আলোকিত ও সাদা মনের মানুষ ডা. জামাল কতৃক প্রতিষ্টিত ‘হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন’ সফলতার ২০ বছরে

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট, ২০১৮ ১১:১৪ : অপরাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ …হাঁটি হাঁটি পা পা করে টেকনাফের হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউ-েশন চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সফলভাবে ২০ বছর অতিক্রান্ত করে ২১তম বছরে পদার্পন করেছে। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থান কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা। এই উপজেলার একটি ইউনিয়ন হ্নীলা। আর এই ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম ফুলের ডেইল। বিশ বছর আগে ১৯৯৮ সালের ৫ মার্চ টেকনাফ উপজেলার সর্বপ্রথম চিকিৎসক ডাঃ জামাল আহমেদ প্রতিষ্ঠা করেন হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউ-েশন। বর্তমানে অসহায় ও দুঃস্থ টেকনাফবাসীর অন্যতম আশ্রয়স্থল, জনসেবার অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফাউ-েশনটি পুরো এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। বিশ বছরের পূর্ণতা পেয়ে আজ তিলে তিলে গড়ে উঠেছে এক বিশাল মহীরূহ। ফাউ-েশনের বর্তমান নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, শিক্ষা সহায়ক প্রকল্প, গণপাঠাগার, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা এবং বার্ষিক চিকিৎসা শিবির।
জানা যায়, ডাঃ জামাল আহমদের পিতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাওলানা আবুল হাশেম, মা গুলফরাজ আরা বেগম। এলাকায় দানবীর এবং গরীব, মেহনতী মানুষের সেবা প্রদানের জন্য মরহুম মাওলানা আবুল হাশেমের ব্যাপক সুনাম ছিল। টেকনাফ উপজেলার প্রথম চিকিৎসক হিসেবে যখন ডাঃ জামাল আহমদ এমবিবিএস ডিগ্রিপ্রাপ্ত হলেন তখন তিনি তাঁর ছেলে ডাঃ জামালকে গ্রামের আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত গরীব-দুঃখী মানুষের সেবা করার কথা বলেন। বাবার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে একসময় ডাঃ জামাল অনুভব করলেন এই সেবা তো বাড়ীতে বসে করা সম্ভব নয়। এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন। ডাঃ জামাল কয়েকজন চিকিৎসক বন্ধু, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ছোট্ট পরিসরে ফুলের ডেইল গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন ‘হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউ-েশন’।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, মেধা আর শ্রমের সার্থকতা এখন খুঁজে পাওয়া যায় হ্নীলা ফুলে ডেইল গ্রামে। নিজস্ব ভবনে চলছে ফাউ-েশনের বহুমুখী কার্যক্রম। জনহিতকর কাজ বৃহত্তর আঙ্গিকে পরিচালনা করা কোন এক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজন সাংগঠনক ভিত্তি। আর তাই এই বিশ বছর পর ডাঃ জামাল আহমদ এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমার অভিজ্ঞতায় বলেন ‘সর্বমহলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া কোন ভাল কাজই সার্থকতা পায়না। ফাউন্ডেশনের ভিত্তি প্রস্তুতকালে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও পরবর্তীতে সকলের সহযোগিতায় এই বিশাল কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে’। একদিকে পেশাগত ব্যস্ততা, অন্যদিকে জনকল্যাণকর কাজের বিশাল পরিধি এই দুইয়ের সম্মিলন ঘটিয়ে ডাঃ জামাল আহমদ সমগ্র টেকনাফ উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সাড়া জাগানো কাজ করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে সুদীর্ঘ বিশ বছর ধরে ‘হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউ-েশন’ একটানা কাজ করতে সক্ষম হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, শিল্পপতি, দেশের প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশনের বার্ষিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বরা হলেন ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম লায়ন্স ক্লাবের গভর্ণর আবদুল গাফ্ফার দোভাষ, অধ্যাপক মাহবুব কামাল চৌধুরী, অধ্যাপক ডাঃ ইমরান বিন ইউনুস, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহেদ হোসাইন।
১৯৯৯ সালে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবু শংকর চন্দ্র বসু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ আবু তাহের, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন চৌধুরী। ২০০০ সালে মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, অধ্যাপক ডাঃ ইমরান বিন ইউনুস, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন চৌধুরী। ২০০১ সালে মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী অধ্যাপক ডাঃ মুলকুতুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আমির হোসেন, ডাঃ খুরশিদ জামিল চৌধুরী, দৈনিক পূর্বকোণের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ডাঃ রমিজ উদ্দিন চৌধুরী, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন চৌধুরী। ২০০২ সালে মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শাহজাহান চৌধুরী, অধ্যাপক ডাঃ মুলকুতুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আমির হোসেন, ডাঃ খুরশিদ জামিল চৌধুরী, দৈনিক পূর্বকোণের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ডাঃ রমিজ উদ্দিন চৌধুরী, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন চৌধুরী। ২০০৩ সালে মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শাহজাহান চৌধুরী, অধ্যাপক ডাঃ এম এ ফয়েজ, অধ্যাপক ডাঃ মুলকুতুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আমির হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ রিদওয়ানুর রহমান, ডাঃ আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার। ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, অধ্যাপক ডাঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ মুলকুতুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ এস. এম. তারেক, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আমির হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ ওয়াজির আহমদ, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার। ২০০৫ সালে মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শাহজাহান চৌধুরী, অধ্যাপক ডাঃ চৌধুরী বি. মাহমুদ, অধ্যাপক ডাঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ ইমরান বিন ইউনুস, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব এইচ কে আনোয়ার। ২০০৬ সালে মাননীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, অধ্যাপক ডাঃ ইমরান বিন ইউনুস, অধ্যাপক ডাঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ মুলকুতুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আমির হোসেন, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার, হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী, চট্টগ্রাম টেকনাফ সমিতির সভাপতি মুখতার আহমদ।
২০০৮ সালে সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) ফখরুল আজম (এনডিসি, পিএসসি), বিশিষ্ট মৎসবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল, ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির, ডাঃ মোমেনুজ্জামান, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আমির হোসেন, প্রাক্তন সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম বিএমএ সভাপতি ডাঃ খুরশিদ জামিল চৌধুরী।
২০০৯ সালে মাননীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি সিআইপি, অধ্যাপক ডাঃ মাহবুব কামাল, অধ্যাপক ডাঃ ইমাম উদ্দিন, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক আহমদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এইচএম ইউনুচ বাঙ্গালী।
২০১০ সালে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র এবিএম মুহিউদ্দীন চৌধুরী, সাবেক সাংসদ অধ্যাপক আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ শফিক মিয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এইচএম ইউনুছ বাঙ্গালী, হীলা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ এইচকে আনোয়ার, কোডেক এর নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশীদ আলম, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনম নাজিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম (ডিএসবিএএসপি), অধ্যাপক ডাঃ ইমাম উদ্দিন, অধ্যাপক মুলকুতুর রহমান এবং কালের কণ্ঠ পত্রিকার ব্যুরো চীপ রফিকুল বাহার।
২০১১ সালে সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আবদুর রহমান বদি এমপি, কক্সবাজার-৪ এর সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডাঃ সৈয়দা নুরজাহান ভূঁইয়া, অধ্যাপক ডা: শামসুন নাহার, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এইচএম ইউনুছ বাঙ্গালী, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক ডাঃ আমির হোসেন, এডভোকেট মুহাম্মদ রসিদ, বিশিষ্ট শিল্পপতি আনিসুজ্জামান ভূঁইয়া, হোয়াইক্যং উইপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী ও হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার মীর কাশেম আলী।
২০১২ সালে সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আবদুর রহমান বদি এমপি, কক্সবাজার-৪ এর সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সহযোগি অধ্যাপক ডাঃ এম. এ কাশেম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এইচএম ইউনুছ বাঙ্গালী, হোয়াইক্যং উইপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার মীর কাশেম আলী ও এড. রফিকুল আলম।
২০১৩ সালে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ¦ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউটের পরিচালক ও প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ আবদুল্লাহ সাফি মজুমদার, অধ্যাপক ডাঃ মাহবুব আলী, অধ্যাপক ডাঃ জহিরুল ইসলাম, টেকনাফ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এইচএম ইউনুছ বাঙ্গালী, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শামসুজ্জাহান রকিবুন্নেছা চৌধুরী, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মো: আতাউর রহমান, হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার মীর কাশেম আলী।
২০১৪ সালে চমেকের সাবেক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধো অধ্যাপক ডাঃ গোফরানুল হক, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ শফিক মিয়া, চমেকের কিডনী সার্জন ডাঃ মনোয়ারুল কবির বাবর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মুজাহিদ উদ্দীন, টেকনাফ উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এইচএম ইউনুছ বাঙ্গালী, নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা রফিক উদ্দীন, হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার মীর কাশেম আলী।
