টেকনাফে আবাসিক হোটেল থেকে ১০ পতিতাসহ ৬ খদ্দের আটক

প্রকাশ: ৫ মে, ২০১৯ ৩:০৫ : অপরাহ্ণ

টেকনাফে আবাসিক হোটেল থেকে ১০ পতিতাসহ ৬ খদ্দের আটক।  ৫ মে  দুই টার দিকে হোটেল রাজ মহলে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ১৬ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটকরা হলেন- উপজেলার সাবরাং ইউপির পানছড়িপাড়ার কবির আহম্মদের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম, দক্ষিণ শীলখালীর ইব্রাহিমের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহিমের ছেলে মো. রাশেদ, পৌরসভার জালিয়া পাড়ার বদরুজ মিয়া ছেলে মো. বাপ্পী, সদর ইউপির লেক্সগুরবিল এলাকার মো. হোসেনের ছেলে নুরুল আমিন, সাবরাং ইউপির আলীর ডেইল এলাকার নজির আহম্মদের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, বাহারছড়া দক্ষিণ শীলখালী এলাকার আব্দুল্লাহর স্ত্রী হাসিনা বেগম, রামু কচ্ছপিয়া এলাকার সাইদুলের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, ইউসুপের মেয়ে পারভিন আক্তার, লেদা এলাকার মো. আইয়ুবের মেয়ে ছকিনা, মোচনী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের নুর আলমের মেয়ে রাশেদা বেগম, লেদা এলাকার আহাম্মদ হোসেনের মেয়ে আরাদা বেগম ও থাইংখালী এলাকার মুজিবুর রহমানের মেয়ে নুর বেগম।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, পৌরসভার হোটেল রাজমহলের বিভিন্ন কক্ষে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় আট নারী ও পাঁচ পুরুষকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় হোটেলে মালিক সাবরাং কাটাবনিয়ার আব্দুল জলিলের ছেলে ফরিদ আহমদ ও পৌরসভার ইসলামাবাদের আবুল বাশারের ছেলে মো. ফারুককে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদক, টেকনাফ:: রোহিঙ্গা তরুণী নিয়ে রমরমা অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে টেকনাফের কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও ভাড়া বাসা। ক্যাম্প থেকে বিনা বাধায় নিরাপদ রোহিঙ্গাদের যাতায়তের সুযোগ থাকায় এ ব্যবসার সৃষ্টি। টেকনাফ পৌর শহরে প্রায় ১০ টি আবাসিক হোটেল ও অর্ধশত ভাড়া বাসা রয়েছে। এতে চিহ্নিত কয়েকটি ভাড়া বাসা
ও কয়েকটি আবাসিক হোটেল বর্তমানে মিনি পতিতালয়ে পরিনত হয়েছে। কয়েকটি ভাড়া বাসাতে মেয়ে এবং মদের জমজমাট আসর বসে।
বাস স্টেশন জামে মসজিদের সামনে দাঁড়ালে দেখা যায় বোরকা পরা স্মার্ট তরুণীরা চাঁদের গাড়ী, চারপোকা গাড়ী , সিএনজি ও লোকাল বাস থেকে নেমে একা রিক্সা বা পায়ে হেঁটে কোথায় ছুটে যায়। সন্ধ্যা হলে ঐসব তরুণীরা বাজার সওদা করে একই গাড়িতে করে হাঁসি মুখে আবার ফিরে যায়।
বাস স্টেশনের একজন ব্যবসায়ী বলেন আমার সামনের আবাসিক হোটেলে প্রতিদিন ১০ থেকে বিশ জন বোরকা পরা কম বয়সী মেয়ে উঠা-নামা করে এবং স্থানীয় অনেক যুবক ও মধ্য বয়সী লোকজনকে আসা যাওয়া করতে দেখা যায়, সে খানে তারা কি করে আমি জানিনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পান দোকানি বলেন- টেকনাফ খুব বেশী খারাপ হয়ে গেছে, ঐ হোটেলে রাত দিন পতিতা ও খদ্দের আসা যাওয়া করে, প্রায় সময় খুচরা ইয়াবা, মদ, গাজা খোঁজে। তিনি আরো বলেন আবাসিক হোটেলের মহিলা গুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসে, কিছু রাতে থাকে আর কিছু দিনে, এ সব অবৈধ কাজ প্রশাসন দেখেনা কেন।
এ ব্যপারে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  টেকনাফ নিউজকে বলেন- আবাসিক হোটেল ভিত্তিক অবৈধ ব্যবসা বন্ধে আমরা সতর্ক রয়েছি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ব্যপক সংখ্যক পুরুষ মহিলা এইচ আইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। রোহিঙ্গা মহিলাদের সাথে স্থানীয় পুরষদের অবাধ মেলা মেশার কারণে আগামীতে টেকনাফে প্রচুর সংখ্যক এইডস রোগী সৃষ্টি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন ও রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। আরও প্রায় অর্ধশত আছেন মুমূর্ষু অবস্থায়।
জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে ৩৭৮ জন এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি চিহ্নিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৫৮ জন রোহিঙ্গা, ১২০ জন বাংলাদেশি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের ১৬৫ জন পুরুষ, ১৬৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি। এখন ২৭৩ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন, যাঁদের ২১১ জন রোহিঙ্গা। বর্তমানে যাঁরা চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে ৪০ জন মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন।
জেলায় এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গত প্রায় আড়াই বছরে (২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে এখন পর্যন্ত) মারা গেছেন ৫২ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৮ জন বাংলাদেশি ও ১৪ জন রোহিঙ্গা। সর্বশেষ মারা গেছেন ৪৫ বছর বয়সী একজন রোহিঙ্গা নারী। তিনি গত বছর মিয়ানমার থেকে এসেছিলেন। আক্রান্ত ও মৃত বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই কাজের সূত্রে মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন। ধারণা করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে থাকার সময় তাঁদের সংক্রমণ হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র জানায়, আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের ২০ জনকে বাংলাদেশে আসার পর শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যরা মিয়ানমারে থাকতেই তাঁদের সংক্রমণের বিষয়ে জানতেন।
এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে ৩৭৮ জন এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি চিহ্নিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৫৮ জন রোহিঙ্গা, ১২০ জন বাংলাদেশি।


সর্বশেষ সংবাদ