টেকনাফে হাসপাতাল আছে.ডাক্তার নেই! ২৫ বছর ধরে অচল

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৪৪ : অপরাহ্ণ

হাসপাতাল আছে, অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক সব যন্ত্রপাতিও আছে। তারপরও দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সেন্টমার্টিনে নেই চিকিৎসা সুবিধা।
প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের সমাবেশ হয় এ দ্বীপে। কিন্তু ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্য লোকবলের অভাবে এখানকার ১০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫ বছর ধরে অচলাবস্থায়। ফলে দ্বীপের প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দার স্বাস্থ্যসেবাও বন্ধ। হাতেগোনা কয়েকটি ছোট ফার্মেসির ওপরই তাদের নির্ভর করতে হয়। গুরুতর দুর্ঘটনা বা অসুস্থ হলে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা অথবা আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে জানালেন দ্বীপের বাসিন্দারা। পর্যটকদের অবস্থা বলাই বাহুল্য।

 

দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের কাছে অতি প্রিয় এই প্রবালদ্বীপ। কিন্তু এখানকার জনসাধারণ এবং পর্যটকরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্বীপে একটি হাসপাতালের থাকলেও নিয়মিত ডাক্তার না থাকায় তারা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। নামে মাত্র ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল রয়েছে। সুন্দর অবকাঠামের উপর যা কেবল দাঁড়িয়েই আছে। ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জন্য ৩তলা ভবনটি নির্মাণ করা হয় বিএনপি জোট সরকারের আমলে। সেই থেকে কারণে-অকারণে হাসপাতালটি নিজস্ব গতিতে এখনো যাত্রা করতে পারেনি। অবকাঠামোসহ সবকিছু সুবিধা থাকার পরও ডাক্তার না থাকায় দ্বীপের মানুষ যুগ যুগ ধরে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এদিকে দ্বীপের চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময়ে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্টিত সভায় হাসপাতাল সংক্রান্তে কথা বলেও কোন ধরণের সুরাহা হয়নি। চেয়ারম্যান নিজেই বহুবার সিভিল সার্জনকে বিষয়টি অবহিত করার পরও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,হাসপাতালটিতে একজন এমবিবিএস ডাক্তার রয়েছেন। তিনি কখনো সেন্ট মার্টিনে আসেন না। দ্বীপে পদায়নকৃত ডাক্তাররা না আসায় বছরের পর বছর এখানকার মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডাক্তার এবং কোন ধরণের নার্স না থাকায় জটিল এবং সাধারণ রোগীদের সেবা নিতে সাগর পথ পাড়ি দিয়ে টেকনাফ আসতে হয়। দীর্ঘ ৩ঘন্টার সাগর পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সময় রোগী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। বর্ষা এবং দুর্যোগের সময় সেবা না পেয়ে অনেক রোগী অকালে মৃত্যুবরণও করছেন। স্থানীয়রা জানায়,দ্বীপে প্রায় ১০হাজার জনসংখ্যা রয়েছে। এছাড়া সারা বছর পুলিশ,বিজিবি,কোষ্টগার্ড,নৌ-বাহিনী এবং ট্যুরিষ্ট পুলিশ দ্বীপে অবস্থান করেন। পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন ৩/৪হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে। স্থানীয় জনসাধারণসহ এসব লোকদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার মত কোন ডাক্তার নেই। বিষয়টি খুবই দু:খজনক মনে করেন দ্বীপের অধিবাসীরা। তৌহিদা আক্তার নামের স্থানীয় এক গৃহবধু জানান, ৬ মাস একবছর পর হঠাৎ ডাক্তার আসেন। এই গৃহবধু আরো জানান,ডাক্তার এবং নার্স না থাকায় গর্ভবতী মায়েরা কোন ধরণের সেবা পাচ্ছেন না। গর্ভবতী মায়েদের টেকনাফ গিয়েই চিকিৎসা নিতে হয়। ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান খাঁন জানান,সেন্ট মার্টিনের মানুষ মৌলিক অধিকার তথা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জটিল এবং কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য টেকনাফ নিয়ে আসা হয়। সাগর দিয়ে আসার পথে অনেক সময় রোগী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি দ্বীপের মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে একজন এমবিবিএস ডাক্তার,নার্সসহ প্রয়োজন সংখ্যক জনবল নিশ্চিত করার দাবী জানান। ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ জানান,ডাক্তার এবং কোন ধরণের নার্স না থাকায় দ্বীপবাসী এবং পর্যটকরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। তিনি সেন্টমার্টিনে মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সুমন বড়ুয়া জানান,আগষ্ট থেকে ডাক্তারের পোষ্টিং নেই। একজন এমএলএসএস এবং আরেক সেকমো দিয়ে হাসপাতালটি কোনমতে চলে আসছে। ডাক্তার সমস্যার বিষয়টি পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,দ্বীপের জনসাধারণ এবং পর্যটকদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।


সর্বশেষ সংবাদ