২০১৫ সালে সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আবদুর রহমান বদি সিআইপি, সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউটের পরিচালক ও প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ আবু আজম, চমেকের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ আমির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মুজাহিদ উদ্দীন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা রফিক উদ্দিন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এইচএম ইউনুছ বাঙ্গালী, হোয়াইক্যং উইপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী, হ্নীলা ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল হোসেন।
২০১৬ সালে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ আমির হোসেন, প্রখ্যাত চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ লে. কর্ণেল ডাঃ মাহবুব কামাল, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আলম, সৌদি প্রবাসী হেরেম শরীফের সম্মানিত মুফতি ড. শায়খ মানসুর।
২০১৭ সালে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রেজাউল করিম, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সার্জারী বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ সিরাজুল হক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ একেএম রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম ইনষ্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ এর পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মাহমুদ বি চৌধুরী আরজু, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আলম।
স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে হীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে হাশেমিয়া দাতব্য চিকিৎসালয় থেকে রোগীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য সহকারী দ্বারা দৈনিক চিকিৎসা সেবা, মেডিকেল অফিসার দ্বারা সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা মাসিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। তাছাড়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির। এদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন। বিশেষ রোগীদের ইকো ও ইসিজি করা হয়। ২০১৫ সালে মেডিকেল ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা। এতে মিনি অপারেশন তথা হার্নিয়া, পাইল্স, খৎনা ও কর্ণছেদন ইত্যাদি করা হয়।
গত ২০ বছরের দৈনিক, সাপ্তাহিক, মসিক ও বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবিরে রোগী দেখার ও বিভিন্ন সেবা প্রদানের খতিয়ান হচ্ছে, ১৯৯৮ সালে মোট ১৯৯৯ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ৮৮৯ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ২২৩ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ১২৬ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৭৬১ জন।
১৯৯৯ সালে মোট ২১৭৫ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ১০২৩ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৩৮৬ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ১৫৬ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৬১০ জন।
২০০০ সালে মোট ১৮৬৩ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ৮৬৩ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ২২৩ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ১২১ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৬৫৬ জন।
২০০১ সালে মোট ২১০৬ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ৯৮৯ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৩৪০ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ২৭৫ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৫০২ জন।
২০০২ সালে মোট ২৬৯৬ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ১২৫৪ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৬৭৬ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ১৮৩ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৫৪৩ জন, খৎনা ৪০ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ ১৯৯ জন।
২০০৩ সালে মোট ২৫০২ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ১২৮৯ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৩২৪ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ১৮৯ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৬৪০ জন, খৎনা ৬০ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ ১১০ জন।
২০০৪ সালে মোট ২৫৮৭ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ১৩৪২ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ২৯৮ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ১১৭ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৫৭০ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ২০০ জন, খৎনা ৬০ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ ২২৬ জন।
২০০৫ সালে মোট ৩৩৯০ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ১৭০৬ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৪৯২ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ১৬৭ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৬২৫ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ২০০ জন, খৎনা ২০০ জন।
২০০৬ সালে মোট ৩৯৭১ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ৯২৬ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ২৯৫ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ১০১ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৬০০ জন, খৎনা ৮০ জন, কর্ণছেদন ১৫০ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ ১৮১৯ জন।
২০০৮ সালে মোট ৬৯৮৫ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ৫৬৬৯ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৬৪২ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ১৪৯ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৫২৫ জন, খৎনা ৬০ জন, কর্ণছেদন ১৪০ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ ৪০০১ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ১৬৭ জন।
২০০৯ সালে মোট ৫৯৮৬ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ৪৭৫৭ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৫৩৬ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ১২৮ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৫৬৫ জন, খৎনা ৮৬ জন, কর্ণছেদন ৬০ জন, ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ২০৫ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ৯৩ জন।
২০১০ সালে মোট ৫৪২৩ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ৪০২৭ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৬৭৯ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ১৮৭ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৫৩০ জন, খৎনা ১০০ জন, কর্ণছেদন ১০০ জন, ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ২১৯ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ১৭৩ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ ২৬০০ জন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৬০০ জন শিক্ষার্থীদেরকে কৃমি ও ভিটামিন সেবন।
২০১১ সালে মোট ৫১৪৪ জন। দৈনিক চিকিৎসা সেবা ৩৫৩০ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৫১৫ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ২৫৬ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৮৪৩ জন, খৎনা ১০০ জন, ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ২১৯ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ১৩৬ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ ২০০৬ জন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৬০০ জন শিক্ষার্থীদেরকে কৃমি ও ভিটামিন সেবন।
২০১২ সালে মোট ৪৫৬৯ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ৩৩৪১ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৬১৫ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ১৫৪ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৪৫৯ জন, খৎনা ৯৬ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ২০০ জন, কিডনী পরীক্ষা ১০০ জন, ইকো ১৫ জন, ইসিজি ৫০ জন।
২০১৩ সালে মোট ৫২৭৪ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ৩৭৯৮ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৫১৮ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ২৯৩ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৬৬৫ জন, খৎনা ৯৭ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ২০০ জন, কিডনী পরীক্ষা ১০০ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ ৩৬৯১ জন।
২০১৪ সালে মোট ৪৮৬১ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ৩৪৪৭ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৪৭৪ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ২৩২ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৬৫৬ জন, ইকো ১৬ জন, ইসিজি ৩৬ জন।
২০১৫ সালে মোট ৩৩৮৩ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ১৯৫১ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৪৭৪ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ২২৪ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৬১১ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ ১৯০০ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ৮০ জন, ইকো ১১ জন, ইসিজি ৩২ জন।
২০১৬ সালে মোট ৩৮১১ জন। দৈনিক চিকিৎসা সেবা ২৪১৬ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ২৮৪ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ৩৫০ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৬২৬ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ ১৩৭২ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ৮০ জন, খৎনা ২১৫, মিনি অপারেশন ২৪ জন, ইকো ১১ জন, ইসিজি ২০ জন।
২০১৭ সালে মোট ৪৪১৪ জন। তম্মধ্যে দৈনিক চিকিৎসা সেবা ২৮০১ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা ৫২১ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা ২০৭ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির ৬০০ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ ১৮১৯ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ৮০ জন, খৎনা ১৫২ জন, মিনি অপারেশন ১৭ জন, ইকো ১৩ জন, ইসিজি ২৩ জন।
