থার্টি ফাস্ট নাইট: ঈমান ধ্বংসের মহা উৎসব

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৬:৪৯ : অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ্ ওমরী, ছাত্র: মদিনা ইউনিভার্সিটি ইসলামী শারিয়াহ্ আইন ও বিচার বিভাগ।

ইংরেজী সাল গণনার বিষয়টা ইংরেজিদের আবিস্কার নয়। তাই এটি ইংরেজি নববর্ষ । ইংরেজরা ১৭৫২ সালে ১ জানোয়ারিকে নববর্ষ হিসাবে গ্রহণ করে।তার ২৩০ বছর আগে অর্থাৎ১৫২২ সালে ভেনিসে ১ জানোয়ারিকে নববর্ষ হিসাবে গ্রহণ করা হয়।স্পেন ও র্পতুগাল ইংরেজ তথা বৃটিশদের ১৯৬ বছর আগেই ১ জানোয়ারিকে নববর্ষ হিসাবে গ্রহণ করে।সেই বিবেচনায় কোন মতেই ১ জানোয়ারি ইংরেজি নববর্ষ হতে পারে না।বরং আজকের ১ জানোয়ারি খৃস্টানদের গ্রেগরিয়ান নববর্ষ।

খৃষ্টীয় বা গ্রেগররিয়ান ক্যালেন্ডারঃ
ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী খৃষ্টপূর্ব ৪৬ সালে জুলিয়াস সিজার সর্বপ্রথম ১ জানোয়ারিতে নববর্ষ উৎসবের প্রচলন করে।পহেলা জানোয়ারি পাকাপোক্তভাবে নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। খৃস্টানদের তথাকথিত পোপ গ্রেগরিয়ানের নামানুসারে যে ক্যালেন্ডারের প্রচলন হয়, ইতিহাসের পালাবদলে আজকে সেই ক্যালেন্ডারকেই ইংরেজি ক্যালেন্ডার বলে চালিয়ে দেওয়া হচেছ। ধীরে ধীরে ইউরোপসহ সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ইংরেজি নববর্ষ পালন করা হচ্ছে।

ইসলামে উৎসবের রূপরেখাঃ
আমরা অনেকে উপলব্ধি না করলেও,উৎসব সাধারণত একটি জাতির ধর্মীয় মূল্যবোধের উপলক্ষগুলো খোঁজ করলে পাওয়া যাবে উৎসব পালনকারী জাতির ধমনীতে প্রবাহিত ধর্মীয় অনুভূতি,সংস্কার ও ধ্যান-ধারনার ছোঁয়া।উদাহরণস্বরূপ খৃষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন । মধযুহগ ইউরোপীয় দেশগুলোতে গ্রগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালনের উপলক্ষ ছিল এইযে, ও দিন খৃষ্টীয় মতবাদ অনুযায়ী মাতামেরীর নিকট ঐশী বাণী প্রেরিত হয় এই মর্মে যে,মেরী ইশ্বরের পুত্রের জন্ম দিতে যাচেছন।পরবর্তীতে ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সুচনার পর রোমক ক্যাথলিক দেশগুলো ১ জানুয়ারি নববর্ষ উৎযাপন করা আরম্ব করে। ঐতিহ্যগত ভাবে এই দিনটি একটি ধর্মীয় উৎসব হিসাবেই পালিত হত। ইহুদীদের নববর্ষ ’রোশ হাশানাহ’ওল্ড টেস্টমেন্টে বর্ণিত ইহুদীদের ধর্মীয় পবিত্র দিন ’সাবাত’ হিসেবে পালিত হয়। এমনিভাবে প্রায় সকল জাতির উৎসব-উপলক্ষের মাঝেই ধর্মীয় চিন্তা-ধারা খুজে পাওয়া যাবে। আর এজন্যই ইসলামে নবী মুহাম্মদ (সঃ)পরিস্কার ভাবে মুসলিমদের উৎসবকে নির্ধারণ করেছেন, ফরল অন্যদের উৎসব মুসলিমদের সংস্কৃতিতে প্রবেশের কোন সুয়োগ নেই। রাসুল (সঃ)ইরশাদ করেন, প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ঈদ (খুশী) রয়েছে, আর এটা (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা)আমাদের ঈদ।(বুখারী ও মুসলিম শরীফ)

