ইসরাইলি পেপসি ও কোকাকোলা কিনছেন না ক্রেতারা

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট, ২০১৮ ১১:০৬ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কোমল পানীয় পেপসি ও কোকাকোলা বিক্রি না হওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন এ এলাকার ব্যবসায়ীরা। ঈদ উৎসবেও এ দুটি কোমল পানীয় বিক্রি না হওয়ায় তাদের মধ্যে এ হতাশা বিরাজ করছে।

ফিলিস্তিনের গাজায় নারী ও শিশুদের ওপর ইসরাইলি হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা ইসরাইলি কোমল পানীয় পেপসি ও কোমল পানীয় কোকাকোলা কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন।

বিক্রেতারা জানান, ঈদে কোমল পানীয়ের চাহিদা মাথায় রেখে বিশ্বের অন্যতম সেরা কোমল পানীয় হিসাবে পেপসি ও কোকাকোলার মজুদ করা হয়। কিন্তু ফানটা, স্প্রাইট ও মোজোসহ অন্যান্য কোমল পানীয় কিনলেও পেপসি ও কোকাকোলা কিনছেন না ক্রেতারা।

নগরীর বহদ্দারহাটের পাইকারি দোকান হক ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা যায়, কোমল পানীয় কিনতে আসা অনেক ক্রেতা ফানটা, স্প্রাইট, মোজো, ক্লেমন চাইলেও তা নেই বলে জানান দোকানদার। পেপসি আর কোকাকোলা কিনতে বললেও তা কিনছেন না।

এ সময় ফরিদুল ইসলাম, আলিমুজ্জামান, নাছিমা বেগম, মুন্সি মিয়াসহ কয়েকজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেপসি ও কোকাকোলা কেনা তো দুরের কথা এসব পণ্য বিক্রয় বন্ধ করা উচিত। এমনকি প্রত্যেক মুসলিম দেশে এ পণ্য বিক্রয় ও বিপণন নিষিদ্ধ করা উচিত।

তারা বলেন, পেপসি হচ্ছে ইসরাইলি পণ্য, আর কোকাকোলা হচ্ছে আমেরিকান পণ্য। এই আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদেই ইসরাইল ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালাচ্ছে। নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করছে। তারা মুসলিম দেশগুলোতে পেপসি ও কোকাকোলা বিক্রি করে হাজার হাজার কোটি ডলার আয় করে ফিলিস্তিন যুদ্ধে ব্যয় করছে।

আলিমুজ্জামান বলেন, পেপসি ও কোকাকোলা পান করা মানে ফিলিস্তিন মুসলমান নারী ও শিশুদের রক্ত পান করা। একজন মুসলমান হিসাবে আমি তা করতে পারি না। বিবেকবান মানুষ হিসাবেও আমেরিকান ও ইসরাইলি এই বর্বরতায় সমর্থন জোগাতে পারি না।

এছাড়া এই কোমল পানীয় দুটি শুকরের চর্বিসহ নানা রকম হারামদ্রব্য দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। তাই আমার ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে কোমল পানীয় দুটি পান করা বন্ধ করে দিয়েছি। সকল শুভাকাঙ্খিদের এই কোমল পানীয় পান না করার জন্য সচেতন করে তুলছি।

সরেজমিনে নগরীর চকবাজার, ঝাউতলা, পাহাড়তলি, রেয়াজউদ্দিন বাজার, ফিরিঙি বাজার, কালামিয়া বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি দোকানগুলোতে অন্যসব কোমল পানীয়ের সংকট থাকলেও পেপসি ও কোকাকোলার স্তুপ পড়ে আছে। পেপসি ও কোকাকোলা বিক্রি না হওয়ায় চরম হতাশা প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীরা।

রেয়াজ উদ্দিন বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ঈদ উৎসবের কারণে প্রচুর পরিমাণ পেপসি ও কোকাকোলা মজুদ করা হলেও বিক্রি না হওয়ায় কোম্পানির টাকা দিতে পারছি না। টাকার জন্য কোম্পানির লোক এসে বিরক্ত করছে।

কোকাকোলার রেয়াজ উদ্দিন বাজার ডিপোর বিক্রয় কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, কোকাকোলা বিশ্বের সেরা কোমল পানীয়। কিন্তু গাজায় ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলি হামলার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে এ পানীয় পান করছে না সাধারণ মানুষ। এর ফলে কোকাকোলা ব্যবসায় এক রকম ধস নেমেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

একই কথা জানালেন পেপসির চট্টগ্রাম কাপ্তাই রাথা মাথা ডিপোর বিক্রয় কর্মকর্তা মো. শফি। তিনি বলেন, আমেরিকা ও ইসরাইলি বর্বরতার প্রতিবাদে এ দেশের মানুষ সোচ্চার হয়েছে। এতে পেপসি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলেও আমার কোন দু:খ থাকবে না।

(ঢাকাটাইমস/৩আগস্ট/প্রতিনিধি/এমআর/ঘ.)

কোমলপানীয় হিসেবে পরিচিত পেপসি এবার নতুন আঙ্গিকে তাদের ব্যবসা ঢেলে সাজাচ্ছে। নিজেদের ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারণ করতে ইসরায়েলি কোম্পানি সোডাস্ট্রিম কিনে নিয়েছে তারা। ইসরায়েলি ওই কোম্পানিটি হলো সোডাস্ট্রিম। ওই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান মালিককে ৩২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে এটি কিনে নেয় পেপসিকো৷ এ খবর জানিয়েছে জার্মান ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডয়েচ ভেলে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে শেষ হবে পুরো প্রক্রিয়া৷ এরপরই শুধু কোমলপানীয় নয়, স্বাস্থ্যসম্মত ফিজি ড্রিঙ্ক উৎপাদনকারী হিসেবেও বাজারে তাদের ব্র্যান্ডিং করবে পেপসি৷
পেপসিকোর চেয়ারম্যান ও সিইও ইন্দ্র নোয়ি এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘পেপসিকো ও সোডাস্ট্রিম দুর্দান্ত জুটি হবে। আমাদের ব্যবসায় অনেক কিছু যোগ করবে সোডাস্ট্রিম৷’

সোডাস্ট্রিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যানিয়েল বির্নবাউম এই চুক্তিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন৷

অতীত বিতর্ক

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কোমল পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানই এখন অপেক্ষাকৃত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও পানীয়ের দিকে ঝুঁকছে৷ ইউরোপ ও এশিয়ার বাজার দ্রুত দখলে নিলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি সোডাস্ট্রিম৷

কিন্তু অন্য একটি কারণে বিতর্কিত সোডাস্ট্রিম৷ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির মূল কারখানার অবস্থান ছিল ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে৷ ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্ব ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারীত্বের প্রতিবাদকারীরা এটিকে কখনই সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি৷

এক পর্যায়ে অর্থনৈতিক কারণ দেখিয়ে ২০১৫ সালে সোডাস্ট্রিম কারখানাটি বন্ধ করে দেয় এবং কারখানা সরিয়ে নেয়া হয় দক্ষিণ ইসরায়েলে৷


সর্বশেষ সংবাদ