক্ষিত হল। নয়ন সাহেবকে সালাম দেয় আবার সামনে আসতে মন চায়লেও লজ্জায় অনামিকার সামনে আসলে কেমন হবে সে চিন্তা জনির। নয়ন সাহেব অনামিকাকে সাথে করে বাজারে চলে যায়। জনি অনেকদিন পর পুকুরে গোসল করে মনের মত করে। সাতার কাঁেট, পুকুরের এপার হতে অপর পারে কয়েকবার যাওয়া আসা করে অনেক দুর্বল হয়ে যায়। আবদুল নাস্তা আনবে সে আশায় জনি অনেক খিদেকেও কিছু মনে করেনি। গোসল শেষ করে ডরমিটরিতে এসে দেখে আবদুলের নাস্তা অর্ধেক বিড়ালে খেয়ে ফেলেছে। সকাল পেরিয়ে দুপুর গড়ানোর সময়, নাস্তা করা হয়নি জনির। মুড়ির টিনে সামান্য মুড়ি ছিল, মন খুব খারাপ, দু’এক মুষ্টি মুড়ি খেয়ে দুপুর পর্যন্ত কেটে যায়। মোবাইল রেখে পুকুর ঘাটে গোসলে যাওয়া, গোসল শেষে দেখে তার মোবাইলে অনেক কল এসেছে।

পরদিন বড় সাহেবের দেয়া সব কাজ ভালভাবে করেছে জনি। বড় সাহেবকে সকল কাজ সুন্দর করে বুঝিয়ে দেয়। বড় সাহেব অনেক খুশি। ডিজিটাল যুগের ছেলে, কাজ করার আগ্রহ আছে। জনিও মন দিয়ে কাজগুলো করেছে। অফিসে যোগদানের পর প্রথম কাজ। বড় সহেবের মনকে সন্তুষ্ট করা। এভাবে কাজের মাঝে দিন কেটে যাচ্ছে। কাজের ব্যস্ততা, বাড়িতে ফোন করার সময় থাকে না। ছোট বোন প্রিয়াকেও ফোন করার সময় পায় না। শাকিলার বিশ্ববিদদ্যালয় খুলেছে। রিতিমত ক্লাস, শাকিলা পড়াশুনা করতে পছন্দ করে। ক্লাসের ফাকে জনিকে ফোন করে কয়েকবার। জনি কাজের জন্য ফোন রিসিভ করতে পারে না। কখনো জনি বড় সাহেবের সামনে থাকে, কখনো নয়ন সাহেবের সামনে থাকে। বড় সাহেবেরে সামনে বেশি ফোন আসলে সাহেব মাইন্ডও করে। পরপর দ’ুদিন জনিকে ফোন করে শাকিলা না পেয়ে আবেগের বশত তার বাবাকে বলে ফেলে, ‘বাবা তোমার অফিসের নতুন অফিসার আমাদের বাসায় রাতে দাওয়াত খেয়েছে সে কেমন লোক এতবার ফোন কারি ফোন রিসিভ করে না’। বড় সাহেব মনে করেন জনির অনেক ফোন আসে। নিশ্চয় অন্য কোন মেয়ে তাকে ফোন করে। সেজন্য শকিলার ফোন রিসিভ করে না। বড় সাহেব মনে মনে অনেক রাগ জনির প্রতি। মুখ ফুটে কিছু বলে না। এদিকে নয়ন সাহেবের অনেক কাজ জনিকে দিয়ে করানোর কারণে নয়ন সাহেবও জনির প্রতি রেগে অছেন। কখন বড় সাহেবকে ভাগে পায়, জনির বিরুদ্ধে বলার সুযোগের খুজতে থাকে। অনেক বেশি বিশ্বাস করে বড় সাহেব নয়ন সাহেবকে, কথায় কথায় নয়ন সাহেবকে বলে জনি কোথায় যায় কার সাথে বেশি কথা বলে কোজ খবর রাখার জন্য। মোবাইলে কার সাথে বেশি কথা বলে তা দেখার জন্য। নয়ন সাহেবও সুযোগের অপেক্ষায় আছে। নয়ন সাহেব জনিকে বন্ধের দিন দাওয়াত দিতে চেয়ে সফল হয়নি। জনি চিন্তা করে নয়ন সাহেবের বাসায় তার শালিকা থাকে। দাওয়াত খেতে গেলে বড় সাহেব কি মনে করেন সে চিন্তায় জনি নয়ন সাহেবের বাসায় দাওয়াত গ্রহণ করেনি। নয়ন সাহেবও জনির উপর রেগে আছেন। বড় সহেবের বাসায় দাওয়াত খায়, তার বাসায় যায় না। মনে মনে বলে সময় আসলে দেখা যাবে। সুযেগ পেলে বড় সাহেবের কান ভারি করবেন। অনেক কাজের মধ্যে জনি একদিন একটি বড় ভুল করে ফেলে। নয়ন সাহেব বড় সাহেবকে জনির বিরুদ্ধে ইচ্ছেমত বুঝিয়েছেন। বড় সাহেব রাগ করে জনিকে অনেক