২০০৫ সাল থেকে শুরু হয় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সচেতনতামূলক কর্মশালা। এতে শিশু স্বাস্থ্য, মাতৃদুগ্ধ পান, হৃদরোগ, হাড়ভাঙ্গা, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, নিরাপদ মাতৃত্ব, হাইপার টেনশন, বয়সন্ধিকালের নানান সমস্যা, শ^াসকষ্ট, কিডনী, বাতজ¦র, ডায়াবেটিস, অশর্^রোগ, মাতৃকালীর স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি বিষয়ের উপর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ আলোচনায় অংশ নেন। তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলোচকবৃন্দরা হলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ চৌধুরী বি মাহমুদ, অধ্যাপক ডাঃ প্রভাত চন্দ্র বড়–য়া, অধ্যাপক ডাঃ মোমেনুজ্জামান, অধ্যাপক ডাঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ মুলকুতুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আমির হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ শাহেনা আক্তার, অধ্যাপক ডাঃ মনজুর মুর্শেদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডাঃ ইমরান বিন ইউনুস, অধ্যাপক ডাঃ অশোক কুমার দত্ত, অধ্যাপক ডাঃ প্রদ্বীপ কুমার দত্ত, অধ্যাপক ডাঃ আনোয়ারুল হক চৌধুরী, ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির, অধ্যাপক ডাঃ খন্দকার এ কে আযাদ।
গ্রামীণ জনপদের নারী আধুনিক চিকিৎসা এবং চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি থেকে অনেক পিছিয়ে। তাই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০০৮ সালে এলাকার মহিলাদের জন্য আয়োজন করা হয় স্বাস্থ্য সচেতনতা মূলক ভিডিও প্রদর্শনী। বিষয় ছিল স্তন ক্যান্সার কি ও কেন? প্রতিরোধের উপায় কি? এ বিষয়ে ভিডিও’র মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। এতে মোট ১৫০ জন মহিলা অংশ নেন।
২০০৯ সালে আয়োজন করা হয়েছিল মুক্ত আলোচনার অনুষ্টান। বিষয় ছিল ‘গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার ক্রমবিকাশ’। সভাপতিত্ব করেছিলেন টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী অফিসার তোফায়েল আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডাঃ জামাল আহমেদ। সমন্বয়কারী আলোচক ছিলেন টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া। সঞ্চালক স ম বখতিয়ার। স্বাস্থ্যসেবার উপর মূল প্রবন্ধ পাঠক ছিলেন ডাঃ এ এফ এম আমিনুল ইসলাম। শিক্ষার ক্রমবিকাশের উপর মূল প্রবন্ধ পাঠক ছিলেন ড. ফরিদ উদ্দিন আহমদ। আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ডাঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, ডাঃ খুরশিদ জামিল চৌধুরী, ডাঃ মো: আমির হোসেন, ডাঃ অশোক কুমার দত্ত, ডাঃ রওশন মোর্শেদ, ডাঃ মাহবুব কামাল, ডাঃ ইমাম উদ্দিন, অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল চৌধুরী, অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী। এতে শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রোগীগণ অংশগ্রহণ করেন।
২০০৯ সালে ফাউন্ডেশন বৃহত্তর ফুলের ডেইল গ্রামের ৫০০ পরিবারের উপর একটি স্বাস্থ্য সমীক্ষা পরিচালনা করে। এর উদ্দেশ্য ছিল, বিগত ১২ বছর ধরে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত স্বাস্থ্যসেবামূলক বিভিন্ন কর্মসূচী এলাকায় কতটুকু প্রভাব রেখেছে, জনগণ কতটুকু স্বাস্থ্য সচেতন হয়েছে কিংবা সেবামূলক কার্যক্রমের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা কেমন- তা জানার জন্য ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ। এই সমীক্ষার গবেষক ছিলেন অধ্যাপক ডাঃ আমির হোসেন, বৃটেনের অক্সফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ফেলো ডাঃ রিচার্ড মওড, বৃটেনের গাউস হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডাঃ আনিসুল ইসলাম শাকের।
২০১৪ সালে ‘প্রচলিত গ্রামীণ ধাত্রী সেবার মানোন্নয়ন’ বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সামশুজ্জাহান রকিবুন্নেছা চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন। টেকনাফ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এইচএম ইউনুচ বাঙ্গালী প্রধান অতিথি, ডাঃ মোঃ আতাউর রহমান ও হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার মীর কাশেম বিশেষ অতিথি ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ছিলেন অধ্যাপক ডাঃ শাহেনা আক্তার। প্রধান আলোচক ছিলেন অধ্যপক ডাঃ মনোয়ার সুলতানা লিনা। এতে ৫০ জন ধাত্রীকর্মী ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে ডেলিভারীর প্রশিক্ষণ এবং অনুষ্ঠান শেষে ধাত্রীদেরকে ফাউ-েশনের পক্ষ থেকে ডেলিভারী সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
২০১৭ সালের বিশেষ আয়োজন ছিল শিশু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এতে শিশু স্বাস্থ্যের উপর চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মাহমুদ এ চৌধুরী আরজু এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডাঃ সিরাজুল হক শিশু শিক্ষার উপর বক্তব্য রাখেন। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন স্কুল-মাদরাসা থেকে তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যেককে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি গেঞ্জি, ভিটামিন ও কৃমি ঔষধ দেয়া হয়। তম্মধ্যে ৮ জন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে বার্ষিক অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হয়েছে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন আবসার হাবিব, শম বখতিয়ার, মইনুল আলম ও শাহনেওয়াজ চৌধুরী।
প্রতিষ্টার পরের বছর ১৯৯৯ সালে শিক্ষা সহায়ক প্রকল্পের আওতায় চালু করা হয় উপজেলা ভিত্তিক বৃত্তি পরীক্ষা। শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বাধিক অবহেলিত উপজেলাগুলোর একটি টেকনাফ উপজেলা। ফাউন্ডেশন গরীব-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উপজেলা ভিত্তিক স্কুল-মাদরাসা পর্যায়ে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে এক নব জাগরণ ও বিপ্লবের সূচনা করেছে। ফাউন্ডেশনের শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে উপজেলা ভিত্তিক বৃত্তি পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গত ২০ বছরে বৃত্তির তথ্য হচ্ছে, ১৯৯৯ সালে অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৫টি, মোট ছাত্র ৪০ জন, ট্যালেন্টপুল ২ জন, সাধারণ গ্রেড ১২ জন। ২০০০ সালে ৮টি প্রতিষ্ঠানের ৪১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১৭ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০০১ সালে ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের ২০৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৩ জন ট্যালেন্টপুল এবং ২১ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০০২ সালে ১২টি প্রতিষ্ঠানের ১১৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৪ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১৬ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০০৩ সালে ২১টি প্রতিষ্ঠানের ২১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১৪ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০০৪ সালে ১০টি প্রতিষ্ঠানের ২১৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৫ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১৮ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০০৫ সালে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের ২৬৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৪ জন ট্যালেন্টপুল এবং ২২ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০০৬ সালে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের ২১৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৩ জন ট্যালেন্টপুল এবং ২০ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০০৭ সালে ৩১টি প্রতিষ্ঠানের ২৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৪ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১৯ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০০৮ সালে ৫৯টি প্রতিষ্ঠানের ২৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৩ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৩০ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০০৯ সালে ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের ২৪৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৪ জন ট্যালেন্টপুল এবং ২৭ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০১০ সালে ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের ২৭৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৪ জন ট্যালেন্টপুল এবং ২৮ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০১১ সালে ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের ২৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৪ জন ট্যালেন্টপুল এবং ২৭ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০১২ সালে ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের ৩০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৫ জন ট্যালেন্টপুল এবং ২৮ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০১৩ সালে ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের ৩৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৩০ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০১৪ সালে ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ৩৮৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৫ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৩৪ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০১৫ সালে ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ৩৭০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৫ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৪৩ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০১৬ সালে ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ৩৭০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৫ জন ট্যালেন্টপুল এবং ২৯ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে। ২০১৭ সালে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের ৪৬১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে ৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৪৫ জন সাধারণ গ্রেড লাভ করে।
১৯৯৮ সাল থেকে ফাউন্ডেশন প্রতি বছর ইউনিয়নের স্কুল-মাদ্রাসার নির্বাচিত গরীব অথচ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নগদ টাকা বৃত্তি প্রদান করে আসছ। গত ২০ বছরের খতিয়ান হচ্ছে ১৯৯৮ সালে ২ জন, ১৯৯৯ সালে ১২ জন, ২০০০ সালে ১৫ জন, ২০০১ সালে ১৩ জন, ২০০২ সালে ১০ জন, ২০০৩ সালে ১০ জন, ২০০৪ সালে ১২ জন, ২০০৫ সালে ১২ জন, ২০০৬ সালে ৯ জন, ২০০৭ সালে ১০ জন, ২০০৮ সালে ১১ জন, ২০০৯ সালে ১১ জন, ২০১০ সালে ১১ জন, ২০১১ সালে ১১ জন, ২০১২ সালে ১০ জন, ২০১৩ সালে ১১ জন, ২০১৪ সালে ১১ জন, ২০১৫ সালে ১৩ জন, ২০১৬ সালে ১৫ জন, ২০১৭ সালে ১১ জন।

