মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ৪৫ জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী এরা কারা ?

প্রকাশ: ২১ মে, ২০১৮ ১০:২৯ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **
১৯ মে দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘চট্টগ্রামে মাদকের আখড়া’ শিরোনামে সংবাদ পরিবেশনের পর ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ৯০ জনের তালিকা রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এর মধ্যে ৪৫ জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। আরো রয়েছে সিএমপি’র পাঁচ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম।
প্রথম আলোয় উল্লেখিত পাঁচ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন, পাহাড়তলী থানার ওসি মো. আলমগীর ও আকবর শাহ থানার আলমগীর মাহমুদ সম্প্রতি বদলি হয়েছেন। অন্য তিন ওসি হলেন পাঁচলাইশ থানার মহিউদ্দিন মাহমুদ, পতেঙ্গা থানার আবুল কাসেম ভূঞা ও বন্দর থানার এস এম ময়নুল ইসলাম। এ ছাড়া থানা বা ফাঁড়ির ২০ জন এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলের নাম আছে তালিকায়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের নামসহ আরো কয়েকজন বহুল পরিচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নামও আছে এ তালিকায়।
তবে এ পাঁচ ওসির নাম প্রকাশের পর পুলিশ প্রশাসনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। পুলিশের কেউ কেউ বলছেন, শুধু মাত্র পুুলিশের ওসি’র নাম দিয়ে লাভ কি? সিনিয়র জুনিয়র অনেকেই এ ব্যবসায় জড়িত। তাছাড়া জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যে ৪৫ জনের নাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় রয়েছে বলা হচ্ছে তাদেরও কয়েকজনের নাম যদি প্রকাশ পেতো তাহলে জনগণের কাছে বিষয়টি আরো খোলাসা হতো। তবে কয়েকটি সূত্র বলছে, তালিকাটি পূর্নাঙ্গ প্রকাশ না করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মহল ইতোমধ্যে জোড় চেষ্টা তদবির শুরু করেছে। অনেকে নাম বাদ দেয়ার জন্য ধর্ণা দেয়া শুরু করেছে বিভিন্ন দপ্তরে। এ বিষয়ে উক্ত প্রতিবেদনের প্রতিবেদক একরামুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘শতভাগ নিশ্চিত হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।’ সবার নাম প্রকাশ করা হয়নি কেন এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সবার নাম প্রকাশ হয়ে গেলে বিষয়টি ঘোলাটে হয়ে যাবে। আইনগত বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বলে সবার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ সংক্রান্ত সকল তথ্য-উপাত্ত আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।’
এই ৪৫ জন কারা তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে এখন আলোচনার ঝড়। কারো কারো মুখে উচ্চারিত হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নাম।
বিষয়টি জানার জন্য সিপ্লাসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, ‘রোববার (২০ মে) রাত ৮টা পর্যন্ত আমার কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোন তালিকা পৌঁছেনি। তবে একটা রিপোর্ট হয়েছে বলে জেনেছি।’
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাসুদ-উল-হাসান সিপ্লাাসকে বলেন, ‘প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি আমি পড়ে হতবাক হয়েছি। একসময় চট্টগ্রামের কতিপয় পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে যারা আছেন তারা সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তারপরও উল্লেখিত পাঁচ ওসির ব্যাপারে তদন্ত করে দেখা হবে।’এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যবসার পৃষ্টপোষকতায় অনেক সিনিয়র-জুনিয়র কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এ ব্যাপারেও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগা করা হয় র‌্যাব-এর সাথে। র‌্যাব-৭ সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান জানান, একটি তালিকা আমাদের কাছে এসেছে। সেটা র‌্যাব-৭ এর অধিনায়কের কাছে আছে। তবে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়কের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে তার সাথে কথা বলা যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করা হয়। তারাও বিষয়টি জানেন বলে স্বীকার করেছেন। কিন্তু আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তালিকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব চট্টগ্রামের সন্তান মোস্তফা কামাল ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে। তার অভিমত চট্টগ্রাম থেকেই সারা দেশের মাদক নির্মূল অভিযান শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যতোই প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে মাদক ব্যবাসা নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পরও মাদকের বিস্তার দিন দিন বাড়ছে।


সর্বশেষ সংবাদ