রোহিঙ্গা নারীর ভুয়া এনআইডির তথ্যও ইসির সার্ভারে

প্রকাশ: ২০ আগস্ট, ২০১৯ ৩:৪২ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেক্স:: এক নারীর পাসপোর্ট আবেদনের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে জাতীয় পারিচয়পত্রে বড় ধরনের জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে।

পুলিশ আর নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, রমজান বিবি নামে ওই রোহিঙ্গা নারী লাকী নাম নিয়ে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে তৈরি করিয়েছেন ওই জাল জাতীয় পরিচয়পত্র। অথচ ওই ভুয়া পরিচয়পত্রের তথ্যও নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত আছে।

যেভাবে ওই জালিয়াতি করা হয়েছে তা দেখে স্থানীয় নিবাচনী কর্মকর্তারাও বিস্মিত।

এ ঘটনায় রমজান বিবি ওরফে লাকী নামের ওই তরুণীর পাশাপাশি তাকে সহযোগিতার অভিযোগে আজিজুর রহমান নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছেন হাটহাজারি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম।

লাকী ও তার ভাই হিসেবে পরিচয় দেওয়া আজিজকে ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার থেকে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার লাকী পাসপোর্ট আবেদন ফরমে ঠিকানা লিখেছেন হাটহাজারি উপজেলার মীর্জাপুর ইউনিয়নের ওবায়দুল্লাহ নগর। বাবার নাম আব্দুর সালাম, মা শাহেদা বেগম। আজিজের ঠিকানা ও বাবা-মায়ের নামও এক।

চট্টগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, হাটহাজারিতে একটি চক্র রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করছে। আর তাদের আর্থ দিচ্ছে সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গারা।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পাসপোর্ট আবেদনের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে লাকী নামের কাউকে ওই ঠিকানায় না পাওয়ায় পুলিশের সন্দেহ হয়।

এদিকে লাকী তার স্মার্ট কার্ড তোলার জন্য আজিজকে সেঙ্গ নিয়ে রোববার জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে সেখানে তার হাতের পুরনো এনআইডিতে ১৭ ডিজিটের নম্বর দেখে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে খোঁজ করে দেখা যায় লাকীর পরিচয়পত্রের তথ্য সেখানে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু তথ্য মিলিয়ে বোঝা গেছে, সেটি তৈরি করা হয়েছে জালিয়াতির মাধ্যমে।

সার্ভারে ওই জাতীয় পরিচয়পত্রের নিবন্ধন ফরম নম্বর লেখা আছে ৪১৮৬৬৬৩৬৮। ভোটার সিরিয়াল নম্বর-১৭৬১ ও ভোটার এরিয়া কোড মীর্জাপুর (২ নম্বর ওয়ার্ড) (১২৯০) । কিন্তু হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ওই নম্বরের নিবন্ধন ফরম লাকীর নামে ইস্যু করা হয়নি। তার নামে কোনো কাগজপত্রও ওই কার্যালয়ে নেই।

আরিফুল ইসলাম পুলিশকে জানিয়েছেন, মীর্জাপুরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বশেষ ভোটার সংখ্যা ছিল ১৭৬০। কিন্তু লাকীর ভোটার সিরিয়াল নম্বর ১৭৬১। নিবন্ধন ফরমের যে নম্বর সার্ভারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই নম্বরের কোনো ফরম হাটহাজারি উপজেলার জন্য বরাদ্দ ছিল না।


সর্বশেষ সংবাদ