মহাবিশ্বের কেন্দ্র কোথায়?

প্রকাশ: ২৯ মে, ২০১৮ ৭:৪১ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:: টেকনাফ নিউজ ডেস্ক রাতের আকাশে তাকালে আপনি আপনার চারদিকেই তারকারাজি দেখতে পাবেন। যাতে আপনার মনে হবে আপনিই বুঝি মহাবিশ্বের কেন্দ্রে আছেন। কিন্তু আসলে কি তাই? যদি তা না হয় তাহলে এই মহাবিশ্বের কেন্দ্র কোথায়?

আসলে মহাবিশ্বের কোনো কেন্দ্র নেই। কমবেশি প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ এর পর থেকে আমাদের এই মহাবিশ্ব প্রসারিত হয়ে চলেছে। কিন্তু বিগ ব্যাং বিশেষ কোনো বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘটেনি। বিগ ব্যাং এর সময় বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত কিছু অবিশ্বাস্যরকমভাবে গরম, সীমাহীন ঘন একটি ছোট্ট বস্তু কণার মধ্যে পিণ্ডীভুত হয়ে ছিল! এরপর সবদিকেই মহাবিশ্ব সমানভাবে প্রসারিত হতে থাকে। আজও মহাবশ্বি সেভাবেই প্রসারিত হয়ে চলেছে। এর কোনো উৎপত্তিগত বিন্দু নেই, নেই কোনো কেন্দ্র।

বিষয়টি বুঝার জন্য এমন একটি দ্বিমাত্রিক পিপড়ার কথা কল্পনা করুন যেটি একটি গোলাকার বেলুনের ওপর বাস করে। পিপড়াটির দৃষ্টিকোন থেকে বেলুনের যে কোনো জায়গাই এক রকম মনে হয়। বেলুনের গোলকের ওপরে কোনো কেন্দ্র নেই এবং কোনো কিনারাও নেই। আপনি যদি বেলুনটি ফোলাতে থাকেন তাহলে পিপড়াটি সেটিকে দ্বিমাত্রিকভাবে প্রসারিত হতে দেখবে। বেলনুটির ওপর কালি দিয়ে বিন্দু আকুঁন। ফোলানো হলে সেগুলোও একটি আরেকটি থেকে দূরে সরে যেতে থাকবে। ঠিকে যেভাবে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সিগুলো একটি অপরটি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

পিপড়ার জন্য ওই দ্বিমাত্রিক মহাবিশ্বস্বরুপ বেলনুটির গায়ের ওপর ৯০ ডিগ্রি উল্লম্ব সৃষ্টিকারী কোনো ত্রিমাত্রাও- যেমন বেলুনের কেন্দ্রে ভ্রমণ- কোনো বাড়তি বাস্তব বা দৈহিক অর্থ যোগ করবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী বারবারা র‌্যাইডেন বলেন, ‘পিপড়াটি সামনে বা পেছনে ডানে বা বামে যেদিকেই যাক না কেন তার মধ্যে কোনো ওপর-নিচে ওঠা-নামার অভিজ্ঞতা হবে না।’

আমাদের মহাবিশ্বটি হলো ওই পিপড়ার বেলুনের দ্বিমাত্রিক মহাবিশ্বের ত্রিমাত্রিক সংস্করণ। তবে বেলুনের পৃষ্ঠের আয়তন যেমন সীমাবদ্ধ আমাদের মহাবিশ্বের আয়তনও তেমনভোবেই সীমাবদ্ধ কি না তা এখনো আবিষ্কার করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। বিগ ব্যাং এর সময় সৃষ্টি হওয়া আলো কতটুকু পর্যন্ত ভ্রমণ করেছে সে হিসেবে হয়তো তা সীমাবদ্ধ হতে পারে। কিন্তু মহাকাশবিদদের এই পর্যবেক্ষণ থেকে শুধু মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র একটি অংশের জ্ঞান পাই আমরা। কিন্তু বাস্তবে আমাদের পুরো মহাবিশ্বের কোনো সীমা-পরিসীমা নাও থাকতে পারে। তা হতে অসীম আয়তন সম্পন্ন।

যদি তাই হয় তাহলে আমাদের মহাবিশ্ব হতে পারে সমতল এবং বিস্তৃত কোনো রাবার শিটের মতো যা শুধু অনন্ত কাল ধরে প্রসারিত হয়ে চলেছে। অথবা ত্রিমাত্রিক কোনো কিশমিশযুক্ত পাউরুটির মতো যা শুধু ক্রমাগত সীমাহীনভাবে প্রসারিত হয়ে চলেছে। আর এর মধ্যে থাকা কিশমিশগুলোও একের অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যেমনভাবে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সিগুলোও একটি অপরটি থেকে সরে যাচ্ছে। আমাদের মহাবিশ্বের যদি কোনো সীমা না থেকে থাকে তাহলে এর কোনো কেন্দ্রও নেই, বলেছেন বারবারা র‌্যাইডেন।

ত্রিমাত্রিক মহাবিশ্বের কাল্পনিক আকার এই পাউরুটির মতোই

আমাদের মহাবিশ্ব হতে পারে সমতল কোনো শিটের মতো যা ক্রমাগত বেড়ে চলা গতিতে প্রসারিত হয়ে চলেছে। অথবা হতে পারে বাঁকানো বেলুনের মতো, এবং সে ক্ষেত্রে একটা সময়ে গিয়ে হয়তো এর সম্প্রসারণ থেমেও যেতে পারে। যেমনই হোক না কেন, তথাপি তা সীমাহীন এবং এর কোনো কেন্দ্র নেই।

তবে এখন পর্যন্ত যেসব তাত্ত্বিক ধারণা গড়ে উঠেছে এবং যে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে তা থেকে আমাদের মহাবিশ্বকে সমতলই মনে হয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন আমাদের মহাবিশ্ব সমতল নাকি এর বক্রতা এতই প্রশস্ত যে দেখে শুধু একে সমতলই মনে হয়। ঠিক যেভাবে গোলাকার পৃথিবীকে ভূপৃষ্ঠ থেকে আমাদের কাছে সমতলই মনে হয়।

মহাবিশ্বের কোনো কেন্দ্র নেই এবং কোনো কিনারা বা সীমাও নেই, এই ধারণাটি মহাবিশ্বের স্থানসংক্রান্ত মহাজাগতিক তত্ত্বের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ। মহাজাগতিক তত্ত্বটি হলো মহাবিশ্বের কোনো স্থানই একটি আরেকটি থেকে আলাদা নয়। গ্যালাক্সি গুচ্ছসমুহ কীভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার পর্যবেক্ষণ এবং মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড দেখায় যে, আপনি যখনই অনেক দুর পর্যন্ত জুম আউট করবেন তখন সব জায়গাতেই একই রকম দেখাবে।

পুরো ইতিহাসজুড়েই আমরা মানুষেরা ভুলভাবে ধারণা করে এসেছি যে আমরা হয়তো মহাবিশ্বের কেন্দ্রে বা কেন্দ্রের কাছাকাছি আছি। আর সে কেন্দ্র হতে পারে পৃথিবী, সূর্য বা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি।

কিন্তু আমরা মানুষেরা নিজেদেরকে যতটা গুরুত্বপূর্ণই ভাবি না কেন মহাবিশ্ব এই পর্যন্ত ঠিক তার উল্টোটাই দেখিয়ে এসেছে!

সূত্র: লাইভ সায়েন্স


সর্বশেষ সংবাদ