শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ-মুসলিম সংঘর্ষের নেপথ্যে কি রোহিঙ্গা যোগ?

প্রকাশ: ৬ মার্চ, ২০১৮ ৯:৫৫ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:: বৌদ্ধ-মুসলিম সংঘর্ষের জেরে শ্রীলঙ্কা আজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। সেদেশের অন্যতম বড় জেলা ক্যান্ডিতে হিংসার আগুনে জ্বলতে শুরু করেছে। দুটি সম্প্রদায়ের সংঘর্ষের আঁচ ছড়াচ্ছে দেশের অন্যান্য জায়গাতেও। তবে কোন ঘটনা থেকে এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সূত্রপাত একবার নজর দেওয়া যাক সেদিকে।

ঘটনার সূত্রপাত
৫ মাস আগে দক্ষিণ এশিয়ায় মিয়ানমার তখন রোহিঙ্গা মুসলিম সমস্যায় জর্জরিত। সেই সময়ে মিয়ানমার থেকে ক্রমেই পালিয়ে প্রাণ বাঁচাচ্ছিলেন বহু রোহিঙ্গা মুসলিম। বাংলাদেশে বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমনই এক সময়ে সমুদ্রে নৌকা ভর্তি ৩১জন রোহিঙ্গাকে ডুবে যেতে দেখে শ্রীলঙ্কার নৌসেনারা। আর তাঁদের উদ্ধার করে আশ্রয় দেয় শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কায় রোহিঙ্গা আশ্রয়
শ্রীলঙ্কায় সেই সময়ে ক্রমেই অনুপ্রবেশ করেত শুরু করে রোহিঙ্গা মুসলিমরা। যে ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধরা। তাঁরা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এদিকে, যতদিন না ওই রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকরণ চলছিল, তাঁরা শ্রীলঙ্কার এক ত্রাণ শিবিরে থাকতে শুরু করেন।

হামলা বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের
জানা গিয়েছে, শ্রীলঙ্কার যে ত্রাণশিবিরে ওই রোহিঙ্গা মুসলিমরা আশ্রয় পেয়েছিলেন, সেখানে হামলা চালান বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আরও বহু বৌদ্ধরা। ক্রমেই শ্রীলঙ্কাতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নিয়ে ক্ষোভে ফুটতে থাকেন বৌদ্ধরা।

মিয়ানমারের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার যোগ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়
মিয়ানমার থেকে যখন রোহিঙ্গারা বেরিয়ে যাচ্ছেন, তখন শ্রীলঙ্কাকে তাঁদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে প্রতিবাদ উঠতে থাকে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে। এই প্রতিবাদের নেতৃত্ব দেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা। সূত্রের খবর এই বৌদ্ধ সন্নাস্যীদের সঙ্গে যোগ ছিল মিয়ানমারের উগ্রবাদী বৌদ্ধ সংগঠনগুলির।

সমস্যার বড় দিক
একটি রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কায় ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধে তামিল টাইগারদের পতনের পর, মনে করা হয়েছিল প্রশাসন সংখ্যা লঘিষ্ঠদের প্রতি নজর দেবে। মূলত তামিল ও বৌদ্ধদের প্রতি প্রশাসন আরও য়ত্নবান হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের শ্রীলঙ্কা প্রবেশের পর থেকে বদলায় ছবিটা। ফলে মুসলিম ও বৌদ্ধদের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। ভাঙচুর হয় একাধিক স্থাপত্য।


সর্বশেষ সংবাদ