টেকনাফে বিজিবি-র‌্যাবের অভিযানে ৩৮ কোটি টাকার ইয়াবাসহ মাদক ও চোরাইপণ্য উদ্ধার

প্রকাশ: ৩ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:০৯ : অপরাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি ও র‌্যাবের পৃথক অভিযানে অক্টোবর ১ মাসে ৩৭ কোটি ৮৮ লক্ষ ৭৩ হাজার ২৫৬ টাকা মুল্যের ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ও চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযানে ১০৯টি মামলায় ৩৬ জন গ্রেপ্তার, ৩ জনকে পলাতক এবং ১ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
র‌্যাব-৭ টেকনাফে ১ অক্টোবর হতে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২কোটি ৫লাখ টাকার মূল্যমানের মাদক ও চোরাইপণ্য জব্দ করেছেন বলে জানা গেছে। এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় মোট ৮টি মামলায় ১৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। র‌্যাব-৭ টেকনাফ ক্যাম্পের ইনচার্জ লেঃ মির্জা মাহাতাব শাহেদ জানান, ‘চলমান মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে র‌্যাব। এ অভিযানে ১ অক্টোবর হতে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ কোটি ৮৩ লক্ষ ২হাজার ৫০০ টাকা মূল্যমানের ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬০৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যর মধ্যে আরও আছে ৮ হাজার টাকা মূল্যমানের ১০ ক্যান এনার্জি ড্রিংক, ৪২৪ ক্যান বিয়ার, ২০ লক্ষ ৬৯ হাজার ২০০ টাকা মূূল্যমানের ২ লক্ষ ৬ হাজার ৯২০ পিস মিয়ানমারের সিগারেট, মাদক বিক্রির নগদ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়’।
তিনি আরও বলেন, ‘চল যায় যুদ্ধে-মাদকের বিরুদ্ধে’ এই শ্লোগানে দেশব্যাপী র‌্যাবের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মূলতঃ ইয়াবা মিয়ানমার হতে পাচার হয়ে টেকনাফে আসত। এরপর বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে সারাদেশে সরবরাহ করা হতো। মিয়ানমার হতে নৌ-পথে আসা ইয়াবার চালানগুলো সড়ক, রেল ও বিমানপথে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। র‌্যাব এ সকল মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মাদক পাচার রোধে গত ২৫ জুলাই হতে টেকনাফে র‌্যাবের অতিরিক্ত ৫টি ক্যাম্প স্থাপনসহ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে মায়নমার হতে টেকনাফ হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবা সরবরাহ দূরূহ হয়ে উঠে। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা নিত্য নতুন রুটে ইয়াবা সরবরাহ করতে পরিকল্পনা করছে’।
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পরিচালক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানান, ‘টেকনাফ-২ বিজিবির অধীনস্থ বিওপি ও ক্যাম্প সমূহ ১ অক্টোবর হতে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে টহল পরিচালনার মাধ্যমে সর্বমোট ২৫ কোটি ৮৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ২৫৬ টাকা মূল্যমানের ইয়াবা ট্যাবলেট, বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল আটক করে। এ মাসে মোট ৮ লক্ষ ৭ হাজার ৭৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তম্মধ্যে ৯৭ হাজার ৫৩৪ পিস ইয়াবা মালিকসহ এবং ৭ লক্ষ ১০ হাজার ২৪৬ পিস ইয়াবা মালিকবিহীন। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ৪৫টি মামলায় ২০ জন চোরাকারবারী গ্রেপ্তার, ২ জন পলাতক এবং ১ জন অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অন্যান্য মাদকের মধ্যে রয়েছে ৯টি মামলায় ১১ লক্ষ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা মুল্যের ৭৪৫ বোতল মালিকবিহীন বিদেশী মদ, ১জন আসামীসহ ১টি মামলায় ১৫ হাজার টাকা মুল্যের ৫০ লিটার চোলাই মদ। এছাড়া ৪৬টি মামলায় ৩ জন আসামীসহ ১ কোটি ৪৯ লক্ষ ৬ হাজার ৭৫৬ টাকা মুল্যের বিভিন্ন চোরাইপণ্য আটক করা হয়েছে’। ##


সর্বশেষ সংবাদ