কম্পিউটার কোর্স
বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে হলে প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই। তাই ফাউন্ডেশনের কর্মমুখী শিক্ষার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এতে লেখা-পড়ার পাশাপাশি একজন ছাত্রকে বিশেষ করে গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কম্পিউটার শিখার এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গত ২০ বছরে ফাউন্ডেশনের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কোর্স সম্পন্ন করে যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের বছরওয়ারী সংখ্যা হচ্ছে ২০০০ সালে ২১ জন, ২০০১ সালে ২৪ জন, ২০০২ সালে ১৭ জন, ২০০৩ সালে ২৯ জন, ২০০৪ সালে ১৫ জন, ২০০৫ সালে ১৯ জন, ২০০৬ সালে ৩৩ জন, ২০০৭ সালে ২৮ জন, ২০০৮ সালে ৪০ জন, ২০০৯ সালে ৩৪ জন, ২০১০ সালে ২৬ জন, ২০১১ সালে ৩৩ জন, ২০১২ সালে ২৩ জন, ২০১৩ সালে ৫৮ জন, ২০১৪ সালে ২৮ জন. ২০১৫ সালে ২৭ জন, ২০১৬ সালে ৩২ জন, ২০১৭ সালে ৩২ জন। ২০১৭ সাল থেকে ফাউন্ডেশনে বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়েছে। এতে ২৯ জন শিক্ষার্থী কোর্স সম্পন্ন করেছে।

