টেকনাফের লেদা বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা ইয়াবা পাচারকারী নিহত

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ২:১২ : অপরাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের সীমান্তে বিজিবির সাথে বন্দুকযুদ্ধে ১জন ইয়াবা পাচারকারী মিয়ানমার নাগরিগ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিজিবির ২ জন সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা মুল্যের ১ লক্ষ ২০ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি, ১টি দেশীয় তৈরী বন্দুক এবং ২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান পিএসসি জানান, ‘১৫ নভেম্বর টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার ছ্যুরি খালের নিকটস্থ বেড়িবাঁধ দিয়ে লেদা বিওপি’র একটি বিশেষ টহল দল নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। আনুমানিক রাত ১টার দিকে টহল দলটি ছ্যুরি খালের নিকটস্থ কেওড়া বাগানে মাটি খোঁড়ার শব্দ পেয়ে এগিয়ে গেলে ৩-৪ জন ব্যক্তিকে মাটি খুঁড়তে দেখে। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করা মাত্র টহলদল উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের উপর টর্চের আলো ফেললে তাদেরকে কালো পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তা মাটির নীচ হতে বের করতে দেখে। এ সময় টহল দলটি তাদের চ্যাঞ্জেল করলে বিজিবি’র উপস্থিতি লক্ষ্য করা মাত্রই সশস্ত্র ইয়াবা পাচারকারীরা তাদের উপর অতর্কিতভাবে গুলি বর্ষণ করতে থাকে। এতে বিজিবি টহল দলের ২ জন সদস্য আহত হয়। এ সময় বিজিবি’র টহল দলটি নিজেদের জান ও সরকারি মালামাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ৮-১০ মিনিট গুলি বিনিময় হয়। এরপর ইয়াবা পাচারকারীরা গুলি করতে করতে ঘটনাস্থল হতে দৌঁড়ে দ্রæত পালিয়ে যায়। গোলাগুলির শব্দ থামার পর টহল দলের সদস্যরা উক্ত এলাকা তল্লাশী করে উক্ত স্থানে ১ জন ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। গুরুতর আহত ব্যক্তিকে দ্রæত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জরুরী চিকিৎসা সেবা প্রদান করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে অবস্থানরত কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ১ লক্ষ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১টি দেশীয় তৈরী বন্দুক এবং ২ রাউন্ড তাঁজা কার্তুজ জব্দ করা হয়। পাচারকারীরা দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের সম্পর্কে কোন ধরণের তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে নিহত ব্যক্তির পকেটে রক্ষিত পরিচয়পত্র অনুযায়ী তিনি মিয়ানমার নাগরিক আবদুল মোতালেবের পুত্র নুর কবীর (২৮) বলে পরিচয় পাওয়া যায়। উক্ত ঘটনায় আহত বিজিবি সদস্যদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। সরকারী কর্তব্যে বাঁধা প্রদান এবং অবৈধ মাদক পাচারের দায়ে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে’। ##


সর্বশেষ সংবাদ