টেকনাফে সাড়া জাগিয়েছে আন্তর্জাতিক এনজিও ‘মোয়াস’

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:২০ : অপরাহ্ণ

বার্তা পরিবেশক … আর্তমানবতা বিপন্ন রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সমানতালে চিকিৎসা ফ্রী ঔষধ,জরুরি ভিত্তিতে ফ্রীতে এম্বুল্যান্স সেবা দানের সহিত,প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়ে মানবসেবা ও জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে এনজিও সংস্থা মোয়াস।এক্ষেত্রে ইউএনএইচসিআর এর অর্থায়নে মোয়াসের তত্ত্বাবধানে দূর্যোগ ও সাইক্লোন প্রবন টেকনাফ উপজেলার সিপিপি ভলান্টিয়ারদের আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং দেওয়া শুরু করেছে। সিপিপি সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলায় মোট ৯৯০ জন ভলান্টিয়ার রয়েছে। এদের সবাই কে ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মোয়াস সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ বাহার ছড়া শামলাপুরস্থ মনখালী খালের তীরে ভলান্টিয়ারদের প্রশিক্ষণের সুবিধার্তে দূর্যোগ প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। “ওয়াটার এন্ড ফ্লাড সেফটি ট্রেনিং”এর আগে মোয়াস,আইওএম ও ইউএনএইচসিআর ফান্ডে ক্যাম্প সমুহে প্রায় ১ হাজারাধিক ভলান্টিয়াকে পানি ও বন্যা নিরাপত্তার উপর ট্রেনিং প্রদান করেছেন।

উল্লেখ্য মোয়াস শুধু রোহিঙ্গাদের সেবায় নয় পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্ব মানবের দৃষ্টি কেড়েছে।গেল দুবছর আগে অবৈধভাবে সাগর পথে ইউরোপে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ভাসমান প্রায় ৫০ হাজার মানুষ কে উদ্ধার করে সারা দুনিয়ায় সুনাম অর্জন করে আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থা মোয়াস (MOAS)। এর মধ্যে ৭ হাজারই ছিলো বাংলাদেশী নাগরিক।

রোহিঙ্গারা মায়ানমার থেকে নিধন যজ্ঞের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিলে মোয়াস তাদের ফিনিক্স জাহাজে মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঔষুধ ও খাদ্যদ্রব্য নিয়ে ২০১৭ সালে তাদের সহায়তায় দু’বার চট্রগ্রাম বন্দর আসে।প্রায় অন্য সব এনজিও সংস্থার আগে ২০১৭ সালে মোয়াস মানবতাহীন রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে বাংলাদেশে এসে সাহায্যের হাত বাড়ায়। সেবায় বঞ্চিত এলাকা শামলাপুর ও উনচিপ্রাং ক্যাম্পে ২টি হাসপাতাল স্থাপন করে রোহিঙ্গাদের সেবা প্রদান করে মোয়াস শুধু তা নয় স্থানীয় অসহায় গরীব মানুষদেরও ফ্রী ওষুধসহ চিকিৎসা সেবা দানে প্রশংসা কুড়িয়েছে।আর সকল এনজিও সংস্থার গুলোর মধ্যে মোয়াসই রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি প্রথম স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা চালু করে।

আগামী বছর ২০২০ সাল থেকে মোয়াস স্থানীয় জেলেদেরকেও ট্রেনিং এর আওতায় আনবে।প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রবল স্রোত ভিউয়ের মাঝে পড়ে টেকনাফ উপকূলে অনেক জেলে মৃত্যুবরণ করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাগরে ডুবে তলিয়ে গিয়ে দুয়েকজন জেলের লাশও খোঁজে পাওয়া যায়নি তাই যথাযথ ট্রেনিং পেলে এ মৃত্যুহার কমে আসবে বলে আশা করা যায়। মোয়াসের এমন উদ্যোগে স্থানীয় জনসাধারণ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সিপিপি ডেপুটি ডিরেক্টর মি হাফিজ ও মোয়াস কো-অর্ডিনেটর শহীদ জানান, এর আগে জার্মান রেডক্রসের অর্থায়নে দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে দূর্যোগ মোকাবেলায় সহায়তা করতে ভলান্টিয়ারদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন।তাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন।যাতে দূর্যোগোর সময় মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পারে।##


সর্বশেষ সংবাদ