গণ-পাঠাগার
লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্য,সংস্কৃতি ও মেধা চর্চা ও বিকাশে অধ্যয়নের বিকল্প নেই। এ উপলব্দিকে সামনে রেখে হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশনের একদল উদ্যমী ও প্রতিভাবান মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০০২ সালে গড়ে উঠে উপজেলার প্রথম ও একমাত্র পাঠাগার ‘গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশ গণ-পাঠাগার’। দিন দিন পাঠক বৃদ্ধির কারণে কর্তৃপক্ষ বিগত বছরে তুলনায় পাঠাগারে দৈনিক পত্রিকা ও বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে শুক্রবার সারাদিন ছাড়াও প্রতিদিন বাদে আসর সর্বশ্রেণীর পাঠকের জন্য উম্মুক্ত থাকে এ পাঠাগার। প্রখ্যাত মনীষী, কবি, সাহিত্যিক ও ইসলামী চিন্তাবিদদের লেখা বই সমৃদ্ধ এ গণ-পাঠাগারে স্কুল মাদ্রাসা পড়–য়া পাঠক ছাড়াও বই পাগল পাঠকের সমাগম ঘটে এখানে। প্রতিদিন ১০টি স্থানীয় দৈনিক ও ৩টি জাতীয় দৈনিক পড়ার সুযোগ পান পাঠকেরা। প্রতি বছর শ্রেষ্ঠ পাঠক হিসেবে ১জনকে নির্বাচিত করে তাকে বার্ষিক অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হয়। গত ১৬ বছরে পাঠকের সংখ্যা এবং শ্রেষ্ঠ পাঠক হলেন ২০০২ সালে মোট পাঠক ৬২০ জন, শ্রেষ্ঠ পাঠক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। ২০০৩ সালে মোট পাঠক ৯২৫ জন, শ্রেষ্ঠ পাঠক মোঃ দেলোয়ার হোসাইন। ২০০৪ সালে মোট পাঠক ২৫৬৭ জন, শ্রেষ্ঠ পাঠক মোঃ শাহ একরাম। ২০০৫ সালে মোট পাঠক ২০০১ জন। শ্রেষ্ঠ পাঠক মোঃ শাহ একরাম।
২০০৬ সালে মোট পাঠক ৩৩৪৯ জন, শ্রেষ্ঠ পাঠক সাইফুল ইসলাম। ২০০৭ সালে মোট পাঠক ৩২৯০ জন। ২০০৮ সালে মোট পাঠক ১৬৫১ জন, শ্রেষ্ঠ পাঠক মোহাম্মদ ইউনুস। ২০০৯ সালে মোট পাঠক ২৮৪৯ জন। ২০১০ সালে মোট পাঠক ৩০২৪ জন, শ্রেষ্ঠ পাঠক শহিদুল ইসলাম তুহিন। ২০১১ সালে মোট পাঠক ৪২২৪ জন। শ্রেষ্ঠ পাঠক জিয়াউর রহমান। ২০১২ সালে মোট পাঠক ৪২৪৩ জন, শ্রেষ্ঠ পাঠক জমিস উদ্দিন। ২০১৩ সালে মোট পাঠক ৩৪২৫ জন, শ্রেষ্ঠ পাঠক তানজিয়া সুলতানা সাইকা। ২০১৪ সালে মোট পাঠক ৩৪৫৬ জন, শ্রেষ্ঠ পাঠক সিরাতুন মুনতাহেনা নোমা। ২০১৫ সালে মোট পাঠক ৩৪২৮ জন, শ্রেষ্ঠ পাঠক হাসানুল্লাহ বিপ্লব। ২০১৬ সালে মোট পাঠক ২৪৪৮ জন। ২০১৭ সালে মোট পাঠক ২৪৫৬ জন।