বকাঝকা করেছেন। জনির মন খারাপ। অফিস শেষে পুকুর ঘাটে একা একা বসে তার বিশ্ববিদ্যায়ের কথা মনে করে। মনে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় হতে অঞ্জনাসহ ককস্বাজার ইনানী বিচে পিকনিকে যাওয়ার কথা। অঞ্জনার সাথে ইনানী সৈকতের বালু চর পাড়ি দিয়ে বড় বড় পাথরে বসে গল্প করে সূর্যাস্ত দেখার সময় হঠাৎ সাগরের ঢেউ এসে তাদের সমস্ত শরীর ভিজিয়ে দিয়েছিল। দু’জনের সকল পরিধেয় কাপড় ভিজে গিয়েছিল। ভিজে কাপড় নিয়ে হোটেলে আসার পথে অঞ্জনার ভিজে কাপড় তার গায়ের সাথে লেগে থাকার দৃশ্য বারবার মনে পড়ে। মনে হচ্ছিল ভিজে কাপড় অঞ্জনাকে কামড়ে ধরেছে। অঞ্জনা ভিজে কাপড় নিয়ে হোটেলে এসে সাওয়ারের পানিতে গোসল করে কাপড় পরিবর্তন করে।এসব কথা দুঃখের সময় বেশি মনে পড়ে। মনের যন্ত্রণা দুর করার চেষ্টা করে জনি। এভাবে কেটে যায় জনির চাকুরীর জীবন থেকে একটি বছর।

অঞ্জনা অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে। সে কথা জনিকে জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে অন্য বন্ধুদের সাথে বসে কথা বলার সময় হঠাৎ জনি ফোন করে অঞ্জনার বন্ধু খলিলকে। খলিল কথা বলতে বলতে অঞ্জনা বুঝতে পেরে রাগে সে স্থান হতে অন্যত্র চলে যায়। খলিল জনির সাথে কথা শেষ করে অঞ্জনার কথা জানতে চায়লে খলিল দেখে অঞ্জনা সেখানে নেই। অঞ্জনাও রাগ করে তার সম্মান শ্রেণিতে ভাল রেজাল্ট জানানোর চিন্ত থেকে দূরে সরে যায়। অঞ্জনা ভাবে জনি এতদিন তাকে একবারও ফোন করেনি। জনিতো নিয়মিত অঞ্জনার বন্ধুদের সাথে ফোনে খোজ খবর রাখে। মনের কষ্ট মনে রেখে অঞ্জনা অজানা এক জায়গায় বসে অনেক চিন্তা করে। জনি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় দুজনে রাঙ্গামাটিতে ঘুরতে গিয়েছিল, সুবলং জরর্ণায় দুজনে একসাথে গোসল করেছিল, স্পিড বোটে করে লেকের পানিতে ঘোরাঘুরি করা, গল্প করা এসব কথা মনে করে চোখ থেকে সামান্য পানি ঝরে। নিছক কেদে লাভ নেই মনে করে উঠে যায়। অঞ্জনা নিজে নিজে ভাবে সেতো ভাল রেজাল্ট করেছে। রেজাল্টের ধারাবাহিকতা রাখতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরি পেতেও পারে। পূর্বের চিন্তা করে লাভ কি? কিন্তু মন যে মানে না, মনকে বুঝানো খুবই কঠিন। কিছু স্মৃতি মনের অজান্তে কাদায়। অঞ্জনা মনকে স্থির করে হলে চলে যায়। নিজের পড়া লেখায় মনোনিবেশ করে। মাস্টার্সএ তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

বছর পার হয়ে যায়, কর্ম পরিধিও বড় হতে চলছে। ভাল মন্দ হিসেব করে বড় সাহেবকে কোন রকম ম্যানেজ করে চলছে জনি। কখনো রাগ কখনো শান্ত। বড় সাহেবের অবস্থা বুঝতে পেরে জনি মাঝে মধ্যে শাকিলাকে ফোন করে কথা বলে। বেশি কথা বলে না যেন কোন অসুবিধার সম্মুখি হতে না হয়। অঞ্জনাকে ফোন করলেও সে ফোন রিসিভ করে না। নিশ্চিত রাগ করেছে বুঝতে পেরেছে। জনি তার বন্ধুদের মাধ্যমে অঞ্জনার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে অনেকবার। অনেক ম্যাসেজও দিয়েছে ক্ষমা চেয়ে। কিন্তু কোনভাবে অঞ্জনা ফোন রিসেভ করে না। অঞ্জনা পড়ালেখার