জলদস্যু আত্মসমর্পণের প্যান্ডেল তৈরী হচ্ছে, মন্ত্রী ও আইজি আসবেন শনিবার

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:০৭ : অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী []

শনিবার ২৩ নভেম্বর মহেশখালী উপজেলার কালারমারছরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি ও পুলিশের আইজি ড. মো. জাবেদ পাটোয়ারী যথাক্রমে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকতে শনিবার সকাল ৯ টায় বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছাবেন। সেখান থেকে তাঁরা কিছুক্ষণের জন্য সার্কিট হাউসে অবস্থান করে জলদস্যু আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের সামগ্রিক বিষয়াবলী জ্ঞাত হবেন। এরপর শনিবার সকাল সোয়া ১০ টার দিকে সমুদ্র পথে স্পীডবোট যোগে জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগর আত্মসমর্পণের জন্য নির্ধারিত মাঠ কালারমারছরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি’র সরকারি প্রোগ্রাম ইতিমধ্যে কক্সবাজারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৌঁছে গেছে। বিষয়টি কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম সিবিএন-কে নিশ্চিত করেছেন।

আগামী ২৩ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১ টায় কালারমার ছরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই মাঠে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান করা হবে। গত সোমবার ১৮ নভেম্বর সকাল ১২ টার দিকে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের মাঠ পরিদর্শনকালে এসপি এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম আগত অতিথিদের নিরাপত্তা, অভ্যর্থনা, প্রটোকল, জলদস্যুদের জমায়েত, তাদের অস্ত্র জমা করা, যাতায়াত সুবিধা, প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরি, নিরাপত্তা বেষ্টনী, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান ইত্যাদি সার্বিক বিষয় মাথায় রেখে রেকি ও ম্যাপ তৈরি করে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক ব্যবস্থাসমেত পরিকল্পনা নেওয়া হয়। মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর থেকে কালারমারছরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্যান্ডেল, মঞ্চ, নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি সহ তৈরীকৃত ম্যাপ অনুযায়ী আনুষঙ্গিক কাজ শুরু হয়েছে। মহেশখালী থানা কর্তৃপক্ষ এই কাজ তদারকি করছে।

কক্সবাজার জেলার সবচেয়ে বেশী অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসাবে পরিচিত এই মহেশখালী উপজেলার কালামারছরা ইউনিয়ন। খুন, রাহাজানি, দস্যূতা, অপহরণ, চাঁদাবাজি সহ সব জগন্য অপরাধকর্ম সংগঠিত হওয়া কালারমারছরার জন্য একেবারে নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার।

মহেশখালীর চিহ্নিত অস্ত্রের কারিগর ও কূখ্যাত বেশ ক’টি জলদস্যু বাহিনীর সর্দার ও বাহিনীর সদস্যরা এদিন স্বদলবলে আত্মসমর্পণ করছেন। আত্মসমর্পণ করতে মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসার সংখ্যা আপাতত প্রায় একশো এর কাছাকাছির মতো হলেও আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের শৃংখলার প্রয়োজনে বৃহস্পতিবারের পরে আর কোন আত্মসমর্পণকারী মধ্যস্থতারীদের নিয়ন্ত্রণে আনা হবেনা। আত্মসমর্পণে আগ্রহী অনেক জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগর আগে থেকে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারনের অপেক্ষায় ছিলো। এখন তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় অপেক্ষায় থাকা এরকম আগ্রহীরা মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ন্ত্রণে আসার জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করছে বলে মধ্যস্থতাকারী প্রাইভেট টিভি চ্যানেল আনন্দ টিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজারের পেকুয়ার টৈটং এর বাসিন্দা এম.এম আকরাম হোসাইন সিবিএন-কে জানিয়েছেন। এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি প্রধান অতিথি, বাংলাদেশ পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) বিশেষ অতিথি, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার) পিপিএম, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, স্থানীয় অন্যান্য সংসদ সদস্যগণ, কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি সহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকতারা আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে সিবিএন-কে বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছেন। অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম সভাপতিত্ব করবেন।

অনুষ্ঠানে যোগদিতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার) পিপিএম আগামী শুক্রবার ২২ নভেম্বর কক্সবাজার পৌঁছাবেন বলে সুত্রটি সিবিএন-কে জানিয়েছেন। সুত্রমতে, অস্ত্রের কারিগর ও জলদস্যুরা প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ, ধারালো ভয়ংকর অস্ত্র, অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জাম সহ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়েছেন। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান সফল করতে, জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগরদের তাদের আস্তনা থেকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আনতে আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যস্থতাকারী আনন্দ টিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি এম.এম আকরাম হোসাইন বিরাট ঝুঁকি নিয়ে এখন দিনরাত মহেশখালী উপকূল ও সাগরে অবস্থান করছেন। ২০১৬ সাল থেকে কক্সবাজারের ভূমি পুত্র, সাংবাদিক এম.এম আকরাম হোসাইন মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়া উপকূলীয় এলাকা থেকে কুখ্যাত জলদস্যু, দাগী অস্ত্রের কারিগর, ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের স্বাভাবিকজীবনে ফিরিয়ে আনতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। দেশ মাতৃকার প্রয়োজনে, বিশেষ করে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলকে জলদস্যু মুক্ত করতে তিনি শ্রম, সময় ও মেধা ব্যয় করছেন অনবরত। একই সাথে তিনি সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ী, হুন্ডি কারবারিদের স্বাভাবিকজীনে ফিরিয়ে আনতেও তার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। একটি বিশ্বস্ত সুত্র সিবিএন-কে জানিয়েছে, এই দেশপ্রেমিক জনবান্ধব গণমাধ্যমকর্মীকে ২৩ নভেম্বর শনিবার একই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দেওয়ার চিন্তাও করছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদেরকে প্রনোদনা দেওয়া হবে বলে একটি সুত্রটি সিবিএন-কে জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণের পর অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হবে। তবে এ মামলা থেকে আত্মসমর্পণকারীরা সহজে মুক্তি পেতে মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্র পক্ষ তাদেরকে সহযোগিতা করবে। এটি হবে মহেশখালীতে জলদস্যুদের ২য় দফায় আত্মসমর্পণ। এর আগে আত্মসমর্পণকারী মহেশখালী-কুতুবদিয়া সমুদ্র উপকূলের ভয়ংকর জলদস্যুরা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিকজীবনে ফিরে এসেছে।

প্রসংগত, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে অনুরূপভাবে ৪৩ জন সশস্ত্র জলদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছিলো। সেখানে ৪৩ জনের মধ্যে বর্তমান আনন্দ টিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি এম.এম আকরাম হোসাইনের একক মধ্যস্থতায় ৩৭ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছিলো। এছাড়া চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারী ১০২ জন ইয়াবাকারবারী টেকনাফে চ্যানেল ২৪ টিভি’র তৎকালীন সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এম.এম আকরাম হোসাইনের একক মধ্যস্থতায় দেশে প্রথম মাদক কারবারি আত্মসমর্পণ করেছিলো। সেদিনের মাদক কারবারী আত্মসমর্পণ করা ছিলো এ দেশের জন্য একটা ইতিহাস ও রেকর্ড। একটি সুত্র সিবিএন-কে জানান, জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের এটা একটা বিরাট সুযোগ। যারা এই সুযোগ কাজে লাগাবে না তাদেরকে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।


সর্বশেষ সংবাদ