ধর্মীয় প্রকল্প : মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা
ধর্ম মানুষকে নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়। নৈতিক মূল্যবোধ ছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি শৃঙ্খলা সম্ভব নয়। একজন ধর্মভীরু মানুষই প্রকৃতপক্ষে একজন পরিপূর্ণ মানুষ। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রাণ কেন্দ্র মসজিদ ও মাদরাসা। ফাউন্ডেশনের ধর্মীয় প্রকল্প থেকে উত্তর ফুলের ডেইল জামে মসজিদ ও তৎসংলগ্ন ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, পানখালী ভিলেজার পাড়া মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসার এবং দরগাহ সিএন্ডবি মসজিদ ও মাদরাসায় প্রতি বছর প্রায় ২০০-৩০০ জন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ৪জন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক দ্বারা সহীহ কুরআন ও মাসায়েল শিক্ষা দেয়া হয়। গত ২০ বছরে ৫০০০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ধর্মীয় জ্ঞান আহরণ করেছেন।

দুঃস্থদের সাহায্য
ফাউন্ডেশন সর্বদা আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পাশাপাশি দুঃস্থদের দিকেও সেবার হাত বাড়িয়েছে সাধ্যমত। প্রতি বছর ফাউন্ডেশন গরীব-দুঃখী মানুষকে বিভিন্ন প্রকারের সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে আসছে। যেমন- নগদ টাকা, শার্ট পিছ, জ্যাকেট, শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি পিছ ইত্যাদি। উল্লেখ্য, এ বছর ফাউন্ডেশন রোহিঙ্গাদেরকে বিপুল পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী এবং নগদ অর্থ প্রদান করে। ফাউন্ডেশনের পক্ষে এ পণ্য সাগ্রমী ও টাকা বিতরণ করেন ফাউন্ডেশনের কার্যকরী পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