চিন্তায় অস্থির। যেভাবে হোক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরি পেতে হবে। ছেলেদের উপর নির্ভরশীল জীবন চলে না। পড়া লেখার মাঝে ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান স্যারের সাথে একটু দেখা করতে হয়। রাজনৈতিক লভিং প্রয়োজন, তাই দলের খাতায় নাম লেখানো, দলে পদ পদবী এবং হঠাত হঠাত মিছিল মিটিং এসবের কমতি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় সদা সর্বদা ব্যাস্ত, ক্লাস রুম, মাঠ, ক্যাম্পাস। জনি বছর দেড় চাকুরি অভিজ্ঞতা থেকে শিখে নিয়েছে তোষামোধি কিভাবে করতে হয়। বড় সাহেবদের কিভাবে সামাল দিতে হয়। বাম হাতি কাজতো আছেই। জনি বাম হাতি কাজে অভ্যস্ত না, করেও না। তাই হঠাত করে অনেক যন্ত্রনা সহ্য করতে হয়। অফিসে একটি বড় কাজ চলছে, সেটি দেখাশুনা করার দায়িত্ব জনির ওপর। নয়ন সাহেব ঐ কাজের জন্য বড় সাহেব এবং জনির উপর অনেক অসন্তুষ্ট। পূর্বের পরিচিত তাই নয়ন সাহেব টিকাদারদের সাথে নিজের হয়ে যোগাযোগ রাখে। টিকাদারেরাও বুঝতে পেরেছে জনিকে ম্যানেজ করা কঠিন হবে, নয়ন সাহেব হলে ভাল হত। বড় সাহেব মিটিংএ সবার সম্মুখে জনিকে বলে দিয়েছে কাজের মান যেন খারাপ না হয়। জনি বড় সাহেবের কথা সঠিক মনে করে টিকাদারদের কাজ আদায় করার জন্য বকাঝকা করে। টিকাদারেরা জনির ব্যবহারে অসন্তষ্ট, তাই বড় সাহেবকে জনির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ করেছে। বড় সাহেবকে নয়ন সাহেব এবং টিকাদারেরা ম্যানেজ করেছে। বড় সাহেব জনিকে অপছন্দ করা শুরু করল। এভাবে অনেক কষ্টে দু’বছর পার হল। জনি নিজেই চেষ্টা করছে তার গ্রামের বাড়ির কাছাকাছি বদলি হতে পারে কি না। এর মধ্যে তিন দিনের ছুটি ভোগ করে এসেছে জনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অঞ্জনার সাথে দেখা করার চেষ্ট করেছে। কিন্তু জনি অঞ্জনার সাথে দেখা করতে পারেনি। মন খারাপ করে কর্মস্থলে যোগদান করেছে। জনি অঞ্জনার বন্ধুদের নিকট ফোন করে খবরাখবর নেয়। অঞ্জনার মার্স্টাসের রেজাল্ট হয়েছে। সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছে। এসব সংবাদ জনি শুনেছে তার বন্ধুদের নিকট। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে অঞ্জনার বিভাগে শুন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। অঞ্জনা সে পদের জন্য আবেদন করেছে। জনির অফিসে নয়ন সাহেবের চেষ্টায় জনি বড় সাহেবের নিকট অনেক খারাপ একজ অফিসার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ইতিমধ্যে। বড় সাহেব জনিকে তার অফিস হতে সরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করছে। বড় সাহেব তার অফিসের বড় কর্তাকে বলে জনিকে অনেক দূরে একটি দ্বীপে বদলী করেছে। বদলীর আদেশ পেয়ে জনি মন খুবই খারাপ। তদবিরেও কোন কাজ হচ্ছে না। নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অফিস হতে বের হয়ে পুকুরের ঘাটে বসে অঞ্জনার বন্ধু আরিফকে ফোন দেয়। আরিফ জনিকে বলে ‘অঞ্জনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে’।


সর্বশেষ সংবাদ