২৩ জুলাই বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত শেষ হচ্ছে

প্রকাশ: ১০ জুলাই, ২০১৯ ৩:৪৪ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:   আর মাত্র কয়েক দিনপর বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত শেষ হচ্ছে। চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ৬৫ দিন মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এ সিদ্ধান্ত নেন। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন জেলে ও মৎস্যজীবীরা। ঈদকে সামনে রেখে সমুদ্রে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে জানা গেছে, মে মাসের শেষের দিক থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মাছসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর প্রজননকাল। এ কারণে সাগরের মাছসহ প্রাণিজ সম্পদ রক্ষায় ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের পাশাপাশি নদীর মোহনাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। যার কারণে সাগরে মাছ ধরা সব ফিশিং ট্রলার কক্সবাজারের উপকূলে ফিরে এসেছে।
স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, একজন জেলে সারা বছর ফিশিং ট্রলারের জেলের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালায়। এতে প্রতি বছর প্রায় দুর্ঘটনার শিকার- যেমন জলদস্যুতা, ঘূর্ণিঝড়সহ নানা সমস্যায় পড়ে সংসার জীবনে তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেন না। এরমধ্যে সরকারের এমন ঘোষণা। এরমধ্যে কীভাবে তারা সংসার চালাবে, বুঝতে পারছেন না।
কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া এলাকার জেলে কবির আহমদ। দুই ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে তার সংসার। তিনি বলেন, পেটের যন্ত্রনায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, ঝড়-তুফান ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যাই। এরমধ্যে একদিন যেতে না পারলে পুরো পরিবার উপোস থাকে। সেখানে ৬৫ দিন সাগরে না গিয়ে কীভাবে থাকবো? আমাদের অন্য কোথাও পুনর্বাসন করা হোক। তা না হলে না খেয়ে মরবো।
একই কথা বলেন জেলে শামশুল আলম। তিনি বলেন, আমাদের অনেকের স্থায়ী ঘরবাড়ি নেই। কোনোভাবে অন্যের জায়গায় মাথা গোঁজার ঠাঁই করে থাকা। এখন আমাদের বাঁচার উপায় কী, তা জানি না।

মহেশখালী কুতুবজোম ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন খোকন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ জেলে। তারা দুই মাস বেকার বসে থাকলে সংসার চালাতে খুব সমস্যায় পড়বে। তাদের বিকল্প কোনও পুনর্বাসন করা না গেলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে।’
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাবেরুল ইসলাম বলেন, ‘মহেশখালীতে নিবন্ধনকৃত জেলে আছে ১০ হাজারেরও বেশি। এসময় যেহেতু সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, সেহেতু এসব জেলেদের বিকল্প হিসেবে ‘ভিজিএফ’র আওতায় চালসহ নানা সামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। পরবর্তীতে নির্দেশনা পেলে জেলেদের নানাভাবে সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘আগে সমুদ্রে বিভিন্ন ধরনের বড় বড় মাছ পাওয়া যেত, এখন আর যায় না। এসব মাছের প্রজনন সময় শুরু হয়েছে। তাই ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলায় ৪৮ হাজার ৩৯৩ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এছাড়াও অনিবন্ধিত জেলে রয়েছে অনেক। বেকার হয়ে পড়া জেলেদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা অথবা সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।


সর্বশেষ সংবাদ