টেকনাফে আমনের বাম্পার ফলন

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:২৫ : অপরাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … টেকনাফে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত টেকনাফ উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ৬টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভা মিলে ১০ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ হয়েছে। চাষকৃত জমিতে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। পাহাড় ও নদী বেষ্টিত টেকনাফের পল্লী এলাকায় বিভিন্ন স্থানে আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আমন ধান কাটার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে আমন উৎসব।
টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে এবারে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর, বাহারছড়া ইউনিয়নে ১ হাজার হেক্টর, টেকনাফ সদর ইউনিয়নে ১ হাজার ১৩০ হেক্টর, হ্নীলা ইউনিয়নে ১ হাজার হেক্টর, সাবরাং ইউনিয়নে ১ হাজার হেক্টর, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে ৬৫ হেক্টর, পৌরসভায় ১৫ হেক্টরসহ প্রায় ১০ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাত আমনের চাষাবাদ হয়েছে। জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রিধান-৩৩, ৩৪, ৩৯, ৪৯, ৫১, ৫২, ৫৪, ৫৬, ৫৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৫, ৭৬, ৭৮, ৮৭ এবং বিনা কর্তৃক উদ্ভাবিত জাত ৭, ১৬, ১৭, ২০ ছাড়াও স্থানীয় জাতের মধ্যে ভারত পায়জাম, লেম্ব্রু , বিন্নি, লাল পায়জাম জাতের চাষ করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলার কৃষিকে ১৯টি বøকে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি বøকে ১জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৮ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। এছাড়া ১ জন উপজেলা কৃষি অফিসার, ১ জন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, ১ জন সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, ১ জন উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। পর্যাপ্ত জনবল সংকট থাকার পরও ৮ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিয়ে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সারের মজুদ পরিস্থিতি, রোগ ও পোকা মাকড় দমন, আলোক ফাঁদ স্থাপন, পরামর্শ প্রদান, প্রদর্শনী বাস্তবায়ন, কৃষি যন্ত্রপাতি জরিপ, কৃষি ম্যানুয়াল গ্রæপ তৈরিকরন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা ছাড়াও জাতীয় স্বার্থে ও কৃষকদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দিয়ে পর্যাপ্ত সার প্রাপ্তি নিশ্চিতকরন ও কীটনাশক প্রয়োগ সার্বিক তদারকি, পরামর্শ প্রদান এবং কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে চাষকৃত জমিতে আশাতীত ফলন দেখা দিয়েছে। মাঠের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পেরে কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। প্রতিটি কৃষক পরিবারে চলছে খুশির আমেজ। বাতাসে সোনালী ফসলের দোলা কৃষক-কৃষাণীর হাড়-ভাঙ্গা খাটুনির কথা ভুলিয়ে দেয়। তাছাড়া এবার আমন চাষীরা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়নি।
টেকনাফের উপকুলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়া কচ্ছপিয়া গ্রামের কৃষক মো: ফরিদ বলেন, ‘এবার আমন চাষে অকল্পনীয় ফলন হয়েছে। আমি ব্রিধান-৭৩, ৪৯ চাষ করেছিলাম প্রায় ১০ কানি জমিতে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপ-সহকারী কৃষি অফিসারের উপস্থিতিতে উল্লেখিত জাত কর্তন করা হয়। তাতে ফলন হয় ৬.০ টন (হেক্টর প্রতি) ও ৫.৪ টন (হেক্টর প্রতি)। যা আমার কল্পনার বাহিরে’।
বড়ডেইল গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন ‘অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক সময়ে রোপন, প্রশিক্ষণ, সঠিক সময়ে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, তদারকি, সবকিছু রীতিমত নিয়ম-মাফিক হয়েছে। তাছাড়া উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকি নিয়মিত যোগাযোগের কারনে এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি এলাকা ছাড়া রোগ ও পোকা মাকড়ের তেমন কোন প্রকোপ দেখা যায়নি’।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সরুওয়ার কাদের বলেন, ‘খাদ্যে স্বয়ং সর্ম্পূনা অর্জন ও কৃষকদের উন্নয়নের লক্ষ্যে মাত্রায় পৌছাতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এ কথা মাথায় রেখে উপকূলীয় এলাকায় সকল কৃষককূলকে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়া, অনুকূল পরিবেশ, পর্যাপ্ত সারের মজুদ প্রাপ্তি, কীটনাশকের সঠিক ব্যবহারসহ সব কিছু মিলিয়ে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে’।
সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নিরলস পরিশ্রম বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি কৃষকের দারগৌড়ায় পৌছিয়ে দেওয়ার কারনে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা এবং আন্তরিকতায় টেকনাফে কষকদের মধ্যে সোনালী আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় সবাই উল্লাসিত’। ##


সর্বশেষ সংবাদ