বিশ্ব পর্যটনে কক্সবাজার- টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২:৫৬ : অপরাহ্ণ

ইফতেখার আহমেদ টিপু:: কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাগরের পাড় বেঁধে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে তুলবে। এ সড়ক উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী বোয়িং ৭৩৭ বিমানে কক্সবাজারে আসেন এবং বলেন এখন থেকে সপ্তাহে একদিন হলেও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বোয়িং ৭৩৭ বিমান চলবে।
স্মর্তব্য, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং অর্থনৈতিক জোন পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণে সময় লেগেছে ২৪ বছর। ১৯৯৩ সালে এ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ নির্মাণ প্রকৌশল ব্যাটালিয়ন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৪০ কোটি টাকা।
আশা করা হচ্ছে, বিশ্ব পর্যটনের দুয়ার খুলতে এ সড়কটি অবদান রাখবে। সড়কের এক পাশে উঁচু সবুজ পাহাড়, অন্য পাশে বিস্তীর্ণ সাগর। এ দুইয়ের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে মেরিন ড্রাইভ। সড়কের ধারে নারিকেল, সুপারি ও ঝাউগাছের সমাহার রয়েছে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত। ১৯৯৩ সালে মেরিন ড্রাইভ প্রকল্প যখন হাতে নেওয়া হয়, তখন এর দৈর্ঘ্য ধরা হয় ৪৮ কিলোমিটার। কাজ শুরুর পর সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদারের নির্মাণ করা দুই কিলোমিটার সড়ক সাগরে বিলীন হয়ে যায়। ১৯৯৫ সালে সড়কের নির্মাণকাজের দায়িত্ব ১৬ ইসিবিকে দেওয়ার পাশাপাশি সড়কের দৈর্ঘ্য আরো ৩২ কিলোমিটার বাড়ানো হয়।
এ সড়ক নির্মাণকালে ২০১০ সালের ১৫ জুন ভারি বর্ষণে পাহাড়ি ধসে ছয়জন সেনা সদস্য প্রাণ হারান। সেনাবাহিনীর অক্লান্ত পরিশ্রমে নির্মিত এ সুদীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের ফলে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং তা এ এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে। পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারকে আরো আকর্ষণীয় করতে নিরাপত্তাব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ আরো সহজ করতে বর্তমান সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। দুনিয়ার বহু দেশ পর্যটনকেই তাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান খাত হিসেবে বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে কক্সবাজারের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ দেশের পর্যটন শিল্পে একটি নতুন আকর্ষণ তা বলাই বাহুল্য। একই সঙ্গে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর ব্যাপারটি দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশের সঙ্গে এই অঞ্চলের মানুষের সার্বিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক ইতোমধ্যে চার লেনে উন্নীত হয়েছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক চার লেন হলে পর্যটকদের জন্য সড়ক পথে কক্সবাজার আসা-যাওয়া দ্রুততর ও আরামপ্রদ হবে। কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধন একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন। কক্সবাজার জেলা শহরের কলাতলী হয়ে যে কোনো বাহনে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ হয়ে এক সময় পৌঁছে যাওয়া যাবে সেন্টমার্টিন দ্বীপে। এই মেরিন ড্রাইভের মধ্য দিয়ে যেমন মানুষ সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাবে সেই সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেরও বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তি স্থাপন করেন, এ সবের মধ্যে আরো রয়েছে- কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রী নিবাস, কক্সবাজার সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন কাম এক্সামিনেশন হল, কক্সবাজার সরকারি কলেজের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রী নিবাস, উখিয়ার বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব মহিলা কলেজের দ্বিতল একাডেমিক ভবন এবং মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন। এদিকে মহেশখালীর সোনাদিয়াতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ ও মহেশখালীর কালারমারছড়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিশ্চিতভাবেই এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন করার যে দৃষ্টান্ত দেখানো হয়েছে, আমরা আশা করবো কক্সবাজারের উন্নয়নে গৃহীত অন্যান্য প্রকল্পও সে রকম দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে।

লেখক :: চেয়ারম্যান, ইফাদ গ্রুপ
chairman@ifadgroup.com


সর্বশেষ সংবাদ