টানা ৪২ দিন কথা বলেন না যেসব গ্রামের বাসিন্দা

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ৯:০৫ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::

ভারতের হিমাচল প্রদেশের মানালির কুলু জেলায় রয়েছে গোশাল নামের একটি গ্রাম।

এ গ্রামের বাসিন্দারা জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখ পর্যন্ত ৪২ দিন কোনো কথা বলেন না।

এমনকি কোনো পর্যটককেও কথা বলার সুযোগ দেন না গ্রামের বাসিন্দারা।

তবে কথা না বললেও তারা এই সময়ে হেডফোনে গান শোনেন, বেড়াতে যান এবং চুপচাপ বাড়ির কাজ করেন।

গোশাল গ্রামটি বেশিরভাগ সময়ই বরফে আচ্ছাদিত হয়ে থাকে। এ গ্রামে প্রচলিত রয়েছে অনেক পৌরাণিক গল্প, যা গ্রামবাসীরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন।

আর সেই বিশ্বাস থেকেই তারা এমনটি করেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ৪২ দিন কথা না বলার প্রথাটি এসেছে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে।

এ বিশ্বাস কেবল গোশালেই নয়, পাশের বুরুয়া, শানাগ ও কুলাং গ্রামবাসীও এ প্রথায় বিশ্বাসী।

এ ছাড়া হিমাচল প্রদেশের মাঝাচ, পালচান, কোঠি, রুয়ার গ্রামের বাসিন্দারাও ৪২ দিন নীরবতা পালনের বিষয়টি বিশ্বাস করেন।

তাই বলে টানা ৪২ দিন কেন চুপ করে থাকেন এই গ্রামগুলোর বাসিন্দারা?

ধর্মীয় মতে, জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখ পর্যন্ত এই সময় গভীর ধ্যান শেষ করে ঈশ্বর স্বর্গের পথে ফিরে যান।

আর ঈশ্বরের স্বর্গে যাওয়ার পথে যাতে কোনো অসুবিধার মুখে না পড়েন, তাই এ সময় কথা বলা বন্ধ রাখেন গ্রামবাসীরা।

এ বিষয়ে যে পৌরাণিক কাহিনী জুড়ে আছে- স্থানীয় বিপাশা নদীর তীরে বসে ঋষি গৌতম তপস্যা করছিলেন।

গ্রামবাসীরা মনে করেন ঋষি গৌতম এখনও ধ্যানে মগ্ন। সেই তপস্যাকে শ্রদ্ধা করে যেন হইচই বা আওয়াজ না ছড়ায় তাই চুপ করে থাকেন গ্রামবাসী।

সোলাং ও রুয়ার গ্রামের বাসিন্দারা শুধু চুপ করেই থাকেন না, পাশাপাশি নিয়মিত কৃষিকাজ বন্ধ রাখেন।

গোশাল গ্রামে রয়েছে বহু প্রাচীন একটি মন্দির, যেখানে গৌতম ঋষি, বেদব্যাস ও কাঞ্চন নাগের পূজা অর্চণা করা হয়।

সারা বছরজুড়ে এ মন্দির দেখতে আসেন পর্যটকরা।

তবে এই ৪২ দিন এ মন্দিরেও উপাসনা বন্ধ হয়ে যায়।

মন্দিরে কোনোরকম পূজাও করা হয় না জানিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে পুরোহিত জানান, ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখের পর মন্দির খোলা হবে।

এ বিষয়েও একটি ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা বলেন পুরোহিত। তিনি বলেন, মন্দির খোলার পর যদি মেঝেতে একটা ফুল পড়ে থাকতে দেখা যায়, তবে বিষয়টি গ্রামগুলোর জন্য শুভ বলে মনে করা হয়।

আর যদি ফুলের বদলে কয়লার টুকরো পড়ে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবে ধরে নেয়া হয় যে, পাঁচ দিনের মধ্যেই গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

গোশাল গ্রামের এমন রীতি নিয়ে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরফ ঢাকা এ জায়গাগুলোতে এই সময়ে সূর্যের দেখা মিলে না। সেই সময় সেখানে এতটাই বেশি বরফ পড়ে যে, দৈনন্দিন কর্মক্ষমতাই থাকে না স্থানীয় বাসিন্দাদের। কৃষিকাজ বাধাগ্রস্ত হয় বৈরী আবহাওয়ায়।

এ সময় শীতে কাবু হয়ে তারা অলস সময় কাটান। তাই কথা বলার বা বাড়ি থেকে বেরোনোর সুযোগ মেলে না তাদের।


সর্বশেষ সংবাদ