রাত ১২টায় ১২টা বাজবে না আর্জেন্টিনার, বিশ্বাস ম্যারাডোনার

প্রকাশ: ২৬ জুন, ২০১৮ ৮:৫৬ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক []

মঙ্গলবার রাতে কঠিন পরীক্ষা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার। সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে তাদের বিদায় মানে ডিয়েগো ম্যারাডোনারও ওই শহরে মন দিয়ে করার মতো আর কাজ থাকবে না। না নাতি বেঞ্জামিন থাকবে। না আর্জেন্টিনা। কিন্তু বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় স্বদেশ আর্জেন্টিনার যে ১২টা বাজবে না, সেটা খুব বিশ্বাস নিয়েই বলছেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি। নাইজেরিয়াকে বিশ্বকাপে প্রতিবার হারিয়েছেন তারা। এবারও হারাবেন। ওদিকে আইসল্যান্ড যদি ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দেয় তারপরও নাকি আর্জেন্টিনাই শেষ ষোল নিশ্চিত করবে!

আর্জেন্টিনার একটি টেলিভিশনে নিয়মিত টেন নামে একটি অনুষ্ঠান করেন ম্যারাডোনা। এই বিশ্বকাপে। রাশিয়া থেকেই। সেখানেই শেষ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘একবার আর্জেন্টিনা তো সবসময় আর্জেন্টিনা। আমরা সবাই জানি আর্জেন্টিনা খেলতে জানে।’ আর্জেন্টিনাকে সমর্থন দিতে বলে মনের গহীন থেকে কিংবদন্তির উচ্চারণ, ‘আমি খুব রোমাঞ্চিত বেঞ্জামিনকে আরো দেখার জন্য।’ তার মেয়ের সাথে কুন আগুয়েরোর সংসার ছিল। সেটা ভেঙেছে অনেক আগে। ওই ঘরের নাতি বেঞ্জামিন।

কিন্তু কিভাবে এতো শক্ত উচ্চারণে দৃঢ়প্রত্যয়ে ম্যারাডোনা এমন কথা বলতে পারছেন? তিনি আসলে ইতিহাস টানছেন। ১৯৮২ এবং ১৯৯০ বিশ্বকাপেও এমন কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়েছে আর্জেন্টিনা। আর আফ্রিকান দল নাইজেরিয়া তাদের সবসময় বিশ্বকাপে কঠিন সময় উপহার দিলেও হারাতে পারেনি কখনো। এবারও পারবে না বলে বিশ্বাস ম্যারাডোনার।

‘নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বড় জয় দরকার। একেবারে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এখন। খেলোয়াড়দের মনে রাখতে হবে এটাই নিজেদের বিশ্বের কাছে প্রমাণের শেষ সুযোগ। আমি তাদের বিশ্বাস করি। তারা তারা পারবে। লিও মেসিই কেবল যা পারে তাই আবার তার কাছে সবাই প্রত্যাশা করবে। কিন্তু আমাদের দল হিসেবে খেলতে হবে।’

মেসি প্রসঙ্গে ম্যারাডোনা আরো বলেছেন, ‘দুনিয়া মেসির দিকে তাকিয়ে। এটাই স্বাভাবিক। তার মতো খেলোয়াড় সবসময় আলোচনায় থাকবে। কিন্তু আবার বলছি, এটা একজন মানুষের কাজ না। ফুটবলে সবাই মিলে খেলতে হয়। জেগে ওঠো আর্জেন্টিনা! এই তো সময়!’

প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা পুচকে আইসল্যান্ডের সাথে ড্র করে। পরের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারে। নাইজেরিয়ারও এটি শেষ ম্যাচ। আইসল্যান্ডকে হারানোয় তাদের পয়েন্ট তিন। আইসল্যান্ডের ১। ক্রোয়েশিয়া তো দুই জয়ে শেষ ষোলতে। শেষ কথা হিসেবে ম্যারাডোনা নাইজেরিয়া দলকে ঠেকানোর মূলমন্ত্রটা দিয়েছেন, ‘আফ্রিকানরা খুব গতিশীল এবং শক্তিশালী। তাদের মন খুলে খেলার মতো জায়গা দেওয়া যাবে না। তাদের চাপে রাখতে দ্রুত গোল করে ফেলা জরুরি।’ ১৯৯০ এ গ্রুপপর্বে নাইজেরিয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ পেরিয়েই ম্যারাডোনার দল কঠিন পরিস্থিতির পরও ফাইনালে খেলেছিল।

সূত্র : ওলে, টাইমস অব ইন্ডিয়া।


সর্বশেষ সংবাদ