গুণীজন সংবর্ধনা
হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন জন্মলগ্ন থেকে সমাজ সেবা, রাজনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ উপজেলার বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সম্মাননা প্রদান করে আসছে। গত ২০ বছরে যাদেরকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে তারা হলেন ২০০০ সালে হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন ২০০০ সালে ৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দিয়েছে। ১. টেকনাফ থানার প্রথম বিএ মাষ্টার মোহাম্মদ কামাল (শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য)। ২. মাষ্টার আবুল কাশেম (শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য)। ৩. আলহাজ¦ আবদুল গফুর চৌধুরী (মরণোত্তর), (রাজনীতি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য)। ২০০১ সালে হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন ২০০১ সালে ২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দিয়েছে। ১. মৌলভী বাজার জমিরিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা জমির উদ্দিন (মরণোত্তর), (শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য)। ২. হ্নীলা জামিয়া দারুস্ সুন্নাহ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব শাহ আবুল মনজুর ফকির (মরণোত্তর), (শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য)। ২০০২ সালে ফাউন্ডেশন ২০০২ সালে ২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দিয়েছে। ১. জনাব মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক (সদর সাহেব), (শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য) ২. মাষ্টার আবদুশ শুক্কুর, টেকনাফ (শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য)। ২০০৩ সালে টেকনাফ উপজেলার প্রবীণ বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ জনাব মাষ্টার আবদুল বারীকে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা দিয়েছে। ২০০৪ সালে টেকনাফ উপজেলার প্রবীণ মুরব্বী জনাব মাওলানা আ ফ ম খায়রুল বশরকে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা দিয়েছে। ২০০৫ সালে টেকনাফ উপজেলার প্রবীণ মুরব্বী জামেয়া দারুস্ সুন্নাহর মুহতামিম জনাব মাওলানা আখতার কমালকে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা দিয়েছে। ফাউন্ডেশন ২০০৬ সালে ৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দিয়েছে। ১. আলহাজ¦ আলী মিয়া চৌধুরী (মরণোত্তর), (শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ) ২. অধ্যাপক ডাঃ এমএ ফয়েজ, অধ্যাপক মেডিসিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ। (চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ) ৩. ডাঃ ইমরান বিন ইউনুস, অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, (চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ)। ২০০৮ সালে ৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দিয়েছে। ১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল, (টেকনাফের কৃতি সন্তান হিসেবে বিশেষ সম্মাননা)। ২. জনাব হাসান মাহমুদ দেলোয়ার, (টেকনাফের কৃতি সন্তান হিসেবে বিশেষ সম্মাননা)। ৩. ডাঃ এন. এ. এম মোমেনুজ্জামান, (চিকিৎসা বিজ্ঞানে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ)। ৪. ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, (চিকিৎসা বিজ্ঞানে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ)। ২০১১ সালে ৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দিয়েছে। ১. আলহাজ¦ মঈন উদ্দিন আহমেদ (মরণোত্তর), (স্বরণীয় অভিভাবক হিসেবে)। ২. আলহাজ¦ মাওলানা ফরিদ আহমদ, (সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ)। ৩. আলহাজ¦ আবুল কালাম, (সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ)। ২০১৩ সালে ফাউন্ডেশন সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ৩ ব্যক্তিকে সম্মাননা পদক প্রদান করেন। ১. কায়সার উদ্দিন আহমদ, ২. আলহাজ¦ সালেহ আহমদ মেম্বার, ৩. ক্বারী মাওলানা নুরুল ইসলাম। ২০১৪ সালে ফাউন্ডেশন শিক্ষা উন্নয়ন ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ৫ ব্যক্তিকে সম্মাননা পদক প্রদান করেন। ১. আলহাজ¦ মাওলানা মোহাম্মদ আলী। ২. আলহাজ¦ মাওলানা নুরুল ইসলাম। ৩. মাওলানা এস.এম. সাইফুল্লাহ। ৪. মাষ্টার শাহ আলম। ৫. মমতাজুল ইসলাম মনু। ২০১৫ সালে ফাউন্ডেশন শিক্ষা উন্নয়ন ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ৩ ব্যক্তিকে সম্মাননা পদক প্রদান করেন। ১. মাওলানা আফসার উদ্দিন। ২. মুফিজুর রহমান। ৩. মাওলানা শাকের আহমদ।
এছাড়াও ২০১৭ সালে ফাউন্ডেশন টেকনাফ উপজেলার ১২ জন চিকিৎসককে সংবর্ধিত করেন। তাঁরা হলেন ১. ডাঃ রেজাউল করিম সিলেট এজিএম ওসমানী মেডিকেল কলেজ ১৯৯০ ইং। ২. ডাঃ তুন সোয়ে রাখাইন সিলেট এজিএম ওসমানী মেডিকেল কলেজ ২০০১ ইং। ৩. ডাঃ মোহাম্মদ এরফান ইউএসটিসি মেডিকেল কলেজ ২০০৩ ইং। ৪. ডাঃ আবদুল কাদের নাইটেঙ্গল মেডিকেল কলেজ ২০০৬ ইং। ৫. ডাঃ মোঃ এনামুল হক ময়মনসিংহ কমিউনিটি বেস্ট মেডিকেল কলেজ ২০০৭ ইং। ৬. ডাঃ হাফেজ মোঃ মুজিবুল হক সিলেট এজিএম ওসমানী মেডিকেল কলেজ ২০০৭ ইং। ৭. ডাঃ রিদওয়ার তারিন রংপুর মেডিকেল কলেজ ২০০৭ ইং। ৮. ডাঃ জাহিদুল মোস্তফা সিলেট নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ ২০০৭ ইং। ৯. ডাঃ রোকসানা শিরিন লিনা সিলেট এজিএম ওসমানী মেডিকেল কলেজ ২০০৯ ইং। ১০. ডাঃ মোস্তফা কামাল সিলেট এজিএম ওসমানী মেডিকেল কলেজ ২০১০ ইং। ১১. ডাঃ আলী নেওয়াজ চৌধুরী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ২০১৫ ইং। ১২. ডাঃ মোহাম্মদ রফিক সিলেট এজিএম ওসমানী মেডিকেল কলেজ ২০১৬ ইং।

গত ২০ বছরে ফাউন্ডেশনের অর্জন
গত ২০ বছরে হীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন টেকনাফের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সমাজসেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করেছে। সেই পরিপেক্ষিতে ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সম্মান ও সুনাম অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে :

১. সাদা মনের মানুষ : ডাঃ জামাল আহমদ
গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জামাল আহমদ ১৯৯৮ সাল থেকে সুবিধা বঞ্চিত টেকনাফ উপজেলায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মসূচী ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সমগ্র টেকনাফ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়েছে। সমাজসেবা কার্যক্রমের স্বীকৃতি স্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার ২০০৮ সালে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জামাল আহমদকে টেকনাফ অঞ্চলের সাদা মনের মানুষ হিসেবে নির্বাচিত করেছেন।

২. একুশে টেলিভিশনের “দেশজুড়ে” অনুষ্ঠানে গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম প্রচার
গত ২১ মে ২০০৮ সালে একুশে টেলিভিশনের জনপ্রিয় মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান “দেশজুড়ে” অনুষ্ঠানে দেশের প্রত্যন্ত জনপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সমস্য, সম্ভাবনা আর এ ক্ষেত্রে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে ভূমিকা কি হতে পারে এ বিষয়ের উপর একটি সংলাপ অনুষ্ঠান প্রচার হয়েছিল। এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ডাঃ জামাল আহমদ, ডাঃ কামরুল হাসান খান (সহযোগী অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়) এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী। ইমামুল হকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটির সময়সীমা ছিল ১৯.৪৬ মিনিট। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছিলেন সরোয়ার মোহসিন।