মুসলিম ও অমুসলিমদের উৎসবের পার্থক্যঃ
ইসলামের এই যে উৎসব,ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। এগুলো থেকে মুসলিম ও অমুসলিমদের উৎসবের মূলনীতিগত একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য স্পষ্ট হয়। বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে লক্ষ্য করা উচিত। অমুসলিম,কাফের কিংবা মুশরিকদের উৎসবের দিনগুলো হচেছ তাদের জন্য উচ্ছৃংখল আচরণো দিন।এদিনে তারা সকল নৈতিকতার সকল বাঁধ ভেঙ্গে দিয়ে অশ্লীল কর্শকান্ডে লিপ্ত হয়,আর এই কর্মকান্ডের অবধারিত রূপ হচ্চে মদ্যপান ও ব্যভিচার ।এমনকি খৃষ্টান সম্প্রদায়ের বহুলোক তাদের পবিত্র বড়দিনেও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যকে জলাঞ্জলি দিয়ে মদ্যপ হয়ে উঠে এবং পশ্চিমা বিশ্বে এই রাত্রিতে বেশ কিছু লো নিহত হয় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ী চালানোর কারণে।অপরদিকে মুসলিমদের উৎসব হচ্ছে ইবাদতের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।এই বিষয়টি বুঝতে হবে। িইসলাম কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়,বরং তা মানুষের গোটা জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী বিন্যস্ত ও সজ্জিত করতে উদ্যোগী হয়। তাই একজন মসিলিমের জন্য জীবনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে ইবাদত।যেমন কুরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেনঃ আমি জ্বীন ও মানুষকে আমার ইবাদত করা ছড়া অন্য কোন কারণে সৃষ্টি করিনি,।(সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত৫৬)সেজন্য মুসলিম জীবনের আনন্দ-উৎসব আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ ও অশ্লীলতায় নিহিত নয়,বরং তা নিহিত হচ্ছে আল্লাহর দেয়া আদেশ পালন করতে পারার মাঝে।কেননা মুসলিমদের ভোগবিলাসের স্থান ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী নয়,বরং চিরস্থায় জান্নাত।তাই িমুসলিম জীবনের প্রতিটি কাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়িয়ে থাকবে তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ,তাদের ঈমান,আখিরাতের প্রতি ভয় ও ভালবাসা।

থার্টি ফাস্ট নাইট পালন করাঃ
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে ‘থার্টি ফাসট নাইট’ পালন করা নিঃসন্দেহ হারাম।মহানবী (সঃ)ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুস্মরণ করবে,সে সেই জাতির ।অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য হবে।(সুনানে আবু দাউদ)মহন আল্লাহ ঘোষণা করেন,তোমরা প্রত্যেকের জন্যই আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান এবং সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি,(সূরা আল-মায়েদাহ,আয়াতঃ৪৮) তাই,একজন মুসলিম খৃস্টান পাদী্র পোপ গ্রেগরিয়ান-এর নামানুসারে যে ক্যালেন্ডার,সেই ক্যালেন্ডারের পরবর্তী টলন ইংরেজি ১ জানুয়ারিকে নববর্ষ হিসাবে পালন করলে তার ।মিান কখনও থাকবে না।

আমাদের করণীয়ঃ
সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ইংরেজি অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ । কারণ এতে নিম্নলিখিত শ্রেণীর ইসলাম বিরোধী বিষয় রয়েছে।

(১)শিরকপূর্ণ অনুষ্ঠানাদি,চিন্তাধারা।
(২)নগ্নতা,অশলীলতা,ব্যভিচারপূর্ণ অনুষ্ঠান।
(৩)গান ও বাদ্যপূর্ণ অনুষ্ঠান।
(৪)সময় অপচয়কারী অনর্থক বাজে কথা ও কাজ।

এ অবস্থায় প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব হচ্চে নিজে এগুলো থেকে সম্পূর্ণরূপে দুরে থাকা এবং বাঙালি মুসলিম সমাজ থেকে এই প্রথা উচ্ছেদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো নিজ নিজ সাধ্য ও অবস্থা অনুযায়ী।
আল্লাহ তাআলা সকলকে এই কথাগুলো বুঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুক,আমিন।

লেখক: মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ্ ওমরী
ছাত্র: মদিনা ইউনিভার্সিটি ইসলামী শারিয়াহ্ আইন ও বিচার বিভাগ।
Nasrullah.medina@gmail.com


সর্বশেষ সংবাদ