৩. গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন বায়তুশ শরফ কর্তৃক সম্মাননা গ্রহণ
বায়তুশ শরফ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ প্রতি বছর সমাজসেবা, শিক্ষা, চিকিৎসা, সাহিত্যে অবদান স্বরূপ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নির্বাচিত করে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করে থাকেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বায়তুশ শরফ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ গত ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বায়তুশ শরফের পীর বাহরুল উলুম আলহাজ¦ শাহ্ মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন- চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ফাউন্ডেশনকে সম্মাননা প্রদান করেন। সম্মাননা গ্রহণ করেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জামাল আহমদ।

৪. রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব মোঃ শফিউল আলমের চিঠি
১ এপ্রিল ২০১০ সালে কালের কণ্ঠ পত্রিকায় হীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশনের ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছিল। উক্ত ক্রোড়পত্রে তৎকালীন রাস্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব বর্তমানে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব শফিউল আলম বলেন, ‘আমার নিজ জেলার পশ্চাৎপদ এলাকা ফুলের ডেইলে এ রকম একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এটি পত্রিকাটি না পড়লে কোনদিন আমার জানা হতোনা। আপনার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমার বড় ভাই শহিদ এটিএম জাফর আলমের নামে এরকম একটি ফাউন্ডেশন গড়ার একান্ত ইচ্ছা। এ জন্যে কি কি কাগজপত্র (গঠনতন্ত্র ইত্যাদি) লাগে নমুনা হিসেবে তার একপ্রস্থ ফটোকপি আমার বরাবরে পাঠালে আমরা কৃতার্থ হব। ঢাকায় আসলে আমার এখানে দাওয়াত রইল’।

৫. টেকনাফ ছাত্র ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মাননা গ্রহণ
টেকনাফ ছাত্র ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, চিকিৎসা, সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন ব্যক্তিকে সম্মাননা দিয়ে থাকে। ২০০৩ সালে টেকনাফ ছাত্র ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জামাল আহমদকে চিকিৎসা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা দেন।

৬. কক্সবাজার জেলার বিশ্ব মানবাধিকার সংরক্ষণ সংস্থা কর্তৃক সম্মাননা গ্রহণ
কক্সবাজার জেলার বিশ্ব মানবাধিকার সংরক্ষণ সংস্থা এলাকার কৃতি সন্তান ডাঃ জামাল আহমদকে শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১০ সালে সম্মাননা প্রদান করেন।

৭. হ্নীলা শাহ মজিদিয়া মাদ্রাসা কর্তৃক সম্মাননা গ্রহণ
হ্নীলা শাহ মজিদিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক সম্মেলন-২০১৫ তে এলাকার কৃতি সন্তান জনাব ডাঃ জামাল আহমদকে শিক্ষা, চিকিৎসা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা প্রদান করেন।

মেডিকেল ডে-কেয়ার সেন্টার চালু
টেকনাফের হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন দাতব্য চিকিৎসালয় কেন্দ্র পুরো উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে মেডিকেল ডে-কেয়ার সেন্টারে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, উন্নত অপারেশন থিয়েটারে প্রতিদিন জীবানুমুক্ত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ফ্রি খৎনাসহ দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে বিশেষ চিকিৎসকদের সেবাদান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, টেকনাফের হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার ২০বছর পূর্তি পালনের পর গ্রামের দরিদ্র জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য মেডিকেল ডে-কেয়ার সেন্টারের কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এই সেন্টারে প্রতিমাসের ১ম শুক্রবার স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জামাল আহমদ। প্রতি শুক্রবার দুপুর ২টা হতে ৬টা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন হৃদরোগ বাত জ¦র ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ জাহিদুল মোস্তফা (এমবিবিএস, ডিকার্ড পিজিটি মেডিসিন)। সকাল ১০টা হতে ১২টা পর্যন্ত হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন মেডিকেল ডে-কেয়ার সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডাঃ এসএম রায় রুমী (এমবিবিএস, পিজিটি শিশু ও মেডিসিন), অর্থোপেডিক এন্ড জেনারেল সার্জন ডাঃ আরপি আসিফ খান (এমবিবিএস, ডি-অর্থো, পিজিটি জেনারেল সার্জারী), প্রতিদিন সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতি শনিবার হতে বুধবার সকাল ১০টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশনের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাঃ জালাল উদ্দিন এবং প্রতি সপ্তাহের শনি, মঙ্গল ও বুধবার সকাল ১০টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত গর্ভবর্তী মহিলাদের চেকআপ ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সেবা প্রদান করেন এফডব্লিউএ মিনারা বেগম। পুরো উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশী জনসাধারণকে এই স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে আহবান জানানো হয়েছে।
এব্যাপারে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জামাল আহমদ বলেন, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ফাউন্ডেশনের এবং সর্বমহলের আন্তরিক সহযোগিতায় অগ্রযাত্রা। আমরা ওয়ার্ড ভিত্তিক মসজিদ কেন্দ্রিক এই স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র চালু করেছি। এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণের আন্তরিকতা ও সহায়তা অব্যাহত থাকলে ইনশল্লাহ আমাদের স্বাস্থ্য সেবার মান আরও বৃহৎ আকারে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে’। ##


সর্বশেষ সংবাদ